ঢাকা ১২:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হামলা ও সংঘাতের ঘটনা বিশ্ব সভ্যতার জন্য ভয়াবহ বার্তা দিচ্ছে: মির্জা ফখরুল জুলাই সনদের বিরুদ্ধে রায় এলে সংসদ বাতিল হয়ে যাবে: আসিফ সরকারকে বলব, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করুন: নাহিদ ইসলাম শ্রমিক হত্যা মামলায় আইভীর গ্রেপ্তার আবেদন মঞ্জুর মধ্যপ্রাচ্য সংকটে প্রবাসীদের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার: পররাষ্ট্রমন্ত্রী আগামী ছয় মাসে কী করবো জানতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী : শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে এবার বাহরাইনে বাংলাদেশি নিহত সৌদিতে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য জরু‌রি বিজ্ঞ‌প্তি দূতাবাসের মোহাম্মদপুরে সার্ভিসিং সেন্টারে প্রাইভেটকারে আগুন, দগ্ধ ৮ স্বাস্থ্যখাতে চীনের সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান মন্ত্রীর

মূল্যস্ফীতি কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নিচ্ছে না সরকার

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

এতো দিন বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরকার ঋণ নিলে টাকা ছাপিয়ে তা দেওয়া হতো। কিন্তু তাতে মূল্যস্ফীতি বা পণ্যের দাম বেড়ে যায়। পতিত সরকারের আমলে গত কয়েক বছর বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা ঋণ নেওয়ার ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়ে হু হু করে। এতে মানুষে জীবন যাত্রার ব্যয় বেড়ে যায়। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকার বিগত সময়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া বন্ধ করে দেয়। বরং বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করছে সরকার।

যদিও এ সময়ে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে বাড়তি ঋণ নিতে হচ্ছে সরকারকে। জুলাই থেকে অক্টোবর—চার মাসে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে সরকারের ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৪০১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের হাল নাগাদ প্রতিবেদনে এমন চিত্র উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চার মাসে সরকার বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছে ৫৬ হাজার ২৩৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। একই সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করেছে ৩৯ হাজার ৮৩২ কোটি ১৮ লাখ টাকা। পাঁচ মাসে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের নিট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৪০১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। যা আগের বছরের এই সময়ে সরকারের ঋণের পরিমাণ ছিল ১০৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।

অন্যদিকে ঋণের সুদ হার বাড়িয়ে চাহিদা কমানোর উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে ভোক্তা ঋণের পাশাপাশি বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদাও কমে যায়।

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ঋণ না নিয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে সরকারের ঋণ নেওয়া মূল্যস্ফীতি কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ বলে মনে করেন একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সদ্য নিযুক্ত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরকারকে ঋণ দিলে বাজারে সার্কুলেশন বেড়ে যাবে। ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়বে। কিন্তু সরকারের এখন প্রধান কাজ হলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনা। সেজন্য তারা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ঋণ না নিয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণ নিচ্ছে। এটা দোষের নয়।

তিনি বলেন, এখন যেটা হচ্ছে, লেনদেনের মাধ্যমে একজনের পকেট থেকে আরেকজনের পকেটে টাকা যাচ্ছে। এতে মূল্যস্ফীতি কমে আসবে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আসা নতুন সরকারের এখন লক্ষ্য হলো মানুষের জীবন সহজ করা। টাকা না ছাপিয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার ফলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সহজ হচ্ছে।

বাজেটের ঘাটতি মেটাতে সরকার ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নিয়ে থাকে। প্রতি বছর এ ঋণ নেওয়া হয়, আবার পরিশোধও করা হয়ে থাকে। এ যাবত ব্যাংক থেকে সরকারের নিট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৯০ হাজার ৮৯১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ১৬ হাজার ২১৫ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। আর বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ঋণের পরিমাণ ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৬৭৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বেডরুমে ঢুকে গুলি করে হত্যার হুমকি, যুবদলের ২ নেতা বহিষ্কার

মূল্যস্ফীতি কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নিচ্ছে না সরকার

আপডেট সময় ০১:১৭:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ নভেম্বর ২০২৪

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

এতো দিন বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরকার ঋণ নিলে টাকা ছাপিয়ে তা দেওয়া হতো। কিন্তু তাতে মূল্যস্ফীতি বা পণ্যের দাম বেড়ে যায়। পতিত সরকারের আমলে গত কয়েক বছর বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা ঋণ নেওয়ার ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়ে হু হু করে। এতে মানুষে জীবন যাত্রার ব্যয় বেড়ে যায়। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকার বিগত সময়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া বন্ধ করে দেয়। বরং বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করছে সরকার।

যদিও এ সময়ে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে বাড়তি ঋণ নিতে হচ্ছে সরকারকে। জুলাই থেকে অক্টোবর—চার মাসে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে সরকারের ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৪০১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের হাল নাগাদ প্রতিবেদনে এমন চিত্র উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চার মাসে সরকার বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছে ৫৬ হাজার ২৩৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। একই সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করেছে ৩৯ হাজার ৮৩২ কোটি ১৮ লাখ টাকা। পাঁচ মাসে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের নিট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৪০১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। যা আগের বছরের এই সময়ে সরকারের ঋণের পরিমাণ ছিল ১০৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।

অন্যদিকে ঋণের সুদ হার বাড়িয়ে চাহিদা কমানোর উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে ভোক্তা ঋণের পাশাপাশি বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদাও কমে যায়।

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ঋণ না নিয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে সরকারের ঋণ নেওয়া মূল্যস্ফীতি কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ বলে মনে করেন একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সদ্য নিযুক্ত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরকারকে ঋণ দিলে বাজারে সার্কুলেশন বেড়ে যাবে। ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়বে। কিন্তু সরকারের এখন প্রধান কাজ হলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনা। সেজন্য তারা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ঋণ না নিয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণ নিচ্ছে। এটা দোষের নয়।

তিনি বলেন, এখন যেটা হচ্ছে, লেনদেনের মাধ্যমে একজনের পকেট থেকে আরেকজনের পকেটে টাকা যাচ্ছে। এতে মূল্যস্ফীতি কমে আসবে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আসা নতুন সরকারের এখন লক্ষ্য হলো মানুষের জীবন সহজ করা। টাকা না ছাপিয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার ফলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সহজ হচ্ছে।

বাজেটের ঘাটতি মেটাতে সরকার ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নিয়ে থাকে। প্রতি বছর এ ঋণ নেওয়া হয়, আবার পরিশোধও করা হয়ে থাকে। এ যাবত ব্যাংক থেকে সরকারের নিট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৯০ হাজার ৮৯১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ১৬ হাজার ২১৫ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। আর বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ঋণের পরিমাণ ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৬৭৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।