ঢাকা ১০:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভারতের করায়ত্ত থেকে মুক্ত না হলে দেশের উন্নতি অসম্ভব: ফয়জুল করীম দেশে ফিরলেন ৪৯৯৮২ হাজি, মৃত্যু ৪৯ জনের প্রস্তাবিত অর্থবিলে স্বাক্ষর করলেন রাষ্ট্রপতি সকল নিয়োগ, পদোন্নতিতে মেধা, যোগ্যতাই প্রধান মাপকাঠি হবে: অর্থমন্ত্রী যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এই বাজেট গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা: মাহদী আমিন আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল ইরানের চোখ ফাঁকি দিয়ে ১০ কোটি ব্যারেল তেল নিয়ে এসেছে মার্কিন বাহিনী: ট্রাম্প বাজেট ২০২৬-২৭ : মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য সরকারের রামিসাসহ অন্যান্য ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার বিরতিহীনভাবে চলবে’:

মহাকাশ থেকে ধরা পড়ল নজরকাড়া ‘সাউদার্ন লাইটস

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

মহাকাশ থেকে তোলা এক অসাধারণ দৃশ্য সবাইকে মুগ্ধ করেছে। নাসার একজন নভোচারী স্পেসএক্স ড্রাগন মহাকাশযান থেকে দক্ষিণ মেরুর আকাশে দেখা যাওয়া ‘সাউদার্ন লাইটস’ বা অরোরা অস্ট্রালিসের একটি দারুণ টাইম-ল্যাপস ভিডিও ধারণ করেছেন।

নাসার নভোচারী জেসিকা মেয়ার বর্তমানে স্পেসএক্স ড্রাগন ক্যাপসুলে একটি মিশনে কাজ করছেন। গত সপ্তাহান্তে এই বিরল দৃশ্যটি ধারণ করেন তিনি। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে জানান, এই প্রাকৃতিক আলোর খেলায় তিনি গভীরভাবে মুগ্ধ হয়েছেন।

ভিডিওতে দেখা যায়, সবুজাভ আলো তরঙ্গের মতো নেচে চলেছে এবং আশ্চর্যের বিষয় হলো—এটি সরাসরি মহাকাশযানের নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

জেসিকা মেয়ার বলেন, আগেও তিনি অরোরা দেখেছেন, কিন্তু এভাবে মহাকাশযানের একেবারে নিচে এত জীবন্তভাবে নাচতে তিনি আগে কখনো দেখেননি।

এই মনোমুগ্ধকর আলোর মূল কারণ একটি শক্তিশালী সৌর ঝড়। সূর্য থেকে প্রচণ্ড শক্তিসম্পন্ন চার্জযুক্ত কণার ঢেউ বের হয়ে মহাকাশ পেরিয়ে পৃথিবীর দিকে আসে। পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র এই কণাগুলোকে উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর দিকে নিয়ে যায়। সেখানে এসে কণাগুলো বায়ুমণ্ডলের গ্যাসের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এই সংঘর্ষের ফলেই সৃষ্টি হয় রঙিন আলোর পর্দার মতো দৃশ্য, যাকে আমরা অরোরা বলি।

উত্তর গোলার্ধে বসবাসকারী মানুষরা ‘নর্দার্ন লাইটস’ তুলনামূলকভাবে বেশি দেখতে পান। কিন্তু দক্ষিণ মেরুর এই ‘সাউদার্ন লাইটস’ দেখা অনেক কঠিন। কারণ এটি সাধারণত অ্যান্টার্কটিকা ও দক্ষিণ মহাসাগরের ওপরেই দেখা যায়—যেখানে মানুষের বসবাস খুবই কম।

মহাকাশে থাকা নভোচারীরা পৃথিবীর চারপাশে ঘণ্টায় হাজার হাজার কিলোমিটার গতিতে ঘুরতে ঘুরতে এই দৃশ্য পুরোপুরি বাধাহীনভাবে দেখতে পান। ফলে তারা এমন একটি দৃষ্টিকোণ থেকে এই ঘটনাগুলো দেখেন, যা পৃথিবীতে থাকা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়।

জেসিকা মেয়ারের ধারণ করা এই ভিডিও ইতোমধ্যে অনলাইনে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই প্রথমবারের মতো এত কাছ থেকে এবং ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে অরোরা দেখার সুযোগ পেয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের ভিডিও শুধু সৌন্দর্য নয়, বরং আমাদের পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ও মহাকাশের ভৌত প্রক্রিয়া বোঝার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতের করায়ত্ত থেকে মুক্ত না হলে দেশের উন্নতি অসম্ভব: ফয়জুল করীম

মহাকাশ থেকে ধরা পড়ল নজরকাড়া ‘সাউদার্ন লাইটস

আপডেট সময় ০৯:৩০:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

মহাকাশ থেকে তোলা এক অসাধারণ দৃশ্য সবাইকে মুগ্ধ করেছে। নাসার একজন নভোচারী স্পেসএক্স ড্রাগন মহাকাশযান থেকে দক্ষিণ মেরুর আকাশে দেখা যাওয়া ‘সাউদার্ন লাইটস’ বা অরোরা অস্ট্রালিসের একটি দারুণ টাইম-ল্যাপস ভিডিও ধারণ করেছেন।

নাসার নভোচারী জেসিকা মেয়ার বর্তমানে স্পেসএক্স ড্রাগন ক্যাপসুলে একটি মিশনে কাজ করছেন। গত সপ্তাহান্তে এই বিরল দৃশ্যটি ধারণ করেন তিনি। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে জানান, এই প্রাকৃতিক আলোর খেলায় তিনি গভীরভাবে মুগ্ধ হয়েছেন।

ভিডিওতে দেখা যায়, সবুজাভ আলো তরঙ্গের মতো নেচে চলেছে এবং আশ্চর্যের বিষয় হলো—এটি সরাসরি মহাকাশযানের নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

জেসিকা মেয়ার বলেন, আগেও তিনি অরোরা দেখেছেন, কিন্তু এভাবে মহাকাশযানের একেবারে নিচে এত জীবন্তভাবে নাচতে তিনি আগে কখনো দেখেননি।

এই মনোমুগ্ধকর আলোর মূল কারণ একটি শক্তিশালী সৌর ঝড়। সূর্য থেকে প্রচণ্ড শক্তিসম্পন্ন চার্জযুক্ত কণার ঢেউ বের হয়ে মহাকাশ পেরিয়ে পৃথিবীর দিকে আসে। পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র এই কণাগুলোকে উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর দিকে নিয়ে যায়। সেখানে এসে কণাগুলো বায়ুমণ্ডলের গ্যাসের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এই সংঘর্ষের ফলেই সৃষ্টি হয় রঙিন আলোর পর্দার মতো দৃশ্য, যাকে আমরা অরোরা বলি।

উত্তর গোলার্ধে বসবাসকারী মানুষরা ‘নর্দার্ন লাইটস’ তুলনামূলকভাবে বেশি দেখতে পান। কিন্তু দক্ষিণ মেরুর এই ‘সাউদার্ন লাইটস’ দেখা অনেক কঠিন। কারণ এটি সাধারণত অ্যান্টার্কটিকা ও দক্ষিণ মহাসাগরের ওপরেই দেখা যায়—যেখানে মানুষের বসবাস খুবই কম।

মহাকাশে থাকা নভোচারীরা পৃথিবীর চারপাশে ঘণ্টায় হাজার হাজার কিলোমিটার গতিতে ঘুরতে ঘুরতে এই দৃশ্য পুরোপুরি বাধাহীনভাবে দেখতে পান। ফলে তারা এমন একটি দৃষ্টিকোণ থেকে এই ঘটনাগুলো দেখেন, যা পৃথিবীতে থাকা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়।

জেসিকা মেয়ারের ধারণ করা এই ভিডিও ইতোমধ্যে অনলাইনে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই প্রথমবারের মতো এত কাছ থেকে এবং ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে অরোরা দেখার সুযোগ পেয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের ভিডিও শুধু সৌন্দর্য নয়, বরং আমাদের পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ও মহাকাশের ভৌত প্রক্রিয়া বোঝার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।