ঢাকা ০৮:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নেপালকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বার সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ ভারতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করা উচিত: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী রুমিন ফারহানার বক্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ বরগুনায় ডাকবাংলো থেকে দুই শিশু ও মায়ের মরদেহ উদ্ধার মায়ের প্রতি অবহেলা: শাস্তি পাবেন সেই যুগ্ম সচিব বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ প্রত্যাহার মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক এমপিদের সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির জ্ঞান থাকা আবশ্যক : স্পিকার ইরানের সুপ্রিম লিডার মোজতবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান ট্রাম্প ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না, দাবি ট্রাম্পের

সালিশ বৈঠকে উত্তেজনা, কয়েক দফা সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার জগদীশপুর ইউনিয়নের খড়কি গ্রামে পাওনা টাকা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে অনুষ্ঠিত একটি সালিশ বৈঠক রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। দুইপক্ষের মধ্যে দুই দিনব্যাপী দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পালটা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় নারী-পুরুষসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করতে হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খড়কি গ্রামের আহম্মদ মিয়ার সঙ্গে একই গ্রামের তোফাজ্জুল মিয়ার পাওনা টাকা সংক্রান্ত বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছিল। বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে মঙ্গলবার (২ জুন) বিকালে খড়কি বাজারে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

সালিশ চলাকালে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষের লোকজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। শুরুতে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটলেও পরে উভয়পক্ষের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোটা ও ইটপাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় চারদিকে অন্ধকার নেমে আসে। এ সুযোগে টর্চলাইটের আলো ব্যবহার করে উভয়পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে অংশ নেয়। রাতভর বিভিন্ন স্থানে ধাওয়া-পালটা ধাওয়া ও সংঘর্ষ চলতে থাকে। এতে বহু মানুষ আহত হন এবং এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার আগেই বুধবার (৩ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আবারও দুইপক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নেয়। পরে সংঘর্ষ নতুন করে ছড়িয়ে পড়ে। দেশীয় অস্ত্র ও ইটপাটকেল নিয়ে শুরু হওয়া এ সংঘর্ষ দুপুর পৌনে ২টা পর্যন্ত দফায় দফায় চলতে থাকে। সংঘর্ষের সময় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।

খবর পেয়ে মাধবপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। সংঘর্ষকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড রাবারবুলেট নিক্ষেপ করে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।

জগদীশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেন, পাওনা টাকা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরেই এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ করছেন।

মাধবপুর থানার ওসি সোহেল রানা জানান, পাওনা টাকাসংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করেই দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে এবং নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সেজন্য সতর্ক নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সালিশ বৈঠকে উত্তেজনা, কয়েক দফা সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক

আপডেট সময় ০৭:৩৮:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার জগদীশপুর ইউনিয়নের খড়কি গ্রামে পাওনা টাকা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে অনুষ্ঠিত একটি সালিশ বৈঠক রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। দুইপক্ষের মধ্যে দুই দিনব্যাপী দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পালটা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় নারী-পুরুষসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করতে হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খড়কি গ্রামের আহম্মদ মিয়ার সঙ্গে একই গ্রামের তোফাজ্জুল মিয়ার পাওনা টাকা সংক্রান্ত বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছিল। বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে মঙ্গলবার (২ জুন) বিকালে খড়কি বাজারে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

সালিশ চলাকালে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষের লোকজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। শুরুতে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটলেও পরে উভয়পক্ষের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোটা ও ইটপাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় চারদিকে অন্ধকার নেমে আসে। এ সুযোগে টর্চলাইটের আলো ব্যবহার করে উভয়পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে অংশ নেয়। রাতভর বিভিন্ন স্থানে ধাওয়া-পালটা ধাওয়া ও সংঘর্ষ চলতে থাকে। এতে বহু মানুষ আহত হন এবং এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার আগেই বুধবার (৩ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আবারও দুইপক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নেয়। পরে সংঘর্ষ নতুন করে ছড়িয়ে পড়ে। দেশীয় অস্ত্র ও ইটপাটকেল নিয়ে শুরু হওয়া এ সংঘর্ষ দুপুর পৌনে ২টা পর্যন্ত দফায় দফায় চলতে থাকে। সংঘর্ষের সময় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।

খবর পেয়ে মাধবপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। সংঘর্ষকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড রাবারবুলেট নিক্ষেপ করে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।

জগদীশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেন, পাওনা টাকা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরেই এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ করছেন।

মাধবপুর থানার ওসি সোহেল রানা জানান, পাওনা টাকাসংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করেই দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে এবং নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সেজন্য সতর্ক নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছে।