ঢাকা ০৩:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

স্ট্রোকের আগাম সতর্কতা ও দ্রুত চিকিৎসায় গুরুত্ব

আকাশ নিউজ ডেস্ক :

স্ট্রোক একটি জরুরি চিকিৎসাজনিত অবস্থা, যা হঠাৎ করে মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ বন্ধ বা রক্তক্ষরণের কারণে ঘটে। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে স্ট্রোক স্থায়ী পঙ্গুত্ব, এমনকি মৃত্যুর কারণ হতে পারে। আগাম সতর্কতা ও দ্রুত পদক্ষেপ নিলে ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। স্ট্রোকের সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে– হঠাৎ মুখ বেঁকে যাওয়া, হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া বা কথা বলতে না পারা। অনেক সময় হঠাৎ চোখে ঝাপসা দেখা, মাথা ঘোরা বা তীব্র মাথাব্যথাও স্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে। এসব উপসর্গ দেখা দিলে রোগীকে এক মুহূর্তও দেরি না করে হাসপাতালে নিতে হবে।

উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও ধূমপান স্ট্রোকের প্রধান ঝুঁকিপূর্ণ কারণ। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই এসব রোগ বা জীবনপ্রণালি নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত জরুরি। স্ট্রোকের ক্ষেত্রে সময়ই সবচেয়ে বড় বিষয়। লক্ষণ শুরু হওয়ার প্রথম কয়েক ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসা শুরু করতে পারলে অনেক রোগীকে স্থায়ী অক্ষমতা থেকে রক্ষা করা যায়। সে কারণে স্ট্রোকের লক্ষণ সম্পর্কে পরিবার ও সমাজের সবাইকে সচেতন হতে হবে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ওষুধ সঠিকভাবে গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন স্ট্রোক প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সচেতনতা ও দ্রুত সিদ্ধান্তই স্ট্রোক মোকাবিলার মূল চাবিকাঠি।

স্ট্রোকের লক্ষণগুলো দ্রুত শনাক্ত করতে চিকিৎসকরা ‘FAST’ সূত্র ব্যবহারের পরামর্শ দেন। এখানে F (Face) বা মুখ বেঁকে যাওয়া, A (Arm) বা হাত অবশ হওয়া, S (Speech) বা কথা জড়িয়ে যাওয়া এবং T (Time) বা দ্রুত হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পৌঁছানোকে বোঝায়। মনে রাখতে হবে, স্ট্রোকের প্রথম সাড়ে ৪ ঘণ্টা সময়কে ‘গোল্ডেন আওয়ার’ বলা হয়। এ সময়ের মধ্যে চিকিৎসা শুরু করলে মস্তিষ্কের কোষগুলো স্থায়ীভাবে মরে যাওয়া থেকে রক্ষা পায়। অনেকে স্ট্রোককে সাধারণ প্যারালাইসিস মনে করে অপচিকিৎসা বা কবিরাজি ঝাড়ফুঁকের আশ্রয় নেন; যা রোগীর জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলে। এ ছাড়া যাদের উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস রয়েছে, তাদের নিয়মিত চেকআপ এবং লবণ ও চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা অত্যন্ত জরুরি। স্ট্রোক-পরবর্তী জীবনে সঠিক ফিজিওথেরাপি রোগীকে পুনরায় কর্মক্ষম করে তুলতে জাদুর মতো কাজ করে।

লেখক: নিউরোলজি ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

স্ট্রোকের আগাম সতর্কতা ও দ্রুত চিকিৎসায় গুরুত্ব

আপডেট সময় ১০:১৫:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক :

স্ট্রোক একটি জরুরি চিকিৎসাজনিত অবস্থা, যা হঠাৎ করে মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ বন্ধ বা রক্তক্ষরণের কারণে ঘটে। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে স্ট্রোক স্থায়ী পঙ্গুত্ব, এমনকি মৃত্যুর কারণ হতে পারে। আগাম সতর্কতা ও দ্রুত পদক্ষেপ নিলে ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। স্ট্রোকের সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে– হঠাৎ মুখ বেঁকে যাওয়া, হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া বা কথা বলতে না পারা। অনেক সময় হঠাৎ চোখে ঝাপসা দেখা, মাথা ঘোরা বা তীব্র মাথাব্যথাও স্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে। এসব উপসর্গ দেখা দিলে রোগীকে এক মুহূর্তও দেরি না করে হাসপাতালে নিতে হবে।

উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও ধূমপান স্ট্রোকের প্রধান ঝুঁকিপূর্ণ কারণ। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই এসব রোগ বা জীবনপ্রণালি নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত জরুরি। স্ট্রোকের ক্ষেত্রে সময়ই সবচেয়ে বড় বিষয়। লক্ষণ শুরু হওয়ার প্রথম কয়েক ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসা শুরু করতে পারলে অনেক রোগীকে স্থায়ী অক্ষমতা থেকে রক্ষা করা যায়। সে কারণে স্ট্রোকের লক্ষণ সম্পর্কে পরিবার ও সমাজের সবাইকে সচেতন হতে হবে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ওষুধ সঠিকভাবে গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন স্ট্রোক প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সচেতনতা ও দ্রুত সিদ্ধান্তই স্ট্রোক মোকাবিলার মূল চাবিকাঠি।

স্ট্রোকের লক্ষণগুলো দ্রুত শনাক্ত করতে চিকিৎসকরা ‘FAST’ সূত্র ব্যবহারের পরামর্শ দেন। এখানে F (Face) বা মুখ বেঁকে যাওয়া, A (Arm) বা হাত অবশ হওয়া, S (Speech) বা কথা জড়িয়ে যাওয়া এবং T (Time) বা দ্রুত হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পৌঁছানোকে বোঝায়। মনে রাখতে হবে, স্ট্রোকের প্রথম সাড়ে ৪ ঘণ্টা সময়কে ‘গোল্ডেন আওয়ার’ বলা হয়। এ সময়ের মধ্যে চিকিৎসা শুরু করলে মস্তিষ্কের কোষগুলো স্থায়ীভাবে মরে যাওয়া থেকে রক্ষা পায়। অনেকে স্ট্রোককে সাধারণ প্যারালাইসিস মনে করে অপচিকিৎসা বা কবিরাজি ঝাড়ফুঁকের আশ্রয় নেন; যা রোগীর জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলে। এ ছাড়া যাদের উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস রয়েছে, তাদের নিয়মিত চেকআপ এবং লবণ ও চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা অত্যন্ত জরুরি। স্ট্রোক-পরবর্তী জীবনে সঠিক ফিজিওথেরাপি রোগীকে পুনরায় কর্মক্ষম করে তুলতে জাদুর মতো কাজ করে।

লেখক: নিউরোলজি ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