ঢাকা ০৪:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

চুক্তি স্বাক্ষরের পরদিনই লেবাননে ইসরাইলি ড্রোন হামলা

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :  

দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে মার্কিন মধ্যস্থতায় ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র একদিনের মাথায় আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দক্ষিণ লেবানন। শনিবার (২৭ জুন) দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় কৌশলগত এলাকা নাবাতিহ-তে একটি ইসরাইলি ড্রোন অত্যন্ত জোরালো হামলা চালিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ।

চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে চালানো এই আকস্মিক হামলাকে কেন্দ্র করে ওই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়াটি আবারও বড় ধরনের অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

লেবাননের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, নাবাতিহ আল-ফাওকা এলাকার একটি জনাকীর্ণ মোড় ‘ফারাহ অ্যামিউজমেন্ট পার্ক ইন্টারসেকশন’কে নিশানা করে ইসরাইলি ড্রোনটি আঘাত হানে।

হামলার পর তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির সম্পূর্ণ বিবরণ বা কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, আকস্মিক এই বিস্ফোরণের ফলে পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটোছুটি শুরু করে।

গত কয়েক মাস ধরে লেবানন-ইসরাইল সীমান্ত জুড়ে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এবং ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) মধ্যে প্রায় প্রতিদিনই রকেট ও বিমান হামলা বিনিময় চলছিল। এই সীমান্ত সংঘাতের তীব্রতা এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছিল যা যেকোনো মুহূর্তে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের রূপ নিতে পারত। এমন এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমন এবং সীমান্তে একটি বাফার জোন বা নিরাপদ এলাকা গড়ে তোলার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় শুক্রবার (২৬ জুন) উভয় পক্ষ একটি নিরাপত্তা সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চুক্তি স্বাক্ষরের পরদিনই ইসরাইলের এই ড্রোন হামলা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে তীব্র অসন্তোষ তৈরি করতে পারে। এই হামলাটি কোনো ভুল বোঝাবুঝি নাকি চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের একটি পরিকল্পিত পদক্ষেপ, তা নিয়ে ইতোমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

দীর্ঘদিনের বৈরিতা ভুলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার যে আশা জাগানিয়া পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, এই ঘটনা তাকে চরম সংকটে ফেলে দিল। হামলার বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা বা প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

চুক্তি স্বাক্ষরের পরদিনই লেবাননে ইসরাইলি ড্রোন হামলা

আপডেট সময় ০৫:৩৫:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :  

দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে মার্কিন মধ্যস্থতায় ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র একদিনের মাথায় আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দক্ষিণ লেবানন। শনিবার (২৭ জুন) দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় কৌশলগত এলাকা নাবাতিহ-তে একটি ইসরাইলি ড্রোন অত্যন্ত জোরালো হামলা চালিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ।

চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে চালানো এই আকস্মিক হামলাকে কেন্দ্র করে ওই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়াটি আবারও বড় ধরনের অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

লেবাননের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, নাবাতিহ আল-ফাওকা এলাকার একটি জনাকীর্ণ মোড় ‘ফারাহ অ্যামিউজমেন্ট পার্ক ইন্টারসেকশন’কে নিশানা করে ইসরাইলি ড্রোনটি আঘাত হানে।

হামলার পর তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির সম্পূর্ণ বিবরণ বা কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, আকস্মিক এই বিস্ফোরণের ফলে পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটোছুটি শুরু করে।

গত কয়েক মাস ধরে লেবানন-ইসরাইল সীমান্ত জুড়ে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এবং ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) মধ্যে প্রায় প্রতিদিনই রকেট ও বিমান হামলা বিনিময় চলছিল। এই সীমান্ত সংঘাতের তীব্রতা এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছিল যা যেকোনো মুহূর্তে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের রূপ নিতে পারত। এমন এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমন এবং সীমান্তে একটি বাফার জোন বা নিরাপদ এলাকা গড়ে তোলার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় শুক্রবার (২৬ জুন) উভয় পক্ষ একটি নিরাপত্তা সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চুক্তি স্বাক্ষরের পরদিনই ইসরাইলের এই ড্রোন হামলা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে তীব্র অসন্তোষ তৈরি করতে পারে। এই হামলাটি কোনো ভুল বোঝাবুঝি নাকি চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের একটি পরিকল্পিত পদক্ষেপ, তা নিয়ে ইতোমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

দীর্ঘদিনের বৈরিতা ভুলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার যে আশা জাগানিয়া পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, এই ঘটনা তাকে চরম সংকটে ফেলে দিল। হামলার বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা বা প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।