ঢাকা ০৮:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

গোলরক্ষক হওয়ার স্বপ্ন থেকে ইংল্যান্ডের ইতিহাসের সেরা স্ট্রাইকার কেইন

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:

একসময় হ্যারি কেইন দেখে অনেকেই ভাবতেন, তিনি হয়তো গোলরক্ষক হবেন। মাত্র ছয় বছর বয়সে প্রথম ক্লাব রিজওয়ে রোভার্সে যোগ দিয়ে নিজেই গোলপোস্টে দাঁড়ানোর আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। কিন্তু খুব দ্রুতই কোচদের নজরে আসে, গোল বাঁচানোর চেয়ে গোল করাতেই তিনি অনেক বেশি দক্ষ।

প্রথম মৌসুমেই ৪০টির বেশি গোল করে কেনের প্রতিভা নজরে পড়ে। আর্সেনাল তাকে দলে নিলেও পরে ছেড়ে দেয়। এরপর টটেনহ্যামও একবার তাকে ছেড়ে দিয়েছিল। তবে এসব প্রত্যাখ্যান তাকে দমাতে পারেনি। বরং কঠোর পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাসই তাকে ফিরিয়ে আনে।

শৈশবের কোচ ডেভ ব্রিকনেলের মতে, কেনের সবচেয়ে বড় গুণ ছিল মানসিক দৃঢ়তা। একটি সুযোগ নষ্ট হলেও তিনি কখনো ভেঙে পড়তেন না। বরং বিশ্বাস করতেন, পরের সুযোগটি অবশ্যই আসবে।

ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-২০ দলের সাবেক কোচ পিটার টেইলরও স্মরণ করেন, তরুণ কেইন ছিলেন আত্মবিশ্বাসী, কিন্তু অহংকারী নন। তার বিশ্বাস ছিল, কঠোর পরিশ্রম করলে একদিন সফলতা আসবেই।

টটেনহ্যামে প্রথমদিকে খুব বেশি সুযোগ পাননি কেইন। তবে কোচ মাউরিসিও পোচেত্তিনোর অধীনে নিজের খেলার ধরন বদলে ফেলেন। ফিটনেস বাড়ান, প্রেসিং শেখেন এবং আধুনিক স্ট্রাইকার হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলেন। সেই পরিবর্তনের ফলেই ২০১৪-১৫ মৌসুমে ৫১ ম্যাচে ৩১ গোল করে ইউরোপের অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ডে পরিণত হন। পরে তিনবার জেতেন প্রিমিয়ার লিগের গোল্ডেন বুট।

ইংল্যান্ড জাতীয় দলে গ্যারেথ সাউথগেটের অধীনে কেইন আরও পরিণত হয়ে ওঠেন। দলের আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়ে একের পর এক গোল করে দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসেন।

ইংল্যান্ডের সাবেক স্ট্রাইকার কোচ অ্যালান রাসেলের ভাষায়, ‘হ্যারি ভালো মানুষ, কিন্তু মাঠে তিনি নির্মম। গোল করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কঠোরতা ও আত্মবিশ্বাসই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।’

২০২৬ বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত ছন্দে আছেন কেইন। ইতোমধ্যে ছয় গোল করে তিনি ২০১৮ বিশ্বকাপের গোলসংখ্যার সমতা এনেছেন। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও নিজের করে নিয়েছেন।

৩৩ বছরে পা দেওয়ার আগমুহূর্তেও কেনের ক্ষুধা কমেনি। প্রতিটি ম্যাচে খেলতে চান, গোল করতে চান, নতুন রেকর্ড গড়তে চান। তার সাবেক কোচদের বিশ্বাস, এই মানসিকতাই তাকে ইংল্যান্ডের সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার বানিয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

গোলরক্ষক হওয়ার স্বপ্ন থেকে ইংল্যান্ডের ইতিহাসের সেরা স্ট্রাইকার কেইন

আপডেট সময় ০৬:৫০:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:

একসময় হ্যারি কেইন দেখে অনেকেই ভাবতেন, তিনি হয়তো গোলরক্ষক হবেন। মাত্র ছয় বছর বয়সে প্রথম ক্লাব রিজওয়ে রোভার্সে যোগ দিয়ে নিজেই গোলপোস্টে দাঁড়ানোর আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। কিন্তু খুব দ্রুতই কোচদের নজরে আসে, গোল বাঁচানোর চেয়ে গোল করাতেই তিনি অনেক বেশি দক্ষ।

প্রথম মৌসুমেই ৪০টির বেশি গোল করে কেনের প্রতিভা নজরে পড়ে। আর্সেনাল তাকে দলে নিলেও পরে ছেড়ে দেয়। এরপর টটেনহ্যামও একবার তাকে ছেড়ে দিয়েছিল। তবে এসব প্রত্যাখ্যান তাকে দমাতে পারেনি। বরং কঠোর পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাসই তাকে ফিরিয়ে আনে।

শৈশবের কোচ ডেভ ব্রিকনেলের মতে, কেনের সবচেয়ে বড় গুণ ছিল মানসিক দৃঢ়তা। একটি সুযোগ নষ্ট হলেও তিনি কখনো ভেঙে পড়তেন না। বরং বিশ্বাস করতেন, পরের সুযোগটি অবশ্যই আসবে।

ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-২০ দলের সাবেক কোচ পিটার টেইলরও স্মরণ করেন, তরুণ কেইন ছিলেন আত্মবিশ্বাসী, কিন্তু অহংকারী নন। তার বিশ্বাস ছিল, কঠোর পরিশ্রম করলে একদিন সফলতা আসবেই।

টটেনহ্যামে প্রথমদিকে খুব বেশি সুযোগ পাননি কেইন। তবে কোচ মাউরিসিও পোচেত্তিনোর অধীনে নিজের খেলার ধরন বদলে ফেলেন। ফিটনেস বাড়ান, প্রেসিং শেখেন এবং আধুনিক স্ট্রাইকার হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলেন। সেই পরিবর্তনের ফলেই ২০১৪-১৫ মৌসুমে ৫১ ম্যাচে ৩১ গোল করে ইউরোপের অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ডে পরিণত হন। পরে তিনবার জেতেন প্রিমিয়ার লিগের গোল্ডেন বুট।

ইংল্যান্ড জাতীয় দলে গ্যারেথ সাউথগেটের অধীনে কেইন আরও পরিণত হয়ে ওঠেন। দলের আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়ে একের পর এক গোল করে দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসেন।

ইংল্যান্ডের সাবেক স্ট্রাইকার কোচ অ্যালান রাসেলের ভাষায়, ‘হ্যারি ভালো মানুষ, কিন্তু মাঠে তিনি নির্মম। গোল করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কঠোরতা ও আত্মবিশ্বাসই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।’

২০২৬ বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত ছন্দে আছেন কেইন। ইতোমধ্যে ছয় গোল করে তিনি ২০১৮ বিশ্বকাপের গোলসংখ্যার সমতা এনেছেন। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও নিজের করে নিয়েছেন।

৩৩ বছরে পা দেওয়ার আগমুহূর্তেও কেনের ক্ষুধা কমেনি। প্রতিটি ম্যাচে খেলতে চান, গোল করতে চান, নতুন রেকর্ড গড়তে চান। তার সাবেক কোচদের বিশ্বাস, এই মানসিকতাই তাকে ইংল্যান্ডের সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার বানিয়েছে।