আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন আগামী নভেম্বরে। এর আগে রিপাবলিকান পার্টির পরাজয় ঠেকানোর কৌশল নিয়ে কথা বলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। একটি পডকাস্টে আলাপের সময় তিনি রিপাবলিকান কর্মকর্তাদের পরামর্শ দিয়েছেন, তাদের উচিত ১৫টি অঙ্গরাজ্যে ভোটের নিয়ন্ত্রণ ও নির্বাচন জাতীয়করণ করা।
পডকাস্টটি প্রচার হয় স্থানীয় সময় গত সোমবার। নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়ার কারণ সম্পর্কে ট্রাম্প বলেছেন, এটি অনিবন্ধিত অভিবাসীদের ভোটদান রুখে দেওয়ার একটি উপায়। অভিবাসীদের ভোট দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আনা হয়েছে। তারা অবৈধভাবে ভোট দেয়। কিন্তু রিপাবলিকানরা এখনও এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তাই রিপাবলিকানদের বলা উচিত, ‘আমরা নিয়ন্ত্রণ নিতে চাই’।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের অন্তত ১৫টি জায়গার ভোটগ্রহণ নিয়ন্ত্রণে নেওয়া উচিত। রিপাবলিকানদের উচিত ভোটদান প্রক্রিয়াকে জাতীয়করণ করা।’
যুক্তরাষ্ট্রে ভোটদান কোনো জাতীয় প্রক্রিয়া নয়। ফেডারেল সরকার সরাসরি নির্বাচনী ব্যবস্থা পরিচালনা করে না। সংবিধান প্রতিটি অঙ্গরাজ্যকে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। মার্কিন কংগ্রেস ভোট সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি বিল বিবেচনার পর্যায়ে রেখেছে। সেগুলো পাস হলে নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। এমন অবস্থায় ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচন জাতীয়করণ নিয়ে মন্তব্য করলেন।
আগের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের কিছু অঙ্গরাজ্য খুবই দুর্নীতিগ্রস্ত। নির্বাচনে এমন কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ভোট গণনায় আমাকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। অথচ সেগুলোতে আমি জিতেছি। আপনারা জর্জিয়ায় এখন কিছু দেখতে পাবেন। সেখান থেকে আকর্ষণীয় কিছু তথ্য বেরিয়ে আসতে দেখবেন।’
নির্বাচন জাতীয়করণ সংক্রান্ত ট্রাম্পের পরামর্শের বিষয়ে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট মার্কিন সংবিধানে বিশ্বাস করেন। কিন্তু তিনি এটিও বিশ্বাস করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে অনেক জালিয়াতি ও অনিয়ম ঘটেছে।’
লেভিট বলেন, ভোটার আইডির বিষয়টি অত্যন্ত জনপ্রিয়। প্রেসিডেন্ট এ সংক্রান্ত নীতি বাস্তবায়ন করতে চান। সব অঙ্গরাজ্যের জন্য এটি কার্যকর করতে তিনি আইন পাস করতে চান।
এদিকে ট্রাম্পের মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন ডেমোক্র্যাট নেতারা। মঙ্গলবার ভার্জিনিয়ার সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার বলেন, গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো নির্বাচনের নিরাপত্তা। কিন্তু ট্রাম্পের মন্তব্য ২০২৬ (মধ্যবর্তী) ও ২০২৮ সালের নির্বাচন ঘিরে একটি হুমকির মতো। নির্বাচন ব্যাহত করতে আরও বাজে কোনো কৌশল ব্যবহার করা হবে কি না- সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 


















