ঢাকা ১০:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভারতের করায়ত্ত থেকে মুক্ত না হলে দেশের উন্নতি অসম্ভব: ফয়জুল করীম দেশে ফিরলেন ৪৯৯৮২ হাজি, মৃত্যু ৪৯ জনের প্রস্তাবিত অর্থবিলে স্বাক্ষর করলেন রাষ্ট্রপতি সকল নিয়োগ, পদোন্নতিতে মেধা, যোগ্যতাই প্রধান মাপকাঠি হবে: অর্থমন্ত্রী যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এই বাজেট গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা: মাহদী আমিন আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল ইরানের চোখ ফাঁকি দিয়ে ১০ কোটি ব্যারেল তেল নিয়ে এসেছে মার্কিন বাহিনী: ট্রাম্প বাজেট ২০২৬-২৭ : মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য সরকারের রামিসাসহ অন্যান্য ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার বিরতিহীনভাবে চলবে’:

‘জিরো গ্রাভিটি’তে উড়লেন মার্কিন বৃদ্ধ,শৈশবের স্বপ্ন ৯৭ বছর বয়সে পূরণ

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

অনেকের কাছেই মহাকাশে বা তারার দেশে ওড়ার স্বপ্নটা আজীবন স্বপ্নই থেকে যায়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের রবার্ট গর্ডন ম্যাকঅ্যাফির ক্ষেত্রে তা ঘটেনি। শৈশবের সেই লালিত স্বপ্ন অবশেষে সত্যি হলো ৯০ বছরেরও বেশি সময় পর। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে এনডিটিভি।

অ্যাপালাচিয়ার পাদদেশে যখন বড় হচ্ছিলেন, তখন থেকেই আকাশের তারাদের দিকে গভীর কৌতূহল আর বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে থাকতেন রবার্ট। পূর্ব টেনেসির এই বাসিন্দা শৈশবে বাড়ির কাছের বন-জঙ্গল আর জলাশয়ে ব্যাঙাচি ধরে আর প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করেই সময় পার করতেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশ নেওয়ার পর তিনি মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন এবং পরবর্তীতে কানসাসে চিকিৎসার বিভিন্ন শাখায় সুনামের সঙ্গে কাজ করেন। অবশেষে ৮৫ বছর বয়সে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে তিনি অবসর নেন।

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ৯৭ বছর বয়সে রবার্ট শূন্য মাধ্যাকর্ষণে (জিরো গ্রাভিটি) ওড়া সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তি হিসেবে বিশ্বরেকর্ড গড়েন। ‘জিরো জি লুনার স্পেসফ্লাইট’ নামক একটি কোম্পানির সহায়তায় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের সর্বোচ্চ স্তরে ভ্রমণ করে তিনি এই অনন্য কীর্তি স্থাপন করেন। সংক্ষিপ্ত এ ফ্লাইটে তিনি ওজনহীন অবস্থায় ভেসে থাকার সেই রোমাঞ্চ অনুভব করেন, যা তিনি শৈশব থেকে স্বপ্ন দেখতেন।

এই ঐতিহাসিক যাত্রায় রবার্টের সঙ্গী হয়েছিলেন তার নাতনি কেইট, যার সঙ্গে তার সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। বছরের পর বছর ধরে মহাকাশ ভ্রমণের গল্প শোনার পর, কেইটই তার দাদুকে এই জিরো-জি ফ্লাইটে অংশ নিতে উৎসাহিত করেছিলেন।

২০২৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ক্যালিফোর্নিয়ার সান জোসে এই ফ্লাইটটি পরিচালিত হয়। এই ভ্রমণের মাধ্যমে তারা মার্কিন সামরিক বাহিনীতে রবার্টের দীর্ঘ কর্মজীবনকে সম্মান জানানোর পাশাপাশি তার ভাই জেজি ম্যাকঅ্যাফিকেও স্মরণ করেন, যিনি রবার্টকে উড়তে শিখিয়েছিলেন।

এই যাত্রার প্রস্তুতি হিসেবে রবার্ট নিজেকে বেশ সক্রিয় রেখেছিলেন। নিয়মিত হাঁটার পাশাপাশি নিজের শারীরিক স্বাস্থ্যের প্রতি গভীর মনোযোগ দিয়েছিলেন তিনি। মজার ব্যাপার হলো, ফ্লাইটের আগে একজন চিকিৎসক যখন তাকে ফিটনেস সার্টিফিকেট দিতে অস্বীকৃতি জানান, তখন রবার্ট দমে যাননি। তিনি রসিকতা করে বলেন, ‘ডাক্তারদের জ্ঞানের সীমা এই পর্যন্তই’। এরপর তিনি নিজেই নিজের ফিটনেস সার্টিফিকেট লিখে নেন!

