ঢাকা ০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘যারা কেন্দ্র দখলের চিন্তা করছেন, তারা বাসা থেকে মা-বাবার দোয়া নিয়ে বের হইয়েন’:হাসনাত চট্টগ্রামের স্বপ্ন ভেঙে ফের চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী ওয়ারিয়র্স অভিবাসন নীতি মেনে চলতে যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জাতিসংঘের দেশকে পুনর্নির্মাণ করতে হলে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে : তারেক রহমান ‘একটি স্বার্থান্বেষী দল ইসলামী আন্দোলনকে ধোঁকা দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে’:রেজাউল করিম ছেলে এনসিপির প্রার্থী, বাবা ভোট চাইলেন ধানের শীষে পর্যাপ্ত খেলার মাঠের অভাবে তরুণ সমাজ বিপদগামী হচ্ছে : মির্জা আব্বাস বাংলাদেশি সন্দেহে ভারতে যুবককে পিটিয়ে হত্যা নতুন বিশ্ব ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হয়ে উঠছে তুরস্ক: এরদোগান জনগণ জেনে গেছে ‘হ্যা’ ভোট দেওয়া হলে দেশে স্বৈরাচার আর ফিরে আসবে না: প্রেস সচিব

রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের বাসিন্দা নয়, বাঙালি: মিয়ানমার সেনাপ্রধান

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইয়াং দাবি করেছেন, রোহিঙ্গা মুসলিমরা মিয়ানমারের নাগরিক নয়। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলেই রোহিঙ্গারা এ দেশে চলে এসেছে। দেশটির শক্তিশালী সেনাবাহিনীর প্রধান ও সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি সিনিয়র জেনারেল মিন অং হলাইং মিয়ানমারে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের কাছে এ কথা বলেছেন।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত স্টক মার্সিয়েল বৃহস্পতিবার তার ফেসবুক পেজে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে মিয়ানমার সেনাপ্রধানের এই বক্তব্য পোস্ট করেছেন। এমনকি মিন অং হ্লাইয়াং রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ বলে মন্তব্য করেছেন। এছাড়া তারা মিয়ানমারের জন্য ক্ষতিকর। আর সাবেক ব্রিটিশ ঔপনিবেশিই এ জন্য দায়ী।

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে মিয়ানমারের সেনাপ্রধান বলেন, তারা কোনোভাবেই মিয়ানমারের জনগোষ্ঠী নয়। নথিপত্র প্রমাণ করে, তারা কখনো রোহিঙ্গা নামেও পরিচিত ছিল না। ঔপনিবেশিক আমল থেকেই তারা বাঙালি ছিল। মিয়ানমার তাদের এ দেশে নিয়ে আসেনি। ঔপনিবেশিক আমলেই তারা এসেছিল।

বৌদ্ধ-সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমারে মিন অং হ্লাইয়াং সবচেয়ে ক্ষমতাবান ব্যক্তি। তার এই মন্তব্যে স্পষ্টতই রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে খুবই কমই সংবেদনশীলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন পর্যন্ত পাঁচ লাখের বেশি রোহিঙ্গা মিয়ানমার নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ৬৫ জন রোহিঙ্গার সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তৈরি করা এক প্রতিবেদনে জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর বলেছে, গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের পুলিশ ফাঁড়িতে বিদ্রোহীদের হামলার আগে থেকেই সেখানে রোহিঙ্গাদের হত্যা, নির্যাতন ও শিশুদের ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমারে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের কারণে দেশটির সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের চিন্তা করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। চলতি সপ্তাহে এ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

এছাড়া সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা ইস্যু বহুদিন ধরেই মিয়ানমারের অন্যতম আলোচিত সংকট। তবে এই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে ‘রোহিঙ্গা’ বলতে নারাজ মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। গত ২৫ আগস্ট রাতে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে কয়েকটি পুলিশ ফাঁড়ি ও তল্লাশিচৌকিতে সন্ত্রাসী হামলা এই সংকটকে নতুন করে উসকে দেয়।

এর জেরে সেখানে নতুন করে সেনা অভিযান শুরু হয়, চলে দমন-পীড়ন। মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী নিরস্ত্র রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ-শিশুদের ওপর নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ চালাতে থাকে। এই পরিস্থিতিতে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ আসছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লিবিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে ই-পাসপোর্ট সেবা উদ্বোধন

রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের বাসিন্দা নয়, বাঙালি: মিয়ানমার সেনাপ্রধান

আপডেট সময় ০৯:৩১:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইয়াং দাবি করেছেন, রোহিঙ্গা মুসলিমরা মিয়ানমারের নাগরিক নয়। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলেই রোহিঙ্গারা এ দেশে চলে এসেছে। দেশটির শক্তিশালী সেনাবাহিনীর প্রধান ও সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি সিনিয়র জেনারেল মিন অং হলাইং মিয়ানমারে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের কাছে এ কথা বলেছেন।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত স্টক মার্সিয়েল বৃহস্পতিবার তার ফেসবুক পেজে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে মিয়ানমার সেনাপ্রধানের এই বক্তব্য পোস্ট করেছেন। এমনকি মিন অং হ্লাইয়াং রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ বলে মন্তব্য করেছেন। এছাড়া তারা মিয়ানমারের জন্য ক্ষতিকর। আর সাবেক ব্রিটিশ ঔপনিবেশিই এ জন্য দায়ী।

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে মিয়ানমারের সেনাপ্রধান বলেন, তারা কোনোভাবেই মিয়ানমারের জনগোষ্ঠী নয়। নথিপত্র প্রমাণ করে, তারা কখনো রোহিঙ্গা নামেও পরিচিত ছিল না। ঔপনিবেশিক আমল থেকেই তারা বাঙালি ছিল। মিয়ানমার তাদের এ দেশে নিয়ে আসেনি। ঔপনিবেশিক আমলেই তারা এসেছিল।

বৌদ্ধ-সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমারে মিন অং হ্লাইয়াং সবচেয়ে ক্ষমতাবান ব্যক্তি। তার এই মন্তব্যে স্পষ্টতই রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে খুবই কমই সংবেদনশীলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন পর্যন্ত পাঁচ লাখের বেশি রোহিঙ্গা মিয়ানমার নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ৬৫ জন রোহিঙ্গার সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তৈরি করা এক প্রতিবেদনে জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর বলেছে, গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের পুলিশ ফাঁড়িতে বিদ্রোহীদের হামলার আগে থেকেই সেখানে রোহিঙ্গাদের হত্যা, নির্যাতন ও শিশুদের ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমারে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের কারণে দেশটির সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের চিন্তা করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। চলতি সপ্তাহে এ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

এছাড়া সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা ইস্যু বহুদিন ধরেই মিয়ানমারের অন্যতম আলোচিত সংকট। তবে এই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে ‘রোহিঙ্গা’ বলতে নারাজ মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। গত ২৫ আগস্ট রাতে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে কয়েকটি পুলিশ ফাঁড়ি ও তল্লাশিচৌকিতে সন্ত্রাসী হামলা এই সংকটকে নতুন করে উসকে দেয়।

এর জেরে সেখানে নতুন করে সেনা অভিযান শুরু হয়, চলে দমন-পীড়ন। মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী নিরস্ত্র রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ-শিশুদের ওপর নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ চালাতে থাকে। এই পরিস্থিতিতে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ আসছে।