ঢাকা ০৬:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাতারবাড়ী সমুদ্র বন্দর চালু হলে কমবে পণ্য পরিবহন ব্যয়: নৌমন্ত্রী জয়পুরহাটে মাদরাসাছাত্রী ধর্ষণ মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড বাংলাদেশ হবে ‘ডিস্যাবিলিটি ইনক্লুসিভ সোসাইটি’র রোল মডেল: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ছাত্রশিবিরকে বিদায় জানালেন সাদিক কায়েম ৭ জেলায় বন্যা : ক্ষতিগ্রস্ত ৬ লাখের বেশি মানুষ, মৃত্যু বেড়ে ৫৪ আইএমএফ প্রতিনিধিদের সঙ্গে পে স্কেলের বিষয়ে আলোচনা হয়নি: অর্থমন্ত্রী হবিগঞ্জে ড্রোন দিয়ে সহায়তা নিয়ে দুর্গতের পাশে বিজিবি বন্যায় প্রাণহানির জন্য ফ্যাসিস্ট সরকারের অপরিকল্পিত উন্নয়ন দায়ী: রিজভী শেখ হাসিনা যেখানেই আত্মসমর্পণ করুক তাকে আগে জেলে যেতে হবে:পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সেনাবাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা গভীর: প্রধানমন্ত্রী

শেখ হাসিনা রাজনীতিতে আর প্রাসঙ্গিক থাকবেন না: দ্য উইককে ফখরুল

আকাশ জাতীয় ডেস্ক : 

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আর প্রাসঙ্গিক থাকবেন না। ফলে বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রেও তিনি কোনো স্থায়ী বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবেন না।

ভারতের ইংরেজি সাময়িকী দ্য উইক এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও আঞ্চলিক সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, শেখ হাসিনা একটি সময় পর্যন্ত একটি ফ্যাক্টর হিসেবে বিবেচিত হলেও দীর্ঘমেয়াদে তিনি আর প্রাসঙ্গিক থাকবেন না।

তার মতে, শেখ হাসিনা দীর্ঘ সময় ধরে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল করে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করেছেন, যা দেশের রাজনীতিতে সংকট তৈরি করেছে। তবে এই সংকট অতিক্রম করেই ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া সম্ভব এবং সেটাই হওয়া উচিত।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশের মানুষ একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রত্যাশা করছে।

তিনি বলেন, প্রায় ১৫ বছর ধরে জনগণ প্রকৃত ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। বিশেষ করে ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সি একটি বড় অংশের তরুণ ভোটার কখনো স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি। ফলে এবারের নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

নির্বাচনকে ঘিরে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা নেই বলেও জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল। তার ভাষায়, নির্বাচন কমিশন দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে এবং সরকারের দিক থেকেও ইতিবাচক মনোভাব দেখা যাচ্ছে। প্রচারের সময় কিছু বিচ্ছিন্ন সমস্যা থাকলেও তা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করবে না বলে তিনি মনে করেন।

জাতীয় ঐক্য সরকার গঠনের বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, গত ১৫ বছর ধরে কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় বিএনপি বাম ও ডান— উভয় ধারার বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে ছিল। মোট ২০ থেকে ২৪টি দল সেই আন্দোলনে যুক্ত ছিল।

তিনি জানান, বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা সংস্কার এজেন্ডার ভিত্তিতে সরকার গঠন হবে এবং কেবল আন্দোলনের শরিক দলগুলোকেই ঐক্য সরকারের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিএনপির কোনো চুক্তি নেই এবং ভবিষ্যৎ জাতীয় ঐক্য সরকারেও দলটি অন্তর্ভুক্ত হবে না।

ছাত্রদের উদ্যোগে গঠিত ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে জোট না হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে মির্জা ফখরুল বলেন, আসন বণ্টন নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

তিনি জানান, নতুন প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে জয় পাওয়া কঠিন হওয়ায় বিএনপি নিজেদের প্রার্থীদের নিয়েই আত্মবিশ্বাসী ছিল।

আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ না নিলে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। তবে দলের পক্ষ থেকে অংশগ্রহণ না করার নির্দেশ এসেছে। তার মতে, আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে না।

এ ছাড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন তরুণ ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি করেছে বলেও মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে ১৮ মাসের মধ্যে অন্তত এক কোটি তরুণের কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি নারীর ক্ষমতায়ন, কৃষি খাতের উন্নয়ন, বিচার ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সাংবিধানিক সংস্কার এবং প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ দুই মেয়াদে সীমাবদ্ধ করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাতারবাড়ী সমুদ্র বন্দর চালু হলে কমবে পণ্য পরিবহন ব্যয়: নৌমন্ত্রী

শেখ হাসিনা রাজনীতিতে আর প্রাসঙ্গিক থাকবেন না: দ্য উইককে ফখরুল

আপডেট সময় ১১:৫৬:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক : 

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আর প্রাসঙ্গিক থাকবেন না। ফলে বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রেও তিনি কোনো স্থায়ী বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবেন না।

ভারতের ইংরেজি সাময়িকী দ্য উইক এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও আঞ্চলিক সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, শেখ হাসিনা একটি সময় পর্যন্ত একটি ফ্যাক্টর হিসেবে বিবেচিত হলেও দীর্ঘমেয়াদে তিনি আর প্রাসঙ্গিক থাকবেন না।

তার মতে, শেখ হাসিনা দীর্ঘ সময় ধরে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল করে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করেছেন, যা দেশের রাজনীতিতে সংকট তৈরি করেছে। তবে এই সংকট অতিক্রম করেই ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া সম্ভব এবং সেটাই হওয়া উচিত।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশের মানুষ একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রত্যাশা করছে।

তিনি বলেন, প্রায় ১৫ বছর ধরে জনগণ প্রকৃত ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। বিশেষ করে ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সি একটি বড় অংশের তরুণ ভোটার কখনো স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি। ফলে এবারের নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

নির্বাচনকে ঘিরে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা নেই বলেও জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল। তার ভাষায়, নির্বাচন কমিশন দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে এবং সরকারের দিক থেকেও ইতিবাচক মনোভাব দেখা যাচ্ছে। প্রচারের সময় কিছু বিচ্ছিন্ন সমস্যা থাকলেও তা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করবে না বলে তিনি মনে করেন।

জাতীয় ঐক্য সরকার গঠনের বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, গত ১৫ বছর ধরে কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় বিএনপি বাম ও ডান— উভয় ধারার বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে ছিল। মোট ২০ থেকে ২৪টি দল সেই আন্দোলনে যুক্ত ছিল।

তিনি জানান, বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা সংস্কার এজেন্ডার ভিত্তিতে সরকার গঠন হবে এবং কেবল আন্দোলনের শরিক দলগুলোকেই ঐক্য সরকারের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিএনপির কোনো চুক্তি নেই এবং ভবিষ্যৎ জাতীয় ঐক্য সরকারেও দলটি অন্তর্ভুক্ত হবে না।

ছাত্রদের উদ্যোগে গঠিত ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে জোট না হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে মির্জা ফখরুল বলেন, আসন বণ্টন নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

তিনি জানান, নতুন প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে জয় পাওয়া কঠিন হওয়ায় বিএনপি নিজেদের প্রার্থীদের নিয়েই আত্মবিশ্বাসী ছিল।

আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ না নিলে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। তবে দলের পক্ষ থেকে অংশগ্রহণ না করার নির্দেশ এসেছে। তার মতে, আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে না।

এ ছাড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন তরুণ ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি করেছে বলেও মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে ১৮ মাসের মধ্যে অন্তত এক কোটি তরুণের কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি নারীর ক্ষমতায়ন, কৃষি খাতের উন্নয়ন, বিচার ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সাংবিধানিক সংস্কার এবং প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ দুই মেয়াদে সীমাবদ্ধ করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।