ঢাকা ০২:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী খুন,পুলিশের সন্দেহের তালিকায় পলাতক রেস্তোরাঁ কর্মী স্বৈরাচারের লোকেরা নির্বাচন ভণ্ডুলের চেষ্টা করবে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস গাজীপুরে নবজাতকের লাশ নিয়ে কুকুরের টানাহ্যাঁচড়া, উদ্ধার করল পুলিশ ধর্মকে পুঁজি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে : খায়রুল কবির খোকন দলে বড় নাম থাকলেও জেতার জন্য সবাইকে আরও দায়িত্ব নিতে হবে: সোহান ২৫ জন বাংলাদেশিকে ক্ষমা করল আমিরাত দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায়

বাবার পর বজ্রপাতে মারা গেলেন মা, ৪ এতিম শিশুর দায়িত্ব নেবে কে

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

বাবা রফিকুল ইসলাম শ্বাসকষ্টে মারা গেছেন ৯ মাস আগে। বাবার হারানোর বেদনা ও শোক কাটতে না কাটতেই বজ্রপাতে মারা গেলেন মা। বাবা-মাকে হারিয়ে এখন দিশেহারা ৪ শিশু। এই ৪ এতিম শিশুর দায়িত্ব নেবে কে?

গত ৫ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টার দিকে বজ্রপাতে মারা যান স্নেহময়ী মা নূরুন্নাহার বেগম। জেলার হোসেনপুর উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের চর হাজীপুর স্বামী হারানোর শোকের বোঝা মাথায় নিয়ে শেষ পর্যন্ত স্ত্রী নুরুন্নাহারের (৪০) এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা শোকের ছায়া নেমে আসে গোটা এলাকাজুড়ে।

বজ্রপাতে শেষ আশ্রয়স্থল মায়ের স্নেহের আঁচল সরে যাওয়ায় শোকে-দুঃখে দিশেহারা হয়ে ওঠে ৭ বছরের শিশুপুত্র শোয়েব, ৯ বছরের শিশুকন্যা ফাতেমা, ১১ বছরের বৃষ্টি এবং ১৩ বছরের শিশুকন্যা সামিরা। এমন ঘোর দুর্দিনের শিকার এবং স্নেহ-ভালোবাসা হীন হয়ে তারা সারাদিন মায়ের কবরের পাশে ঠায় দাঁড়িয়ে থেকে স্নেহের আঁচলের ছায়া খোঁজে।

সাবিনা নামে তাদের এক বড় বোন থাকলেও দূর গ্রামে অসচ্ছল পরিবারে বিয়ে হয় তার। সেই অসচ্ছল পরিবারের গৃহবধূ বড় বোন সাবিনা এখন স্নেহের ছোট ৪ ভাই বোনকে নিয়ে দুঃখের সাগরে ভাসছেন। ছোট ৪ ভাইবোনকে নিয়ে ভবিষ্যৎ চিন্তায় দিশেহারা বড় বোন সাবিনা আক্তার।

স্থানীয় প্রশাসন, দাতা সংস্থা কিংবা হৃদয়বান কোনো ব্যক্তি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে না দিলে ওই এতিম চার শিশুও হয়তো অযত্ন অবহেলায় একে একে অকালে ঝরে পড়বে। এমন পরিস্থিতি সামলে নিতে সাবিনা আক্তার সবার কাছে মানবিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।

হোসেনপুর উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম মুহিত বলেন, বাবার পর বজ্রপাতে মা মারা যাওয়া ওই চার শিশু অসহায় হয়ে পড়েছে। তারা তার দরিদ্র বড় বোনের বাড়িতে রয়েছে। তাদের বড় বোনও খুব অসহায়। ছোট ৪ ভাই ও বোনের দায়িত্ব নেওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়। আমি তাদের সামান্য সহযোগিতা করে যাচ্ছি। কোনো দাতা সংস্থা কিংবা হৃদয়বান ব্যক্তি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে না দিলে ওই এতিম ৪ শিশুর ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যাবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট

বাবার পর বজ্রপাতে মারা গেলেন মা, ৪ এতিম শিশুর দায়িত্ব নেবে কে

আপডেট সময় ০৯:৪৩:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২২

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

বাবা রফিকুল ইসলাম শ্বাসকষ্টে মারা গেছেন ৯ মাস আগে। বাবার হারানোর বেদনা ও শোক কাটতে না কাটতেই বজ্রপাতে মারা গেলেন মা। বাবা-মাকে হারিয়ে এখন দিশেহারা ৪ শিশু। এই ৪ এতিম শিশুর দায়িত্ব নেবে কে?

গত ৫ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টার দিকে বজ্রপাতে মারা যান স্নেহময়ী মা নূরুন্নাহার বেগম। জেলার হোসেনপুর উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের চর হাজীপুর স্বামী হারানোর শোকের বোঝা মাথায় নিয়ে শেষ পর্যন্ত স্ত্রী নুরুন্নাহারের (৪০) এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা শোকের ছায়া নেমে আসে গোটা এলাকাজুড়ে।

বজ্রপাতে শেষ আশ্রয়স্থল মায়ের স্নেহের আঁচল সরে যাওয়ায় শোকে-দুঃখে দিশেহারা হয়ে ওঠে ৭ বছরের শিশুপুত্র শোয়েব, ৯ বছরের শিশুকন্যা ফাতেমা, ১১ বছরের বৃষ্টি এবং ১৩ বছরের শিশুকন্যা সামিরা। এমন ঘোর দুর্দিনের শিকার এবং স্নেহ-ভালোবাসা হীন হয়ে তারা সারাদিন মায়ের কবরের পাশে ঠায় দাঁড়িয়ে থেকে স্নেহের আঁচলের ছায়া খোঁজে।

সাবিনা নামে তাদের এক বড় বোন থাকলেও দূর গ্রামে অসচ্ছল পরিবারে বিয়ে হয় তার। সেই অসচ্ছল পরিবারের গৃহবধূ বড় বোন সাবিনা এখন স্নেহের ছোট ৪ ভাই বোনকে নিয়ে দুঃখের সাগরে ভাসছেন। ছোট ৪ ভাইবোনকে নিয়ে ভবিষ্যৎ চিন্তায় দিশেহারা বড় বোন সাবিনা আক্তার।

স্থানীয় প্রশাসন, দাতা সংস্থা কিংবা হৃদয়বান কোনো ব্যক্তি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে না দিলে ওই এতিম চার শিশুও হয়তো অযত্ন অবহেলায় একে একে অকালে ঝরে পড়বে। এমন পরিস্থিতি সামলে নিতে সাবিনা আক্তার সবার কাছে মানবিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।

হোসেনপুর উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম মুহিত বলেন, বাবার পর বজ্রপাতে মা মারা যাওয়া ওই চার শিশু অসহায় হয়ে পড়েছে। তারা তার দরিদ্র বড় বোনের বাড়িতে রয়েছে। তাদের বড় বোনও খুব অসহায়। ছোট ৪ ভাই ও বোনের দায়িত্ব নেওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়। আমি তাদের সামান্য সহযোগিতা করে যাচ্ছি। কোনো দাতা সংস্থা কিংবা হৃদয়বান ব্যক্তি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে না দিলে ওই এতিম ৪ শিশুর ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যাবে।