ঢাকা ১১:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অল্পতেই ধৈর্য হারালে দায়িত্ব কীভাবে পালন করবেন: ডা. শফিকুর রহমান ‘ব্রেন ড্রেন’ থেকে ‘ব্রেন সার্কুলেশন’ করতে চায় সরকার: মাহদী আমিন ধর্মান্তরিত হয়ে প্রবাসীকে বিয়ে, ছয় মাস পর তরুণীর রহস্যজনক মৃত্যু দেশের অর্থনীতি গভীর চাপে রয়েছে : নাহিদ ইসলাম শাহবাগে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মেধাবী প্রকৌশলীদের বিদেশমুখী প্রবণতা কমাতে অনুকূল কর্মপরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে: আইনমন্ত্রী আদ-দ্বীন হাসপাতাল কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরেছে, কিন্তু লাইসেন্স বাতিল করেছি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজনৈতিকভাবে দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হবে : জোনায়েদ সাকী নৌ ডাকাতির প্রস্তুতিকালে গ্রেফতার ১০ ‘শ্রেষ্ঠ কৃষক পুরস্কার’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

তরুণদের একাংশের মধ্যে সম্মানিত ব্যক্তিদের অসম্মান করার প্রবণতা তৈরি হয়েছে: প্রতিমন্ত্রী

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

তরুণদের একাংশের মধ্যে সম্মানিত ব্যক্তিদের অসম্মান করার প্রবণতা তৈরি হয়েছে- এমন মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এমএ মুহিত।

শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত ইনসাইট ফর চেঞ্জ ফাউন্ডেশনের (আইসিএফ) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মুহিত বলেন, আমাদের সমাজে ফ্যাসিবাদের আমলে গণতন্ত্রহীনতার চর্চার কারণে সামাজিক মূল্যবোধের যে ঐতিহ্যগত কাঠামো ছিল, তা সম্পূর্ণ নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বর্তমানে দুর্নীতি সামাজিকভাবে এক ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। মানুষ এখন আর পারিবারিক বা সামাজিক পরিসরে দুর্নীতি নিয়ে কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে না, কারণ সামাজিক সমাবেশগুলোতেও দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে এই অবক্ষয় রোধের কাজটি দিন দিন আরও কঠিন হয়ে উঠছে।

তিনি বলেন, কোনটি সঠিক আর কোনটি বেঠিক— শুধুমাত্র এই সাধারণ জ্ঞানটুকু সমাজ বা নাগরিক জীবনে বড় কোনো পরিবর্তন আনতে পারে না। এর জন্য মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি, চিন্তাধারা এবং জীবনযাত্রায় একটি দৃশ্যমান ও সুদূরপ্রসারী সংস্কার প্রয়োজন।

রাস্তাঘাটে যেখানে-সেখানে থুতু বা পানের পিক ফেলার মতো নেতিবাচক নাগরিক অভ্যাসগুলোর উদাহরণ দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সমাজের এই আচরণগত ত্রুটিগুলো দূর করতে বিচার বা জাজমেন্টের চেয়ে বরং একটি সমন্বিত সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা বেশি প্রয়োজন। বর্তমান প্রজন্মের তরুণদের একাংশের মধ্যে সম্মানিত ব্যক্তিদের প্রতি অসম্মান প্রদর্শনকে সাহসিকতা বা স্মার্টনেস হিসেবে ভুল ব্যাখ্যা করার যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, তাকে দূর করে সত্য ও মিথ্যার সঠিক সংজ্ঞা ফিরিয়ে আনতে ‘ইনসাইট ফর চেঞ্জ ফাউন্ডেশন’ কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে প্রতিমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের দেশে স্বাস্থ্য খাতের অগ্রগতি বলতে সাধারণত বড় বড় হাসপাতাল নির্মাণ বা আইসিইউ বেড বাড়ানোকেই বোঝানো হয়ে থাকে, যা এক ধরনের অসুস্থ মানসিকতা। কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মূল অভীষ্ট লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের ‘সুস্বাস্থ্য’ নিশ্চিত করা, অসুখের চিকিৎসা নয়। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে বর্তমান বাজেটে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, স্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হয়েছে। শত শত কোটি টাকা ব্যয় করে উপজেলা পর্যায়ে মেডিকেল কলেজ বা আইসিইউ বেড দিলেই প্রকৃত স্বাস্থ্য অর্জিত হয় না। এর জন্য প্রয়োজন আইনি সুশাসনের মাধ্যমে খাদ্যকে সম্পূর্ণরূপে বিষ ও ভেজালমুক্ত করা এবং জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি করা। নাগরিকরা যদি প্রতিদিন অন্তত চল্লিশ মিনিট হাঁটার অভ্যাস করেন এবং খাদ্যাভ্যাসে সচেতন হন, তবেই দেশের বড় বড় ঘাতক ব্যাধি যেমন- ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, শ্বাসকষ্ট ও কিডনি রোগ সহজে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে এবং অকাল মৃত্যু হ্রাস পাবে।

দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন কর্মসূচিকে ফলপ্রসূ করতে তরুণ সমাজ এবং গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিহার্য উল্লেখ করে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত স্বৈরাচারী শাসনামলে মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অবরুদ্ধ থাকায় রাজনৈতিক আন্দোলনই ছিল একমাত্র পথ। কিন্তু বর্তমান স্থিতিশীলতার যুগে শুধু বিরোধিতার রাজনীতি পরিহার করে যুবসমাজের অফুরন্ত শক্তিকে একটি নতুন ইতিবাচক সামাজিক নীতিতে রূপান্তর করতে হবে। এই সামাজিক আন্দোলনে রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সব তরুণকে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন, যাতে প্রতিটি উন্নয়ন কর্মসূচি জনসম্পৃক্ত হয়ে ওঠে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে এছাড়াও বক্তৃতা করেন, পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, জাতীয় গ্ৰন্থকেন্দ্রের পরিচালক আফসানা বেগম, নবগঠিত সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নওফেল জমির প্রমুখ। অনুষ্ঠানের শুরুতে নবগঠিত সংগঠনের কার্যক্রম বিষয়ে ধারণা দিতে দুটি ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অল্পতেই ধৈর্য হারালে দায়িত্ব কীভাবে পালন করবেন: ডা. শফিকুর রহমান

