ঢাকা ০৯:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

নগদ লেনদেন নিরুৎসাহিত করতে নীতিমালা হচ্ছে

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দেশে মানুষ এখনও ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেনের চেয়ে নগদ লেনদেনই বেশি করে। কিন্তু নগদ অর্থ বহনে ঝুঁকি অনেক বেশি। তাছাড়া নগদ লেনদেনের ক্ষেত্রে অপরাধে অর্থায়ন করা হলে তা চিহ্নিত করতে সমস্যা হচ্ছে। তাই নগদ লেনদেন নিরুত্সাহিত করতে নীতিমালা করছে সরকার। নীতিমালায় অনলাইনভিত্তিক লেনদেন ব্যবস্থা তথা ইলেকট্রনিক পেমেন্ট সিস্টেমের ব্যবহার বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। নীতিমালার আওতায় নিত্যপণ্যের কেনাকাটা থেকে শুরু করে জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রে কার্ডভিত্তিক লেনদেন এবং অ্যাকাউন্ট পে চেকের ব্যবহারকে উৎসাহিত করা হবে। যেন প্রত্যেকটি লেনদেনের রেকর্ড সংরক্ষিত থাকে। ফলে জঙ্গি ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন এবং দুর্নীতি কমবে।

জানা গেছে, নীতিমালার খসড়া প্রস্তুত করতে সরকারের চার সদস্যের মনিটরিং কমিটি কাজ করছে। নীতিমালা তৈরির সাচিবিক দায়িত্ব পালন করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাংলাদেশ আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট (বিএফআইইউ)। সার্বিক সহযোগিতা দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেম (পিএসডি) ও কারেন্সি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ (ডিসিএম)।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে নগদ লেনদেনের নির্দিষ্ট কোনো সীমা নেই। এ নীতিমালার আওতায় নগদ লেনদেন নিরুত্সাহিত করতে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ভেদে প্রতিটি পর্যায়ে অর্থ লেনদেনের সীমা ঠিক করে দেওয়া হবে। এতে নগদ লেনদেন কমে আসবে। তবে পেয়ি চেক, ডেবিট-ক্রেডিট কার্ড ও অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে যে কোনো অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করা যাবে। এতে করে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি), ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ (এনপিএস), মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস), এজেন্ট ব্যাংকিং (শাখাহীন ব্যাংকিং) ও রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্টের (আরটিজিএস) মতো চ্যানেলের ব্যবহার বাড়বে এবং প্রতিটি লেনদেনের রেকর্ড সংরক্ষিত থাকবে। ফলে কেউ অবৈধ লেনদেন করলে তা সহজে ধরা যাবে। আবার রেকর্ড সংরক্ষণের কারণে সরকারের রাজস্ব আদায়ও বাড়বে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সরকারের চাহিদার আলোকে দেশের অর্থনীতিতে বর্তমানে কী পরিমাণ নগদ অর্থ প্রচলিত আছে এবং কী পরিমাণ নগদ অর্থের প্রয়োজন রয়েছে, নগদ অর্থ প্রবাহের সঙ্গে অপরাধ প্রবণতার কোনো সম্পর্ক আছে কিনা এবং নগদ অর্থ বিনিময়ের ধরন ও জনগণ কর্তৃক ধারণের প্রকৃতি বিশ্লেষণ তরে খসড়া প্রতিবেদন প্রণয়ন করা হচ্ছে। তবে এক্ষেত্রে সব স্টেকহোল্ডারদের মতামত নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে বড় লেনদেনে নগদ অর্থ বহনের ঝুঁকি কমবে। এতে নগদ টাকার ব্যবহার নিরুত্সাহিত হবে ও দুর্নীতি কমবে। অন্যদিকে অধিক সংখ্যক মানুষ আর্থিক সেবার আওতায় আসবে। ফলে বাড়বে ই-পেমেন্টভিত্তিক লেনদেন। এতে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন খাতে জবাবদিহিতা তৈরি হবে এবং সরকারের রাজস্ব আদায়ও বাড়বে। ডিসেম্বরের মধ্যে এ সংক্রান্ত খসড়া প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দেওয়া হতে পারে বলে সূত্রে জানা গেছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নগদ লেনদেন নিরুৎসাহিত করতে নীতিমালা হচ্ছে

