ঢাকা ০১:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

কোলের শিশু দিয়ে কবিরাজি চিকিৎসা!

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাগেরহাটের চিতলমারীর বড়বাড়িয়া ইউনিয়নের পরানপুর গ্রামে চার বছরের এক শিশুকে দিয়ে কবিরাজি চিকিৎসা করাচ্ছেন তার স্বজনরা। তার কাছে চিকিৎসা নিতে প্রতিদিন শত শত নারী-পুরুষ ভিড় করছেন।

তবে অবুঝ শিশুকে দিয়ে কবিরাজির নামে গ্রামের সহজ-সরল মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিশু ইয়াসিনের বাবা উপজেলার বড়বাড়িয়া ইউনিয়নের পরানপুর গ্রামের বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম। চা বিক্রি করে সংসার চালাতেন তিনি। মাস দেড়েক আগে কোলের শিশুসন্তানকে দিয়ে কবিরাজি ব্যবসা শুরু করেন।

চিকিৎসার নামে সাধারণ মানুষকে প্রতারণা করছে এই শিশু কবিরাজের স্বজনরা। জটিল ও কঠিন রোগের চিকিৎসার নামে গত এক মাস ধরে চলমান এই অপচিকিৎসার আড়ালে স্থানীয় একটি চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

শুক্রবার সরেজমিন জাহিদুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে অসংখ্য মানুষের ভিড় দেখা যায়। শিশুটিকে সবাই কবিরাজ বলে সন্বোধন করছেন। পানি ও তেলপড়া এবং ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

শিশুটি তার বাবা ও ভাইয়ের কোলে চড়ে বোতলভর্তি পানি ও তেলের শিশিতে ফুঁক দিচ্ছেন। পাশেই টেবিলে প্লাস্টিকের একটি ছোট বালতি রাখাহ হয়েছে। সেখানে হাদিয়া হিসেবে রোগীরা নগদ টাকা-পয়সা রাখছেন।

চিংগড়ী গ্রামের আফজাল শেখ বলেন, তিন দিন ধরে কবিরাজের কাছে আসছি। তেল ও পানিপড়া দিয়েছে, কিন্তু কোনো উপকার পাইনি।

আবার অনেকেই বলছেন, সামান্য উন্নতি হয়েছে। তবে পরিবারের দাবি, শিশুটির চিকিৎসায় অনেক জটিল রোগের উন্নতি হয়েছে।

শিশুর বাবা জাহিদুল মোল্লা বলেন, আমার এক সময় কোমরে ব্যথা ছিল। চার বছরের ছেলের ঝাড়ফুঁকে তা ভালো হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকার লোকজনও বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা নিতে আসেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মামুন হাসান বলেন, এটা সম্পূর্ণ কুসংস্কার। গ্রামের সহজ-সরল মানুষকে এক ধরনের ধান্দায় ফেলে প্রতারণা করা হচ্ছে। প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইয়েদা ফয়জুন্নেছা জানান, এটা একটা ধান্দাবাজি ছাড়া আর কিছুই না। কেউ যাতে প্রতরণার শিকার না হন, সেই বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

কোলের শিশু দিয়ে কবিরাজি চিকিৎসা!

আপডেট সময় ১১:১৮:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ অগাস্ট ২০২২

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাগেরহাটের চিতলমারীর বড়বাড়িয়া ইউনিয়নের পরানপুর গ্রামে চার বছরের এক শিশুকে দিয়ে কবিরাজি চিকিৎসা করাচ্ছেন তার স্বজনরা। তার কাছে চিকিৎসা নিতে প্রতিদিন শত শত নারী-পুরুষ ভিড় করছেন।

তবে অবুঝ শিশুকে দিয়ে কবিরাজির নামে গ্রামের সহজ-সরল মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিশু ইয়াসিনের বাবা উপজেলার বড়বাড়িয়া ইউনিয়নের পরানপুর গ্রামের বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম। চা বিক্রি করে সংসার চালাতেন তিনি। মাস দেড়েক আগে কোলের শিশুসন্তানকে দিয়ে কবিরাজি ব্যবসা শুরু করেন।

চিকিৎসার নামে সাধারণ মানুষকে প্রতারণা করছে এই শিশু কবিরাজের স্বজনরা। জটিল ও কঠিন রোগের চিকিৎসার নামে গত এক মাস ধরে চলমান এই অপচিকিৎসার আড়ালে স্থানীয় একটি চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

শুক্রবার সরেজমিন জাহিদুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে অসংখ্য মানুষের ভিড় দেখা যায়। শিশুটিকে সবাই কবিরাজ বলে সন্বোধন করছেন। পানি ও তেলপড়া এবং ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

শিশুটি তার বাবা ও ভাইয়ের কোলে চড়ে বোতলভর্তি পানি ও তেলের শিশিতে ফুঁক দিচ্ছেন। পাশেই টেবিলে প্লাস্টিকের একটি ছোট বালতি রাখাহ হয়েছে। সেখানে হাদিয়া হিসেবে রোগীরা নগদ টাকা-পয়সা রাখছেন।

চিংগড়ী গ্রামের আফজাল শেখ বলেন, তিন দিন ধরে কবিরাজের কাছে আসছি। তেল ও পানিপড়া দিয়েছে, কিন্তু কোনো উপকার পাইনি।

আবার অনেকেই বলছেন, সামান্য উন্নতি হয়েছে। তবে পরিবারের দাবি, শিশুটির চিকিৎসায় অনেক জটিল রোগের উন্নতি হয়েছে।

শিশুর বাবা জাহিদুল মোল্লা বলেন, আমার এক সময় কোমরে ব্যথা ছিল। চার বছরের ছেলের ঝাড়ফুঁকে তা ভালো হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকার লোকজনও বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা নিতে আসেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মামুন হাসান বলেন, এটা সম্পূর্ণ কুসংস্কার। গ্রামের সহজ-সরল মানুষকে এক ধরনের ধান্দায় ফেলে প্রতারণা করা হচ্ছে। প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইয়েদা ফয়জুন্নেছা জানান, এটা একটা ধান্দাবাজি ছাড়া আর কিছুই না। কেউ যাতে প্রতরণার শিকার না হন, সেই বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।