ঢাকা ০২:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

ফেনীতে শিশু নাশিত হত্যা মামলায় তিনজনের ফাঁসি

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

ফেনীতে স্কুলছাত্র আহনাফ আল মাঈন নাশিত (১০) অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় তিন যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ এ এন এম মোর্শেদ খান আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— আশরাফ হোসেন তুষার (২০), মোবারক হোসেন ওয়াসিম (২০) ও ওমর ফারুক রিপাত (২০)। রায় ঘোষণার আগে বেলা ১১টার দিকে তাদের কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় এজলাসে নেওয়ার পথে আসামিদের আচরণ ছিল ঔদ্ধত্যপূর্ণ।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর ফেনী শহরের একাডেমি এলাকার আতিকুল আলম সড়কে কোচিং শেষ করে স্থানীয় একটি মসজিদে নামাজ আদায় করতে যায় নাশিত। নামাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে পূর্বপরিচিত তুষার ও তার সহযোগীরা কৌশলে তাকে অপহরণ করে শহরতলির দেওয়ানগঞ্জ এলাকায় নিয়ে যায়।

সেখানে জুসের সঙ্গে ওষুধ মিশিয়ে শিশুটিকে অচেতন করা হয়। পরে নাশিতের ছবি তুলে তার বাবার হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়, মুক্তিপণ আদায়ের আগেই অপহরণকারীরা নাশিতকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। হত্যার পর মরদেহ রেললাইনের পাশের একটি ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়। মরদেহ পানিতে ভেসে না ওঠার জন্য স্কুলব্যাগে পাথর ভরে চাপা দেওয়া হয়।

নাশিত নিখোঁজ হওয়ার পরদিন ৯ ডিসেম্বর তার বাবা মাঈন উদ্দিন সোহাগ ফেনী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে একটি নম্বর থেকে একাধিকবার ফোন করে মুক্তিপণ দাবি করা হলে পুলিশ তদন্ত জোরদার করে। সন্দেহভাজন হিসেবে তুষারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তার দেওয়া তথ্যে দেওয়ানগঞ্জ এলাকার একটি ডোবা থেকে নাশিতের স্কুলব্যাগসহ মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

সব অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। রায় ঘোষণার পর সাজা পরোয়ানা জারি করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে নিহত নাশিতের পরিবার। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এই রায় শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

ফেনীতে শিশু নাশিত হত্যা মামলায় তিনজনের ফাঁসি

আপডেট সময় ০৪:১০:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

ফেনীতে স্কুলছাত্র আহনাফ আল মাঈন নাশিত (১০) অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় তিন যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ এ এন এম মোর্শেদ খান আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— আশরাফ হোসেন তুষার (২০), মোবারক হোসেন ওয়াসিম (২০) ও ওমর ফারুক রিপাত (২০)। রায় ঘোষণার আগে বেলা ১১টার দিকে তাদের কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় এজলাসে নেওয়ার পথে আসামিদের আচরণ ছিল ঔদ্ধত্যপূর্ণ।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর ফেনী শহরের একাডেমি এলাকার আতিকুল আলম সড়কে কোচিং শেষ করে স্থানীয় একটি মসজিদে নামাজ আদায় করতে যায় নাশিত। নামাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে পূর্বপরিচিত তুষার ও তার সহযোগীরা কৌশলে তাকে অপহরণ করে শহরতলির দেওয়ানগঞ্জ এলাকায় নিয়ে যায়।

সেখানে জুসের সঙ্গে ওষুধ মিশিয়ে শিশুটিকে অচেতন করা হয়। পরে নাশিতের ছবি তুলে তার বাবার হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়, মুক্তিপণ আদায়ের আগেই অপহরণকারীরা নাশিতকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। হত্যার পর মরদেহ রেললাইনের পাশের একটি ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়। মরদেহ পানিতে ভেসে না ওঠার জন্য স্কুলব্যাগে পাথর ভরে চাপা দেওয়া হয়।

নাশিত নিখোঁজ হওয়ার পরদিন ৯ ডিসেম্বর তার বাবা মাঈন উদ্দিন সোহাগ ফেনী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে একটি নম্বর থেকে একাধিকবার ফোন করে মুক্তিপণ দাবি করা হলে পুলিশ তদন্ত জোরদার করে। সন্দেহভাজন হিসেবে তুষারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তার দেওয়া তথ্যে দেওয়ানগঞ্জ এলাকার একটি ডোবা থেকে নাশিতের স্কুলব্যাগসহ মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

সব অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। রায় ঘোষণার পর সাজা পরোয়ানা জারি করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে নিহত নাশিতের পরিবার। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এই রায় শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।