ঢাকা ০৯:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

হত্যার পর লাশ গুম: ছেলের যাবজ্জীবন, মায়ের ৭ বছর কারাদণ্ড

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

পিরোজপুরে ৮ বছর আগে মিলন বাহাদুর নামে এক মোটরসাইকেল চালককে হত্যার পর তার মৃতদেহ গুম করার ঘটনায় ছেলেকে যাবজ্জীবন ও তার মায়ের ৭ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন পিরোজপুরের একটি আদালত।বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. মজিবুর রহমান এ আদেশ দেন।

সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- নেছারাবাদ উপজেলার সোহাগদল গ্রামের মো. সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে মো. তাজিম (২৮) এবং স্ত্রী রেহানা বেগম (৫০)।

পিরোজপুর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আকন জানান, জেলার নেছারাবাদ উপজেলার বয়ারহুলা নামক স্থানে মোটরসাইকেল চালককে হত্যার দায়ে আদালত তাজিমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ডাদেশ এবং মৃতদেহ গুমের দায়ে তাজিমের মা রেহানা বেগমকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৩ মাসের কারাদণ্ডাদেশ প্রদান করেন। রায় ঘোষণার সময় রেহানা বেগম উপস্থিত থাকলেও তার ছেলে পলাতক ছিল বলে জানান পিপি।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মোটরসাইকেল কেনাবেচার লেনদেন নিয়ে বিরোধ ছিল তানজিম ও মিলনের সঙ্গে। এর জের ধরে ২০১৮ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি বিকালে উপজেলার বয়ারহুলা মোটরসাইকেল স্ট্যান্ড থেকে মিলনকেসহ তার মোটরসাইকেল ভাড়া নেয় তাজিম ও আরেক যুবক। এরপর রাতেও বাড়ি না ফেরায় মিলনকে বিভিন্ন স্থানে খুঁজতে থাকেন তার পরিবার। এ সময় তার মোবাইল ফোনটিও বন্ধ থাকে।

পরবর্তীতে ১২ ফেব্রুয়ারি নেছারাবাদ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন নিহত মিলনের বাবা শাহাদত বাহাদুর। ১৪ ফেব্রুয়ারি তাজিমের বাড়ির ল্যাট্রিনের সেপটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে মিলনের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মিলনকে হত্যার পর তাজিম তার মায়ের সহযোগিতায় মৃতদেহটি গুম করেছিল বলে জানান আইনজীবী।

এ ঘটনায় ৫ জনকে আসামি করে নিহত মিলনের বাবা শাহাদাত বাহাদুর ওই দিনই নেছারাবাদ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। রায় ঘোষণার সময় বিচারক অন্য দুই অভিযুক্তকে মামলা থেকে অব্যাহতি প্রদান করেন।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন পাবলিক প্রসিকিউটর আবুল কালাম আকন ও আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আহসানুল কবির বাদল।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

হত্যার পর লাশ গুম: ছেলের যাবজ্জীবন, মায়ের ৭ বছর কারাদণ্ড

আপডেট সময় ১০:২০:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

পিরোজপুরে ৮ বছর আগে মিলন বাহাদুর নামে এক মোটরসাইকেল চালককে হত্যার পর তার মৃতদেহ গুম করার ঘটনায় ছেলেকে যাবজ্জীবন ও তার মায়ের ৭ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন পিরোজপুরের একটি আদালত।বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. মজিবুর রহমান এ আদেশ দেন।

সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- নেছারাবাদ উপজেলার সোহাগদল গ্রামের মো. সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে মো. তাজিম (২৮) এবং স্ত্রী রেহানা বেগম (৫০)।

পিরোজপুর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আকন জানান, জেলার নেছারাবাদ উপজেলার বয়ারহুলা নামক স্থানে মোটরসাইকেল চালককে হত্যার দায়ে আদালত তাজিমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ডাদেশ এবং মৃতদেহ গুমের দায়ে তাজিমের মা রেহানা বেগমকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৩ মাসের কারাদণ্ডাদেশ প্রদান করেন। রায় ঘোষণার সময় রেহানা বেগম উপস্থিত থাকলেও তার ছেলে পলাতক ছিল বলে জানান পিপি।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মোটরসাইকেল কেনাবেচার লেনদেন নিয়ে বিরোধ ছিল তানজিম ও মিলনের সঙ্গে। এর জের ধরে ২০১৮ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি বিকালে উপজেলার বয়ারহুলা মোটরসাইকেল স্ট্যান্ড থেকে মিলনকেসহ তার মোটরসাইকেল ভাড়া নেয় তাজিম ও আরেক যুবক। এরপর রাতেও বাড়ি না ফেরায় মিলনকে বিভিন্ন স্থানে খুঁজতে থাকেন তার পরিবার। এ সময় তার মোবাইল ফোনটিও বন্ধ থাকে।

পরবর্তীতে ১২ ফেব্রুয়ারি নেছারাবাদ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন নিহত মিলনের বাবা শাহাদত বাহাদুর। ১৪ ফেব্রুয়ারি তাজিমের বাড়ির ল্যাট্রিনের সেপটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে মিলনের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মিলনকে হত্যার পর তাজিম তার মায়ের সহযোগিতায় মৃতদেহটি গুম করেছিল বলে জানান আইনজীবী।

এ ঘটনায় ৫ জনকে আসামি করে নিহত মিলনের বাবা শাহাদাত বাহাদুর ওই দিনই নেছারাবাদ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। রায় ঘোষণার সময় বিচারক অন্য দুই অভিযুক্তকে মামলা থেকে অব্যাহতি প্রদান করেন।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন পাবলিক প্রসিকিউটর আবুল কালাম আকন ও আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আহসানুল কবির বাদল।