ঢাকা ০৩:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কামরাঙ্গীচরে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হত্যা, ১৪ বছর পর স্বামীর মৃত্যুদণ্ড মুক্তিযুদ্ধকে কৌশলে ভুলিয়ে দেয়ার চেষ্টা সফল হবে না: রিজভী মশক নিধনে বর্তমান ওষুধ কার্যকরী হলেও বিকল্প ভাবছি: আবদুস সালাম ট্রাম্পের অনুষ্ঠানে হামলার উদ্দেশ্য কী ছিল, মুখ খুললেন হামলাকারী ‘গুপ্তদের কারণেই ফ্যাসিবাদ বিদায় নিয়েছে, এটি আমাদের অহংকার’ প্রশ্নফাঁস রোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে সরকার: মাহদী আমিন বেকারত্ব দূর করতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পিছিয়ে আছে: শিক্ষামন্ত্রী এক ভাই খুন, আরেক ভাই আটক, বাবার লাশ রেললাইনের পাশে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেক বৈঠক অনুষ্ঠিত হামলা চালিয়ে ইরান যুদ্ধে জয়ী হওয়া থেকে বিচ্যুত করা যাবে না: ট্রাম্প

মার্কিন নৌ অবরোধ পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর, দাবি সেন্টকমের

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

ইরানের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ নৌ অবরোধ কার্যকর করা হয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে যুক্তরাষ্ট্র ‘সমুদ্র আধিপত্য’ প্রতিষ্ঠা হয়েছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।

এক বিবৃতিতে সেন্টকম কমান্ডার ব্র্যাড কুপার বলেন, অবরোধ শুরুর মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই মার্কিন বাহিনী ইরানের সব বন্দরগামী ও বহির্গামী সামুদ্রিক বাণিজ্য কার্যত বন্ধ করে দিতে সক্ষম হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘ইরানের অর্থনীতির প্রায় ৯০ শতাংশই সমুদ্রপথে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল। অবরোধ কার্যকর হওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই আমরা ইরানে প্রবেশ ও বহির্গামী সব ধরনের সামুদ্রিক বাণিজ্য বন্ধ করেছি।’

সেন্টকমের আরেক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মার্কিন নৌবাহিনীর গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ারগুলো সক্রিয়ভাবে এই অবরোধ বাস্তবায়ন করছে। ইরানের বন্দর বা উপকূলীয় এলাকায় প্রবেশ বা সেখান থেকে বের হওয়া সব দেশের জাহাজের ক্ষেত্রেই সমানভাবে এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, একটি ডেস্ট্রয়ারে সাধারণত ৩০০ জনের বেশি নাবিক থাকে, যারা আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক সামুদ্রিক অভিযানে উচ্চ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত।

এর আগে সেন্টকম জানায়, এই অবরোধ অভিযানে ১০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা—নৌসেনা, মেরিন ও বিমানবাহিনীর সদস্য—অংশ নিয়েছে। তাদের সঙ্গে রয়েছে এক ডজনের বেশি যুদ্ধজাহাজ ও বহু যুদ্ধবিমান।

অভিযান শুরুর প্রথম ২৪ ঘণ্টায় কোনো জাহাজ অবরোধ ভাঙতে পারেনি বলে দাবি করা হয়েছে। একই সময়ে ছয়টি বাণিজ্যিক জাহাজ মার্কিন নির্দেশনা মেনে ফিরে গিয়ে ওমান উপসাগরে অবস্থিত ইরানি বন্দরে পুনরায় প্রবেশ করে।

এই অবরোধ পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগর সংলগ্ন ইরানের সব বন্দরে কার্যকর করা হয়েছে। তবে সেন্টকম জানিয়েছে, ইরানি বন্দরগুলোতে প্রবেশ সীমিত থাকলেও অ-ইরানি বন্দরের জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখতে তারা সহায়তা করছে।

এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় বড় ধরনের নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্য ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

কামরাঙ্গীচরে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হত্যা, ১৪ বছর পর স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

মার্কিন নৌ অবরোধ পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর, দাবি সেন্টকমের

আপডেট সময় ১০:১৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

ইরানের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ নৌ অবরোধ কার্যকর করা হয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে যুক্তরাষ্ট্র ‘সমুদ্র আধিপত্য’ প্রতিষ্ঠা হয়েছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।

এক বিবৃতিতে সেন্টকম কমান্ডার ব্র্যাড কুপার বলেন, অবরোধ শুরুর মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই মার্কিন বাহিনী ইরানের সব বন্দরগামী ও বহির্গামী সামুদ্রিক বাণিজ্য কার্যত বন্ধ করে দিতে সক্ষম হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘ইরানের অর্থনীতির প্রায় ৯০ শতাংশই সমুদ্রপথে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল। অবরোধ কার্যকর হওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই আমরা ইরানে প্রবেশ ও বহির্গামী সব ধরনের সামুদ্রিক বাণিজ্য বন্ধ করেছি।’

সেন্টকমের আরেক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মার্কিন নৌবাহিনীর গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ারগুলো সক্রিয়ভাবে এই অবরোধ বাস্তবায়ন করছে। ইরানের বন্দর বা উপকূলীয় এলাকায় প্রবেশ বা সেখান থেকে বের হওয়া সব দেশের জাহাজের ক্ষেত্রেই সমানভাবে এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, একটি ডেস্ট্রয়ারে সাধারণত ৩০০ জনের বেশি নাবিক থাকে, যারা আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক সামুদ্রিক অভিযানে উচ্চ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত।

এর আগে সেন্টকম জানায়, এই অবরোধ অভিযানে ১০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা—নৌসেনা, মেরিন ও বিমানবাহিনীর সদস্য—অংশ নিয়েছে। তাদের সঙ্গে রয়েছে এক ডজনের বেশি যুদ্ধজাহাজ ও বহু যুদ্ধবিমান।

অভিযান শুরুর প্রথম ২৪ ঘণ্টায় কোনো জাহাজ অবরোধ ভাঙতে পারেনি বলে দাবি করা হয়েছে। একই সময়ে ছয়টি বাণিজ্যিক জাহাজ মার্কিন নির্দেশনা মেনে ফিরে গিয়ে ওমান উপসাগরে অবস্থিত ইরানি বন্দরে পুনরায় প্রবেশ করে।

এই অবরোধ পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগর সংলগ্ন ইরানের সব বন্দরে কার্যকর করা হয়েছে। তবে সেন্টকম জানিয়েছে, ইরানি বন্দরগুলোতে প্রবেশ সীমিত থাকলেও অ-ইরানি বন্দরের জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখতে তারা সহায়তা করছে।

এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় বড় ধরনের নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্য ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।