ঢাকা ০৯:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পোস্টাল ব্যালট ডাকাতি হতে দেখা যাচ্ছে: তারেক রহমান ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, ‘না’ মানে গোলামি : জামায়াত আমির বিএনপির সমাবেশে অসুস্থ হয়ে কিশোরের মৃত্যু, আহত আরও ২ চমেকে ভর্তি শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দিতে দেওয়া বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সিট দেওয়ার মালিক আল্লাহ ও জনগণ : মির্জা আব্বাস ‘নিরাপত্তা উদ্বেগ সমাধান না হওয়াটা দুঃখজনক’:মোহাম্মদ ইউসুফ ‘বাপ-দাদাদের জমি বিক্রি করে রাজনীতি করি,আপনাদের আমানতের খেয়ানত করবো না’:মির্জা ফখরুল আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ নয়, সরকার অপরাধীদের জামিনের বিরুদ্ধে : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থার ত্রুটির বিষয়ে ইসির নীরবতা প্রশ্নবিদ্ধ: নজরুল ইসলাম ৪৫ হাজার কোটি টাকার ২৫ প্রকল্প অনুমোদন

সিনহার বিরুদ্ধে অসততার অভিযোগ নতুন নয়: আমিরুল ইসলাম

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিরুদ্ধে যেসব তর্ক-বিতর্ক চলছে এবং সততা নিয়ে যেসব প্রশ্ন উঠেছে, তা নতুন কিছু নয় বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলাম।

সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে ১১টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের পাঁচ জন বিচারপতি তার সঙ্গে কাজ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। সরকারের সঙ্গে প্রকাশ্য দ্বন্দের পর যেভাবে এস কে সিনহাকে ছুটি নিয়ে দেশ ছাড়তে হয়, তা নিয়ে তুমুল বিতর্কও তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে বিবিসি বাংলার এক সাক্ষাতকারে সৈয়দ আমিরুল ইসলাম এমন মন্তব্য করেন।

আমিরুল ইসলাম আরও বলেন, তদানিন্তন প্রধান বিচারপতি মোজাম্মেল হক অবসরে যাওয়ার সময় তার জৈষ্ঠ্য বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার কথা ছিলো। তখন প্রথম আলোর (পত্রিকা) মিজানুর রহমান একটি আর্টিক্যাল লিখেছিলেন। যেখানে তিনি আকার-ইঙ্গিতে এস কে সিনহার বিরুদ্ধে সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। প্রধান বিচারপতি মিজানুর রহমানকে বললেন, যদি আপনি মুখ খোলেন তাহলে আমরা আপনাকে সাজা দেব। আর যদি শর্তহীন ক্ষমা চান তাহলে আপনাকে ছেড়ে দেব। তখন মিজানুর রহমান বাধ্য হয়ে শর্তহীন ক্ষমা চেয়েছিলেন। সুতরাং এস কে সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আজকে নতুন নয়। আগেও তা ছিলো। তবে অতিসম্প্রতি সেটা যে আকারে প্রকাশ পাচ্ছে আমরা তা কোনদিন ভাবতে পারিনি।

যে প্রক্রিয়ায় একজন বিচারপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রকাশ করা হয়, প্রধান বিচারপতি এস কে সিনাহার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রকাশে তা কি মানা হয়েছে?

এমন প্রশ্নের জবাবে আমিরুল ইসলাম বলেন, এখানে একটি সাংবিধানিক প্রশ্ন জাড়িত আছে। ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে ৯৬’এর অনুচ্ছেদকে বৈধ ঘোষণা করা হলো। এবং পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের ব্যবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করা হলো। আমি মনে করি এবং এটা সাংবিধানিক অবস্থান- সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদকে যদি উচ্চতর আদালত রায়ের মাধ্যমে অবৈধ ঘোষণা করেন, যতক্ষণ পর্যন্ত না জাতীয় সংসদ কর্তৃক আরেকটি সংশোধনী এনে সেটাকে সংবিধানের অঙ্গ হিসেবে গণ্য করা না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত সাংবিধানিকভাবে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল কার্যকরী হতে পারে না। আর সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের এখতিয়ার হচ্ছে, যদি কখনো কোন বিচারপতির বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ আসে এবং মহামান্য রাষ্ট্রপতি যদি মনে করেন সে ব্যাপারে তদন্ত করা উচিৎ, তবে তা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের কাছে পাঠাবে।

প্রক্রিয়াটি কি তাহলে রাষ্ট্রপতি শুরু করবেন?

প্রশ্নের জবাবে আমিরুল ইসলাম বলেন, যেহেতু এই অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর- ফৌজদারী অপরাধের অভিযোগ। সুতরাং এখানে যদি শুধু সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল পুনঃস্থাপিত হয় তাতে বিচারপতি চাকরি হারাবেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে কোন ফৌজদারী অপরাধের বিচার হবে না। এবং সেটা করতে হলে আইনকে তার নিজস্ব গতিতে চলতে দিতে হবে। যদিও অভিযোগের বিরুদ্ধে বিচারপতি এস কে সিনহা এখন পর্যন্ত কোন প্রশ্নই তোলেনি। বিদেশ যাওয়ার সময় তিনি অনেক কথা বললেও অভিযোগ বিষয়ে একটি কথাও বলেননি।

সার্বিক ঘটনাগুলি বিচার বিভাগের ওপর কী ধরণের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আপনি মনে করেন?

আমিরুল ইসলাম বলেন, অত্যন্ত খারাপ প্রভাব পড়বে। বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি অত্যন্ত বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পোস্টাল ব্যালট ডাকাতি হতে দেখা যাচ্ছে: তারেক রহমান

সিনহার বিরুদ্ধে অসততার অভিযোগ নতুন নয়: আমিরুল ইসলাম

আপডেট সময় ০১:৫৭:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিরুদ্ধে যেসব তর্ক-বিতর্ক চলছে এবং সততা নিয়ে যেসব প্রশ্ন উঠেছে, তা নতুন কিছু নয় বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলাম।

সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে ১১টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের পাঁচ জন বিচারপতি তার সঙ্গে কাজ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। সরকারের সঙ্গে প্রকাশ্য দ্বন্দের পর যেভাবে এস কে সিনহাকে ছুটি নিয়ে দেশ ছাড়তে হয়, তা নিয়ে তুমুল বিতর্কও তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে বিবিসি বাংলার এক সাক্ষাতকারে সৈয়দ আমিরুল ইসলাম এমন মন্তব্য করেন।

আমিরুল ইসলাম আরও বলেন, তদানিন্তন প্রধান বিচারপতি মোজাম্মেল হক অবসরে যাওয়ার সময় তার জৈষ্ঠ্য বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার কথা ছিলো। তখন প্রথম আলোর (পত্রিকা) মিজানুর রহমান একটি আর্টিক্যাল লিখেছিলেন। যেখানে তিনি আকার-ইঙ্গিতে এস কে সিনহার বিরুদ্ধে সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। প্রধান বিচারপতি মিজানুর রহমানকে বললেন, যদি আপনি মুখ খোলেন তাহলে আমরা আপনাকে সাজা দেব। আর যদি শর্তহীন ক্ষমা চান তাহলে আপনাকে ছেড়ে দেব। তখন মিজানুর রহমান বাধ্য হয়ে শর্তহীন ক্ষমা চেয়েছিলেন। সুতরাং এস কে সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আজকে নতুন নয়। আগেও তা ছিলো। তবে অতিসম্প্রতি সেটা যে আকারে প্রকাশ পাচ্ছে আমরা তা কোনদিন ভাবতে পারিনি।

যে প্রক্রিয়ায় একজন বিচারপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রকাশ করা হয়, প্রধান বিচারপতি এস কে সিনাহার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রকাশে তা কি মানা হয়েছে?

এমন প্রশ্নের জবাবে আমিরুল ইসলাম বলেন, এখানে একটি সাংবিধানিক প্রশ্ন জাড়িত আছে। ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে ৯৬’এর অনুচ্ছেদকে বৈধ ঘোষণা করা হলো। এবং পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের ব্যবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করা হলো। আমি মনে করি এবং এটা সাংবিধানিক অবস্থান- সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদকে যদি উচ্চতর আদালত রায়ের মাধ্যমে অবৈধ ঘোষণা করেন, যতক্ষণ পর্যন্ত না জাতীয় সংসদ কর্তৃক আরেকটি সংশোধনী এনে সেটাকে সংবিধানের অঙ্গ হিসেবে গণ্য করা না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত সাংবিধানিকভাবে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল কার্যকরী হতে পারে না। আর সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের এখতিয়ার হচ্ছে, যদি কখনো কোন বিচারপতির বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ আসে এবং মহামান্য রাষ্ট্রপতি যদি মনে করেন সে ব্যাপারে তদন্ত করা উচিৎ, তবে তা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের কাছে পাঠাবে।

প্রক্রিয়াটি কি তাহলে রাষ্ট্রপতি শুরু করবেন?

প্রশ্নের জবাবে আমিরুল ইসলাম বলেন, যেহেতু এই অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর- ফৌজদারী অপরাধের অভিযোগ। সুতরাং এখানে যদি শুধু সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল পুনঃস্থাপিত হয় তাতে বিচারপতি চাকরি হারাবেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে কোন ফৌজদারী অপরাধের বিচার হবে না। এবং সেটা করতে হলে আইনকে তার নিজস্ব গতিতে চলতে দিতে হবে। যদিও অভিযোগের বিরুদ্ধে বিচারপতি এস কে সিনহা এখন পর্যন্ত কোন প্রশ্নই তোলেনি। বিদেশ যাওয়ার সময় তিনি অনেক কথা বললেও অভিযোগ বিষয়ে একটি কথাও বলেননি।

সার্বিক ঘটনাগুলি বিচার বিভাগের ওপর কী ধরণের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আপনি মনে করেন?

আমিরুল ইসলাম বলেন, অত্যন্ত খারাপ প্রভাব পড়বে। বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি অত্যন্ত বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে।