অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
গত ১৫ মার্চ সীতাকুণ্ডে জঙ্গিবিরোধী অভিযান ‘অপারেশন অ্যাসল্ট ১৬’ পরিচালনাকারী এক সদস্য স্প্লিন্টারবিদ্ধ হয়েছিলেন। আহতদের মধ্যে কনস্টেবল শাওরিনের অবস্থা এখনও গুরুতর। সম্প্রতি পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যদের ঝুঁকি ভাতাবিষয়ক একটি প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সেখানে একশ’ ভাগ ঝুঁকিভাতার প্রস্তাব করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
তাহলে শাওরিনের ভবিষ্যৎ কী? এমন প্রশ্নে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘শুধু শাওরিন নয়। বোম্ব ডিসপোজাল টিমসহ পুলিশের আরো অনেক সদস্য এখনো স্বাভাবিক জীবন-যাপন করতে পারছেন না। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে, যারা রাষ্ট্রের জন্য এত ঝুঁকি নিচ্ছেন, তাদের জন্য কোনও ঝুঁকিভাতা নেই।’
কনস্টেবল শাওরিন বর্তমানে রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। জঙ্গিদের আত্মঘাতী বোমার আঘাতে তার হাতের আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়েছে, পায়ে ফ্র্যাকচার ও মুখের এক পাশের চোয়াল উড়ে গেছে। অভিযানের সাড়ে ছয় মাস পরও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি তিনি।
একশ’ ভাগ ঝুঁকিভাতার খবরে হতাশ হওয়ার কারণ সম্পর্কে সোয়াতের (স্পেশাল উইপনস অ্যান্ড ট্যাকটিকস) একজন কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ ও বিএসটিআই’র মতো প্রতিষ্ঠানের সদস্যদের দু’শ’ ভাগ ঝুঁকিভাতা দেওয়া হয়। অথচ ঝুঁকির কাজে নিয়োজিত পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তাদের কেন একই পরিমাণ ঝুঁকিভাতা দেওয়া হবে না?’
ঢাকা মহানগর পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ ও সিটিটিসির কর্মকর্তারা জানান, হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলা প্রতিরোধ থেকে শুরু করে বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তা ও সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। অনেকে এখনও আহত অবস্থায় জীবন-যাপন করছেন। সর্বোচ্চ এক হাজার আটশ’ টাকার মতো ঝুঁকিভাতা দেওয়া হলেও পরিদর্শক থেকে ওপরের পদমর্যাদার কোনও পুলিশ কর্মকর্তাকে এক টাকাও ঝুঁকিভাতা দেওয়া হয় না।
ঢাকা মহারগর পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো প্রস্তাবনায় একশ’ ভাগ ঝুঁকিভাতা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। সেটি এখন অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাস হওয়ার অপেক্ষায় আছে। বোম্ব ডিসপোজাল টিমের একজন কর্মকর্তা জানান, এ টিমের সদস্যরা যেভাবে ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করেন সেরকম ঝুঁকির মাত্রা পৃথিবীর অন্য কোনও কাজে নেই।
ঢাকা মহানগর পুলিশের জনসংযোগ শাখার উপ-কমিশনার মো. মাসুদুর রহমান বলেন, ‘বর্তমানে কনস্টেবল থেকে উপ-পরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ এক হাজার ৮০০ টাকার মতো ঝুঁকিভাতা দেওয়া হয়। পরিদর্শক থেকে তার ওপরের পদমর্যাদার কোনো কর্মকর্তা ঝুঁকিভাতা পান না।’
একই আক্ষেপ অস্ত্র উদ্ধার টিমের কর্মকর্তাদেরও। এই টিমের একজন কর্মকর্তা বলেন, কিছুদিন আগেও অস্ত্র উদ্ধার করতে গিয়ে সহকারী কমিশনার রাহুল সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত হয়েছেন। অথচ তার নামে কোনো ঝুঁকিভাতা নেই।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















