ঢাকা ০৮:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রতিবন্ধীদের জন্য ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’ চালুর পরিকল্পনা সরকারের জুলাই নিয়ে শাওনের কটূক্তি শেখ হাসিনার অপরাধের শামিল প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়াতে চায় সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল গ্রহণযোগ্য নয়: এরশাদ উল্লাহ এমপি নানাবাড়ি বেড়াতে গিয়ে শিশুর মৃত্যু, হত্যার অভিযোগ বাবার বিয়ের দাবিতে ১২ দিন ধরে তরুণীর অবস্থান, প্রেমিকসহ আত্মগোপনে পরিবার পদ্মা রেল সেতুর মাটি কাটা প্রকল্পের নকশা ও চুক্তিরই অংশ: রেলমন্ত্রী আনোয়ারায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহী ৩০টিরও বেশি চীনা কোম্পানি যে কোনো অপপ্রচার কঠোর হস্তে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নানাবাড়ি বেড়াতে গিয়ে শিশুর মৃত্যু, হত্যার অভিযোগ বাবার

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার সাহেবরামপুর এলাকায় নানাবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে চার বছরের শিশু হাফিজুল শিকারীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার বাবা হানিফ শিকারী। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে এটিকে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু বলে দাবি করেছে শিশুটির নানাবাড়ির লোকজন। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।

নিহত হাফিজুল শিকারীর বাড়ি শরীয়তপুর সদর উপজেলার ধানুকা এলাকায়। পরিবার সূত্রে জানা যায়, কোরবানির ঈদের আগে মা নাদিয়া বেগম ছেলেকে নিয়ে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার সাহেবরামপুর গ্রামে বাবার বাড়িতে বেড়াতে যান। বুধবার শিশুটির মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে বৃহস্পতিবার মাদারীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে।

নিহতের বাবা হানিফ শিকারী অভিযোগ করে বলেন, স্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। সেই বিরোধের জেরে তার একমাত্র ছেলে হাফিজুলকে হত্যা করা হয়েছে। পরে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে পানিতে পড়ে মৃত্যুর গল্প প্রচার করা হচ্ছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, কালকিনি থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা গ্রহণ করেনি; বরং বিষয়টি মীমাংসা করার পরামর্শ দেয়। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

অন্যদিকে, নিহত শিশুর নানা বাদল খান হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার মেয়ে নাদিয়া বেগম মানসিক ভারসাম্যহীন। নদীর পাশে যাওয়ার সময় মা ও ছেলে দুজনই পানিতে পড়ে যায়। স্থানীয় লোকজন নাদিয়াকে উদ্ধার করলেও শিশুটি পানির স্রোতে ভেসে যায়। পরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এটি একটি দুর্ঘটনা, হত্যার কোনো ঘটনা নয় বলে দাবি করেন তিনি।

মাদারীপুর সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, ময়নাতদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রতিবেদনের পরই নিশ্চিতভাবে বলা যাবে এটি স্বাভাবিক মৃত্যু, নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে।

এ বিষয়ে কালকিনি থানার পুলিশ জানায়, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিবন্ধীদের জন্য ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’ চালুর পরিকল্পনা সরকারের

নানাবাড়ি বেড়াতে গিয়ে শিশুর মৃত্যু, হত্যার অভিযোগ বাবার

আপডেট সময় ০৫:৩০:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার সাহেবরামপুর এলাকায় নানাবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে চার বছরের শিশু হাফিজুল শিকারীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার বাবা হানিফ শিকারী। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে এটিকে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু বলে দাবি করেছে শিশুটির নানাবাড়ির লোকজন। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।

নিহত হাফিজুল শিকারীর বাড়ি শরীয়তপুর সদর উপজেলার ধানুকা এলাকায়। পরিবার সূত্রে জানা যায়, কোরবানির ঈদের আগে মা নাদিয়া বেগম ছেলেকে নিয়ে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার সাহেবরামপুর গ্রামে বাবার বাড়িতে বেড়াতে যান। বুধবার শিশুটির মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে বৃহস্পতিবার মাদারীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে।

নিহতের বাবা হানিফ শিকারী অভিযোগ করে বলেন, স্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। সেই বিরোধের জেরে তার একমাত্র ছেলে হাফিজুলকে হত্যা করা হয়েছে। পরে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে পানিতে পড়ে মৃত্যুর গল্প প্রচার করা হচ্ছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, কালকিনি থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা গ্রহণ করেনি; বরং বিষয়টি মীমাংসা করার পরামর্শ দেয়। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

অন্যদিকে, নিহত শিশুর নানা বাদল খান হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার মেয়ে নাদিয়া বেগম মানসিক ভারসাম্যহীন। নদীর পাশে যাওয়ার সময় মা ও ছেলে দুজনই পানিতে পড়ে যায়। স্থানীয় লোকজন নাদিয়াকে উদ্ধার করলেও শিশুটি পানির স্রোতে ভেসে যায়। পরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এটি একটি দুর্ঘটনা, হত্যার কোনো ঘটনা নয় বলে দাবি করেন তিনি।

মাদারীপুর সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, ময়নাতদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রতিবেদনের পরই নিশ্চিতভাবে বলা যাবে এটি স্বাভাবিক মৃত্যু, নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে।

এ বিষয়ে কালকিনি থানার পুলিশ জানায়, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।