ঢাকা ০৫:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৪ মাসেই অন্তর্বর্তী সরকারের ১১৭ অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করেছে সরকার: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বাহাত্তরের সংবিধান থেকেই ফ্যাসিবাদের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল: ড. দিলারা চৌধুরী দলীয় পদধারীদের নিয়োগ দিলে গণতন্ত্র অবশিষ্ট থাকে না: আখতার হোসেন তিন সীমান্তে ২২ জনকে পুশইন চেষ্টা নস্যাৎ বিজিবির ভালো কাজ না করলে সমর্থনের প্রয়োজন নেই: সারজিস দেশের প্রথম কমিউনিটিভিত্তিক এগ্রো ট্যুরিজম প্রকল্পে ১০০০ ফাউন্ডারের হাতে জমির দলিল শাহজালাল বিমানবন্দর কার্গো ভিলেজের পাশে আগুন জুলাই সনদে ফাঁকফোকর ছিল: মান্না ১১ দলীয় জোটের সমাবেশ থেকে কর্নেল অলির ‘হুংকার’ তৃণমূল সংগঠনের খোঁজ-খবর ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

সিএসআরের এক টাকাও খরচ করেনি

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

দেশের ৯৪টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে ২৯টি সিএসআর খাতে কোনো অর্থ ব্যয় করেনি। আর্থিক সচ্ছলতার অভাব, প্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতিগত দুর্বলতা ও করোনার কারণে স্বাভাবিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ায় তারা সিএসআর খাতে কোনো অর্থ ব্যয় করতে পারেনি। এর মধ্যে ৬০টি ব্যাংকের ১০টি ব্যাংক এবং ৩৪টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৯টি কোনো অর্থ ব্যয় করতে পারেনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

সূত্র জানায়, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে মুনাফার একটি অংশ কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপন্সসিবিলিটি বা কোম্পানি ব্যবস্থাপনায় সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআর খাতে ব্যয় করতে হয়। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালা রয়েছে। করোনার কারণে এ নীতিমালা ব্যাপকভাবে শিথিল করা হয়েছে। তারপরও ব্যাংকগুলোর

সিএসআর খাতে ব্যয় খুব বেশি বাড়েনি। গত বছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে ব্যয় হয়েছিল ৪৫০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। গত ছয় মাসে বেড়েছে ১১ কোটি টাকার কম।

প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংকগুলোর মধ্যে সরকারি খাতের বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক ও প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক কোনো অর্থ ব্যয় করতে পারেনি। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, কমিউনিটি ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক ও সীমান্ত ব্যাংক এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে, হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান ও উরি ব্যাংক কোনো অর্থ ব্যয় করেনি।

এছাড়া ১৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানও ওই খাতে কোনো অর্থ ব্যয় করতে পারেনি। এর মধ্যে রয়েছে অগ্রণী এসএমই ফাইন্যান্সিং কোম্পানি, আভিভা ফাইন্যান্স, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি), বে লিজিং অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, সিভিসি ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, ফার্স্ট ফাইন্যান্স ও জিএসপি ফাইন্যান্স। এছাড়া এ তালিকায় আছে, ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড ইনফ্রাস্টাকচার ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স কোম্পানি (আইআইডিএফসি), ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, ইসলামিক ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, লংকান এলাইয়েন্স ফাইন্যান্স, মেরিডিয়ান ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, মাইডাস ফাইন্যান্স, ন্যাশনাল ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, ইউএই বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি, ইউনাইটেড ফাইন্যান্স ও উত্তরা ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট।

এছাড়া বেশ কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠান নামমাত্র সিএসআর খাতে অর্থ খরচ করেছে। এর মধ্যে সরকারি খাতের সোনালী ব্যাংক ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক। বেসরকারি খাতের আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক এবং বিদেশি আলফালাহ ব্যাংক, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার সিএসআর খাতে ব্যয় খুবই কম। একইভাবে ডেল্টা ব্র্যাক হাউজিং, প্রিমিয়ার লিজিং, স্ট্র্যাটেজিক ফাইন্যান্স, ইউনিয়ন ক্যাপিটালও এ খাতে অর্থ খরচ করেছে কম। প্রতিবেদনে বলা হয়, আলোচ্য সময়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো মোট ৪৬৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকা সিএসআর খাতে ব্যয় করেছে। এর মধ্যে ব্যাংকগুলো করেছে ৪৬১ কোটি ৪২ লাখ টাকা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো করেছে ৩ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংক করোনার দুর্যোগ মোকাবিলায় সিএসআরের অর্থ ব্যয়ের নীতিমালা শিথিল করে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ স্বাস্থ্য খাতে ব্যয়ের সুযোগ দেয়। আগে এ খাতে ব্যয়ের সীমা ছিল ২০ শতাংশ। ফলে স্বাস্থ্য খাতে সিএসআর বেড়েছে। ব্যাংকগুলো মোট সিএসআরের ৫১ দশমিক ৫৮ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করেছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো করেছে ৩২ দশমিক ২৭ শতাংশ।

