ঢাকা ১১:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

‘জিরো গ্রাভিটি’তে উড়লেন মার্কিন বৃদ্ধ,শৈশবের স্বপ্ন ৯৭ বছর বয়সে পূরণ

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

অনেকের কাছেই মহাকাশে বা তারার দেশে ওড়ার স্বপ্নটা আজীবন স্বপ্নই থেকে যায়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের রবার্ট গর্ডন ম্যাকঅ্যাফির ক্ষেত্রে তা ঘটেনি। শৈশবের সেই লালিত স্বপ্ন অবশেষে সত্যি হলো ৯০ বছরেরও বেশি সময় পর। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে এনডিটিভি।

অ্যাপালাচিয়ার পাদদেশে যখন বড় হচ্ছিলেন, তখন থেকেই আকাশের তারাদের দিকে গভীর কৌতূহল আর বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে থাকতেন রবার্ট। পূর্ব টেনেসির এই বাসিন্দা শৈশবে বাড়ির কাছের বন-জঙ্গল আর জলাশয়ে ব্যাঙাচি ধরে আর প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করেই সময় পার করতেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশ নেওয়ার পর তিনি মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন এবং পরবর্তীতে কানসাসে চিকিৎসার বিভিন্ন শাখায় সুনামের সঙ্গে কাজ করেন। অবশেষে ৮৫ বছর বয়সে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে তিনি অবসর নেন।

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ৯৭ বছর বয়সে রবার্ট শূন্য মাধ্যাকর্ষণে (জিরো গ্রাভিটি) ওড়া সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তি হিসেবে বিশ্বরেকর্ড গড়েন। ‘জিরো জি লুনার স্পেসফ্লাইট’ নামক একটি কোম্পানির সহায়তায় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের সর্বোচ্চ স্তরে ভ্রমণ করে তিনি এই অনন্য কীর্তি স্থাপন করেন। সংক্ষিপ্ত এ ফ্লাইটে তিনি ওজনহীন অবস্থায় ভেসে থাকার সেই রোমাঞ্চ অনুভব করেন, যা তিনি শৈশব থেকে স্বপ্ন দেখতেন।

এই ঐতিহাসিক যাত্রায় রবার্টের সঙ্গী হয়েছিলেন তার নাতনি কেইট, যার সঙ্গে তার সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। বছরের পর বছর ধরে মহাকাশ ভ্রমণের গল্প শোনার পর, কেইটই তার দাদুকে এই জিরো-জি ফ্লাইটে অংশ নিতে উৎসাহিত করেছিলেন।

২০২৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ক্যালিফোর্নিয়ার সান জোসে এই ফ্লাইটটি পরিচালিত হয়। এই ভ্রমণের মাধ্যমে তারা মার্কিন সামরিক বাহিনীতে রবার্টের দীর্ঘ কর্মজীবনকে সম্মান জানানোর পাশাপাশি তার ভাই জেজি ম্যাকঅ্যাফিকেও স্মরণ করেন, যিনি রবার্টকে উড়তে শিখিয়েছিলেন।

এই যাত্রার প্রস্তুতি হিসেবে রবার্ট নিজেকে বেশ সক্রিয় রেখেছিলেন। নিয়মিত হাঁটার পাশাপাশি নিজের শারীরিক স্বাস্থ্যের প্রতি গভীর মনোযোগ দিয়েছিলেন তিনি। মজার ব্যাপার হলো, ফ্লাইটের আগে একজন চিকিৎসক যখন তাকে ফিটনেস সার্টিফিকেট দিতে অস্বীকৃতি জানান, তখন রবার্ট দমে যাননি। তিনি রসিকতা করে বলেন, ‘ডাক্তারদের জ্ঞানের সীমা এই পর্যন্তই’। এরপর তিনি নিজেই নিজের ফিটনেস সার্টিফিকেট লিখে নেন!

