ঢাকা ০৮:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই শহীদদের স্মরণে এবি পার্টির প্রতীকী কফিন মিছিল

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জুলাই শহীদদের স্মরণে রাজধানীতে প্রতীকী কফিন মিছিল করেছে এবি পার্টি।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকাল ৪টায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

এ সময় দলটির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, জুলাইয়ের শহীদেরা ৭১-এর শহীদদের বাস্তব অনুসারী, তারা অকাতরে জীবন ও রক্ত দিয়ে প্রমাণ করেছেন তারা তাদের সার্থক উত্তরসূরি। জুলাইয়ের স্লোগান ছিল ‘লাখো শহীদের রক্তে কেনা দেশটা কারও বাপের না।’

তিনি বলেন, যারাই ক্ষমতার মোহে দেশকে নিজের বাপের সম্পত্তি এবং জনগণকে নিজেদের গোলাম ভাবতে শুরু করবেন, তাদের বিরুদ্ধে জুলাই আমাদের আজীবন পথ দেখাবে এবং আমাদের গৌরবময় জুলাই বার বার ফিরে আসবে।

এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, অনেকে প্রশ্ন করেন জুলাই আমাদের কী দিয়েছে? এই প্রশ্ন অবশ্যই আসবে, বার বার আসবে। আমাদেরকেও বার বার এর উত্তর দিতে হবে। আমরা কী চেয়েছিলাম, কী পেয়েছি তার উত্তর মিলিয়ে দেখতে হবে।

তিনি বলেন, দল হিসেবে বিএনপি ও জামায়াত যা যা চেয়েছিল সব পেয়েছে। খালেদা জিয়ার মুক্তি, তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন, লাখ লাখ নেতাকর্মীর মুক্তি, জামায়াত-শিবিরের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, দলের রাজনীতির অধিকার ফিরে পাওয়া, নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতের ঐতিহাসিক ভালো ফলাফল, এক দল ক্ষমতায় এবং আরেক দল প্রধান বিরোধী দলে থাকা ইত্যাদি। যারা জুলাইয়ে সামনের সারিতে নেতৃত্ব দিয়েছে তাদের প্রধান অংশ একটি নতুন রাজনৈতিক দল করে তারাও সংসদে দ্বিতীয় বড় বিরোধী দল হয়েছে। এখন জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের মূল দায়িত্ব এই তিন দলের ওপর অর্পিত হয়েছে। শহীদদের রক্তের দাবি হলো, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পথে বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ে তোলা।

তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, বৈষম্য দূরীকরণ এবং জনগণের অধিকারভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের আন্দোলন।

মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ঐকমত্য কমিশনে সেই সময় বিএনপি নেতারা বলেছিলেন সংস্কারের মূল দায়িত্ব সংসদের। এখন সেই দায়িত্ব বাস্তবায়নের সময় এসেছে। পাশাপাশি তিনি পরাজিত রাজনৈতিক শক্তিকে অতীতের ভুলের জন্য অনুতপ্ত হয়ে জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান।

এ সময় এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদসহ দেশের সব শহীদের প্রতি আমরা গভীর শ্রদ্ধা জানাই। দুবছর পেরিয়ে গেলেও এখনো শহীদদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। ১৯৭১ সালের অভিজ্ঞতা আমাদের দেখিয়েছে প্রকৃত শহীদদের স্বীকৃতি নিশ্চিত না হলে ইতিহাস বিকৃত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

তিনি অবিলম্বে একটি স্বাধীন কমিটির মাধ্যমে প্রকৃত শহীদদের তালিকা চূড়ান্ত, ভুয়া নাম বাদ দেওয়া, শহীদ পরিবারগুলোর পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এবং এ কাজে জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনকে কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস ও আত্মত্যাগকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে নাটক, চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা বাড়ানো প্রয়োজন।

এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবিএম খালিদ হাসান।

প্রতীকী কফিন মিছিলটি বিজয়নগর শুরু হয়ে কাকরাইল মোড়, নাইটিংগেল মোড়, পল্টন মোড় এলাকা প্রদক্ষিণ করে বিজয়-৭১ চত্বরে এসে শেষ হয়। মিছিলে নেতাকর্মীরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে শোক, শ্রদ্ধা এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন রানা, মো. আলতাফ হোসাইন, শাহাদাতুল্লাহ টুটুল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান, স্বেচ্ছাসেবক পার্টির আহ্বায়ক কেফায়েত হোসাইন তানভীর, ছাত্রপক্ষের সভাপতি মোহাম্মদ প্রিন্স, ত্রাণ ও পুনর্বাসনবিষয়ক সম্পাদক সুলতানা রাজিয়া, কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক সফিউল বাশার, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা) শাজাহান ব্যাপারী, ছাত্রপক্ষের সাধারণ সম্পাদক রাফিউর রহমান ফাত্তাহ প্রমুখ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই শহীদদের স্মরণে এবি পার্টির প্রতীকী কফিন মিছিল

