ঢাকা ০১:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী খুন,পুলিশের সন্দেহের তালিকায় পলাতক রেস্তোরাঁ কর্মী স্বৈরাচারের লোকেরা নির্বাচন ভণ্ডুলের চেষ্টা করবে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস গাজীপুরে নবজাতকের লাশ নিয়ে কুকুরের টানাহ্যাঁচড়া, উদ্ধার করল পুলিশ ধর্মকে পুঁজি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে : খায়রুল কবির খোকন দলে বড় নাম থাকলেও জেতার জন্য সবাইকে আরও দায়িত্ব নিতে হবে: সোহান ২৫ জন বাংলাদেশিকে ক্ষমা করল আমিরাত দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায়

নড়াইলে বাড়িছাড়া ২০০ পরিবার

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ইউনিয়ন নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার জের ধরে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পেড়লী গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চার মাস ধরে বাড়িছাড়া প্রায় ২০০ পরিবারের সদস্য। ২৫ মে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে কালিয়া উপজেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি পেড়লী গ্রামের মোফাজ্জেল হোসেন নিহত হন।

নিহত মোফাজ্জেল হোসেন চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী আ’লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী জারজিদ মোল্যার সমর্থক ছিলেন। এখানে আ’লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসেন ইকবাল পরাজিত হন। মোফাজ্জেল হত্যার পর পেড়লী গ্রামে প্রতিপক্ষের অন্তত ৭০টি বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পাঁকা দালান ঘর ও টিনের ঘরগুলো ভেঙে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়া হয়েছে। এছাড়া দেড় হাজার মণ ধানসহ বিভিন্ন ফসল, ২০০টি গরু লুটপাট এবং শিক্ষার্থীদের বইখাতাসহ শিক্ষা উপকরণ ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর প্রায় ২ কোটি টাকার সম্পদ খোয়া গেছে বলে জানিয়েছেন পেড়লী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আ’লীগ সভাপতি আনিসুল ইসলাম বাবু।

শুধু বাড়িছাড়া নয়, প্রতিপক্ষের লোকজন এসব পরিবারের বসতঘর থেকে শুরু করে রান্নাঘর, গোয়ালঘর ভেঙেচুরে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে। খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে এসব পরিবারের বিছানাসহ আসবাবপত্র। ভয় ও আতঙ্কে স্কুল, কলেজ ও মাদরাসায় যেতে পারছে না বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা। বন্ধ রয়েছে তাদের লেখাপড়া। কোনো কোনো পরিবারের শিশু ও নারীরা দিনে বাড়িতে আসলেও রাতে থাকতে পারছেন না।

গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার রাতেও পেড়লী গ্রামের মিঠু শিকদারের বাড়িতে লুটপাট হয়েছে। দুর্বৃত্তরা তালা ও গ্রিল ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে রঙিন টেলিভিশন, বঙ্খাট, কম্বল, হাড়ি-পাতিল, গ্যাসচুলা, স্বর্ণের কানের দুল, গলার হার, আংটিসহ প্রায় আড়াই লাখ টাকার মালামাল নিয়ে গেছে জানিয়েছেন মিঠু শিকদারের আত্মীয়-স্বজনেরা। তবুও তাদের ঘরের গ্রিল কেটে মোফাজ্জেল গ্রুপের লোকজন লুটপাট করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া গত চার মাসে অন্তত ৭০টি বাড়িতে একই কায়দায় লুটপাট করা হয়েছে।
পেড়লী গ্রামের কিবরিয়া মোল্যার স্ত্রী হেলেনা বেগম বলেন, বাড়িঘর ভেঙে ফেলেছে প্রতিপক্ষরা। প্রতিপক্ষের ভয়ে নিজের বাড়িতে গিয়েও একদণ্ড কেউ দাঁড়াতে পারে না। আমরা চার মাস ধরে বাড়িছাড়া।

জেসমিন খানম বলেন, আমার এক ছেলে কলেজে (এইচএসসি) এবং আরেক ছেলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। কিন্তু, প্রতিপক্ষের হামলা-মামলার ভয়ে চার মাস ধরে স্কুল, কলেজে যেতে পারছে না আমার দুই ছেলে। পড়ালেখা বন্ধ হয়ে গেছে তাদের।

রেজাউল মোল্যার স্ত্রী হেমেলা জানান, তার ছেলে এ বছর এসএসসি পরীক্ষার্থী। কিন্তু বাড়িঘরে থাকতে না পারায় পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারছে না। পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে কিনা সংশয় রয়েছে। প্রতিপক্ষের ভয়ে তার স্বামী ও ছেলে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। এছাড়া তাদের পরিবারের ধানসহ সব লুট করে নিয়ে গেছে মোফাজ্জেল সমর্থকরা।

পেড়লী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জারজিদ মোল্যা দাবি করে বলেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পেড়লী গ্রামে দুই পক্ষের সংঘর্ষে মোফাজ্জেল হোসেনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তবে, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউনিয়নের কোথাও কোনো বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি। এলাকার পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, মোফাজ্জেল হত্যা মামলায় ৩২জনকে আসামি করা হলেও প্রতিপক্ষের ভয়ে তাদের ২০০ লোক বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকার সচেতন ব্যক্তিরা দাবি করছেন, পুলিশের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের ভূমিকা রাখতে হবে। অশান্ত পেড়লীকে বসবাসযোগ্য করে তোলার জন্য সবার আন্তরিকতা ও সহযোগিতা প্রয়োজন।

