ঢাকা ০৫:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

নারীর মতো প্রকৃতিকেও পণ্য বানিয়েছে পুরুষতন্ত্র: দিয়া মির্জা

আকাশ বিনোদন ডেস্ক : 

পুরুষতন্ত্রের জন্যই পরিবেশের অবনতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী দিয়া মির্জা। তিনি বলেন, পরিবেশ খারাপ হওয়ার নেপথ্যেও রয়েছে পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে আলোচনাসভায় গিয়ে এমন মন্তব্য করেন অভিনেত্রী। এর পরেই সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মাঝে শুরু হয়েছে নানা সমালোচনার ঝড়। কেউ কেউ সমর্থন করেছেন অভিনেত্রীকে। আবার কেউ কেউ নিন্দা করেছেন। বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন দিয়া মির্জা। তিনি বলেন, পুরুষেরাই জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী এবং তারাই পৃথিবীতে বর্তমানে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছেন।

কোনো নির্দিষ্ট পুরুষকে দায়ী করার জন্য নয়; বরং পিতৃতান্ত্রিক ক্ষমতার কাঠামো যেভাবে পরিবেশের ক্ষতি করছে, তা বোঝানোর জন্যই তিনি এমন মন্তব্য করেছিলেন বলে জানিয়েছেন দিয়া মির্জা।

অভিনেত্রী বলেন, পুরুষরাই জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী এবং তারাই পৃথিবীতে বর্তমানে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছেন। তিনি বলেন, যেহেতু অনেকেই এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছেন, তাই বিষয়টি যতটা সহজভাবে বলা যায়, ততটাই বলছি। আমি আমার বক্তব্যে অনড়। পিতৃতন্ত্রই জলবায়ু সংকটের প্রধান কারণ।

দিয়া মির্জা বলেন, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে পিতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য কিছু মানুষের হাতেই থেকেছে ক্ষমতা। যত্ন নেওয়ার বদলে তারা কেবল সম্পদ শোষণ করেছে। এমনকি প্রকৃতিকে রক্ষা করার পরিবর্তে ব্যবহারের বস্তু হিসাবেই শুধু দেখেছে।

তিনি বলেন, পিতৃতান্ত্রিক সমাজে নারীদের সঙ্গে যেমন আচরণ করা হয়, অনেকটা সেভাবেই বন, জঙ্গল, নদী, সমুদ্র এবং পরিবেশের অন্যান্য অংশকেও পণ্য হিসাবে দেখা হয়। এ চিন্তাভাবনার ফল এখন আর উপেক্ষা করা সম্ভব নয়।

নিজের মন্তব্যের যুক্তিতে অনড় থেকে দিয়া মির্জা আরও বলেন, প্রকৃতি রক্ষা এবং নারীর অধিকারের পক্ষে যারা কথা বলেন, তাদের কণ্ঠস্বরকে দুর্বল করার কাজও এই পিতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থারই অংশ।

কেন পুরুষতন্ত্রের কথা উল্লেখ করেছেন, তা আরও বিশদে জানান অভিনেত্রী। তিনি বলেন, বিশেষ করে প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া গোষ্ঠীর নারীরা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সবচেয়ে আগে অনুভব করেন। পানি সংকট, খাদ্যের অভাব, ঘরছাড়া হওয়া এবং জীবিকার ক্ষতির মতো সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় তাদের। কিন্তু পরিবেশসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জায়গাগুলোতে তাদের উপস্থিতি এখনো খুব কম।

অভিনেত্রী বলেন, স্বাস্থ্যকর ভবিষ্যৎ তৈরি করতে হলে এই আধিপত্যের বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে সমতা, সহানুভূতিসহত জীবনের প্রতি সম্মান করতে হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

নারীর মতো প্রকৃতিকেও পণ্য বানিয়েছে পুরুষতন্ত্র: দিয়া মির্জা

আপডেট সময় ০৩:৪৫:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

আকাশ বিনোদন ডেস্ক : 

পুরুষতন্ত্রের জন্যই পরিবেশের অবনতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী দিয়া মির্জা। তিনি বলেন, পরিবেশ খারাপ হওয়ার নেপথ্যেও রয়েছে পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে আলোচনাসভায় গিয়ে এমন মন্তব্য করেন অভিনেত্রী। এর পরেই সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মাঝে শুরু হয়েছে নানা সমালোচনার ঝড়। কেউ কেউ সমর্থন করেছেন অভিনেত্রীকে। আবার কেউ কেউ নিন্দা করেছেন। বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন দিয়া মির্জা। তিনি বলেন, পুরুষেরাই জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী এবং তারাই পৃথিবীতে বর্তমানে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছেন।

কোনো নির্দিষ্ট পুরুষকে দায়ী করার জন্য নয়; বরং পিতৃতান্ত্রিক ক্ষমতার কাঠামো যেভাবে পরিবেশের ক্ষতি করছে, তা বোঝানোর জন্যই তিনি এমন মন্তব্য করেছিলেন বলে জানিয়েছেন দিয়া মির্জা।

অভিনেত্রী বলেন, পুরুষরাই জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী এবং তারাই পৃথিবীতে বর্তমানে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছেন। তিনি বলেন, যেহেতু অনেকেই এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছেন, তাই বিষয়টি যতটা সহজভাবে বলা যায়, ততটাই বলছি। আমি আমার বক্তব্যে অনড়। পিতৃতন্ত্রই জলবায়ু সংকটের প্রধান কারণ।

দিয়া মির্জা বলেন, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে পিতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য কিছু মানুষের হাতেই থেকেছে ক্ষমতা। যত্ন নেওয়ার বদলে তারা কেবল সম্পদ শোষণ করেছে। এমনকি প্রকৃতিকে রক্ষা করার পরিবর্তে ব্যবহারের বস্তু হিসাবেই শুধু দেখেছে।

তিনি বলেন, পিতৃতান্ত্রিক সমাজে নারীদের সঙ্গে যেমন আচরণ করা হয়, অনেকটা সেভাবেই বন, জঙ্গল, নদী, সমুদ্র এবং পরিবেশের অন্যান্য অংশকেও পণ্য হিসাবে দেখা হয়। এ চিন্তাভাবনার ফল এখন আর উপেক্ষা করা সম্ভব নয়।

নিজের মন্তব্যের যুক্তিতে অনড় থেকে দিয়া মির্জা আরও বলেন, প্রকৃতি রক্ষা এবং নারীর অধিকারের পক্ষে যারা কথা বলেন, তাদের কণ্ঠস্বরকে দুর্বল করার কাজও এই পিতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থারই অংশ।

কেন পুরুষতন্ত্রের কথা উল্লেখ করেছেন, তা আরও বিশদে জানান অভিনেত্রী। তিনি বলেন, বিশেষ করে প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া গোষ্ঠীর নারীরা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সবচেয়ে আগে অনুভব করেন। পানি সংকট, খাদ্যের অভাব, ঘরছাড়া হওয়া এবং জীবিকার ক্ষতির মতো সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় তাদের। কিন্তু পরিবেশসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জায়গাগুলোতে তাদের উপস্থিতি এখনো খুব কম।

অভিনেত্রী বলেন, স্বাস্থ্যকর ভবিষ্যৎ তৈরি করতে হলে এই আধিপত্যের বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে সমতা, সহানুভূতিসহত জীবনের প্রতি সম্মান করতে হবে।