ঢাকা ০১:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

স্টিফেন হকিংয়ের সবচেয়ে বড় রহস্যের জট খুলছে

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

মহাবিশ্বের সবচেয়ে অদ্ভুত আর চরম অবস্থার জিনিসের নাম ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বর। এর আকর্ষণ এতই বেশি যে, এর ভেতর থেকে আলোও পালাতে পারে না। কিন্তু সত্যিই কি সেখান থেকে কিছুই বের হতে পারে না?

বিখ্যাত বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং ১৯৭৪ সালে বলেছিলেন অন্য কথা। তিনি জানান, ব্ল্যাক হোল থেকেও এক ধরনের বিকিরণ বা রেডিয়েশন বের হয়। এর ফলে এটি ধীরে ধীরে শক্তি হারায়। এই বিকিরণের নাম দেওয়া হয় ‘হকিং রেডিয়েশন’।

এবার এই তত্ত্ব নিয়েই দারুণ এক আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা। জার্মানির প্যাডারবর্ন ইউনিভার্সিটির গবেষক লরেঞ্জো প্রোকোপিওর দল ল্যাবরেটরিতে আলোর সাহায্যে নকল ব্ল্যাক হোল তৈরি করেন। তাদের এই গবেষণার খবরটি ‘নেচার’ জার্নালে ছাপা হয়েছে।

আসল ব্ল্যাক হোলের বিকিরণ অনেক দুর্বল হওয়ায় তা মাপা প্রায় অসম্ভব। তাই বিজ্ঞানীরা অপটিক্যাল ফাইবার ও দ্রুত গতির লেজার রশ্মি ব্যবহার করে ল্যাবরেটরিতে ব্ল্যাক হোলের পরিবেশ তৈরি করেন। সেখান থেকেই তারা ‘ব্যাকরিঅ্যাকশন’ বা শক্তি হারানোর প্রমাণ পান।

ব্যাপারটা অনেকটা রোলার স্কেট পায়ে দুজনের দাঁড়িয়ে থাকার মতো। একজন আরেকজনকে ধাক্কা দিলে দুজনই উল্টো দিকে সরে যায়। ঠিক তেমনি, বিকিরণ যখন শক্তি নিয়ে বেরিয়ে যায়, তখন ব্ল্যাক হোলও শক্তি হারায়। লেজার রশ্মির সামান্য পরিবর্তন মেপে বিজ্ঞানীরা এই প্রমাণ পেয়েছেন।

আগে ধারণা ছিল এই প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল। কিন্তু নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, এটি সরাসরি এবং সহজেই ঘটে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই আবিষ্কার ব্ল্যাক হোলের শক্তি হারানো এবং হকিংয়ের ‘ইনফরমেশন প্যারাডক্স’ রহস্য সমাধানে দারুণ কাজে আসবে। আসল ব্ল্যাক হোলে এটি মাপা কঠিন হলেও, মহাবিশ্বের বড় রহস্যগুলো জানতে এটি অনেক বড় এক পদক্ষেপ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

স্টিফেন হকিংয়ের সবচেয়ে বড় রহস্যের জট খুলছে

আপডেট সময় ০৬:৫০:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

মহাবিশ্বের সবচেয়ে অদ্ভুত আর চরম অবস্থার জিনিসের নাম ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বর। এর আকর্ষণ এতই বেশি যে, এর ভেতর থেকে আলোও পালাতে পারে না। কিন্তু সত্যিই কি সেখান থেকে কিছুই বের হতে পারে না?

বিখ্যাত বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং ১৯৭৪ সালে বলেছিলেন অন্য কথা। তিনি জানান, ব্ল্যাক হোল থেকেও এক ধরনের বিকিরণ বা রেডিয়েশন বের হয়। এর ফলে এটি ধীরে ধীরে শক্তি হারায়। এই বিকিরণের নাম দেওয়া হয় ‘হকিং রেডিয়েশন’।

এবার এই তত্ত্ব নিয়েই দারুণ এক আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা। জার্মানির প্যাডারবর্ন ইউনিভার্সিটির গবেষক লরেঞ্জো প্রোকোপিওর দল ল্যাবরেটরিতে আলোর সাহায্যে নকল ব্ল্যাক হোল তৈরি করেন। তাদের এই গবেষণার খবরটি ‘নেচার’ জার্নালে ছাপা হয়েছে।

আসল ব্ল্যাক হোলের বিকিরণ অনেক দুর্বল হওয়ায় তা মাপা প্রায় অসম্ভব। তাই বিজ্ঞানীরা অপটিক্যাল ফাইবার ও দ্রুত গতির লেজার রশ্মি ব্যবহার করে ল্যাবরেটরিতে ব্ল্যাক হোলের পরিবেশ তৈরি করেন। সেখান থেকেই তারা ‘ব্যাকরিঅ্যাকশন’ বা শক্তি হারানোর প্রমাণ পান।

ব্যাপারটা অনেকটা রোলার স্কেট পায়ে দুজনের দাঁড়িয়ে থাকার মতো। একজন আরেকজনকে ধাক্কা দিলে দুজনই উল্টো দিকে সরে যায়। ঠিক তেমনি, বিকিরণ যখন শক্তি নিয়ে বেরিয়ে যায়, তখন ব্ল্যাক হোলও শক্তি হারায়। লেজার রশ্মির সামান্য পরিবর্তন মেপে বিজ্ঞানীরা এই প্রমাণ পেয়েছেন।

আগে ধারণা ছিল এই প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল। কিন্তু নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, এটি সরাসরি এবং সহজেই ঘটে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই আবিষ্কার ব্ল্যাক হোলের শক্তি হারানো এবং হকিংয়ের ‘ইনফরমেশন প্যারাডক্স’ রহস্য সমাধানে দারুণ কাজে আসবে। আসল ব্ল্যাক হোলে এটি মাপা কঠিন হলেও, মহাবিশ্বের বড় রহস্যগুলো জানতে এটি অনেক বড় এক পদক্ষেপ।