আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:
একসময় হ্যারি কেইন দেখে অনেকেই ভাবতেন, তিনি হয়তো গোলরক্ষক হবেন। মাত্র ছয় বছর বয়সে প্রথম ক্লাব রিজওয়ে রোভার্সে যোগ দিয়ে নিজেই গোলপোস্টে দাঁড়ানোর আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। কিন্তু খুব দ্রুতই কোচদের নজরে আসে, গোল বাঁচানোর চেয়ে গোল করাতেই তিনি অনেক বেশি দক্ষ।
প্রথম মৌসুমেই ৪০টির বেশি গোল করে কেনের প্রতিভা নজরে পড়ে। আর্সেনাল তাকে দলে নিলেও পরে ছেড়ে দেয়। এরপর টটেনহ্যামও একবার তাকে ছেড়ে দিয়েছিল। তবে এসব প্রত্যাখ্যান তাকে দমাতে পারেনি। বরং কঠোর পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাসই তাকে ফিরিয়ে আনে।
শৈশবের কোচ ডেভ ব্রিকনেলের মতে, কেনের সবচেয়ে বড় গুণ ছিল মানসিক দৃঢ়তা। একটি সুযোগ নষ্ট হলেও তিনি কখনো ভেঙে পড়তেন না। বরং বিশ্বাস করতেন, পরের সুযোগটি অবশ্যই আসবে।
ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-২০ দলের সাবেক কোচ পিটার টেইলরও স্মরণ করেন, তরুণ কেইন ছিলেন আত্মবিশ্বাসী, কিন্তু অহংকারী নন। তার বিশ্বাস ছিল, কঠোর পরিশ্রম করলে একদিন সফলতা আসবেই।
টটেনহ্যামে প্রথমদিকে খুব বেশি সুযোগ পাননি কেইন। তবে কোচ মাউরিসিও পোচেত্তিনোর অধীনে নিজের খেলার ধরন বদলে ফেলেন। ফিটনেস বাড়ান, প্রেসিং শেখেন এবং আধুনিক স্ট্রাইকার হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলেন। সেই পরিবর্তনের ফলেই ২০১৪-১৫ মৌসুমে ৫১ ম্যাচে ৩১ গোল করে ইউরোপের অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ডে পরিণত হন। পরে তিনবার জেতেন প্রিমিয়ার লিগের গোল্ডেন বুট।
ইংল্যান্ড জাতীয় দলে গ্যারেথ সাউথগেটের অধীনে কেইন আরও পরিণত হয়ে ওঠেন। দলের আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়ে একের পর এক গোল করে দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসেন।
ইংল্যান্ডের সাবেক স্ট্রাইকার কোচ অ্যালান রাসেলের ভাষায়, ‘হ্যারি ভালো মানুষ, কিন্তু মাঠে তিনি নির্মম। গোল করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কঠোরতা ও আত্মবিশ্বাসই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।’
২০২৬ বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত ছন্দে আছেন কেইন। ইতোমধ্যে ছয় গোল করে তিনি ২০১৮ বিশ্বকাপের গোলসংখ্যার সমতা এনেছেন। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও নিজের করে নিয়েছেন।
৩৩ বছরে পা দেওয়ার আগমুহূর্তেও কেনের ক্ষুধা কমেনি। প্রতিটি ম্যাচে খেলতে চান, গোল করতে চান, নতুন রেকর্ড গড়তে চান। তার সাবেক কোচদের বিশ্বাস, এই মানসিকতাই তাকে ইংল্যান্ডের সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার বানিয়েছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 


















