ঢাকা ১০:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র না থাকায় অনেক এলাকার সমস্যা গুরুত্ব পায়নি: ডেপুটি স্পিকার স্কুলমুখী করতে সাড়ে তিন লাখ শিশুকে স্কুল ড্রেস দেবে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ, আটক রাহুল-প্রিয়াঙ্কা আলমারির ড্রয়ারে মিলল শিশুর মরদেহ, সন্দেহভাজনকে গণপিটুনিতে হত্যা নতুন বিনিয়োগ আনতে ২৭ দেশে আন্তর্জাতিক মেলায় অংশ নেবে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এই প্রজন্ম হারিয়ে ফেললে জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সব মামলায় জামিন পেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিদায়ী নৌপ্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন-বিধি সংশোধন প্রস্তাব চূড়ান্ত, যাচ্ছে মন্ত্রণালয়ে বিএফটিআই হবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য গবেষণার জাতীয় থিংক ট্যাংক : বাণিজ্যমন্ত্রী

স্পেনে ৫ লাখ অনিয়মিত অভিবাসীকে বৈধতা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

চলতি বছরের শুরুর দিকে ঘোষিত ‘অভিবাসী ক্ষমা’ ব্যবস্থাটি চূড়ান্ত করেছে স্পেনের সরকার। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার নেওয়া এই পদক্ষেপের কারণে অনিয়মিতভাবে বসবাস ও কাজ করা কয়েক লাখ অভিবাসীর আইনি মর্যাদা পাওয়ার পথ প্রশস্ত হয়েছে।

বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা থেকে যাওয়া বহু অভিবাসী এখন আইনি স্বীকৃতির জন্য আবেদনের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রায় পাঁচ লাখ নথিবিহীন অভিবাসী আবেদন করতে পারবেন। বৃহস্পতিবার থেকে অনলাইনে আবেদন শুরু হয়েছে। এছাড়া, আগামী ২০ এপ্রিল থেকে অভিবাসীরা ব্যক্তিগতভাবে আবেদন করতে পারবেন, যা ৩০ জুন পর্যন্ত চলবে।

অভিবাসন আইন সংশোধনের ডিক্রি জারির মাধ্যমে পেদ্রো সানচেজের সরকার দ্রুততার সঙ্গে এ উদ্যোগ নিয়েছে। মঙ্গলবার মন্ত্রিসভায় বৈঠকের পর রাজকীয় ডিক্রির মাধ্যমে আইনি মর্যাদা দেওয়ার ঘোষণা করে সরকার। এই সংস্কারের জন্য পার্লামেন্টে ভোটের প্রয়োজন হবে না। কারণ এটি বিদ্যমান আইনে সংশোধনের বিষয়। সরকারি গেজেটে প্রকাশের পর ১৫ এপ্রিল থেকে তা কার্যকর হয়েছে।

এই পদক্ষেপ ইউরোপের অধিকাংশ দেশের প্রচলিত অভিবাসন নীতি থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির সঙ্গেও এই পদক্ষেপের বৈপরীত্য আছে। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এই ব্যবস্থাকে ‘ন্যায়সঙ্গত এবং প্রয়োজনীয়’ একটি কাজ বলে অভিহিত করেছেন।

সরকারের অবস্থান পুনরাবৃত্তি করে সানচেজ বলেছেন, চার কোটি ৯০ লাখ জনসংখ্যার এই দেশে যারা ইতোমধ্যে বসবাস এবং কাজ করছেন, তাদের ‘সমান শর্তে’ বসবাস ও কর দেওয়া উচিত। সামাজিক মাধ্যমে সানচেজ লিখেছেন, ‘আমরা অধিকার স্বীকার করি, কিন্তু দায়িত্বও দাবি করি।’

সরকারের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় পাঁচ লাখ অনিয়মিত অভিবাসী এই ব্যবস্থার আওতায় আবেদন করার যোগ্য হতে পারেন। কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, এমন মানুষের সংখ্যা আট লাখ পর্যন্ত হতে পারে।

লাতিন আমেরিকা বা আফ্রিকান দেশগুলো থেকে যাওয়া অনেক অভিবাসী কৃষি, পর্যটন এবং সেবা খাতসহ গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে কাজ করেন। বাংলাদেশিরাও একাধিক খাতে কাজ করেন দেশটিতে। অভিবাসন মন্ত্রী এলমা সাইস বলেছেন, যারা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করবেন তারা এখন এক বছরের বাসস্থান এবং কাজের অনুমতি পাবেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গণতন্ত্র না থাকায় অনেক এলাকার সমস্যা গুরুত্ব পায়নি: ডেপুটি স্পিকার

স্পেনে ৫ লাখ অনিয়মিত অভিবাসীকে বৈধতা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু

আপডেট সময় ১১:০৫:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

চলতি বছরের শুরুর দিকে ঘোষিত ‘অভিবাসী ক্ষমা’ ব্যবস্থাটি চূড়ান্ত করেছে স্পেনের সরকার। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার নেওয়া এই পদক্ষেপের কারণে অনিয়মিতভাবে বসবাস ও কাজ করা কয়েক লাখ অভিবাসীর আইনি মর্যাদা পাওয়ার পথ প্রশস্ত হয়েছে।

বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা থেকে যাওয়া বহু অভিবাসী এখন আইনি স্বীকৃতির জন্য আবেদনের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রায় পাঁচ লাখ নথিবিহীন অভিবাসী আবেদন করতে পারবেন। বৃহস্পতিবার থেকে অনলাইনে আবেদন শুরু হয়েছে। এছাড়া, আগামী ২০ এপ্রিল থেকে অভিবাসীরা ব্যক্তিগতভাবে আবেদন করতে পারবেন, যা ৩০ জুন পর্যন্ত চলবে।

অভিবাসন আইন সংশোধনের ডিক্রি জারির মাধ্যমে পেদ্রো সানচেজের সরকার দ্রুততার সঙ্গে এ উদ্যোগ নিয়েছে। মঙ্গলবার মন্ত্রিসভায় বৈঠকের পর রাজকীয় ডিক্রির মাধ্যমে আইনি মর্যাদা দেওয়ার ঘোষণা করে সরকার। এই সংস্কারের জন্য পার্লামেন্টে ভোটের প্রয়োজন হবে না। কারণ এটি বিদ্যমান আইনে সংশোধনের বিষয়। সরকারি গেজেটে প্রকাশের পর ১৫ এপ্রিল থেকে তা কার্যকর হয়েছে।

এই পদক্ষেপ ইউরোপের অধিকাংশ দেশের প্রচলিত অভিবাসন নীতি থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির সঙ্গেও এই পদক্ষেপের বৈপরীত্য আছে। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এই ব্যবস্থাকে ‘ন্যায়সঙ্গত এবং প্রয়োজনীয়’ একটি কাজ বলে অভিহিত করেছেন।

সরকারের অবস্থান পুনরাবৃত্তি করে সানচেজ বলেছেন, চার কোটি ৯০ লাখ জনসংখ্যার এই দেশে যারা ইতোমধ্যে বসবাস এবং কাজ করছেন, তাদের ‘সমান শর্তে’ বসবাস ও কর দেওয়া উচিত। সামাজিক মাধ্যমে সানচেজ লিখেছেন, ‘আমরা অধিকার স্বীকার করি, কিন্তু দায়িত্বও দাবি করি।’

সরকারের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় পাঁচ লাখ অনিয়মিত অভিবাসী এই ব্যবস্থার আওতায় আবেদন করার যোগ্য হতে পারেন। কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, এমন মানুষের সংখ্যা আট লাখ পর্যন্ত হতে পারে।

লাতিন আমেরিকা বা আফ্রিকান দেশগুলো থেকে যাওয়া অনেক অভিবাসী কৃষি, পর্যটন এবং সেবা খাতসহ গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে কাজ করেন। বাংলাদেশিরাও একাধিক খাতে কাজ করেন দেশটিতে। অভিবাসন মন্ত্রী এলমা সাইস বলেছেন, যারা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করবেন তারা এখন এক বছরের বাসস্থান এবং কাজের অনুমতি পাবেন।