কয়েক দশক ধরে মাটির পৃথিবীতে কাটানোর পর, অবশেষে রবার্ট গর্ডন ম্যাকঅ্যাফি তারার মাঝে ভেসে বেড়ানোর অনুভূতি লাভ করলেন; পূরণ হলো শৈশবের সেই অপূর্ণ স্বপ্ন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

‘জিরো গ্রাভিটি’তে উড়লেন মার্কিন বৃদ্ধ,শৈশবের স্বপ্ন ৯৭ বছর বয়সে পূরণ

আপডেট সময় ০৯:৪৫:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

অনেকের কাছেই মহাকাশে বা তারার দেশে ওড়ার স্বপ্নটা আজীবন স্বপ্নই থেকে যায়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের রবার্ট গর্ডন ম্যাকঅ্যাফির ক্ষেত্রে তা ঘটেনি। শৈশবের সেই লালিত স্বপ্ন অবশেষে সত্যি হলো ৯০ বছরেরও বেশি সময় পর। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে এনডিটিভি।

অ্যাপালাচিয়ার পাদদেশে যখন বড় হচ্ছিলেন, তখন থেকেই আকাশের তারাদের দিকে গভীর কৌতূহল আর বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে থাকতেন রবার্ট। পূর্ব টেনেসির এই বাসিন্দা শৈশবে বাড়ির কাছের বন-জঙ্গল আর জলাশয়ে ব্যাঙাচি ধরে আর প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করেই সময় পার করতেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশ নেওয়ার পর তিনি মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন এবং পরবর্তীতে কানসাসে চিকিৎসার বিভিন্ন শাখায় সুনামের সঙ্গে কাজ করেন। অবশেষে ৮৫ বছর বয়সে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে তিনি অবসর নেন।

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ৯৭ বছর বয়সে রবার্ট শূন্য মাধ্যাকর্ষণে (জিরো গ্রাভিটি) ওড়া সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তি হিসেবে বিশ্বরেকর্ড গড়েন। ‘জিরো জি লুনার স্পেসফ্লাইট’ নামক একটি কোম্পানির সহায়তায় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের সর্বোচ্চ স্তরে ভ্রমণ করে তিনি এই অনন্য কীর্তি স্থাপন করেন। সংক্ষিপ্ত এ ফ্লাইটে তিনি ওজনহীন অবস্থায় ভেসে থাকার সেই রোমাঞ্চ অনুভব করেন, যা তিনি শৈশব থেকে স্বপ্ন দেখতেন।

এই ঐতিহাসিক যাত্রায় রবার্টের সঙ্গী হয়েছিলেন তার নাতনি কেইট, যার সঙ্গে তার সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। বছরের পর বছর ধরে মহাকাশ ভ্রমণের গল্প শোনার পর, কেইটই তার দাদুকে এই জিরো-জি ফ্লাইটে অংশ নিতে উৎসাহিত করেছিলেন।

২০২৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ক্যালিফোর্নিয়ার সান জোসে এই ফ্লাইটটি পরিচালিত হয়। এই ভ্রমণের মাধ্যমে তারা মার্কিন সামরিক বাহিনীতে রবার্টের দীর্ঘ কর্মজীবনকে সম্মান জানানোর পাশাপাশি তার ভাই জেজি ম্যাকঅ্যাফিকেও স্মরণ করেন, যিনি রবার্টকে উড়তে শিখিয়েছিলেন।

এই যাত্রার প্রস্তুতি হিসেবে রবার্ট নিজেকে বেশ সক্রিয় রেখেছিলেন। নিয়মিত হাঁটার পাশাপাশি নিজের শারীরিক স্বাস্থ্যের প্রতি গভীর মনোযোগ দিয়েছিলেন তিনি। মজার ব্যাপার হলো, ফ্লাইটের আগে একজন চিকিৎসক যখন তাকে ফিটনেস সার্টিফিকেট দিতে অস্বীকৃতি জানান, তখন রবার্ট দমে যাননি। তিনি রসিকতা করে বলেন, ‘ডাক্তারদের জ্ঞানের সীমা এই পর্যন্তই’। এরপর তিনি নিজেই নিজের ফিটনেস সার্টিফিকেট লিখে নেন!

কয়েক দশক ধরে মাটির পৃথিবীতে কাটানোর পর, অবশেষে রবার্ট গর্ডন ম্যাকঅ্যাফি তারার মাঝে ভেসে বেড়ানোর অনুভূতি লাভ করলেন; পূরণ হলো শৈশবের সেই অপূর্ণ স্বপ্ন।