ঢাকা ০৬:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আমার কাছে চরিত্র, গল্প আর কাজের প্রতি সততাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ: আফরান নিশো

আকাশ বিনোদন ডেস্ক : 

গত বৃহস্পতিবার রাতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঘোষণা করা হয়েছে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০২৩। এবারের আসরে সেরা অভিনেতা নির্বাচিত হয়েছেন আফরান নিশো। সুড়ঙ্গ সিনেমায় অভিনয় করে এই সম্মাননা পাচ্ছেন তিনি।

সেরা অভিনেতা হিসেবে প্রথমবারের মতো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়ার খবরে এই মুহূর্তে আপনার অনুভূতি কেমন?

এই অনুভূতিটাকে এককথায় প্রকাশ করা সত্যিই কঠিন। বলা যায়, অনুভূতির এক অদ্ভুত মিশ্রণ কাজ করছে ভেতরে। একদিকে এখনও মনে হচ্ছে যেন স্বপ্নের ভেতর আছি। আবার অন্যদিকে, এক ধরনের গভীর আনন্দ ও তৃপ্তি আমাকে ঘিরে ধরেছে। এত বছর ধরে কাজের পর এমন ঘোষণা। সব মিলিয়ে এখনও নিজেকে একটা ঘোরের মধ্যেই মনে হচ্ছে। হয়তো কয়েকটা দিন সময় লাগবে, তখন এই অনুভূতিটাকে আরও পরিষ্কারভাবে বুঝতে ও ভাষায় প্রকাশ করতে পারব।

আপনার এই অর্জনের খবরে কারা সবচেয়ে বেশি আবেগপ্রবণ হয়েছেন?

সত্যি বলতে কী, আমার মনে হয়েছে। এই আনন্দটা আমার চেয়েও বেশি অনুভব করছেন আমার আশপাশের মানুষগুলো। আমার পরিবার, যারা নীরবে আমার সংগ্রামটা দেখেছেন; বন্ধুবান্ধব, যারা সব সময় পাশে ছিলেন; মিডিয়ার সহকর্মীরা, যাদের সঙ্গে কাজ করতে করতেই এই পথচলা। সবাই ভীষণ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন। তবে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টা আমাকে নাড়া দিয়েছে, সেটা হলো দর্শকদের ভালোবাসা। তাদের উচ্ছ্বাস, বার্তা আর শুভেচ্ছা আমাকে গভীরভাবে ছুঁয়ে গেছে। এই পুরস্কার আমি একা পাইনি, এটা তাদের সবার সম্মিলিত অর্জন।

এই স্বীকৃতির পেছনে দর্শকদের ভূমিকা কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

দর্শকদের ছাড়া এই জায়গায় পৌঁছানো কল্পনাই করা যায় না। একজন শিল্পীর প্রতি দর্শকের বিশ্বাসই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি। বছরের পর বছর ধরে তারা আমার কাজ গ্রহণ করেছেন, ভালোবাসা দিয়েছেন, সমালোচনাও করেছেন। আমাকে পরিণত হতে সাহায্য করেছেন। তাদের সেই আস্থা আর সমর্থন না থাকলে হয়তো এই সম্মানও আসত না। তাই আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি, এই পুরস্কার আসলে দর্শকদেরই প্রাপ্য। আমি শুধু তাঁর বাহক মাত্র।

একজন শিল্পী হিসেবে এই সম্মাননা আপনার পরবর্তী কাজের ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে?

কখনোই পুরস্কার বা স্বীকৃতির কথা মাথায় রেখে কাজ করি না। আমার কাছে চরিত্রটা, গল্পটা আর কাজের সততাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে এটাও সত্যি যে, কোনো স্বীকৃতি যখন আসে, তখন তা ভেতর থেকে নতুন করে শক্তি জোগায়। এটা একটা দায়িত্ববোধ তৈরি করে। নিজেকে আরও ভেঙে, আরও গভীরভাবে কাজের তাগিদ দেয়। বলা যায়, স্বীকৃতি একটা রসদের মতো, যা সামনে আরও সচেতন ও দায়বদ্ধ শিল্পী হিসেবে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আমার কাছে চরিত্র, গল্প আর কাজের প্রতি সততাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ: আফরান নিশো

