ঢাকা ০৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ভিয়েতনাম, গোপন নথি ফাঁস

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ভিয়েতনাম। সম্প্রতি ফাঁস হওয়া এক গোপন সামরিক নথিতে এমন তথ্য উঠে এসেছে। ওই নথিতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য ‘আগ্রাসী যুদ্ধ’-এর আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৪ সালের আগস্টে ভিয়েতনাম প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুত করা ওই নথির শিরোনাম ‘দ্বিতীয় মার্কিন আগ্রাসন পরিকল্পনা’। এতে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘যুদ্ধবাজ শক্তি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে ভিয়েতনামের সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করার সম্ভাব্য মার্কিন উদ্যোগের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠন দ্য ৮৮ প্রজেক্ট মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে নথিটির বিষয়বস্তু তুলে ধরেছে।

এই নথি ফাঁসের সময়টি তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এর প্রায় এক বছর আগেই ভিয়েতনাম ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের সম্পর্ককে ‘ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারত্ব’-এ উন্নীত করে, যেখানে ওয়াশিংটনকে চীন ও রাশিয়ার সমমর্যাদায় স্থান দেওয়া হয়। তবে অভ্যন্তরীণ এই মূল্যায়ন ভিয়েতনামের দ্বিমুখী পররাষ্ট্রনীতির ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে বাহ্যিক কূটনৈতিক সৌহার্দ্য বজায় রাখা হলেও ভেতরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি গভীর সন্দেহ রয়ে গেছে।

নথিতে সরাসরি সামরিক সংঘাতের আশঙ্কার পাশাপাশি তথাকথিত ‘কালার রেভ্যুলুশন’ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট নেতৃত্বের আশঙ্কা, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, জাতিগত ও ধর্মীয় ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে বিদেশি শক্তি সরকারবিরোধী গণঅভ্যুত্থান উসকে দিতে পারে। উদাহরণ হিসেবে ইউক্রেনের ২০০৪ সালের অরেঞ্জ বিপ্লব ও ফিলিপাইনের ১৯৮৬ সালের পিপল পাওয়ার আন্দোলনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

নথিতে বলা হয়েছে, নিকট ভবিষ্যতে ভিয়েতনামের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধের আশঙ্কা কম। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা চীনের প্রভাব মোকাবিলার অংশ হিসেবে প্রচলিত যুদ্ধের বাইরে গিয়ে অপ্রচলিত কৌশল ব্যবহার করতে বা হস্তক্ষেপের অজুহাত তৈরি করতে পারে—এমন আশঙ্কা রয়েছে।

দ্য ৮৮ প্রজেক্টের সহপরিচালক ও বিশ্লেষণের লেখক বেন সুয়ান্টন বলেন, নথিতে উঠে আসা উদ্বেগ ভিয়েতনাম সরকারের ভেতরের একটি বিস্তৃত ঐকমত্যের প্রতিফলন। তার মতে, হ্যানয় যুক্তরাষ্ট্রকে প্রকৃত কৌশলগত মিত্র হিসেবে দেখে না এবং কোনওভাবেই চীনবিরোধী জোটে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনাও নেই।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ভিয়েতনাম, গোপন নথি ফাঁস

আপডেট সময় ০৮:১৪:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ভিয়েতনাম। সম্প্রতি ফাঁস হওয়া এক গোপন সামরিক নথিতে এমন তথ্য উঠে এসেছে। ওই নথিতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য ‘আগ্রাসী যুদ্ধ’-এর আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৪ সালের আগস্টে ভিয়েতনাম প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুত করা ওই নথির শিরোনাম ‘দ্বিতীয় মার্কিন আগ্রাসন পরিকল্পনা’। এতে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘যুদ্ধবাজ শক্তি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে ভিয়েতনামের সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করার সম্ভাব্য মার্কিন উদ্যোগের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠন দ্য ৮৮ প্রজেক্ট মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে নথিটির বিষয়বস্তু তুলে ধরেছে।

এই নথি ফাঁসের সময়টি তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এর প্রায় এক বছর আগেই ভিয়েতনাম ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের সম্পর্ককে ‘ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারত্ব’-এ উন্নীত করে, যেখানে ওয়াশিংটনকে চীন ও রাশিয়ার সমমর্যাদায় স্থান দেওয়া হয়। তবে অভ্যন্তরীণ এই মূল্যায়ন ভিয়েতনামের দ্বিমুখী পররাষ্ট্রনীতির ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে বাহ্যিক কূটনৈতিক সৌহার্দ্য বজায় রাখা হলেও ভেতরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি গভীর সন্দেহ রয়ে গেছে।

নথিতে সরাসরি সামরিক সংঘাতের আশঙ্কার পাশাপাশি তথাকথিত ‘কালার রেভ্যুলুশন’ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট নেতৃত্বের আশঙ্কা, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, জাতিগত ও ধর্মীয় ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে বিদেশি শক্তি সরকারবিরোধী গণঅভ্যুত্থান উসকে দিতে পারে। উদাহরণ হিসেবে ইউক্রেনের ২০০৪ সালের অরেঞ্জ বিপ্লব ও ফিলিপাইনের ১৯৮৬ সালের পিপল পাওয়ার আন্দোলনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

নথিতে বলা হয়েছে, নিকট ভবিষ্যতে ভিয়েতনামের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধের আশঙ্কা কম। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা চীনের প্রভাব মোকাবিলার অংশ হিসেবে প্রচলিত যুদ্ধের বাইরে গিয়ে অপ্রচলিত কৌশল ব্যবহার করতে বা হস্তক্ষেপের অজুহাত তৈরি করতে পারে—এমন আশঙ্কা রয়েছে।

দ্য ৮৮ প্রজেক্টের সহপরিচালক ও বিশ্লেষণের লেখক বেন সুয়ান্টন বলেন, নথিতে উঠে আসা উদ্বেগ ভিয়েতনাম সরকারের ভেতরের একটি বিস্তৃত ঐকমত্যের প্রতিফলন। তার মতে, হ্যানয় যুক্তরাষ্ট্রকে প্রকৃত কৌশলগত মিত্র হিসেবে দেখে না এবং কোনওভাবেই চীনবিরোধী জোটে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনাও নেই।