ঢাকা ০৩:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীন এইচএসসি ও সমমানের অবশিষ্ট পরীক্ষা স্থগিত পরিকল্পিতভাবে উত্তরাঞ্চলে বড় উন্নয়ন বাজেট কমানো হয়েছে: নাহিদ ইসলাম আবু সাঈদের স্বপ্নের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করব: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করুন,সরকারকে গোলাম পরওয়ার হাসিনার আত্মসমর্পণের সুযোগ নেই, আসলেই গ্রেফতার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হঠাৎ অসুস্থ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকার দলীয় এমপিরা ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়ন আদেশ লঙ্ঘন করেছেন: আইনজীবী শিশির জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ বাঁচার অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী এখনকার যুদ্ধটা অনেক বড়, ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রম ধাপে ধাপে এগিয়ে নেওয়া হবে: অর্থমন্ত্রী

ইকবাল মানসিক ভারসাম্যহীন নয়, সুচতুর: সিআইডি

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কুমিল্লা নগরীর একটি পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রাখার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ইকবাল হোসেনকে পরিবারের পক্ষ থেকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে দাবি করা হলেও তা নাকচ করে দিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি। সংস্থাটি জানিয়েছে, ইকবাল হোসেন একজন সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ এবং তিনি সুচতুর।

মঙ্গলবার (২ নভেম্বর) দ্বিতীয় দফা রিমান্ডের পঞ্চম দিনে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার খান মুহাম্মদ রেজোয়ান সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন।

খান মুহাম্মদ রেজোয়ান বলেন, ‘ইকবাল মানসিক ভারসাম্যহীন নন। তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ ও সুচতুর। কোনো কিছুর প্রতি তার প্রবল বিশ্বাস আছে। ১১ দিনের রিমান্ডে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ, স্বাভাবিক আচরণ করেছেন।’

সিআইডি পুলিশ সুপার বলেন, এ ঘটনায় স্থানীয়, জাতীয় বা আন্তর্জাতিক রাজনীতি সংশ্লিষ্ট কি না সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি একাধিক ব্যক্তির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ সুপার বলেন, ইকবাল হোসেন নানুয়ারদিঘির পাড়ে পূজামণ্ডপে কোরআন রাখার আগে পুরো এলাকাটি রেকি করেন। এরপর দারোগাবাড়ি মাজার মসজিদ থেকে কোরআন নিয়ে সেখানে রাখেন। পরে আত্মগোপনের জন্য প্রথমে চট্টগ্রাম পরে কক্সবাজার চলে যান।

গত ১৩ অক্টোবর কুমিল্লা নগরীর নানুয়ারদিঘির পাড় পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রাখার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এতে কুমিল্লা ছাড়াও চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ, নোয়াখালীর চৌমুহনী, রংপুরের পীরগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনায় ২১ অক্টোবর ইকবালকে কক্সবাজার সৈকত থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

একটি সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, নানুয়ারদিঘির পাড়ের অদূরে দারোগাবাড়ি মাজারের মসজিদ থেকেই কোরআন শরিফটি সংগ্রহ করে মণ্ডপে রাখেন ইকবাল। ঘটনার দিন রাতে কয়েক দফায় ইকবাল হোসেন মাজার সংলগ্ন মসজিদে প্রবেশ করেন। রাত ১০টা ৫৮ মিনিটে তিনি মসজিদে যান। পরে বের হয়ে আসেন। এ সময় মসজিদে দুজন মুসল্লি ছিলেন। পরে আবার রাত ২টা ১২ মিনিটে মসজিদের একটি বক্স থেকে কোরআন নামিয়ে ফ্লোরে রেখে বের হয়ে যান। সর্বশেষ রাত ২টা ১৭ মিনিটে আবারও মসজিদে গিয়ে কোরআন হাতে বের হয়ে যান।

ঘটনাস্থলের আশপাশের অন্তত ১২টি সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে মণ্ডপে কোরআন রাখা যুবক ইকবাল হোসেন বলে নিশ্চিত হলেও এর নেপথ্যে কে বা কারা- সে বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীন এইচএসসি ও সমমানের অবশিষ্ট পরীক্ষা স্থগিত

ইকবাল মানসিক ভারসাম্যহীন নয়, সুচতুর: সিআইডি

আপডেট সময় ০৪:৩৯:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ নভেম্বর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কুমিল্লা নগরীর একটি পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রাখার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ইকবাল হোসেনকে পরিবারের পক্ষ থেকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে দাবি করা হলেও তা নাকচ করে দিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি। সংস্থাটি জানিয়েছে, ইকবাল হোসেন একজন সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ এবং তিনি সুচতুর।

মঙ্গলবার (২ নভেম্বর) দ্বিতীয় দফা রিমান্ডের পঞ্চম দিনে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার খান মুহাম্মদ রেজোয়ান সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন।

খান মুহাম্মদ রেজোয়ান বলেন, ‘ইকবাল মানসিক ভারসাম্যহীন নন। তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ ও সুচতুর। কোনো কিছুর প্রতি তার প্রবল বিশ্বাস আছে। ১১ দিনের রিমান্ডে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ, স্বাভাবিক আচরণ করেছেন।’

সিআইডি পুলিশ সুপার বলেন, এ ঘটনায় স্থানীয়, জাতীয় বা আন্তর্জাতিক রাজনীতি সংশ্লিষ্ট কি না সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি একাধিক ব্যক্তির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ সুপার বলেন, ইকবাল হোসেন নানুয়ারদিঘির পাড়ে পূজামণ্ডপে কোরআন রাখার আগে পুরো এলাকাটি রেকি করেন। এরপর দারোগাবাড়ি মাজার মসজিদ থেকে কোরআন নিয়ে সেখানে রাখেন। পরে আত্মগোপনের জন্য প্রথমে চট্টগ্রাম পরে কক্সবাজার চলে যান।

গত ১৩ অক্টোবর কুমিল্লা নগরীর নানুয়ারদিঘির পাড় পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রাখার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এতে কুমিল্লা ছাড়াও চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ, নোয়াখালীর চৌমুহনী, রংপুরের পীরগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনায় ২১ অক্টোবর ইকবালকে কক্সবাজার সৈকত থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

একটি সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, নানুয়ারদিঘির পাড়ের অদূরে দারোগাবাড়ি মাজারের মসজিদ থেকেই কোরআন শরিফটি সংগ্রহ করে মণ্ডপে রাখেন ইকবাল। ঘটনার দিন রাতে কয়েক দফায় ইকবাল হোসেন মাজার সংলগ্ন মসজিদে প্রবেশ করেন। রাত ১০টা ৫৮ মিনিটে তিনি মসজিদে যান। পরে বের হয়ে আসেন। এ সময় মসজিদে দুজন মুসল্লি ছিলেন। পরে আবার রাত ২টা ১২ মিনিটে মসজিদের একটি বক্স থেকে কোরআন নামিয়ে ফ্লোরে রেখে বের হয়ে যান। সর্বশেষ রাত ২টা ১৭ মিনিটে আবারও মসজিদে গিয়ে কোরআন হাতে বের হয়ে যান।

ঘটনাস্থলের আশপাশের অন্তত ১২টি সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে মণ্ডপে কোরআন রাখা যুবক ইকবাল হোসেন বলে নিশ্চিত হলেও এর নেপথ্যে কে বা কারা- সে বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।