ঢাকা ১০:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্প কারখানা ও প্রবাসীদের ত্রিপাক্ষিক ইকোসিস্টেম গড়ে তুলবে সরকার: মাহদী আমিন নির্লজ্জ দলীয়করণ করে দুর্নীতিকে জাতীয়করণ করছে সরকার: জামায়াত আমির ধানমন্ডিতে শেখ হাসিনার পরিত্যক্ত ‘সুধাসদন’ থেকে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার রাষ্ট্রপতির হাতে শপথ নিয়ে তাকে সাংবিধানিকভাবে দায়মুক্তি দিয়ে গেছে নাহিদ মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না: পানিসম্পদমন্ত্রী জুলাইয়ের দিনগুলোই জ্বলন্ত সাক্ষী, ইসলামী আন্দোলন মানবতার পক্ষের শক্তি: চরমোনাই পীর ভারতের আন্দোলনরত ছাত্র-তরুণদেরকে অভিনন্দন নাহিদ ইসলামের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসছে: আইনমন্ত্রী আন্দোলন প্রত্যাহার করল ককরোচ জনতা পার্টি জনগণের ভোগান্তি কমাতে সরকার নিরলস কাজ করছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

ইসরায়েলকে বাদ দিয়ে সৌদি যুবরাজের মহাপরিকল্পনা

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস দিয়ে এবার একটি উচ্চাভিলাষী ফাইবার অপটিক ক্যাবল প্রকল্পের রুট থেকে ইসরায়েলকে বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করেছে সৌদি আরব। দীর্ঘ আলোচনার পর রিয়াদ এখন ইসরায়েলের পরিবর্তে সিরিয়াকে ট্রানজিট দেশ হিসেবে ব্যবহার করে ভূমধ্যসাগরীয় দেশ গ্রিসের সাথে যুক্ত হতে আগ্রহী।

আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে মিডল ইস্ট আই। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সৌদি আরব কেবল দামেস্কের সাথে তার সম্পর্কই জোরদার করতে চাইছে না বরং আঞ্চলিক সংযোগের ক্ষেত্রে ইসরায়েলকে কোণঠাসা করার বার্তাও দিচ্ছে।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ইতিপূর্বেই গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের কঠোর সমালোচনা করেছেন। ইহুদি রাষ্ট্রটির বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তুলেছেন তিনি। এই উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই রিয়াদ সিরিয়ার টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোতে প্রায় ৮০ কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে।

সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো সাড়ে চার হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সিরিয়াকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিকভাবে সংযুক্ত করা। মূলত ২০২২ সালে যখন এই ‘ইস্ট টু মেড ডেটা করিডোর’ প্রকল্পের ঘোষণা আসে, তখন সৌদি-ইসরায়েল সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের আলোচনা তুঙ্গে ছিল। তবে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি সেই সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রিয়াদের এই নীতিগত পরিবর্তন স্পষ্ট করে দেয় যে তারা এখন আর ইসরায়েলের সাথে কোনো দৃশ্যমান সংযোগ রাখতে ইচ্ছুক নয়। পরিবর্তে তারা সিরিয়াকে আঞ্চলিক বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দুতে ফিরিয়ে আনতে চাইছে। সৌদি আরবের ভিশন অনুযায়ী ভবিষ্যতে সড়ক, রেল এবং ক্যাবল নেটওয়ার্কের প্রধান পথ হবে দামেস্ক। যদিও গ্রিস ঐতিহাসিকভাবে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং তুরস্কের বিরুদ্ধে ইসরায়েলকে একটি নিরাপত্তা ঢাল হিসেবে বিবেচনা করে। তবুও সৌদি আরবের এই বিশাল বিনিয়োগের প্রস্তাব এথেন্সের জন্য নতুন কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্প কারখানা ও প্রবাসীদের ত্রিপাক্ষিক ইকোসিস্টেম গড়ে তুলবে সরকার: মাহদী আমিন

ইসরায়েলকে বাদ দিয়ে সৌদি যুবরাজের মহাপরিকল্পনা

আপডেট সময় ০৬:৩৫:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস দিয়ে এবার একটি উচ্চাভিলাষী ফাইবার অপটিক ক্যাবল প্রকল্পের রুট থেকে ইসরায়েলকে বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করেছে সৌদি আরব। দীর্ঘ আলোচনার পর রিয়াদ এখন ইসরায়েলের পরিবর্তে সিরিয়াকে ট্রানজিট দেশ হিসেবে ব্যবহার করে ভূমধ্যসাগরীয় দেশ গ্রিসের সাথে যুক্ত হতে আগ্রহী।

আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে মিডল ইস্ট আই। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সৌদি আরব কেবল দামেস্কের সাথে তার সম্পর্কই জোরদার করতে চাইছে না বরং আঞ্চলিক সংযোগের ক্ষেত্রে ইসরায়েলকে কোণঠাসা করার বার্তাও দিচ্ছে।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ইতিপূর্বেই গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের কঠোর সমালোচনা করেছেন। ইহুদি রাষ্ট্রটির বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তুলেছেন তিনি। এই উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই রিয়াদ সিরিয়ার টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোতে প্রায় ৮০ কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে।

সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো সাড়ে চার হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সিরিয়াকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিকভাবে সংযুক্ত করা। মূলত ২০২২ সালে যখন এই ‘ইস্ট টু মেড ডেটা করিডোর’ প্রকল্পের ঘোষণা আসে, তখন সৌদি-ইসরায়েল সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের আলোচনা তুঙ্গে ছিল। তবে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি সেই সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রিয়াদের এই নীতিগত পরিবর্তন স্পষ্ট করে দেয় যে তারা এখন আর ইসরায়েলের সাথে কোনো দৃশ্যমান সংযোগ রাখতে ইচ্ছুক নয়। পরিবর্তে তারা সিরিয়াকে আঞ্চলিক বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দুতে ফিরিয়ে আনতে চাইছে। সৌদি আরবের ভিশন অনুযায়ী ভবিষ্যতে সড়ক, রেল এবং ক্যাবল নেটওয়ার্কের প্রধান পথ হবে দামেস্ক। যদিও গ্রিস ঐতিহাসিকভাবে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং তুরস্কের বিরুদ্ধে ইসরায়েলকে একটি নিরাপত্তা ঢাল হিসেবে বিবেচনা করে। তবুও সৌদি আরবের এই বিশাল বিনিয়োগের প্রস্তাব এথেন্সের জন্য নতুন কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।