আকাশ বিনোদন ডেস্ক :
মাসুমা রহমান নাবিলা। উপস্থাপিকা, মডেল ও অভিনেত্রী। ঈদে মুক্তি পাচ্ছে তাঁর অভিনীত নতুন সিনেমা বনলতা সেন। এটি তাঁর অভিনীত চতুর্থ সিনেমা। সর্বশেষ তিনি অভিনয় করেছেন তুফান-এ, যেখানে তাঁর সহশিল্পী ছিলেন শাকিব খান। তবে ‘তুফান’-এর শুটিংয়ের আগেই, ২০২৩ সালের শেষ দিকে ‘বনলতা সেন’-এর সব কাজ শেষ করেছিলেন তিনি। নতুন এই সিনেমা নিয়ে কথা হলো তাঁর সঙ্গে–
দীর্ঘ অপেক্ষার পর ঈদে মুক্তি পাচ্ছে ‘বনলতা সেন’। অনুভূতিটা কেমন?
সত্যিই অসাধারণ লাগছে। ২০২৩ সালের নভেম্বরে আমরা সিনেমাটির কাজ শেষ করেছিলাম। সেই হিসেবে প্রায় আড়াই বছর হয়ে গেছে। প্রতিটি চরিত্র, প্রতিটি দৃশ্য নিয়ে আমরা দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেছি, কবে দর্শকের সামনে যাবে এই গল্প। শুরুতে পোস্ট-প্রোডাকশনের কিছু কাজ ভারতে আটকে ছিল। পরিচালকও সেখানে যেতে পারছিলেন না, তাই সময় লেগেছে। নানা জটিলতা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত সিনেমাটি মুক্তি পাচ্ছে। কিছুদিন আগে পুরো টিম মিলে ছবিটি দেখেছি। সত্যি বলতে, আমার কাছে দারুণ লেগেছে। আমি যা আশা করেছিলাম, তার চেয়েও ভালো হয়েছে। এই ধরনের কাজ মানুষকে ভাবতে বাধ্য করে এবং দর্শককে গভীরভাবে স্পর্শ করবে বলে আমার বিশ্বাস।
সিনেমার অন্যতম প্রধান চরিত্র ‘বনলতা সেন’ হয়ে দর্শকের সামনে আসছেন। বাংলাসাহিত্যের এমন বিখ্যাত চরিত্র হয়ে ওঠা কতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল?
অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। কারণ প্রত্যেক পাঠকই ‘বনলতা সেন’কে নিজের মতো করে কল্পনা করেন। একজনের কল্পনার সঙ্গে আরেকজনের কল্পনার মিল নাও থাকতে পারে। এটি কবি জীবনানন্দ দাশ-এর সৃষ্টি করা এক কাল্পনিক চরিত্র, যাকে ঘিরে নানা ব্যাখ্যা ও তত্ত্ব রয়েছে। কেউ বলেন, এটি কবির জীবনের কোনো নারীর প্রতিচ্ছবি; কেউ আবার মনে করেন, কোনো পত্রিকায় নামটি দেখে তিনি অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। সিনেমায় মূলত সেই অনুসন্ধানের দিকটিই ফুটে উঠেছে। চরিত্রটি নিয়ে কাজ করার সময় নির্মাতা মাসুদ হাসান উজ্জ্বল ভাইয়ের সঙ্গে অনেক আলোচনা করেছি। চেষ্টা করেছি চরিত্রটির গভীরে পৌঁছাতে। দর্শক যখন পর্দায় এই চরিত্রটি দেখবেন, তখন যেন মনে প্রশ্ন জাগে–এই বনলতা কি আমার কল্পনার বনলতা? আমি এখানে গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে অভিনয় করেছি, তবে ‘বনলতা সেন’-এর রহস্যটাই আসলে সিনেমার সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য।
এই সিনেমায় কীভাবে যুক্ত হলেন?
শুরুতে আমাকে শুধু চরিত্রের একটি সংক্ষিপ্ত ধারণা দেওয়া হয়েছিল। তখন আমি নির্মাতাকে বলেছিলাম, পুরো স্ক্রিপ্টটি পড়ার সুযোগ আছে কিনা। কারণ চরিত্রটির উপস্থাপন কেমন হবে, সেটি বুঝতে চেয়েছিলাম। পুরো চিত্রনাট্য পড়ে আমি মুগ্ধ হয়ে যাই। গল্পটা যেন চোখের সামনে ভেসে উঠছিল। তখন আমাকে যে চরিত্রটির জন্য ভাবা হয়েছিল, সে ধরনের চরিত্রে কাজ করতে আমি আগ্রহী ছিলাম না। আমি নির্মাতাকে বলেছিলাম, এই চরিত্রটি এখন করতে চাইছি না। যদি আমাকে ‘বনলতা সেন’-এর চরিত্রে ভাবেন, তাহলে এককথায় রাজি হয়ে যাব (হাসি)। অনেক দিন পর তিনি আবার ডাকলেন। তিনবার অডিশন নিলেন। তারপর শুটিং হলো। এখন সিনেমাটি মুক্তি পাচ্ছে।
সিনেমাটি নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?
‘বনলতা সেন’ কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৩৫ সালের ডিসেম্বরে। সেই হিসাবে ২০২৬ সালে কবিতাটির বয়স প্রায় ৯১ বছর। ‘বনলতা সেন’ কাব্যগ্রন্থ আকারে প্রকাশিত হয় ১৯৪২ সালে। অর্থাৎ বইটির বয়স প্রায় ৮৪ বছর। প্রায় শতবর্ষী একটি কবিতা আজও কতটা প্রাসঙ্গিক এবং আধুনিক–এটিই সবচেয়ে বিস্ময়কর। কবিতাজুড়ে রয়েছে রহস্য ও দর্শনের আবহ। কবিতাটি যেমন পাঠককে মোহাবিষ্ট করে রাখে, আমরাও চাই সিনেমাটি তেমনি দর্শককে এক ধরনের আবেশে ধরে রাখুক।
শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
উজ্জ্বল ভাই বড় ক্যানভাসে কাজ করতে পছন্দ করেন। তাঁর সিনেমা অনেকটা কবিতার মতো। তিনি এত সুন্দরভাবে কাজটি নির্মাণ করেছেন, দর্শক দেখলেই তা বুঝতে পারবেন। বনলতা সেন সিনেমাটি নির্মিত হয়েছে জীবনানন্দ দাশের কবিতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে। এখানে ঐতিহাসিক চরিত্রের পাশাপাশি কিছু কাল্পনিক চরিত্রও রয়েছে। চরিত্রগুলোর বাস্তবধর্মী এবং মেটাফোরিক। দুই ধরনের উপস্থাপনার মিশেল ঘটানো হয়েছে।
পরিচালক ও সহশিল্পীদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
প্রতিটি দৃশ্যের জন্য আমাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রস্তুতি নিতে হয়েছে। কস্টিউম, সেট, লুক–সবকিছু নিয়েই ছিল চাপ। তবে সেই চাপের মধ্যেও আনন্দ ছিল, ছিল শেখার সুযোগ। পুরো অভিজ্ঞতাই আমার জন্য খুব সমৃদ্ধ ছিল।
এর আগে কবিতা অবলম্বনে ‘কথা হবে তো’-তে কাজ করেছিলেন। এই ধরনের কাজে আলাদা টান অনুভব করেন?
হ্যাঁ, অবশ্যই। এ ধরনের কাজে একটা কাব্যিক সৌন্দর্য থাকে, যা সৃজনশীলতার অন্য মাত্রা যোগ করে। কথা হবে তো দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল। আশা করছি, ‘বনলতা সেন’ও দর্শকদের তেমনই এক অভিজ্ঞতা দেবে। এই কাজগুলো আমাকে চরিত্রের গভীরে যেতে শেখায় এবং অভিনয়কে আরও সমৃদ্ধ করে।
বর্তমান ব্যস্ততা কী নিয়ে?
ঈদের কয়েকটি অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা নিয়ে ব্যস্ততা আছে। পাশাপাশি ‘বনলতা সেন’-এর প্রচারণার কাজ নিয়েও ব্যস্ত সময় কাটছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























