ঢাকা ০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের ঘোষণা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

২০৩০ সালের মধ্যে দেশে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী জ্বালানি নিশ্চিত করতে সোলার পাওয়ারের সব ধরনের যন্ত্রাংশ ও ক্যাপাসিটি ব্যাংকের ওপর থেকে সম্পূর্ণ শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সাথে এই খাত থেকে অর্জিত আয়ের ওপর ২০৩১ সাল পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি ট্যাক্স হলিডে বা কর অবকাশ সুবিধা দেওয়া হয়েছে, যা দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিদ্যুৎ খাতে বিপুলভাবে উৎসাহিত করবে।

রবিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ মহাপরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন তিনি। মন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছরের বাজেটে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের জন্য ১৭ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা মোট জাতীয় বাজেটের ১ দশমিক ৮৫ শতাংশ।

গত অর্থবছরের ১৬ হাজার ৯৫২ কোটি টাকার তুলনায় এই বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বরাদ্দের সিংহভাগ অর্থাৎ ১৭ হাজার ১৯২ কোটি ৮২ লক্ষ টাকাই রাখা হয়েছে উন্নয়ন ব্যয় হিসেবে। পরিচালন ব্যয় মাত্র ১৫২ কোটি ২২ লক্ষ টাকা হওয়ায় এটি স্পষ্ট যে সরকার বিদ্যুৎ খাতের পরিচালন বা দৈনিক খরচের চেয়ে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, গবেষণা এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সর্বোচ্চ ৯৯ শতাংশ গুরুত্ব দিচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের উন্নয়ন কাজের জন্য ১৪ হাজার ৯৩৮ কোটি ৮৭ লক্ষ টাকা এবং জ্বালানি বিভাগের জন্য ২ হাজার ২৫৪ কোটি ১৬ লক্ষ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া একটি বিধ্বস্ত বিদ্যুৎ খাত পেয়েছিল। বিগত ১৫ বছরে এই খাতকে সম্পূর্ণ ধ্বংসের প্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকার বিশাল বকেয়া রেখে যাওয়া হয়েছে। এর বাইরেও বিগত সরকার এমন সব বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চুক্তি করে গেছে যেখানে সোভরেইন গ্যারান্টি বা রাষ্ট্রীয় নিশ্চয়তা দেওয়া ছিল। এই একপেশে চুক্তিগুলো পুনর্বিবেচনা করতে গেলে রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি ভাঙার বা ক্যাশ করার হুমকি দেওয়া হয়। এমন একটি বৈরী ও জটিল পরিস্থিতির মধ্যেও সরকার বেসরকারি খাতের সাথে আলোচনা করে একটি পারস্পরিক লাভজনক বা ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতির মাধ্যমে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো চালু রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের ঘোষণা

আপডেট সময় ০৯:৩০:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

২০৩০ সালের মধ্যে দেশে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী জ্বালানি নিশ্চিত করতে সোলার পাওয়ারের সব ধরনের যন্ত্রাংশ ও ক্যাপাসিটি ব্যাংকের ওপর থেকে সম্পূর্ণ শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সাথে এই খাত থেকে অর্জিত আয়ের ওপর ২০৩১ সাল পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি ট্যাক্স হলিডে বা কর অবকাশ সুবিধা দেওয়া হয়েছে, যা দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিদ্যুৎ খাতে বিপুলভাবে উৎসাহিত করবে।

রবিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ মহাপরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন তিনি। মন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছরের বাজেটে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের জন্য ১৭ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা মোট জাতীয় বাজেটের ১ দশমিক ৮৫ শতাংশ।

গত অর্থবছরের ১৬ হাজার ৯৫২ কোটি টাকার তুলনায় এই বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বরাদ্দের সিংহভাগ অর্থাৎ ১৭ হাজার ১৯২ কোটি ৮২ লক্ষ টাকাই রাখা হয়েছে উন্নয়ন ব্যয় হিসেবে। পরিচালন ব্যয় মাত্র ১৫২ কোটি ২২ লক্ষ টাকা হওয়ায় এটি স্পষ্ট যে সরকার বিদ্যুৎ খাতের পরিচালন বা দৈনিক খরচের চেয়ে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, গবেষণা এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সর্বোচ্চ ৯৯ শতাংশ গুরুত্ব দিচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের উন্নয়ন কাজের জন্য ১৪ হাজার ৯৩৮ কোটি ৮৭ লক্ষ টাকা এবং জ্বালানি বিভাগের জন্য ২ হাজার ২৫৪ কোটি ১৬ লক্ষ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া একটি বিধ্বস্ত বিদ্যুৎ খাত পেয়েছিল। বিগত ১৫ বছরে এই খাতকে সম্পূর্ণ ধ্বংসের প্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকার বিশাল বকেয়া রেখে যাওয়া হয়েছে। এর বাইরেও বিগত সরকার এমন সব বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চুক্তি করে গেছে যেখানে সোভরেইন গ্যারান্টি বা রাষ্ট্রীয় নিশ্চয়তা দেওয়া ছিল। এই একপেশে চুক্তিগুলো পুনর্বিবেচনা করতে গেলে রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি ভাঙার বা ক্যাশ করার হুমকি দেওয়া হয়। এমন একটি বৈরী ও জটিল পরিস্থিতির মধ্যেও সরকার বেসরকারি খাতের সাথে আলোচনা করে একটি পারস্পরিক লাভজনক বা ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতির মাধ্যমে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো চালু রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।