আপডেট সময় ০৯:১২:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দেশে মানুষ এখনও ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেনের চেয়ে নগদ লেনদেনই বেশি করে। কিন্তু নগদ অর্থ বহনে ঝুঁকি অনেক বেশি। তাছাড়া নগদ লেনদেনের ক্ষেত্রে অপরাধে অর্থায়ন করা হলে তা চিহ্নিত করতে সমস্যা হচ্ছে। তাই নগদ লেনদেন নিরুত্সাহিত করতে নীতিমালা করছে সরকার। নীতিমালায় অনলাইনভিত্তিক লেনদেন ব্যবস্থা তথা ইলেকট্রনিক পেমেন্ট সিস্টেমের ব্যবহার বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। নীতিমালার আওতায় নিত্যপণ্যের কেনাকাটা থেকে শুরু করে জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রে কার্ডভিত্তিক লেনদেন এবং অ্যাকাউন্ট পে চেকের ব্যবহারকে উৎসাহিত করা হবে। যেন প্রত্যেকটি লেনদেনের রেকর্ড সংরক্ষিত থাকে। ফলে জঙ্গি ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন এবং দুর্নীতি কমবে।

জানা গেছে, নীতিমালার খসড়া প্রস্তুত করতে সরকারের চার সদস্যের মনিটরিং কমিটি কাজ করছে। নীতিমালা তৈরির সাচিবিক দায়িত্ব পালন করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাংলাদেশ আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট (বিএফআইইউ)। সার্বিক সহযোগিতা দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেম (পিএসডি) ও কারেন্সি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ (ডিসিএম)।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে নগদ লেনদেনের নির্দিষ্ট কোনো সীমা নেই। এ নীতিমালার আওতায় নগদ লেনদেন নিরুত্সাহিত করতে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ভেদে প্রতিটি পর্যায়ে অর্থ লেনদেনের সীমা ঠিক করে দেওয়া হবে। এতে নগদ লেনদেন কমে আসবে। তবে পেয়ি চেক, ডেবিট-ক্রেডিট কার্ড ও অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে যে কোনো অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করা যাবে। এতে করে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি), ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ (এনপিএস), মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস), এজেন্ট ব্যাংকিং (শাখাহীন ব্যাংকিং) ও রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্টের (আরটিজিএস) মতো চ্যানেলের ব্যবহার বাড়বে এবং প্রতিটি লেনদেনের রেকর্ড সংরক্ষিত থাকবে। ফলে কেউ অবৈধ লেনদেন করলে তা সহজে ধরা যাবে। আবার রেকর্ড সংরক্ষণের কারণে সরকারের রাজস্ব আদায়ও বাড়বে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সরকারের চাহিদার আলোকে দেশের অর্থনীতিতে বর্তমানে কী পরিমাণ নগদ অর্থ প্রচলিত আছে এবং কী পরিমাণ নগদ অর্থের প্রয়োজন রয়েছে, নগদ অর্থ প্রবাহের সঙ্গে অপরাধ প্রবণতার কোনো সম্পর্ক আছে কিনা এবং নগদ অর্থ বিনিময়ের ধরন ও জনগণ কর্তৃক ধারণের প্রকৃতি বিশ্লেষণ তরে খসড়া প্রতিবেদন প্রণয়ন করা হচ্ছে। তবে এক্ষেত্রে সব স্টেকহোল্ডারদের মতামত নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে বড় লেনদেনে নগদ অর্থ বহনের ঝুঁকি কমবে। এতে নগদ টাকার ব্যবহার নিরুত্সাহিত হবে ও দুর্নীতি কমবে। অন্যদিকে অধিক সংখ্যক মানুষ আর্থিক সেবার আওতায় আসবে। ফলে বাড়বে ই-পেমেন্টভিত্তিক লেনদেন। এতে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন খাতে জবাবদিহিতা তৈরি হবে এবং সরকারের রাজস্ব আদায়ও বাড়বে। ডিসেম্বরের মধ্যে এ সংক্রান্ত খসড়া প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দেওয়া হতে পারে বলে সূত্রে জানা গেছে।