পেড়লী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এটিএম তসরিফুজ্জামান দাবি করেন, হত্যার পর যেসব বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছিল, সেই অবস্থায় রয়েছে। নতুন করে কোনো বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট হয়নি। এছাড়া আসামিরা জামিনে এসে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন। এলাকার পরিন্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট

নড়াইলে বাড়িছাড়া ২০০ পরিবার

আপডেট সময় ১১:১৮:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ইউনিয়ন নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার জের ধরে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পেড়লী গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চার মাস ধরে বাড়িছাড়া প্রায় ২০০ পরিবারের সদস্য। ২৫ মে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে কালিয়া উপজেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি পেড়লী গ্রামের মোফাজ্জেল হোসেন নিহত হন।

নিহত মোফাজ্জেল হোসেন চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী আ’লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী জারজিদ মোল্যার সমর্থক ছিলেন। এখানে আ’লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসেন ইকবাল পরাজিত হন। মোফাজ্জেল হত্যার পর পেড়লী গ্রামে প্রতিপক্ষের অন্তত ৭০টি বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পাঁকা দালান ঘর ও টিনের ঘরগুলো ভেঙে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়া হয়েছে। এছাড়া দেড় হাজার মণ ধানসহ বিভিন্ন ফসল, ২০০টি গরু লুটপাট এবং শিক্ষার্থীদের বইখাতাসহ শিক্ষা উপকরণ ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর প্রায় ২ কোটি টাকার সম্পদ খোয়া গেছে বলে জানিয়েছেন পেড়লী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আ’লীগ সভাপতি আনিসুল ইসলাম বাবু।

শুধু বাড়িছাড়া নয়, প্রতিপক্ষের লোকজন এসব পরিবারের বসতঘর থেকে শুরু করে রান্নাঘর, গোয়ালঘর ভেঙেচুরে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে। খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে এসব পরিবারের বিছানাসহ আসবাবপত্র। ভয় ও আতঙ্কে স্কুল, কলেজ ও মাদরাসায় যেতে পারছে না বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা। বন্ধ রয়েছে তাদের লেখাপড়া। কোনো কোনো পরিবারের শিশু ও নারীরা দিনে বাড়িতে আসলেও রাতে থাকতে পারছেন না।

গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার রাতেও পেড়লী গ্রামের মিঠু শিকদারের বাড়িতে লুটপাট হয়েছে। দুর্বৃত্তরা তালা ও গ্রিল ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে রঙিন টেলিভিশন, বঙ্খাট, কম্বল, হাড়ি-পাতিল, গ্যাসচুলা, স্বর্ণের কানের দুল, গলার হার, আংটিসহ প্রায় আড়াই লাখ টাকার মালামাল নিয়ে গেছে জানিয়েছেন মিঠু শিকদারের আত্মীয়-স্বজনেরা। তবুও তাদের ঘরের গ্রিল কেটে মোফাজ্জেল গ্রুপের লোকজন লুটপাট করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া গত চার মাসে অন্তত ৭০টি বাড়িতে একই কায়দায় লুটপাট করা হয়েছে।
পেড়লী গ্রামের কিবরিয়া মোল্যার স্ত্রী হেলেনা বেগম বলেন, বাড়িঘর ভেঙে ফেলেছে প্রতিপক্ষরা। প্রতিপক্ষের ভয়ে নিজের বাড়িতে গিয়েও একদণ্ড কেউ দাঁড়াতে পারে না। আমরা চার মাস ধরে বাড়িছাড়া।

জেসমিন খানম বলেন, আমার এক ছেলে কলেজে (এইচএসসি) এবং আরেক ছেলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। কিন্তু, প্রতিপক্ষের হামলা-মামলার ভয়ে চার মাস ধরে স্কুল, কলেজে যেতে পারছে না আমার দুই ছেলে। পড়ালেখা বন্ধ হয়ে গেছে তাদের।

রেজাউল মোল্যার স্ত্রী হেমেলা জানান, তার ছেলে এ বছর এসএসসি পরীক্ষার্থী। কিন্তু বাড়িঘরে থাকতে না পারায় পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারছে না। পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে কিনা সংশয় রয়েছে। প্রতিপক্ষের ভয়ে তার স্বামী ও ছেলে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। এছাড়া তাদের পরিবারের ধানসহ সব লুট করে নিয়ে গেছে মোফাজ্জেল সমর্থকরা।

পেড়লী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জারজিদ মোল্যা দাবি করে বলেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পেড়লী গ্রামে দুই পক্ষের সংঘর্ষে মোফাজ্জেল হোসেনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তবে, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউনিয়নের কোথাও কোনো বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি। এলাকার পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, মোফাজ্জেল হত্যা মামলায় ৩২জনকে আসামি করা হলেও প্রতিপক্ষের ভয়ে তাদের ২০০ লোক বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকার সচেতন ব্যক্তিরা দাবি করছেন, পুলিশের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের ভূমিকা রাখতে হবে। অশান্ত পেড়লীকে বসবাসযোগ্য করে তোলার জন্য সবার আন্তরিকতা ও সহযোগিতা প্রয়োজন।

পেড়লী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এটিএম তসরিফুজ্জামান দাবি করেন, হত্যার পর যেসব বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছিল, সেই অবস্থায় রয়েছে। নতুন করে কোনো বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট হয়নি। এছাড়া আসামিরা জামিনে এসে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন। এলাকার পরিন্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।