ঢাকা ০২:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শর্ত মানলে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন আ.লীগের নেতাকর্মীরা মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতার সৌজন্য সাক্ষাৎ রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনে নিহত ৪ কাশ্মীরে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে নিহত ১১ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ব্যক্তিগত পরিচয়ে যেকেউ অংশ নিতে পারবে : জাহেদ উর রহমান দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে পিকআপের ধাক্কা, নিহত ৪ উচ্ছৃঙ্খল কথাবার্তা বলে রাজনীতিতে স্থায়ী হওয়া যায় না : মোনায়েম মুন্না প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে চলছে একনেক সভা পুশইন : শুভেন্দুর দাবি প্রত্যাখ্যান বিজিবির আলিম পরীক্ষার সব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ

সিনহার বিরুদ্ধে অসততার অভিযোগ নতুন নয়: আমিরুল ইসলাম

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিরুদ্ধে যেসব তর্ক-বিতর্ক চলছে এবং সততা নিয়ে যেসব প্রশ্ন উঠেছে, তা নতুন কিছু নয় বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলাম।

সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে ১১টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের পাঁচ জন বিচারপতি তার সঙ্গে কাজ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। সরকারের সঙ্গে প্রকাশ্য দ্বন্দের পর যেভাবে এস কে সিনহাকে ছুটি নিয়ে দেশ ছাড়তে হয়, তা নিয়ে তুমুল বিতর্কও তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে বিবিসি বাংলার এক সাক্ষাতকারে সৈয়দ আমিরুল ইসলাম এমন মন্তব্য করেন।

আমিরুল ইসলাম আরও বলেন, তদানিন্তন প্রধান বিচারপতি মোজাম্মেল হক অবসরে যাওয়ার সময় তার জৈষ্ঠ্য বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার কথা ছিলো। তখন প্রথম আলোর (পত্রিকা) মিজানুর রহমান একটি আর্টিক্যাল লিখেছিলেন। যেখানে তিনি আকার-ইঙ্গিতে এস কে সিনহার বিরুদ্ধে সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। প্রধান বিচারপতি মিজানুর রহমানকে বললেন, যদি আপনি মুখ খোলেন তাহলে আমরা আপনাকে সাজা দেব। আর যদি শর্তহীন ক্ষমা চান তাহলে আপনাকে ছেড়ে দেব। তখন মিজানুর রহমান বাধ্য হয়ে শর্তহীন ক্ষমা চেয়েছিলেন। সুতরাং এস কে সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আজকে নতুন নয়। আগেও তা ছিলো। তবে অতিসম্প্রতি সেটা যে আকারে প্রকাশ পাচ্ছে আমরা তা কোনদিন ভাবতে পারিনি।

যে প্রক্রিয়ায় একজন বিচারপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রকাশ করা হয়, প্রধান বিচারপতি এস কে সিনাহার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রকাশে তা কি মানা হয়েছে?

এমন প্রশ্নের জবাবে আমিরুল ইসলাম বলেন, এখানে একটি সাংবিধানিক প্রশ্ন জাড়িত আছে। ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে ৯৬’এর অনুচ্ছেদকে বৈধ ঘোষণা করা হলো। এবং পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের ব্যবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করা হলো। আমি মনে করি এবং এটা সাংবিধানিক অবস্থান- সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদকে যদি উচ্চতর আদালত রায়ের মাধ্যমে অবৈধ ঘোষণা করেন, যতক্ষণ পর্যন্ত না জাতীয় সংসদ কর্তৃক আরেকটি সংশোধনী এনে সেটাকে সংবিধানের অঙ্গ হিসেবে গণ্য করা না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত সাংবিধানিকভাবে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল কার্যকরী হতে পারে না। আর সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের এখতিয়ার হচ্ছে, যদি কখনো কোন বিচারপতির বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ আসে এবং মহামান্য রাষ্ট্রপতি যদি মনে করেন সে ব্যাপারে তদন্ত করা উচিৎ, তবে তা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের কাছে পাঠাবে।

প্রক্রিয়াটি কি তাহলে রাষ্ট্রপতি শুরু করবেন?

প্রশ্নের জবাবে আমিরুল ইসলাম বলেন, যেহেতু এই অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর- ফৌজদারী অপরাধের অভিযোগ। সুতরাং এখানে যদি শুধু সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল পুনঃস্থাপিত হয় তাতে বিচারপতি চাকরি হারাবেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে কোন ফৌজদারী অপরাধের বিচার হবে না। এবং সেটা করতে হলে আইনকে তার নিজস্ব গতিতে চলতে দিতে হবে। যদিও অভিযোগের বিরুদ্ধে বিচারপতি এস কে সিনহা এখন পর্যন্ত কোন প্রশ্নই তোলেনি। বিদেশ যাওয়ার সময় তিনি অনেক কথা বললেও অভিযোগ বিষয়ে একটি কথাও বলেননি।

সার্বিক ঘটনাগুলি বিচার বিভাগের ওপর কী ধরণের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আপনি মনে করেন?

আমিরুল ইসলাম বলেন, অত্যন্ত খারাপ প্রভাব পড়বে। বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি অত্যন্ত বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শর্ত মানলে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন আ.লীগের নেতাকর্মীরা

সিনহার বিরুদ্ধে অসততার অভিযোগ নতুন নয়: আমিরুল ইসলাম

আপডেট সময় ০১:৫৭:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিরুদ্ধে যেসব তর্ক-বিতর্ক চলছে এবং সততা নিয়ে যেসব প্রশ্ন উঠেছে, তা নতুন কিছু নয় বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলাম।

সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে ১১টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের পাঁচ জন বিচারপতি তার সঙ্গে কাজ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। সরকারের সঙ্গে প্রকাশ্য দ্বন্দের পর যেভাবে এস কে সিনহাকে ছুটি নিয়ে দেশ ছাড়তে হয়, তা নিয়ে তুমুল বিতর্কও তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে বিবিসি বাংলার এক সাক্ষাতকারে সৈয়দ আমিরুল ইসলাম এমন মন্তব্য করেন।

আমিরুল ইসলাম আরও বলেন, তদানিন্তন প্রধান বিচারপতি মোজাম্মেল হক অবসরে যাওয়ার সময় তার জৈষ্ঠ্য বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার কথা ছিলো। তখন প্রথম আলোর (পত্রিকা) মিজানুর রহমান একটি আর্টিক্যাল লিখেছিলেন। যেখানে তিনি আকার-ইঙ্গিতে এস কে সিনহার বিরুদ্ধে সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। প্রধান বিচারপতি মিজানুর রহমানকে বললেন, যদি আপনি মুখ খোলেন তাহলে আমরা আপনাকে সাজা দেব। আর যদি শর্তহীন ক্ষমা চান তাহলে আপনাকে ছেড়ে দেব। তখন মিজানুর রহমান বাধ্য হয়ে শর্তহীন ক্ষমা চেয়েছিলেন। সুতরাং এস কে সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আজকে নতুন নয়। আগেও তা ছিলো। তবে অতিসম্প্রতি সেটা যে আকারে প্রকাশ পাচ্ছে আমরা তা কোনদিন ভাবতে পারিনি।

যে প্রক্রিয়ায় একজন বিচারপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রকাশ করা হয়, প্রধান বিচারপতি এস কে সিনাহার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রকাশে তা কি মানা হয়েছে?

এমন প্রশ্নের জবাবে আমিরুল ইসলাম বলেন, এখানে একটি সাংবিধানিক প্রশ্ন জাড়িত আছে। ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে ৯৬’এর অনুচ্ছেদকে বৈধ ঘোষণা করা হলো। এবং পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের ব্যবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করা হলো। আমি মনে করি এবং এটা সাংবিধানিক অবস্থান- সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদকে যদি উচ্চতর আদালত রায়ের মাধ্যমে অবৈধ ঘোষণা করেন, যতক্ষণ পর্যন্ত না জাতীয় সংসদ কর্তৃক আরেকটি সংশোধনী এনে সেটাকে সংবিধানের অঙ্গ হিসেবে গণ্য করা না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত সাংবিধানিকভাবে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল কার্যকরী হতে পারে না। আর সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের এখতিয়ার হচ্ছে, যদি কখনো কোন বিচারপতির বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ আসে এবং মহামান্য রাষ্ট্রপতি যদি মনে করেন সে ব্যাপারে তদন্ত করা উচিৎ, তবে তা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের কাছে পাঠাবে।

প্রক্রিয়াটি কি তাহলে রাষ্ট্রপতি শুরু করবেন?

প্রশ্নের জবাবে আমিরুল ইসলাম বলেন, যেহেতু এই অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর- ফৌজদারী অপরাধের অভিযোগ। সুতরাং এখানে যদি শুধু সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল পুনঃস্থাপিত হয় তাতে বিচারপতি চাকরি হারাবেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে কোন ফৌজদারী অপরাধের বিচার হবে না। এবং সেটা করতে হলে আইনকে তার নিজস্ব গতিতে চলতে দিতে হবে। যদিও অভিযোগের বিরুদ্ধে বিচারপতি এস কে সিনহা এখন পর্যন্ত কোন প্রশ্নই তোলেনি। বিদেশ যাওয়ার সময় তিনি অনেক কথা বললেও অভিযোগ বিষয়ে একটি কথাও বলেননি।

সার্বিক ঘটনাগুলি বিচার বিভাগের ওপর কী ধরণের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আপনি মনে করেন?

আমিরুল ইসলাম বলেন, অত্যন্ত খারাপ প্রভাব পড়বে। বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি অত্যন্ত বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে।