ঢাকা ১১:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান সরকার অনুমোদন দিলে ক্রসফায়ারও করবে পুলিশ: আইজিপি

জুলাই থেকে বিনামূল্যে ড্রেস-ব্যাগ-জুতা পাবেন শিক্ষার্থীরা: শিক্ষামন্ত্রী

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জুলাই থেকে বিনামূল্যে ড্রেস-ব্যাগ-জুতা দেওয়া হবে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতি উপজেলায় দুটি করে স্কুলে এই উপকরণ দেওয়া হবে। পর্যায়েক্রমে এটি আরও বৃদ্ধি করা হবে।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে সচিবালয়ে আন্ত:মন্ত্রণালয়ের সভা শেষে তিনি এসব কথা বলেন। শিক্ষার্থীদের জন্য রাষ্ট্র–ব্যবসায়ীর যৌথ উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানানো হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এসব জানান শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। যমুনা শিল্প গ্রুপের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক যুগান্তরের যুগ্ম সম্পাদক বি এম জাহাঙ্গীর।

এহছানুল হক মিলন বলেন, আমরা ইতোমধ্যে বিশেষজ্ঞ টিমের মাধ্যমে ড্রেস ও ব্যাগের ডিজাইন চূড়ান্ত করেছি এবং একটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে এই কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছি। আগামী জুলাই মাসে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে এক লক্ষ শিক্ষার্থীর জন্য ড্রেস, ব্যাগ ও জুতা প্রদানের কমিটমেন্ট পেয়েছি বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে। প্রাথমিকভাবে এটি শুরু হবে শুধু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য। সরকারের এ উদ্যোগের সঙ্গে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীরাও এগিয়ে এসেছেন। আগামী দিনেও তারা এই সহযোগিতা করবেন।

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সরকারের উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটির আওতায় অনেক উদ্যোক্তা ইতোমধ্যেই আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। চলতি বছরে এটি পাইলট আকারে শুরু হচ্ছে। আগামী অর্থবছরে বড় আকারে শুরু হবে। ক্রমেই প্রতিটি উপজেলার প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ উদ্যোগ ছড়িয়ে দেয়া হবে।

তিনি বলেন, সারা দেশে ছেলে শিক্ষার্থীরা এক কালারের ব্যাগ, জামা ও জুতা পাবে। একইসঙ্গে সব মেয়েরা পাবে একই ধরনের জামা, জুতা ও ব্যাগ। এর কোনো ব্যতয় হবে না।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে পড়াশোনা করেন, বিনামূল্যে বই পান, মিড ডে মিল পান, এখন থেকে শিক্ষার্থীরা জামা, জুতা, পাটের তৈরি স্কুল ব্যাগ পাবে। অভিভাবকরা নিশ্চিন্ত থাকবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পেছনে কোনো অর্থ ব্যয় হবে না। আমরা একটি বিষয় স্পষ্টভাবে বলতে চাই—সারা দেশে শিক্ষার্থীদের জন্য একই ডিজাইন ও একই রঙের ড্রেস, একই ধরনের ব্যাগ এবং একই ধরনের জুতা প্রদান করা হবে। এতে সমতা ও শৃঙ্খলার একটি সুন্দর বার্তা প্রতিষ্ঠিত হবে।

এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে একটি অসহায় পরিবারের শিশুর জন্য শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে আর কোনো আর্থিক বাধা থাকবে না। বই, খাবার, পোশাক—সবকিছুই রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হবে। এটি শুধু একটি সামাজিক কর্মসূচি নয়, বরং আমাদের সংবিধান প্রদত্ত শিক্ষার অধিকার বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

লাইসেন্স ছাড়া ঢাকা শহরে চলবে না ব্যাটারিচালিত রিকশা

জুলাই থেকে বিনামূল্যে ড্রেস-ব্যাগ-জুতা পাবেন শিক্ষার্থীরা: শিক্ষামন্ত্রী

আপডেট সময় ০২:০৩:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জুলাই থেকে বিনামূল্যে ড্রেস-ব্যাগ-জুতা দেওয়া হবে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতি উপজেলায় দুটি করে স্কুলে এই উপকরণ দেওয়া হবে। পর্যায়েক্রমে এটি আরও বৃদ্ধি করা হবে।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে সচিবালয়ে আন্ত:মন্ত্রণালয়ের সভা শেষে তিনি এসব কথা বলেন। শিক্ষার্থীদের জন্য রাষ্ট্র–ব্যবসায়ীর যৌথ উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানানো হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এসব জানান শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। যমুনা শিল্প গ্রুপের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক যুগান্তরের যুগ্ম সম্পাদক বি এম জাহাঙ্গীর।

এহছানুল হক মিলন বলেন, আমরা ইতোমধ্যে বিশেষজ্ঞ টিমের মাধ্যমে ড্রেস ও ব্যাগের ডিজাইন চূড়ান্ত করেছি এবং একটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে এই কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছি। আগামী জুলাই মাসে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে এক লক্ষ শিক্ষার্থীর জন্য ড্রেস, ব্যাগ ও জুতা প্রদানের কমিটমেন্ট পেয়েছি বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে। প্রাথমিকভাবে এটি শুরু হবে শুধু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য। সরকারের এ উদ্যোগের সঙ্গে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীরাও এগিয়ে এসেছেন। আগামী দিনেও তারা এই সহযোগিতা করবেন।

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সরকারের উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটির আওতায় অনেক উদ্যোক্তা ইতোমধ্যেই আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। চলতি বছরে এটি পাইলট আকারে শুরু হচ্ছে। আগামী অর্থবছরে বড় আকারে শুরু হবে। ক্রমেই প্রতিটি উপজেলার প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ উদ্যোগ ছড়িয়ে দেয়া হবে।

তিনি বলেন, সারা দেশে ছেলে শিক্ষার্থীরা এক কালারের ব্যাগ, জামা ও জুতা পাবে। একইসঙ্গে সব মেয়েরা পাবে একই ধরনের জামা, জুতা ও ব্যাগ। এর কোনো ব্যতয় হবে না।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে পড়াশোনা করেন, বিনামূল্যে বই পান, মিড ডে মিল পান, এখন থেকে শিক্ষার্থীরা জামা, জুতা, পাটের তৈরি স্কুল ব্যাগ পাবে। অভিভাবকরা নিশ্চিন্ত থাকবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পেছনে কোনো অর্থ ব্যয় হবে না। আমরা একটি বিষয় স্পষ্টভাবে বলতে চাই—সারা দেশে শিক্ষার্থীদের জন্য একই ডিজাইন ও একই রঙের ড্রেস, একই ধরনের ব্যাগ এবং একই ধরনের জুতা প্রদান করা হবে। এতে সমতা ও শৃঙ্খলার একটি সুন্দর বার্তা প্রতিষ্ঠিত হবে।

এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে একটি অসহায় পরিবারের শিশুর জন্য শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে আর কোনো আর্থিক বাধা থাকবে না। বই, খাবার, পোশাক—সবকিছুই রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হবে। এটি শুধু একটি সামাজিক কর্মসূচি নয়, বরং আমাদের সংবিধান প্রদত্ত শিক্ষার অধিকার বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।