আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক :
বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বোর্ডের পরিচালকরাই তদন্ত কমিটির কাছে নির্বাচনে অনিয়ম ও সরকারি হস্তক্ষেপের তথ্য দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশন, ঢাকার ক্লাব কর্মকর্তা, ক্রিকেট বোর্ড পরিচালক, জেলা ও বিভাগের ক্রিকেট সংগঠক এবং জেলা প্রশাসকদের দেওয়া তথ্যে উঠে এসেছে ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বিসিবির নির্বাচনে হওয়া অনিয়মের তথ্যপ্রমাণ।
সাক্ষাৎকার দাতা ও গ্রহীতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও ফারুক আহমেদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার জোরে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই তথ্যপ্রমাণ লিখিত আকারে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে (এনএসসি) দিয়েছে তদন্ত কমিটি। গতকাল বেলা ১১টায় এনএসসি নির্বাহী পরিচালকের কাছে প্রতিবেদন হস্তান্তর করে তারা। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানান, প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে তদন্তে বেরিয়ে আসা অনিয়মের বিষয়টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) অবহিত করে নির্দেশনা মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঢাকার সাভার বিকেএসপি পরিদর্শনকালে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘সকালে (রোববার) তদন্ত কমিটি এসে প্রতিবেদন (জমা) দিয়ে গেছে। দেওয়ার পর আমরা তাৎক্ষণিকভাবে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের একটা সভা ডেকেছিলাম। সেই সভায় আলাপ-আলোচনা করেছি যে আইসিসিকে তদন্ত প্রতিবেদন সম্পর্কে অবগত করার পর আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।’
এনএসসি গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান সাবেক বিচারপতি আসাদুজ্জামান জানান, তদন্তে অনিয়ম তুলে আনার পাশাপাশি মতামতও দিয়েছেন তারা। তিনি বলেন, ‘আমরা কাউকে ব্যক্তিগতভাবে অভিযুক্ত করিনি, বরং যেসব ভুল বা বিচ্যুতি পাওয়া গেছে, তা নিয়ে আলোচনা করে মতামত দিয়েছি।’
অভিযুক্তদের দোষী হিসেবে চিহ্নিত না করার কারণ ব্যাখ্যা করেন সাবেক এই বিচারপতি, ‘আমরা কোনো বিচারিক প্রক্রিয়ায় বসিনি। আমরা কাউকে অভিযুক্ত করে চার্জ গঠন করছি না বা কারও বিরুদ্ধে রায় প্রদান করিনি। আমাদের কাজ ছিল আইন অনুযায়ী সব পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা। আমরা তদন্তে সেগুলো দেখেছি।’
বিসিবির নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ছিল বলে জানান এনএসসির একজন কর্মকর্তা। নাম গোপন রাখার শর্তে তিনি বলেন, ‘জেলা ও বিভাগীয় কাউন্সিলর মনোনয়নে নিয়মের তোয়াক্কা করা হয়নি। তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা যা চেয়েছেন, তা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বিসিবি সভাপতি জেলা প্রশাসকদের বাধ্য করেছেন অ্যাডহক কমিটির সদস্যদের কাউন্সিলর মনোনয়ন করতে। এজন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে ব্যবহার করা হয়েছে। নিয়মের বাইরে গিয়ে ফারুক আহমেদের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। শেরাটন হোটেলে রাতে ভোট দেওয়ার জন্য কাউন্সিলরদের বাধ্য করা হয়েছে। যাদের ভোট জোর করে নেওয়া হয়েছে, তারাই বলেছেন।’
বিসিবির নির্বাচনে অনিয়ম অনুসন্ধানে সহযোগিতা করেননি সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তদন্ত কমিটির মুখোমুখি না হওয়ার ব্যাখ্যা নিজের ফেসবুক পেজে এভাবে লিখেছেন তিনি, ‘একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বিসিবির ওপর এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে তদন্ত করছে মন্ত্রণালয়। তদন্ত কমিটির প্রজ্ঞাপনেই সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে। আদালত অবমাননা করা হয়েছে। পরিচালকদের লোভ ও ভয় দেখিয়ে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হচ্ছে।’
এ ছাড়া আরও কিছু কারণ তুলে ধরেছেন আসিফ। সাবেক এই ক্রীড়া উপদেষ্টা ব্যাখ্যা দিয়েই ক্ষান্ত হননি। ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের এই পদক্ষেপের বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিসিবির বিরুদ্ধে তদন্তকে সরকারি হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখেন তিনি। তামিম ইকবালকে ইঙ্গিত করে মন্তব্য করেছেন আসিফ মাহমুদ। তিনি লিখেছেন, বিসিবির সাবেক সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের সঙ্গে দেখা করে আইসিসিতে লবিং করতে বলেছেন বলে অভিযোগ তাঁর। এনএসসির এই তদন্তের পেছনে ভারতের ষড়যন্ত্র দেখছে এনসিপির মুখপাত্র। সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা তদন্ত কমিটিকে সহযোগিতা না করার বিষয়টিও আইসিসিকে অবহিত করা হবে বলে জানান আমিনুল হক।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