আপডেট সময় ০২:৪০:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ বিনোদন ডেস্ক : 

গত বৃহস্পতিবার রাতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঘোষণা করা হয়েছে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০২৩। এবারের আসরে সেরা অভিনেতা নির্বাচিত হয়েছেন আফরান নিশো। সুড়ঙ্গ সিনেমায় অভিনয় করে এই সম্মাননা পাচ্ছেন তিনি।

সেরা অভিনেতা হিসেবে প্রথমবারের মতো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়ার খবরে এই মুহূর্তে আপনার অনুভূতি কেমন?

এই অনুভূতিটাকে এককথায় প্রকাশ করা সত্যিই কঠিন। বলা যায়, অনুভূতির এক অদ্ভুত মিশ্রণ কাজ করছে ভেতরে। একদিকে এখনও মনে হচ্ছে যেন স্বপ্নের ভেতর আছি। আবার অন্যদিকে, এক ধরনের গভীর আনন্দ ও তৃপ্তি আমাকে ঘিরে ধরেছে। এত বছর ধরে কাজের পর এমন ঘোষণা। সব মিলিয়ে এখনও নিজেকে একটা ঘোরের মধ্যেই মনে হচ্ছে। হয়তো কয়েকটা দিন সময় লাগবে, তখন এই অনুভূতিটাকে আরও পরিষ্কারভাবে বুঝতে ও ভাষায় প্রকাশ করতে পারব।

আপনার এই অর্জনের খবরে কারা সবচেয়ে বেশি আবেগপ্রবণ হয়েছেন?

সত্যি বলতে কী, আমার মনে হয়েছে। এই আনন্দটা আমার চেয়েও বেশি অনুভব করছেন আমার আশপাশের মানুষগুলো। আমার পরিবার, যারা নীরবে আমার সংগ্রামটা দেখেছেন; বন্ধুবান্ধব, যারা সব সময় পাশে ছিলেন; মিডিয়ার সহকর্মীরা, যাদের সঙ্গে কাজ করতে করতেই এই পথচলা। সবাই ভীষণ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন। তবে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টা আমাকে নাড়া দিয়েছে, সেটা হলো দর্শকদের ভালোবাসা। তাদের উচ্ছ্বাস, বার্তা আর শুভেচ্ছা আমাকে গভীরভাবে ছুঁয়ে গেছে। এই পুরস্কার আমি একা পাইনি, এটা তাদের সবার সম্মিলিত অর্জন।

এই স্বীকৃতির পেছনে দর্শকদের ভূমিকা কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

দর্শকদের ছাড়া এই জায়গায় পৌঁছানো কল্পনাই করা যায় না। একজন শিল্পীর প্রতি দর্শকের বিশ্বাসই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি। বছরের পর বছর ধরে তারা আমার কাজ গ্রহণ করেছেন, ভালোবাসা দিয়েছেন, সমালোচনাও করেছেন। আমাকে পরিণত হতে সাহায্য করেছেন। তাদের সেই আস্থা আর সমর্থন না থাকলে হয়তো এই সম্মানও আসত না। তাই আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি, এই পুরস্কার আসলে দর্শকদেরই প্রাপ্য। আমি শুধু তাঁর বাহক মাত্র।

একজন শিল্পী হিসেবে এই সম্মাননা আপনার পরবর্তী কাজের ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে?

কখনোই পুরস্কার বা স্বীকৃতির কথা মাথায় রেখে কাজ করি না। আমার কাছে চরিত্রটা, গল্পটা আর কাজের সততাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে এটাও সত্যি যে, কোনো স্বীকৃতি যখন আসে, তখন তা ভেতর থেকে নতুন করে শক্তি জোগায়। এটা একটা দায়িত্ববোধ তৈরি করে। নিজেকে আরও ভেঙে, আরও গভীরভাবে কাজের তাগিদ দেয়। বলা যায়, স্বীকৃতি একটা রসদের মতো, যা সামনে আরও সচেতন ও দায়বদ্ধ শিল্পী হিসেবে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে।