ঢাকা ০৭:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

ত্রাণ নিয়ে রোহিঙ্গাদের পাশে বৃহৎ শক্তিগুলো

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তথ্য মতে, গত ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মিয়ানমার থেকে পাঁচ লাখ এক হাজার ৮০০ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে। অনাহারে অর্ধাহারে থাকা এসব রোহিঙ্গা এখন বেঁচে আছে ত্রাণের ওপর। সরকারি-বেসরকারি ত্রাণের পাশাপাশি বিদেশ থেকে আসছে বিপুল পরিমাণ ত্রাণ।

দুই-একটি দেশ ছাড়া পৃথিবীর বেশির ভাগ দেশ সবহারানো রোহিঙ্গাদের জন্য ত্রাণের হাত প্রসারিত করেছে। বৃহৎ শক্তিগুলোর মধ্যে চীন ও রাশিয়া মিয়ানমারের পক্ষ নিয়েছে। তবে চীন মিয়ানমারের পক্ষ নিলেও ইতিমধ্যে রোহিঙ্গাদের জন্য ত্রাণ পাঠিয়েছে। চীন গত ২৭ সেপ্টেম্বর ৫৭ টন ত্রাণ পাঠায় দেশটি। প্রতিবেশী দেশ ভারত মিয়ানমারের পক্ষ নিলেও ত্রাণ পাঠিয়েছে। ভারতের হাইকমিশন বলেছে, সাতশ টন ত্রাণ পাঠাবে দেশটি। শুরু থেকেই রোহিঙ্গা ইস্যুতে তৎপর পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ আফ্রিকা, আজারবাইজানসহ ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

ত্রাণ কার্যক্রমে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে জাতিসংঘ। রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধে বিবৃতি, বক্তব্য দেয়াসহ বড় ধরনের ত্রাণ তহবিল যোগাড়ের জন্য কাজ শুরু করেছে বিশ্বের প্রধান এ সংগঠনটি। ইতিমধ্যে সাত কোটি ৭০ লাখ ডলার তহবিল সংগ্রহের ঘোষণা দিয়েছে জাতিসংঘ। গত ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সংস্থা ইউনিসেফ শিশুদের জন্য ১০০ টন ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে কোপেনহেগেন থেকে একটি কার্গো বিমান ঢাকায় পৌঁছেছে। আগামী তিন মাসের জন্য ৭৩ লাখ ডলারের তহবিলের আহ্বান জানিয়েছে ইউনিসেফ।

এদিকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা নাগরিককে খাদ্য সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)। মুসলিম দেশগুলোর শুরু থেকেই রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। তুরস্ক, ইরান, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, আরব আমিরাত ত্রাণ পাঠিয়ে রোহিঙ্গাদের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সহিংসতার কারণে ১৯৭৮ সাল থেকে চলতি বছরের ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ১০ লাখ নয় হাজার রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করেছে। এর মধ্যে গত এক মাসেই এসেছে চার লাখ ২৪ হাজার। ২০১৬ সালের বিভিন্ন সময়ে প্রায় ৮৭ হাজার এবং ২০১২ ও ২০১৩ সালে তিন থেকে পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে। সে হিসাবে চার বছরেই দেশে অনুপ্রবেশ করেছে ১০ লাখের বেশি মিয়ানমার নাগরিক।

১৯৯১-৯২ সালে দুই লাখ ৫০ হাজার ৮৭৭ জন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করলেও তাদের মধ্যে দুই লাখ ৩৬ হাজার ৫৯৯ জনকে ফেরত পাঠানো হয়। মিয়ানমার সরকারের অনীহার কারণে ২০০৫ সালের ২৮ জুলাইয়ের পর আর কোনো শরণার্থী প্রত্যাবাসন করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে ৩৩ হাজার ৫৪২ জন নিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরণার্থী কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালং ও টেকনাফের নয়াপাড়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাস করছে। তবে এ সংখ্যা বেড়ে বর্তমানে ৩৮ হাজার ৪৫৫ জনে দাঁড়িয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২