আপডেট সময় ০৮:২০:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জুলাই শহীদদের স্মরণে রাজধানীতে প্রতীকী কফিন মিছিল করেছে এবি পার্টি।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকাল ৪টায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

এ সময় দলটির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, জুলাইয়ের শহীদেরা ৭১-এর শহীদদের বাস্তব অনুসারী, তারা অকাতরে জীবন ও রক্ত দিয়ে প্রমাণ করেছেন তারা তাদের সার্থক উত্তরসূরি। জুলাইয়ের স্লোগান ছিল ‘লাখো শহীদের রক্তে কেনা দেশটা কারও বাপের না।’

তিনি বলেন, যারাই ক্ষমতার মোহে দেশকে নিজের বাপের সম্পত্তি এবং জনগণকে নিজেদের গোলাম ভাবতে শুরু করবেন, তাদের বিরুদ্ধে জুলাই আমাদের আজীবন পথ দেখাবে এবং আমাদের গৌরবময় জুলাই বার বার ফিরে আসবে।

এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, অনেকে প্রশ্ন করেন জুলাই আমাদের কী দিয়েছে? এই প্রশ্ন অবশ্যই আসবে, বার বার আসবে। আমাদেরকেও বার বার এর উত্তর দিতে হবে। আমরা কী চেয়েছিলাম, কী পেয়েছি তার উত্তর মিলিয়ে দেখতে হবে।

তিনি বলেন, দল হিসেবে বিএনপি ও জামায়াত যা যা চেয়েছিল সব পেয়েছে। খালেদা জিয়ার মুক্তি, তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন, লাখ লাখ নেতাকর্মীর মুক্তি, জামায়াত-শিবিরের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, দলের রাজনীতির অধিকার ফিরে পাওয়া, নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতের ঐতিহাসিক ভালো ফলাফল, এক দল ক্ষমতায় এবং আরেক দল প্রধান বিরোধী দলে থাকা ইত্যাদি। যারা জুলাইয়ে সামনের সারিতে নেতৃত্ব দিয়েছে তাদের প্রধান অংশ একটি নতুন রাজনৈতিক দল করে তারাও সংসদে দ্বিতীয় বড় বিরোধী দল হয়েছে। এখন জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের মূল দায়িত্ব এই তিন দলের ওপর অর্পিত হয়েছে। শহীদদের রক্তের দাবি হলো, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পথে বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ে তোলা।

তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, বৈষম্য দূরীকরণ এবং জনগণের অধিকারভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের আন্দোলন।

মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ঐকমত্য কমিশনে সেই সময় বিএনপি নেতারা বলেছিলেন সংস্কারের মূল দায়িত্ব সংসদের। এখন সেই দায়িত্ব বাস্তবায়নের সময় এসেছে। পাশাপাশি তিনি পরাজিত রাজনৈতিক শক্তিকে অতীতের ভুলের জন্য অনুতপ্ত হয়ে জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান।

এ সময় এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদসহ দেশের সব শহীদের প্রতি আমরা গভীর শ্রদ্ধা জানাই। দুবছর পেরিয়ে গেলেও এখনো শহীদদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। ১৯৭১ সালের অভিজ্ঞতা আমাদের দেখিয়েছে প্রকৃত শহীদদের স্বীকৃতি নিশ্চিত না হলে ইতিহাস বিকৃত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

তিনি অবিলম্বে একটি স্বাধীন কমিটির মাধ্যমে প্রকৃত শহীদদের তালিকা চূড়ান্ত, ভুয়া নাম বাদ দেওয়া, শহীদ পরিবারগুলোর পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এবং এ কাজে জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনকে কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস ও আত্মত্যাগকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে নাটক, চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা বাড়ানো প্রয়োজন।

এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবিএম খালিদ হাসান।

প্রতীকী কফিন মিছিলটি বিজয়নগর শুরু হয়ে কাকরাইল মোড়, নাইটিংগেল মোড়, পল্টন মোড় এলাকা প্রদক্ষিণ করে বিজয়-৭১ চত্বরে এসে শেষ হয়। মিছিলে নেতাকর্মীরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে শোক, শ্রদ্ধা এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন রানা, মো. আলতাফ হোসাইন, শাহাদাতুল্লাহ টুটুল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান, স্বেচ্ছাসেবক পার্টির আহ্বায়ক কেফায়েত হোসাইন তানভীর, ছাত্রপক্ষের সভাপতি মোহাম্মদ প্রিন্স, ত্রাণ ও পুনর্বাসনবিষয়ক সম্পাদক সুলতানা রাজিয়া, কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক সফিউল বাশার, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা) শাজাহান ব্যাপারী, ছাত্রপক্ষের সাধারণ সম্পাদক রাফিউর রহমান ফাত্তাহ প্রমুখ।