কয়েক দশক ধরে মাটির পৃথিবীতে কাটানোর পর, অবশেষে রবার্ট গর্ডন ম্যাকঅ্যাফি তারার মাঝে ভেসে বেড়ানোর অনুভূতি লাভ করলেন; পূরণ হলো শৈশবের সেই অপূর্ণ স্বপ্ন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতের করায়ত্ত থেকে মুক্ত না হলে দেশের উন্নতি অসম্ভব: ফয়জুল করীম

‘জিরো গ্রাভিটি’তে উড়লেন মার্কিন বৃদ্ধ,শৈশবের স্বপ্ন ৯৭ বছর বয়সে পূরণ

আপডেট সময় ০৯:৪৫:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

অনেকের কাছেই মহাকাশে বা তারার দেশে ওড়ার স্বপ্নটা আজীবন স্বপ্নই থেকে যায়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের রবার্ট গর্ডন ম্যাকঅ্যাফির ক্ষেত্রে তা ঘটেনি। শৈশবের সেই লালিত স্বপ্ন অবশেষে সত্যি হলো ৯০ বছরেরও বেশি সময় পর। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে এনডিটিভি।

অ্যাপালাচিয়ার পাদদেশে যখন বড় হচ্ছিলেন, তখন থেকেই আকাশের তারাদের দিকে গভীর কৌতূহল আর বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে থাকতেন রবার্ট। পূর্ব টেনেসির এই বাসিন্দা শৈশবে বাড়ির কাছের বন-জঙ্গল আর জলাশয়ে ব্যাঙাচি ধরে আর প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করেই সময় পার করতেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশ নেওয়ার পর তিনি মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন এবং পরবর্তীতে কানসাসে চিকিৎসার বিভিন্ন শাখায় সুনামের সঙ্গে কাজ করেন। অবশেষে ৮৫ বছর বয়সে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে তিনি অবসর নেন।

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ৯৭ বছর বয়সে রবার্ট শূন্য মাধ্যাকর্ষণে (জিরো গ্রাভিটি) ওড়া সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তি হিসেবে বিশ্বরেকর্ড গড়েন। ‘জিরো জি লুনার স্পেসফ্লাইট’ নামক একটি কোম্পানির সহায়তায় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের সর্বোচ্চ স্তরে ভ্রমণ করে তিনি এই অনন্য কীর্তি স্থাপন করেন। সংক্ষিপ্ত এ ফ্লাইটে তিনি ওজনহীন অবস্থায় ভেসে থাকার সেই রোমাঞ্চ অনুভব করেন, যা তিনি শৈশব থেকে স্বপ্ন দেখতেন।

এই ঐতিহাসিক যাত্রায় রবার্টের সঙ্গী হয়েছিলেন তার নাতনি কেইট, যার সঙ্গে তার সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। বছরের পর বছর ধরে মহাকাশ ভ্রমণের গল্প শোনার পর, কেইটই তার দাদুকে এই জিরো-জি ফ্লাইটে অংশ নিতে উৎসাহিত করেছিলেন।

২০২৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ক্যালিফোর্নিয়ার সান জোসে এই ফ্লাইটটি পরিচালিত হয়। এই ভ্রমণের মাধ্যমে তারা মার্কিন সামরিক বাহিনীতে রবার্টের দীর্ঘ কর্মজীবনকে সম্মান জানানোর পাশাপাশি তার ভাই জেজি ম্যাকঅ্যাফিকেও স্মরণ করেন, যিনি রবার্টকে উড়তে শিখিয়েছিলেন।

এই যাত্রার প্রস্তুতি হিসেবে রবার্ট নিজেকে বেশ সক্রিয় রেখেছিলেন। নিয়মিত হাঁটার পাশাপাশি নিজের শারীরিক স্বাস্থ্যের প্রতি গভীর মনোযোগ দিয়েছিলেন তিনি। মজার ব্যাপার হলো, ফ্লাইটের আগে একজন চিকিৎসক যখন তাকে ফিটনেস সার্টিফিকেট দিতে অস্বীকৃতি জানান, তখন রবার্ট দমে যাননি। তিনি রসিকতা করে বলেন, ‘ডাক্তারদের জ্ঞানের সীমা এই পর্যন্তই’। এরপর তিনি নিজেই নিজের ফিটনেস সার্টিফিকেট লিখে নেন!

কয়েক দশক ধরে মাটির পৃথিবীতে কাটানোর পর, অবশেষে রবার্ট গর্ডন ম্যাকঅ্যাফি তারার মাঝে ভেসে বেড়ানোর অনুভূতি লাভ করলেন; পূরণ হলো শৈশবের সেই অপূর্ণ স্বপ্ন।