ত্রাণ নিয়ে রোহিঙ্গাদের পাশে বৃহৎ শক্তিগুলো

আপডেট সময় ০১:০১:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তথ্য মতে, গত ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মিয়ানমার থেকে পাঁচ লাখ এক হাজার ৮০০ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে। অনাহারে অর্ধাহারে থাকা এসব রোহিঙ্গা এখন বেঁচে আছে ত্রাণের ওপর। সরকারি-বেসরকারি ত্রাণের পাশাপাশি বিদেশ থেকে আসছে বিপুল পরিমাণ ত্রাণ।

দুই-একটি দেশ ছাড়া পৃথিবীর বেশির ভাগ দেশ সবহারানো রোহিঙ্গাদের জন্য ত্রাণের হাত প্রসারিত করেছে। বৃহৎ শক্তিগুলোর মধ্যে চীন ও রাশিয়া মিয়ানমারের পক্ষ নিয়েছে। তবে চীন মিয়ানমারের পক্ষ নিলেও ইতিমধ্যে রোহিঙ্গাদের জন্য ত্রাণ পাঠিয়েছে। চীন গত ২৭ সেপ্টেম্বর ৫৭ টন ত্রাণ পাঠায় দেশটি। প্রতিবেশী দেশ ভারত মিয়ানমারের পক্ষ নিলেও ত্রাণ পাঠিয়েছে। ভারতের হাইকমিশন বলেছে, সাতশ টন ত্রাণ পাঠাবে দেশটি। শুরু থেকেই রোহিঙ্গা ইস্যুতে তৎপর পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ আফ্রিকা, আজারবাইজানসহ ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

ত্রাণ কার্যক্রমে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে জাতিসংঘ। রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধে বিবৃতি, বক্তব্য দেয়াসহ বড় ধরনের ত্রাণ তহবিল যোগাড়ের জন্য কাজ শুরু করেছে বিশ্বের প্রধান এ সংগঠনটি। ইতিমধ্যে সাত কোটি ৭০ লাখ ডলার তহবিল সংগ্রহের ঘোষণা দিয়েছে জাতিসংঘ। গত ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সংস্থা ইউনিসেফ শিশুদের জন্য ১০০ টন ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে কোপেনহেগেন থেকে একটি কার্গো বিমান ঢাকায় পৌঁছেছে। আগামী তিন মাসের জন্য ৭৩ লাখ ডলারের তহবিলের আহ্বান জানিয়েছে ইউনিসেফ।

এদিকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা নাগরিককে খাদ্য সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)। মুসলিম দেশগুলোর শুরু থেকেই রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। তুরস্ক, ইরান, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, আরব আমিরাত ত্রাণ পাঠিয়ে রোহিঙ্গাদের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সহিংসতার কারণে ১৯৭৮ সাল থেকে চলতি বছরের ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ১০ লাখ নয় হাজার রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করেছে। এর মধ্যে গত এক মাসেই এসেছে চার লাখ ২৪ হাজার। ২০১৬ সালের বিভিন্ন সময়ে প্রায় ৮৭ হাজার এবং ২০১২ ও ২০১৩ সালে তিন থেকে পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে। সে হিসাবে চার বছরেই দেশে অনুপ্রবেশ করেছে ১০ লাখের বেশি মিয়ানমার নাগরিক।

১৯৯১-৯২ সালে দুই লাখ ৫০ হাজার ৮৭৭ জন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করলেও তাদের মধ্যে দুই লাখ ৩৬ হাজার ৫৯৯ জনকে ফেরত পাঠানো হয়। মিয়ানমার সরকারের অনীহার কারণে ২০০৫ সালের ২৮ জুলাইয়ের পর আর কোনো শরণার্থী প্রত্যাবাসন করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে ৩৩ হাজার ৫৪২ জন নিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরণার্থী কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালং ও টেকনাফের নয়াপাড়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাস করছে। তবে এ সংখ্যা বেড়ে বর্তমানে ৩৮ হাজার ৪৫৫ জনে দাঁড়িয়েছে।