ঢাকা ০৮:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

নাম থেকে বাবার পদবি মুছে ফেললেন নেতানিয়াহুর ছেলে

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ছেলে ইয়াইর নেতানিয়াহু নিজের নাম পরিবর্তন করেছেন। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ইয়াইর এখন থেকে ‘ইয়োনাতান হোন’ নামে পরিচিত হবেন।

মূলত যুক্তরাষ্ট্রে নিজের ব্যবসায়িক সম্পর্ক রক্ষা এবং বিশ্বজুড়ে নেতানিয়াহু নামের ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক ও আইনি জটিলতা থেকে তৈরি হওয়া নেতিবাচক প্রভাব এড়াতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হারেৎজ জানায়, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসেও ট্যাক্স বা কর সংক্রান্ত কাগজপত্রে তার নাম ‘ইয়াইর নেতানিয়াহু’ হিসেবেই নথিভুক্ত ছিল। তবে চলতি বছর একই পরিচিতি নম্বরের অধীনে তার নতুন নাম ‘ইয়োনাতান হোন’ দেখা যায়। এমনকি নথিতে তার ঠিকানা হিসেবে ‘বেলফোর ০’ নামের একটি কাল্পনিক ঠিকানাও ব্যবহার করা হয়েছে।

অবশ্য ইয়াইর এর আগেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের নামের শেষে ‘হুন’ পদবি ব্যবহার করেছিলেন। এই হুন পদবিটি মূলত তার মা সারা নেতানিয়াহুর বাবা শামুয়েলের আদি পারিবারিক নাম ছিল, যা পরবর্তীতে পরিবর্তন করে ‘বেন আর্টজি’ রাখা হয়।

এমন এক সময়ে এই নাম পরিবর্তনের খবরটি সামনে এলো, যখন গাজায় চলমান যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। মার্কিন রাজনীতিতেও নেতানিয়াহু নামটির গ্রহণযোগ্যতা দিন দিন কমছে। অন্যদিকে, ইয়াইর নেতানিয়াহুর মার্কিন ব্যবসায়িক সম্পর্ক এবং ধনকুবেরদের সাথে তার পরিবারের সংযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনা চলছে। এর আগে ২০১৮ সালে ইসরাইলি টেলিভিশনে একটি অডিও রেকর্ড ফাঁস হয়, যেখানে ইয়াইরকে একটি স্ট্রিপ ক্লাবের বাইরে গর্ব করে বলতে শোনা যায় যে তার বাবা এক তেল ব্যবসায়ীকে বিলিয়ন ডলারের গ্যাস চুক্তি পেতে সাহায্য করেছিলেন। বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কট্টর ডানপন্থীদের বিভিন্ন ব্যবসার সাথেও তিনি যুক্ত রয়েছেন।

নেতানিয়াহু পরিবারে নাম পরিবর্তনের এই ঘটনা অবশ্য নতুন কিছু নয়। ইয়াইরের ভাই আভনের নেতানিয়াহুও প্রায় পাঁচ বছর আগে নিজের নাম পরিবর্তন করে ‘আভি সেগাল’ রেখেছিলেন। সংবাদমাধ্যমের নজর এড়াতে এবং আইনি যাচাই-বাছাই থেকে বাঁচতে তিনি এই নতুন নামে ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ডে নগদ ৫ লক্ষ ২ হাজার পাউন্ডের একটি ফ্ল্যাট কিনেছিলেন বলে জানা যায়।

সেগাল পদবিটি ছিল মূলত বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মা জিলার আদি পারিবারিক নাম। স্বয়ং বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিজেও ১৯৮০-এর দশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সময় ‘বেন নিতাই’ নাম ব্যবহার করেছিলেন, কারণ সে সময় তিনি আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাসের কথা ভাবছিলেন।

পারিবারিক ঐতিহ্যের বাইরেও, জায়নবাদী আন্দোলনের ইতিহাসে নাম পরিবর্তনের এই সংস্কৃতি বেশ পুরোনো। ১৯২০-এর দশকে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বাবা বেনজিয়ন মিলেইকোভস্কি পোল্যান্ড থেকে তৎকালীন ফিলিস্তিনে আসার পর নিজের নাম পরিবর্তন করে ‘বেনজিয়ন নেতানিয়াহু’ রাখেন। তৎকালীন জায়নবাদী বসতি স্থাপনকারীদের মধ্যে নিজেদের ইউরোপীয় পরিচয় মুছে ফেলার লক্ষ্যে হিব্রু নাম ধারণ করার একটি ব্যাপক প্রবণতা ছিল। ইসরাইলের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বেন-গুরিয়ন, গোল্ডা মেয়ার, শিমন পেরেজ এবং অ্যারিয়েল শ্যারন সহ বহু শীর্ষস্থানীয় ইসরাইলি নেতাও একইভাবে নিজেদের আদি নাম পরিবর্তন করেছিলেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আলিবাবায় যুক্ত হলো স্টেপ ফুটওয়্যার, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রসার

