ঢাকা ১১:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জামায়াত-এনসিপির বক্তব্যে দেশপ্রেম নিয়ে আশাবাদী হওয়া যাচ্ছে না:পানিসম্পদ মন্ত্রী জঙ্গল সলিমপুরে পানিতে বিষ মিশিয়ে যৌথবাহিনী সদস্যদের হত্যাচেষ্টা! দেশে ১ কোটি লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে: পরিবেশমন্ত্রী তুরাবদের রক্তের বিনিময়েই দেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়েছে: ডা. শফিকুর রহমান জনগণের স্বার্থের বিপরীতে কিছু করলে দায়ভার সরকারের ওপরই পড়বে: মান্না অস্ত্র প্রস্তুত, তবে ইরানকে ‘কিছুটা সময়’ দিচ্ছেন ট্রাম্প : মার্কিন রাষ্ট্রদূত বিএনপি মো. সাহাবুদ্দিনকে ‘সেফ এক্সিট’ দিতে চায়: আখতার প্রতিমন্ত্রী ইশরাককে ঘিরে উত্তেজনা-ধস্তাধস্তি, বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান গণতন্ত্র যতবারই হোঁচট খেয়েছে, ততবারই মানুষ বিএনপির ওপর আস্থা রেখেছে: ডা. জাহিদ বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঢুকে পড়লো কুর্মিটোলা হাসপাতাল প্রাঙ্গণে, নিহত ১

বিএনপি মো. সাহাবুদ্দিনকে ‘সেফ এক্সিট’ দিতে চায়: আখতার

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদসদস্য (এমপি) আখতার হোসেন দাবি করেছেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর সঙ্গে বিএনপির অভ্যন্তরীণ সমঝোতা হয়েছিল। ওই সমঝোতার অংশ হিসেবে সরকার গঠনের পর একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তাকে রাষ্ট্রপতির পদে রাখা হয় এবং এখন তাকে ‘সেফ এক্সিট’ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

আজ রোববার দুপুরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির আয়োজিত জুলাই স্মৃতিচারণ শীর্ষক আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ দাবি করেন।

আখতার হোসেন বলেন, গণহত্যার সময় কমান্ড রেসপনসিবিলিটির জায়গা থেকে সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর ভূমিকা ছিল। তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ নেননি, বরং শেখ হাসিনার সহযোগী হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন। অতীতে তার বিভিন্ন অপকর্ম রয়েছে এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে নিয়ে নানা ষড়যন্ত্রেও তিনি জড়িত ছিলেন। আমরা জেনেছি, লন্ডনে গিয়েও তিনি শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এসব কারণে তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সাহাবুদ্দিন চুপ্পু শুধু ফ্যাসিবাদের একজন আইকন নন, তিনি একজন লুটেরাও। তিনি ইসলামী ব্যাংক দখল করে এস আলাম গ্রুপের হাতে তুলে দিয়েছেন৷ বিদেশে বাড়িঘর করেছেন, বিদেশে একটা পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি নিয়েছেন। এ ধরনের একজন ব্যক্তি, রাষ্ট্রপতির পদে আসীন থাকার মতো যোগ্যতা তো তার থাকে না।

রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়মুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, অনেকে সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদের কথা বলে দাবি করছেন, রাষ্ট্রপতিকে আইনের আওতায় আনা যায় না। এটি সঠিক ব্যাখ্যা নয়। রাষ্ট্রপতি পদে থাকা অবস্থায় তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের বিষয়ে তাকে আদালতে নেওয়া যায় না। তবে রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়ার পর তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। সংবিধানের মাধ্যমে তাকে আর কোনো দায়মুক্তি দেওয়ার সুযোগ নেই। আমরা মনে করি, সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে গ্রেপ্তার করে রাষ্ট্রীয় সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত করা উচিত। তদন্ত করে দেখতে হবে, তিনি গণহত্যার সঙ্গে আর কীভাবে জড়িত ছিলেন।

এর আগে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ‘বর্ষা বিপ্লবের স্মৃতিচারণ ও নতুন রাজনৈতিক ধারা বিনির্মাণ’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ইবি শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তি। অনুষ্ঠানে সংগঠনটির আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য-সচিব আখতার হোসেন। প্রধান বক্তা ছিলেন জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, সারোয়ার তুষার এবং যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা মিতু। এ ছাড়া জাতীয় ছাত্রশক্তির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জামায়াত-এনসিপির বক্তব্যে দেশপ্রেম নিয়ে আশাবাদী হওয়া যাচ্ছে না:পানিসম্পদ মন্ত্রী

বিএনপি মো. সাহাবুদ্দিনকে ‘সেফ এক্সিট’ দিতে চায়: আখতার

আপডেট সময় ০৯:৪০:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদসদস্য (এমপি) আখতার হোসেন দাবি করেছেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর সঙ্গে বিএনপির অভ্যন্তরীণ সমঝোতা হয়েছিল। ওই সমঝোতার অংশ হিসেবে সরকার গঠনের পর একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তাকে রাষ্ট্রপতির পদে রাখা হয় এবং এখন তাকে ‘সেফ এক্সিট’ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

আজ রোববার দুপুরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির আয়োজিত জুলাই স্মৃতিচারণ শীর্ষক আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ দাবি করেন।

আখতার হোসেন বলেন, গণহত্যার সময় কমান্ড রেসপনসিবিলিটির জায়গা থেকে সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর ভূমিকা ছিল। তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ নেননি, বরং শেখ হাসিনার সহযোগী হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন। অতীতে তার বিভিন্ন অপকর্ম রয়েছে এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে নিয়ে নানা ষড়যন্ত্রেও তিনি জড়িত ছিলেন। আমরা জেনেছি, লন্ডনে গিয়েও তিনি শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এসব কারণে তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সাহাবুদ্দিন চুপ্পু শুধু ফ্যাসিবাদের একজন আইকন নন, তিনি একজন লুটেরাও। তিনি ইসলামী ব্যাংক দখল করে এস আলাম গ্রুপের হাতে তুলে দিয়েছেন৷ বিদেশে বাড়িঘর করেছেন, বিদেশে একটা পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি নিয়েছেন। এ ধরনের একজন ব্যক্তি, রাষ্ট্রপতির পদে আসীন থাকার মতো যোগ্যতা তো তার থাকে না।

রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়মুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, অনেকে সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদের কথা বলে দাবি করছেন, রাষ্ট্রপতিকে আইনের আওতায় আনা যায় না। এটি সঠিক ব্যাখ্যা নয়। রাষ্ট্রপতি পদে থাকা অবস্থায় তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের বিষয়ে তাকে আদালতে নেওয়া যায় না। তবে রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়ার পর তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। সংবিধানের মাধ্যমে তাকে আর কোনো দায়মুক্তি দেওয়ার সুযোগ নেই। আমরা মনে করি, সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে গ্রেপ্তার করে রাষ্ট্রীয় সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত করা উচিত। তদন্ত করে দেখতে হবে, তিনি গণহত্যার সঙ্গে আর কীভাবে জড়িত ছিলেন।

এর আগে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ‘বর্ষা বিপ্লবের স্মৃতিচারণ ও নতুন রাজনৈতিক ধারা বিনির্মাণ’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ইবি শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তি। অনুষ্ঠানে সংগঠনটির আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য-সচিব আখতার হোসেন। প্রধান বক্তা ছিলেন জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, সারোয়ার তুষার এবং যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা মিতু। এ ছাড়া জাতীয় ছাত্রশক্তির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।