আয় উৎসারী কর্মকাণ্ডে সিএসআরের অর্থ ব্যয়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহিত করা হলেও এ খাতে তেমন একটা খরচ বাড়েনি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৪ মাসেই অন্তর্বর্তী সরকারের ১১৭ অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করেছে সরকার: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

সিএসআরের এক টাকাও খরচ করেনি

আপডেট সময় ০৬:২৯:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

দেশের ৯৪টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে ২৯টি সিএসআর খাতে কোনো অর্থ ব্যয় করেনি। আর্থিক সচ্ছলতার অভাব, প্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতিগত দুর্বলতা ও করোনার কারণে স্বাভাবিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ায় তারা সিএসআর খাতে কোনো অর্থ ব্যয় করতে পারেনি। এর মধ্যে ৬০টি ব্যাংকের ১০টি ব্যাংক এবং ৩৪টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৯টি কোনো অর্থ ব্যয় করতে পারেনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

সূত্র জানায়, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে মুনাফার একটি অংশ কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপন্সসিবিলিটি বা কোম্পানি ব্যবস্থাপনায় সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআর খাতে ব্যয় করতে হয়। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালা রয়েছে। করোনার কারণে এ নীতিমালা ব্যাপকভাবে শিথিল করা হয়েছে। তারপরও ব্যাংকগুলোর

সিএসআর খাতে ব্যয় খুব বেশি বাড়েনি। গত বছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে ব্যয় হয়েছিল ৪৫০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। গত ছয় মাসে বেড়েছে ১১ কোটি টাকার কম।

প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংকগুলোর মধ্যে সরকারি খাতের বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক ও প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক কোনো অর্থ ব্যয় করতে পারেনি। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, কমিউনিটি ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক ও সীমান্ত ব্যাংক এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে, হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান ও উরি ব্যাংক কোনো অর্থ ব্যয় করেনি।

এছাড়া ১৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানও ওই খাতে কোনো অর্থ ব্যয় করতে পারেনি। এর মধ্যে রয়েছে অগ্রণী এসএমই ফাইন্যান্সিং কোম্পানি, আভিভা ফাইন্যান্স, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি), বে লিজিং অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, সিভিসি ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, ফার্স্ট ফাইন্যান্স ও জিএসপি ফাইন্যান্স। এছাড়া এ তালিকায় আছে, ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড ইনফ্রাস্টাকচার ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স কোম্পানি (আইআইডিএফসি), ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, ইসলামিক ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, লংকান এলাইয়েন্স ফাইন্যান্স, মেরিডিয়ান ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, মাইডাস ফাইন্যান্স, ন্যাশনাল ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, ইউএই বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি, ইউনাইটেড ফাইন্যান্স ও উত্তরা ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট।

এছাড়া বেশ কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠান নামমাত্র সিএসআর খাতে অর্থ খরচ করেছে। এর মধ্যে সরকারি খাতের সোনালী ব্যাংক ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক। বেসরকারি খাতের আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক এবং বিদেশি আলফালাহ ব্যাংক, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার সিএসআর খাতে ব্যয় খুবই কম। একইভাবে ডেল্টা ব্র্যাক হাউজিং, প্রিমিয়ার লিজিং, স্ট্র্যাটেজিক ফাইন্যান্স, ইউনিয়ন ক্যাপিটালও এ খাতে অর্থ খরচ করেছে কম। প্রতিবেদনে বলা হয়, আলোচ্য সময়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো মোট ৪৬৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকা সিএসআর খাতে ব্যয় করেছে। এর মধ্যে ব্যাংকগুলো করেছে ৪৬১ কোটি ৪২ লাখ টাকা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো করেছে ৩ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংক করোনার দুর্যোগ মোকাবিলায় সিএসআরের অর্থ ব্যয়ের নীতিমালা শিথিল করে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ স্বাস্থ্য খাতে ব্যয়ের সুযোগ দেয়। আগে এ খাতে ব্যয়ের সীমা ছিল ২০ শতাংশ। ফলে স্বাস্থ্য খাতে সিএসআর বেড়েছে। ব্যাংকগুলো মোট সিএসআরের ৫১ দশমিক ৫৮ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করেছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো করেছে ৩২ দশমিক ২৭ শতাংশ।

আয় উৎসারী কর্মকাণ্ডে সিএসআরের অর্থ ব্যয়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহিত করা হলেও এ খাতে তেমন একটা খরচ বাড়েনি।