নাম থেকে বাবার পদবি মুছে ফেললেন নেতানিয়াহুর ছেলে

আপডেট সময় ০৫:৪০:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ছেলে ইয়াইর নেতানিয়াহু নিজের নাম পরিবর্তন করেছেন। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ইয়াইর এখন থেকে ‘ইয়োনাতান হোন’ নামে পরিচিত হবেন।

মূলত যুক্তরাষ্ট্রে নিজের ব্যবসায়িক সম্পর্ক রক্ষা এবং বিশ্বজুড়ে নেতানিয়াহু নামের ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক ও আইনি জটিলতা থেকে তৈরি হওয়া নেতিবাচক প্রভাব এড়াতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হারেৎজ জানায়, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসেও ট্যাক্স বা কর সংক্রান্ত কাগজপত্রে তার নাম ‘ইয়াইর নেতানিয়াহু’ হিসেবেই নথিভুক্ত ছিল। তবে চলতি বছর একই পরিচিতি নম্বরের অধীনে তার নতুন নাম ‘ইয়োনাতান হোন’ দেখা যায়। এমনকি নথিতে তার ঠিকানা হিসেবে ‘বেলফোর ০’ নামের একটি কাল্পনিক ঠিকানাও ব্যবহার করা হয়েছে।

অবশ্য ইয়াইর এর আগেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের নামের শেষে ‘হুন’ পদবি ব্যবহার করেছিলেন। এই হুন পদবিটি মূলত তার মা সারা নেতানিয়াহুর বাবা শামুয়েলের আদি পারিবারিক নাম ছিল, যা পরবর্তীতে পরিবর্তন করে ‘বেন আর্টজি’ রাখা হয়।

এমন এক সময়ে এই নাম পরিবর্তনের খবরটি সামনে এলো, যখন গাজায় চলমান যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। মার্কিন রাজনীতিতেও নেতানিয়াহু নামটির গ্রহণযোগ্যতা দিন দিন কমছে। অন্যদিকে, ইয়াইর নেতানিয়াহুর মার্কিন ব্যবসায়িক সম্পর্ক এবং ধনকুবেরদের সাথে তার পরিবারের সংযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনা চলছে। এর আগে ২০১৮ সালে ইসরাইলি টেলিভিশনে একটি অডিও রেকর্ড ফাঁস হয়, যেখানে ইয়াইরকে একটি স্ট্রিপ ক্লাবের বাইরে গর্ব করে বলতে শোনা যায় যে তার বাবা এক তেল ব্যবসায়ীকে বিলিয়ন ডলারের গ্যাস চুক্তি পেতে সাহায্য করেছিলেন। বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কট্টর ডানপন্থীদের বিভিন্ন ব্যবসার সাথেও তিনি যুক্ত রয়েছেন।

নেতানিয়াহু পরিবারে নাম পরিবর্তনের এই ঘটনা অবশ্য নতুন কিছু নয়। ইয়াইরের ভাই আভনের নেতানিয়াহুও প্রায় পাঁচ বছর আগে নিজের নাম পরিবর্তন করে ‘আভি সেগাল’ রেখেছিলেন। সংবাদমাধ্যমের নজর এড়াতে এবং আইনি যাচাই-বাছাই থেকে বাঁচতে তিনি এই নতুন নামে ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ডে নগদ ৫ লক্ষ ২ হাজার পাউন্ডের একটি ফ্ল্যাট কিনেছিলেন বলে জানা যায়।

সেগাল পদবিটি ছিল মূলত বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মা জিলার আদি পারিবারিক নাম। স্বয়ং বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিজেও ১৯৮০-এর দশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সময় ‘বেন নিতাই’ নাম ব্যবহার করেছিলেন, কারণ সে সময় তিনি আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাসের কথা ভাবছিলেন।

পারিবারিক ঐতিহ্যের বাইরেও, জায়নবাদী আন্দোলনের ইতিহাসে নাম পরিবর্তনের এই সংস্কৃতি বেশ পুরোনো। ১৯২০-এর দশকে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বাবা বেনজিয়ন মিলেইকোভস্কি পোল্যান্ড থেকে তৎকালীন ফিলিস্তিনে আসার পর নিজের নাম পরিবর্তন করে ‘বেনজিয়ন নেতানিয়াহু’ রাখেন। তৎকালীন জায়নবাদী বসতি স্থাপনকারীদের মধ্যে নিজেদের ইউরোপীয় পরিচয় মুছে ফেলার লক্ষ্যে হিব্রু নাম ধারণ করার একটি ব্যাপক প্রবণতা ছিল। ইসরাইলের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বেন-গুরিয়ন, গোল্ডা মেয়ার, শিমন পেরেজ এবং অ্যারিয়েল শ্যারন সহ বহু শীর্ষস্থানীয় ইসরাইলি নেতাও একইভাবে নিজেদের আদি নাম পরিবর্তন করেছিলেন।