ঢাকা ০৮:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ট্রেসেবিলিটি নিশ্চিত হলে মূল্যশৃঙ্খলের দুর্বলতা চিহ্নিত করা সহজ হবে : বাণিজ্যমন্ত্রী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগে জনপ্রশাসন হবে জনবান্ধব: জনপ্রশাসন উপদেষ্টা দেশ আবার পুরোনো অন্ধকার পথে ফিরে যাচ্ছে: জামায়াত আমির তারেক রহমান এখন শেখ হাসিনার পথে হাঁটছেন: সারজিস আলম ৫০ হাজার শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ দেবে ইউজিসি রক্তমাখা পতাকা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ জুলাই যোদ্ধা শেখ আজিজুরের দুই মাসের মধ্যে রমেক হাসপাতালের আইসিইউ শয্যা ২০টিতে উন্নীত করা হবে: আসাদুল হাবীব দুলু আ.লীগ যেভাবে হামলা করেছিল, একইভাবে বিএনপি করছে: নাহিদ ইসলাম পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে বরদাশত করা হবে না: মেয়র শাহাদাত বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গা নিতে রাজি মিয়ানমার

বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গা নিতে রাজি মিয়ানমার

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে মিয়ানমার। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলমান রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। একই সঙ্গে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত আরও ৫ হাজার রোহিঙ্গাকেও প্রথম ধাপে ফেরত নিতে রাজি হয়েছে মিয়ানমার। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, মিয়ানমারের সঙ্গে সাম্প্রতিক দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ফলেই এ সমঝোতা সম্ভব হয়েছে। তবে বাংলাদেশে থাকা ৩ লাখ রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন কবে শুরু হবে, সে বিষয়ে তিনি কোনো সময়সীমা উল্লেখ করেননি।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফ্রি মালয়েশিয়া টুডের বরাতে তিনি বলেন, অনেকে বলে তাদের ফেরত পাঠাতে। কিন্তু কোথায় পাঠাব? মিয়ানমার তো এতদিন তাদের নিতে চাইত না। তিনি আরও বলেন, মিয়ানমারের সঙ্গে সুসম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ। এখন তারা প্রথম ধাপে ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিপীড়ন ও সহিংসতার মুখে পালিয়ে আসা লাখো রোহিঙ্গা বর্তমানে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছে। বাংলাদেশে বিশ্বের সবচেয়ে বড় রোহিঙ্গা শরণার্থী জনগোষ্ঠীর বসবাস, যেখানে ১৩ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা আশ্রিত রয়েছে।

আনোয়ার বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান খুঁজতে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। তিনি এ সমঝোতাকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও মানবিক সংকট নিরসনের পথে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।

এদিকে, ঘোষণাটি এমন সময় এলো যখন সম্প্রতি মালয়েশিয়ার পেনাং রাজ্যের একটি বসতি ছেড়ে শতাধিক রোহিঙ্গা কুয়ালালামপুরে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়। পরে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ তাদের কুয়ালালামপুর, সেলাঙ্গর ও পেনাংয়ের অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর করে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে মিয়ানমারে সামরিক বাহিনীর দমন-পীড়নের পর থেকে লাখ লাখ রোহিঙ্গা দেশত্যাগে বাধ্য হয়। তাদের অধিকাংশ বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়, আর অনেকে জীবনঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে পৌঁছায়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রেসেবিলিটি নিশ্চিত হলে মূল্যশৃঙ্খলের দুর্বলতা চিহ্নিত করা সহজ হবে : বাণিজ্যমন্ত্রী

বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গা নিতে রাজি মিয়ানমার

আপডেট সময় ০৫:৪০:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে মিয়ানমার। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলমান রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। একই সঙ্গে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত আরও ৫ হাজার রোহিঙ্গাকেও প্রথম ধাপে ফেরত নিতে রাজি হয়েছে মিয়ানমার। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, মিয়ানমারের সঙ্গে সাম্প্রতিক দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ফলেই এ সমঝোতা সম্ভব হয়েছে। তবে বাংলাদেশে থাকা ৩ লাখ রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন কবে শুরু হবে, সে বিষয়ে তিনি কোনো সময়সীমা উল্লেখ করেননি।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফ্রি মালয়েশিয়া টুডের বরাতে তিনি বলেন, অনেকে বলে তাদের ফেরত পাঠাতে। কিন্তু কোথায় পাঠাব? মিয়ানমার তো এতদিন তাদের নিতে চাইত না। তিনি আরও বলেন, মিয়ানমারের সঙ্গে সুসম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ। এখন তারা প্রথম ধাপে ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিপীড়ন ও সহিংসতার মুখে পালিয়ে আসা লাখো রোহিঙ্গা বর্তমানে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছে। বাংলাদেশে বিশ্বের সবচেয়ে বড় রোহিঙ্গা শরণার্থী জনগোষ্ঠীর বসবাস, যেখানে ১৩ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা আশ্রিত রয়েছে।

আনোয়ার বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান খুঁজতে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। তিনি এ সমঝোতাকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও মানবিক সংকট নিরসনের পথে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।

এদিকে, ঘোষণাটি এমন সময় এলো যখন সম্প্রতি মালয়েশিয়ার পেনাং রাজ্যের একটি বসতি ছেড়ে শতাধিক রোহিঙ্গা কুয়ালালামপুরে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়। পরে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ তাদের কুয়ালালামপুর, সেলাঙ্গর ও পেনাংয়ের অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর করে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে মিয়ানমারে সামরিক বাহিনীর দমন-পীড়নের পর থেকে লাখ লাখ রোহিঙ্গা দেশত্যাগে বাধ্য হয়। তাদের অধিকাংশ বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়, আর অনেকে জীবনঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে পৌঁছায়।