ঢাকা ০৮:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সরকারের প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী আমাকে ঋণখেলাপি বলে জাতির কাছে ছোট করা হয়েছে: সংসদে এমপি সারোয়ার ২০৩০ সালের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড পাবে দেড় কোটির বেশি পরিবার উন্নত বাংলাদেশ গড়তে দক্ষ যুবসমাজ গড়ে তোলার বিকল্প নেই : রাষ্ট্রপতি জুলাই শহীদদের স্মৃতি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে: আমানউল্লাহ আমান যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘জলদস্যু’ রাষ্ট্রে পরিণত হবে: লুলা সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৩ দাবি শিক্ষার্থীদের ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের পুনঃপরীক্ষা নেওয়া হবে, আশ্বাস শিক্ষামন্ত্রীর ‘আমি কে তুমি কে, ফার্মের মুরগি ফার্মের মুরগি’ জানুয়ারিতে এসএসসি ও জুনে এইচএসসি পরীক্ষা

কোলের শিশু দিয়ে কবিরাজি চিকিৎসা!

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাগেরহাটের চিতলমারীর বড়বাড়িয়া ইউনিয়নের পরানপুর গ্রামে চার বছরের এক শিশুকে দিয়ে কবিরাজি চিকিৎসা করাচ্ছেন তার স্বজনরা। তার কাছে চিকিৎসা নিতে প্রতিদিন শত শত নারী-পুরুষ ভিড় করছেন।

তবে অবুঝ শিশুকে দিয়ে কবিরাজির নামে গ্রামের সহজ-সরল মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিশু ইয়াসিনের বাবা উপজেলার বড়বাড়িয়া ইউনিয়নের পরানপুর গ্রামের বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম। চা বিক্রি করে সংসার চালাতেন তিনি। মাস দেড়েক আগে কোলের শিশুসন্তানকে দিয়ে কবিরাজি ব্যবসা শুরু করেন।

চিকিৎসার নামে সাধারণ মানুষকে প্রতারণা করছে এই শিশু কবিরাজের স্বজনরা। জটিল ও কঠিন রোগের চিকিৎসার নামে গত এক মাস ধরে চলমান এই অপচিকিৎসার আড়ালে স্থানীয় একটি চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

শুক্রবার সরেজমিন জাহিদুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে অসংখ্য মানুষের ভিড় দেখা যায়। শিশুটিকে সবাই কবিরাজ বলে সন্বোধন করছেন। পানি ও তেলপড়া এবং ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

শিশুটি তার বাবা ও ভাইয়ের কোলে চড়ে বোতলভর্তি পানি ও তেলের শিশিতে ফুঁক দিচ্ছেন। পাশেই টেবিলে প্লাস্টিকের একটি ছোট বালতি রাখাহ হয়েছে। সেখানে হাদিয়া হিসেবে রোগীরা নগদ টাকা-পয়সা রাখছেন।

চিংগড়ী গ্রামের আফজাল শেখ বলেন, তিন দিন ধরে কবিরাজের কাছে আসছি। তেল ও পানিপড়া দিয়েছে, কিন্তু কোনো উপকার পাইনি।

আবার অনেকেই বলছেন, সামান্য উন্নতি হয়েছে। তবে পরিবারের দাবি, শিশুটির চিকিৎসায় অনেক জটিল রোগের উন্নতি হয়েছে।

শিশুর বাবা জাহিদুল মোল্লা বলেন, আমার এক সময় কোমরে ব্যথা ছিল। চার বছরের ছেলের ঝাড়ফুঁকে তা ভালো হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকার লোকজনও বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা নিতে আসেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মামুন হাসান বলেন, এটা সম্পূর্ণ কুসংস্কার। গ্রামের সহজ-সরল মানুষকে এক ধরনের ধান্দায় ফেলে প্রতারণা করা হচ্ছে। প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইয়েদা ফয়জুন্নেছা জানান, এটা একটা ধান্দাবাজি ছাড়া আর কিছুই না। কেউ যাতে প্রতরণার শিকার না হন, সেই বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সরকারের প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী

কোলের শিশু দিয়ে কবিরাজি চিকিৎসা!

আপডেট সময় ১১:১৮:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ অগাস্ট ২০২২

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাগেরহাটের চিতলমারীর বড়বাড়িয়া ইউনিয়নের পরানপুর গ্রামে চার বছরের এক শিশুকে দিয়ে কবিরাজি চিকিৎসা করাচ্ছেন তার স্বজনরা। তার কাছে চিকিৎসা নিতে প্রতিদিন শত শত নারী-পুরুষ ভিড় করছেন।

তবে অবুঝ শিশুকে দিয়ে কবিরাজির নামে গ্রামের সহজ-সরল মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিশু ইয়াসিনের বাবা উপজেলার বড়বাড়িয়া ইউনিয়নের পরানপুর গ্রামের বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম। চা বিক্রি করে সংসার চালাতেন তিনি। মাস দেড়েক আগে কোলের শিশুসন্তানকে দিয়ে কবিরাজি ব্যবসা শুরু করেন।

চিকিৎসার নামে সাধারণ মানুষকে প্রতারণা করছে এই শিশু কবিরাজের স্বজনরা। জটিল ও কঠিন রোগের চিকিৎসার নামে গত এক মাস ধরে চলমান এই অপচিকিৎসার আড়ালে স্থানীয় একটি চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

শুক্রবার সরেজমিন জাহিদুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে অসংখ্য মানুষের ভিড় দেখা যায়। শিশুটিকে সবাই কবিরাজ বলে সন্বোধন করছেন। পানি ও তেলপড়া এবং ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

শিশুটি তার বাবা ও ভাইয়ের কোলে চড়ে বোতলভর্তি পানি ও তেলের শিশিতে ফুঁক দিচ্ছেন। পাশেই টেবিলে প্লাস্টিকের একটি ছোট বালতি রাখাহ হয়েছে। সেখানে হাদিয়া হিসেবে রোগীরা নগদ টাকা-পয়সা রাখছেন।

চিংগড়ী গ্রামের আফজাল শেখ বলেন, তিন দিন ধরে কবিরাজের কাছে আসছি। তেল ও পানিপড়া দিয়েছে, কিন্তু কোনো উপকার পাইনি।

আবার অনেকেই বলছেন, সামান্য উন্নতি হয়েছে। তবে পরিবারের দাবি, শিশুটির চিকিৎসায় অনেক জটিল রোগের উন্নতি হয়েছে।

শিশুর বাবা জাহিদুল মোল্লা বলেন, আমার এক সময় কোমরে ব্যথা ছিল। চার বছরের ছেলের ঝাড়ফুঁকে তা ভালো হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকার লোকজনও বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা নিতে আসেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মামুন হাসান বলেন, এটা সম্পূর্ণ কুসংস্কার। গ্রামের সহজ-সরল মানুষকে এক ধরনের ধান্দায় ফেলে প্রতারণা করা হচ্ছে। প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইয়েদা ফয়জুন্নেছা জানান, এটা একটা ধান্দাবাজি ছাড়া আর কিছুই না। কেউ যাতে প্রতরণার শিকার না হন, সেই বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।