তরুণদের একাংশের মধ্যে সম্মানিত ব্যক্তিদের অসম্মান করার প্রবণতা তৈরি হয়েছে: প্রতিমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৭:১০:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

তরুণদের একাংশের মধ্যে সম্মানিত ব্যক্তিদের অসম্মান করার প্রবণতা তৈরি হয়েছে- এমন মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এমএ মুহিত।

শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত ইনসাইট ফর চেঞ্জ ফাউন্ডেশনের (আইসিএফ) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মুহিত বলেন, আমাদের সমাজে ফ্যাসিবাদের আমলে গণতন্ত্রহীনতার চর্চার কারণে সামাজিক মূল্যবোধের যে ঐতিহ্যগত কাঠামো ছিল, তা সম্পূর্ণ নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বর্তমানে দুর্নীতি সামাজিকভাবে এক ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। মানুষ এখন আর পারিবারিক বা সামাজিক পরিসরে দুর্নীতি নিয়ে কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে না, কারণ সামাজিক সমাবেশগুলোতেও দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে এই অবক্ষয় রোধের কাজটি দিন দিন আরও কঠিন হয়ে উঠছে।

তিনি বলেন, কোনটি সঠিক আর কোনটি বেঠিক— শুধুমাত্র এই সাধারণ জ্ঞানটুকু সমাজ বা নাগরিক জীবনে বড় কোনো পরিবর্তন আনতে পারে না। এর জন্য মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি, চিন্তাধারা এবং জীবনযাত্রায় একটি দৃশ্যমান ও সুদূরপ্রসারী সংস্কার প্রয়োজন।

রাস্তাঘাটে যেখানে-সেখানে থুতু বা পানের পিক ফেলার মতো নেতিবাচক নাগরিক অভ্যাসগুলোর উদাহরণ দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সমাজের এই আচরণগত ত্রুটিগুলো দূর করতে বিচার বা জাজমেন্টের চেয়ে বরং একটি সমন্বিত সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা বেশি প্রয়োজন। বর্তমান প্রজন্মের তরুণদের একাংশের মধ্যে সম্মানিত ব্যক্তিদের প্রতি অসম্মান প্রদর্শনকে সাহসিকতা বা স্মার্টনেস হিসেবে ভুল ব্যাখ্যা করার যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, তাকে দূর করে সত্য ও মিথ্যার সঠিক সংজ্ঞা ফিরিয়ে আনতে ‘ইনসাইট ফর চেঞ্জ ফাউন্ডেশন’ কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে প্রতিমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের দেশে স্বাস্থ্য খাতের অগ্রগতি বলতে সাধারণত বড় বড় হাসপাতাল নির্মাণ বা আইসিইউ বেড বাড়ানোকেই বোঝানো হয়ে থাকে, যা এক ধরনের অসুস্থ মানসিকতা। কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মূল অভীষ্ট লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের ‘সুস্বাস্থ্য’ নিশ্চিত করা, অসুখের চিকিৎসা নয়। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে বর্তমান বাজেটে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, স্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হয়েছে। শত শত কোটি টাকা ব্যয় করে উপজেলা পর্যায়ে মেডিকেল কলেজ বা আইসিইউ বেড দিলেই প্রকৃত স্বাস্থ্য অর্জিত হয় না। এর জন্য প্রয়োজন আইনি সুশাসনের মাধ্যমে খাদ্যকে সম্পূর্ণরূপে বিষ ও ভেজালমুক্ত করা এবং জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি করা। নাগরিকরা যদি প্রতিদিন অন্তত চল্লিশ মিনিট হাঁটার অভ্যাস করেন এবং খাদ্যাভ্যাসে সচেতন হন, তবেই দেশের বড় বড় ঘাতক ব্যাধি যেমন- ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, শ্বাসকষ্ট ও কিডনি রোগ সহজে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে এবং অকাল মৃত্যু হ্রাস পাবে।

দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন কর্মসূচিকে ফলপ্রসূ করতে তরুণ সমাজ এবং গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিহার্য উল্লেখ করে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত স্বৈরাচারী শাসনামলে মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অবরুদ্ধ থাকায় রাজনৈতিক আন্দোলনই ছিল একমাত্র পথ। কিন্তু বর্তমান স্থিতিশীলতার যুগে শুধু বিরোধিতার রাজনীতি পরিহার করে যুবসমাজের অফুরন্ত শক্তিকে একটি নতুন ইতিবাচক সামাজিক নীতিতে রূপান্তর করতে হবে। এই সামাজিক আন্দোলনে রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সব তরুণকে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন, যাতে প্রতিটি উন্নয়ন কর্মসূচি জনসম্পৃক্ত হয়ে ওঠে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে এছাড়াও বক্তৃতা করেন, পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, জাতীয় গ্ৰন্থকেন্দ্রের পরিচালক আফসানা বেগম, নবগঠিত সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নওফেল জমির প্রমুখ। অনুষ্ঠানের শুরুতে নবগঠিত সংগঠনের কার্যক্রম বিষয়ে ধারণা দিতে দুটি ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।