ঢাকা ১০:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
একটি রাজনৈতিক দল বিভিন্ন এলাকা থেকে ভোটারদের ঢাকায় স্থানান্তর করে আনছে: ফখরুলের অভিযোগ নরসিংদীতে দুই ব্যবসায়ীর ঝগড়ায় একজনের মৃত্যু, অভিযুক্তর বাড়িতে ভাঙচুর-আগুন ৭ কলেজ নিয়ে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ অধ্যাদেশ চূড়ান্ত আমি এসেছি শুধু শুনতে, শিখতে এবং একসঙ্গে কাজ করার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে যেতে: জাইমা রহমান চাকরির ক্ষেত্রে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়েছে কিনা তা দেখা উচিত : আমীর খসরু ওসমানী হাসপাতাল ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রেকেও খেসারত দিতে হবে, ফরাসি কৃষিমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি ভুয়া জরিপ ও মিথ্যা প্রচারণা দিয়ে রাজনৈতিক ইতিহাস বদলানো যাবে না : দুদু গণ-অভ্যুত্থানের নিষ্ঠুরতম খুনিদের বিচার নিশ্চিত করা হবে : তাজুল ইসলাম এক্সপেকটেশন যদি ১০ থাকে, অন্তত চার তো অর্জন করতে পেরেছি : আসিফ নজরুল

অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার ফাঁদে পা দিলেন আইনজীবী, খোয়ালেন ৫৫ লাখ টাকা!

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পরিবারসহ অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ী হওয়ার প্রলোভনে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম এ বি এম খায়রুল ইসলাম (৪৭) প্রতারক চক্রের হাতে তুলে দিয়েছেন ৫৫ লাখ ৩৭ হাজার ৬০০ টাকা। একপর্যায়ে প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে গত ১ জুলাই রাজধানীর খিলগাঁও থানায় একটি মামলা দায়ের করেন এ আইনজীবী।

মামলাটি তদন্তের ধারাবাহিকতায় শনিবার (১১ সেপ্টেম্বর) বনশ্রী ও শাজাহানপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তারা হলেন- মো.সাইমুন ইসলাম (২৬) ও মো. আশফাকুজ্জামান খন্দকার (২৬)। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি কম্পিউটার, জাল ভিসা ও জাল টিকিটসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়।

তবে এ চক্রের মূলহোতা অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী উম্মে ফাতেমা রোজী (৩৫)। গ্রেফতারদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তাকেও দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সিআইডি।

রবিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মালবাগে সিআইডি প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম হোসেন।

তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ী বসবাসের কথা বলে দীর্ঘদিন ধরে জাল ভিসা প্রস্তুত করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন প্রবাসী উম্মে ফাতেমা রোজী। তিনি মাঝেমধ্যে দেশে এসে উচ্চবিত্তদের টার্গেট করে আত্মীয়ের ভিসায় অস্ট্রেলিয়া নিয়ে যাবে বলে প্রলোভন দেখান। সপরিবারে গেলে (স্বামী-স্ত্রী) ২৩ লাখ আর একা গেলে ১৮ লাখ, সে হিসেবে চুক্তি করতেন তিনি।

রোজী নিজেকে অস্ট্রেলিয়া ইমিগ্রেশন কনস্যুলার জেনারেল হিসেবে মিথ্যা পরিচয় দিতেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এছাড়া রোজী অস্ট্রেলিয়া প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনের কাছ থেকে পুরস্কৃত হন ও পুরস্কারের ছবি ভুক্তভোগীদের দেখান। এতে করে ভুক্তভোগীরা বিশ্বাস করতে থাকেন। এরপর অস্ট্রেলিয়ার ইমিগ্রেশনমন্ত্রী এলেক্স হাউকির সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে বলেও জানান। এরপর ধাপে ধাপে কাগজপত্র ও ভিসার কথা বলে টাকা নিতে থাকেন।

রোজী দেশে থাকাকালীন তার সঙ্গে পরিচয় হয় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম এ বি এম খায়রুল ইসলামের। এরপর রোজীর ফাঁদে পড়ে স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের আট সদস্যসহ অস্ট্রেলিয়ায় যেতে চেয়েছিলেন তিনি। এজন্য রোজীর দেওয়া দু’টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৫৫ লাখ ৩৭ হাজার ৬০০ টাকা দেন এ আইনজীবী। টাকা দেওয়ার পর কাগজপত্র ও ভিসা হাতে পেয়ে সেগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখতে পান সবগুলোই ভুয়া এবং জাল।

গ্রেফতারদের বিষয়ে সিআইডির এ কর্মকর্তা বলেন, গ্রেফতার সাইমুন ও আশফাকুজ্জামান বাংলাদেশে অস্ট্রেলিয়ান অ্যাম্বাসির নিযুক্ত ‘VFS Global Bangladesh Pvt. Ltd’ এর প্রতিনিধি বলে মিথ্যা পরিচয় দিতেন। তারা অস্ট্রেলিয়া অ্যাম্বাসির লোগোসহ ভিসা সংক্রান্ত সবধরনের কাগজপত্র তৈরি করে রোজীকে ই-মেইলে পাঠাতেন। পরে সেসব ভুয়া কাগজপত্র ভুক্তভোগীদের পাঠিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানেই জমা দিতে বলতেন রোজী।

সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম হোসেন বলেন, মিথ্যা পরিচয় দিয়ে ভুয়া কাজপত্র ব্যবহার করে চক্রটি অনেকের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আমরা আশা করছি, রোজীকে দ্রুতই দেশে ফিরিয়ে আনতে পারবো এবং তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উত্তরায় নিরাপত্তাকর্মীকে পিটিয়ে অস্ত্র ছিনতাই-অপহরণ

অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার ফাঁদে পা দিলেন আইনজীবী, খোয়ালেন ৫৫ লাখ টাকা!

আপডেট সময় ০৫:১৯:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পরিবারসহ অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ী হওয়ার প্রলোভনে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম এ বি এম খায়রুল ইসলাম (৪৭) প্রতারক চক্রের হাতে তুলে দিয়েছেন ৫৫ লাখ ৩৭ হাজার ৬০০ টাকা। একপর্যায়ে প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে গত ১ জুলাই রাজধানীর খিলগাঁও থানায় একটি মামলা দায়ের করেন এ আইনজীবী।

মামলাটি তদন্তের ধারাবাহিকতায় শনিবার (১১ সেপ্টেম্বর) বনশ্রী ও শাজাহানপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তারা হলেন- মো.সাইমুন ইসলাম (২৬) ও মো. আশফাকুজ্জামান খন্দকার (২৬)। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি কম্পিউটার, জাল ভিসা ও জাল টিকিটসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়।

তবে এ চক্রের মূলহোতা অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী উম্মে ফাতেমা রোজী (৩৫)। গ্রেফতারদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তাকেও দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সিআইডি।

রবিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মালবাগে সিআইডি প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম হোসেন।

তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ী বসবাসের কথা বলে দীর্ঘদিন ধরে জাল ভিসা প্রস্তুত করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন প্রবাসী উম্মে ফাতেমা রোজী। তিনি মাঝেমধ্যে দেশে এসে উচ্চবিত্তদের টার্গেট করে আত্মীয়ের ভিসায় অস্ট্রেলিয়া নিয়ে যাবে বলে প্রলোভন দেখান। সপরিবারে গেলে (স্বামী-স্ত্রী) ২৩ লাখ আর একা গেলে ১৮ লাখ, সে হিসেবে চুক্তি করতেন তিনি।

রোজী নিজেকে অস্ট্রেলিয়া ইমিগ্রেশন কনস্যুলার জেনারেল হিসেবে মিথ্যা পরিচয় দিতেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এছাড়া রোজী অস্ট্রেলিয়া প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনের কাছ থেকে পুরস্কৃত হন ও পুরস্কারের ছবি ভুক্তভোগীদের দেখান। এতে করে ভুক্তভোগীরা বিশ্বাস করতে থাকেন। এরপর অস্ট্রেলিয়ার ইমিগ্রেশনমন্ত্রী এলেক্স হাউকির সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে বলেও জানান। এরপর ধাপে ধাপে কাগজপত্র ও ভিসার কথা বলে টাকা নিতে থাকেন।

রোজী দেশে থাকাকালীন তার সঙ্গে পরিচয় হয় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম এ বি এম খায়রুল ইসলামের। এরপর রোজীর ফাঁদে পড়ে স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের আট সদস্যসহ অস্ট্রেলিয়ায় যেতে চেয়েছিলেন তিনি। এজন্য রোজীর দেওয়া দু’টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৫৫ লাখ ৩৭ হাজার ৬০০ টাকা দেন এ আইনজীবী। টাকা দেওয়ার পর কাগজপত্র ও ভিসা হাতে পেয়ে সেগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখতে পান সবগুলোই ভুয়া এবং জাল।

গ্রেফতারদের বিষয়ে সিআইডির এ কর্মকর্তা বলেন, গ্রেফতার সাইমুন ও আশফাকুজ্জামান বাংলাদেশে অস্ট্রেলিয়ান অ্যাম্বাসির নিযুক্ত ‘VFS Global Bangladesh Pvt. Ltd’ এর প্রতিনিধি বলে মিথ্যা পরিচয় দিতেন। তারা অস্ট্রেলিয়া অ্যাম্বাসির লোগোসহ ভিসা সংক্রান্ত সবধরনের কাগজপত্র তৈরি করে রোজীকে ই-মেইলে পাঠাতেন। পরে সেসব ভুয়া কাগজপত্র ভুক্তভোগীদের পাঠিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানেই জমা দিতে বলতেন রোজী।

সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম হোসেন বলেন, মিথ্যা পরিচয় দিয়ে ভুয়া কাজপত্র ব্যবহার করে চক্রটি অনেকের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আমরা আশা করছি, রোজীকে দ্রুতই দেশে ফিরিয়ে আনতে পারবো এবং তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।