ঢাকা ০৪:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সংস্কারের মূল তারেক রহমান, ৩ বছর আগেই তিনি সংস্কারের কথা বলেছেন’:এম এ কাইয়ুম

আকাশ জাতীয় ডেস্ক : 

সংস্কারের প্রশ্নে বিএনপির অবস্থান নতুন নয় বরং তিন বছর আগেই তারেক রহমান রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা তুলে ধরেছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-১১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. এম এ কাইয়ুম। তিনি বলেন, সংস্কারের মূল ভিত্তি তারেক রহমানের ৩১ দফা, যেখানে ক্ষমতার ভারসাম্য ও গণতান্ত্রিক কাঠামো পুনর্গঠনের স্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে।

তিনি বলেন, দুইবারের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না এবং প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠাই হচ্ছে এই সংস্কারের মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, কেউ কেউ এখন সংস্কারের কথা বলছে সাম্প্রতিক সময়ের প্রেক্ষাপটে, কিন্তু তারেক রহমান তিন বছর আগেই এই সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছেন এবং বিএনপি শুরু থেকেই এর পক্ষে রয়েছে।

পথসভায় তিনি ঢাকা-১১ আসনের অবকাঠামোগত সমস্যা তুলে ধরে বলেন, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অযোগ্য সড়ক ছিল। সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলে তিনি অন্তত একটি পাশ চলাচলের উপযোগী করেছেন। ভেতরের সড়কগুলোর কাজও টেন্ডারের মাধ্যমে শুরু হয়েছে এবং বর্তমানে সেগুলো চলমান রয়েছে। এসব কাজ মনিটরিং করা হচ্ছে যাতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমে।

তিনি আরও বলেন, এই এলাকার সবচেয়ে বড় সংকট গ্যাস সমস্যা। ১৯৯১ সালে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হলেও বর্তমানে পুরো এলাকায় গ্যাস নেই বললেই চলে, ফলে মানুষ চরম কষ্টে রয়েছে।

নিরাপত্তা প্রসঙ্গে ড. এম এ কাইয়ুম বলেন, সন্ত্রাস, মাদক ও ক্যাডারমুক্ত ঢাকা-১১ গড়তে যুবক ও বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে নিয়ে সোসাইটি গঠন করা হবে। প্রতিটি এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় এনে মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাস ও ইভটিজিং চিহ্নিত করে প্রতিরোধ করা হবে।

বিএনপি ক্ষমতায় এলে সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণমূলক কার্যক্রম জোরদার করা হবে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, মহিলাদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, স্বাস্থ্যের জন্য হেলথ কার্ড, কৃষক কার্ড চালু করা হবে। পাশাপাশি বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা অব্যাহত থাকবে এবং ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা বিনামূল্যে করা হবে। খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা কার্যক্রমসহ এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি বৈষম্যহীন কল্যাণ রাষ্ট্র গড়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নিজের রাজনৈতিক পরিচয় তুলে ধরে ড. এম এ কাইয়ুম বলেন, তিনি দীর্ঘদিন এই এলাকায় কমিশনার হিসেবে কাজ করেছেন। এলাকার মানুষ তাকে আপনজন হিসেবে চেনে। স্বৈরাচারবিরোধী প্রতিটি আন্দোলনে শত মামলা মাথায় নিয়েও আপস করেননি বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ কারণেই মানুষ তার কথার ওপর আস্থা রাখে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, ঢাকা-১১ আসনের মানুষদের ভালোবাসা ও বিশ্বাস নিয়ে ইনশাল্লাহ ধানের শীষের বিজয় শতভাগ নিশ্চিত।

উল্লেখ্য, ঢাকা-১১ আসন রাজধানীর রামপুরা, বাড্ডা ও ভাটারা এলাকা নিয়ে গঠিত।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংস্কারের মূল তারেক রহমান, ৩ বছর আগেই তিনি সংস্কারের কথা বলেছেন’:এম এ কাইয়ুম

আপডেট সময় ০১:০০:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক : 

সংস্কারের প্রশ্নে বিএনপির অবস্থান নতুন নয় বরং তিন বছর আগেই তারেক রহমান রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা তুলে ধরেছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-১১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. এম এ কাইয়ুম। তিনি বলেন, সংস্কারের মূল ভিত্তি তারেক রহমানের ৩১ দফা, যেখানে ক্ষমতার ভারসাম্য ও গণতান্ত্রিক কাঠামো পুনর্গঠনের স্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে।

তিনি বলেন, দুইবারের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না এবং প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠাই হচ্ছে এই সংস্কারের মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, কেউ কেউ এখন সংস্কারের কথা বলছে সাম্প্রতিক সময়ের প্রেক্ষাপটে, কিন্তু তারেক রহমান তিন বছর আগেই এই সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছেন এবং বিএনপি শুরু থেকেই এর পক্ষে রয়েছে।

পথসভায় তিনি ঢাকা-১১ আসনের অবকাঠামোগত সমস্যা তুলে ধরে বলেন, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অযোগ্য সড়ক ছিল। সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলে তিনি অন্তত একটি পাশ চলাচলের উপযোগী করেছেন। ভেতরের সড়কগুলোর কাজও টেন্ডারের মাধ্যমে শুরু হয়েছে এবং বর্তমানে সেগুলো চলমান রয়েছে। এসব কাজ মনিটরিং করা হচ্ছে যাতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমে।

তিনি আরও বলেন, এই এলাকার সবচেয়ে বড় সংকট গ্যাস সমস্যা। ১৯৯১ সালে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হলেও বর্তমানে পুরো এলাকায় গ্যাস নেই বললেই চলে, ফলে মানুষ চরম কষ্টে রয়েছে।

নিরাপত্তা প্রসঙ্গে ড. এম এ কাইয়ুম বলেন, সন্ত্রাস, মাদক ও ক্যাডারমুক্ত ঢাকা-১১ গড়তে যুবক ও বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে নিয়ে সোসাইটি গঠন করা হবে। প্রতিটি এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় এনে মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাস ও ইভটিজিং চিহ্নিত করে প্রতিরোধ করা হবে।

বিএনপি ক্ষমতায় এলে সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণমূলক কার্যক্রম জোরদার করা হবে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, মহিলাদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, স্বাস্থ্যের জন্য হেলথ কার্ড, কৃষক কার্ড চালু করা হবে। পাশাপাশি বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা অব্যাহত থাকবে এবং ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা বিনামূল্যে করা হবে। খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা কার্যক্রমসহ এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি বৈষম্যহীন কল্যাণ রাষ্ট্র গড়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নিজের রাজনৈতিক পরিচয় তুলে ধরে ড. এম এ কাইয়ুম বলেন, তিনি দীর্ঘদিন এই এলাকায় কমিশনার হিসেবে কাজ করেছেন। এলাকার মানুষ তাকে আপনজন হিসেবে চেনে। স্বৈরাচারবিরোধী প্রতিটি আন্দোলনে শত মামলা মাথায় নিয়েও আপস করেননি বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ কারণেই মানুষ তার কথার ওপর আস্থা রাখে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, ঢাকা-১১ আসনের মানুষদের ভালোবাসা ও বিশ্বাস নিয়ে ইনশাল্লাহ ধানের শীষের বিজয় শতভাগ নিশ্চিত।

উল্লেখ্য, ঢাকা-১১ আসন রাজধানীর রামপুরা, বাড্ডা ও ভাটারা এলাকা নিয়ে গঠিত।