ঢাকা ১১:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নেপালকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বার সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ ভারতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করা উচিত: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী রুমিন ফারহানার বক্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ বরগুনায় ডাকবাংলো থেকে দুই শিশু ও মায়ের মরদেহ উদ্ধার মায়ের প্রতি অবহেলা: শাস্তি পাবেন সেই যুগ্ম সচিব বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ প্রত্যাহার মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক এমপিদের সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির জ্ঞান থাকা আবশ্যক : স্পিকার ইরানের সুপ্রিম লিডার মোজতবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান ট্রাম্প ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না, দাবি ট্রাম্পের

বাম কিডনির পাথর অপসারণে ডাক্তার কাটলেন ডান পাশ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে এক রোগীর বাম কিডনির পাথর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করতে গিয়ে ডান পাশ কাটার অভিযোগ উঠেছে শফিকুল ইসলাম নামে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে।

তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট। ভুক্তভোগী রোগী আজিমুল খান (৪০) ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার দক্ষিণ জাঙ্গাল গ্রামের বাসিন্দা।

আজিমুলের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আজিমুল বেশ কিছু দিন ধরে অসুস্থতা বোধ করায় পরিবারের লোকজন জেলা শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ডা. শফিকুলকে দেখান। ডাক্তার দেখার পর পরীক্ষা করার জন্য পরামর্শ দেন। পরে পরীক্ষার রিপোর্টে কিডনিতে পাথর ধরা পড়ে। অস্ত্রোপচার করে সেই পাথর অপসারণ করতে হবে বলে জানান ডা. শফিকুল। দিনমজুর আজিমুলের স্ত্রী বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করানোর টাকা নেই জানিয়ে আজিমুলকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করতে বলেন ডা. শফিকুলকে।

পরে গত ১৯ জুন আজিমুলকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর ২৭ জুন হাসপাতালে আজিমুলের অস্ত্রোপচার করেন ডা. শফিকুল।

বুধবার (০৮ জুলাই) আজিমুলের স্ত্রী খালেদা জানান, ওইদিন সকাল ৮টার দিকে অস্ত্রোপচারের জন্য আজিমুলকে ওটিতে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু দুপুর ১টা বেজে গেলেও আজিমুলকে বের না করা হলে আমরা মনে করি, আজিমুল হয়তো ওটিতে মারা গেছেন। পরে ওটি থেকে বের করার পর আজিমুল জানান, চিকিৎসক পাথর অপসারণের জন্য প্রথমে বাম পাশে না কেটে ডান পাশ কেটে ফেলেছিলেন। এরপর আবার বাম পাশ কাটেন। পরে ডান পাশ কাটার ব্যাপারে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, এটি দুর্ঘটনা।

দুই পাশ কাটার জন্য এখন আজিমুলের হাঁটাচলা করতে সমস্যা হচ্ছে বলে জানান খালেদা।

‘ভুল অস্ত্রোপচারের’ অভিযোগের ব্যাপারে বক্তব্য জানতে ডা. শফিকুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. ওয়াহীদুজ্জামান বলেন, এমন একটি ঘটনা শুনেছি। এ বিষয়ে ভালো করে জেনে এবং কাগজপত্র দেখে তারপর বলতে পারব।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাম কিডনির পাথর অপসারণে ডাক্তার কাটলেন ডান পাশ

আপডেট সময় ১২:১৬:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জুলাই ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে এক রোগীর বাম কিডনির পাথর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করতে গিয়ে ডান পাশ কাটার অভিযোগ উঠেছে শফিকুল ইসলাম নামে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে।

তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট। ভুক্তভোগী রোগী আজিমুল খান (৪০) ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার দক্ষিণ জাঙ্গাল গ্রামের বাসিন্দা।

আজিমুলের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আজিমুল বেশ কিছু দিন ধরে অসুস্থতা বোধ করায় পরিবারের লোকজন জেলা শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ডা. শফিকুলকে দেখান। ডাক্তার দেখার পর পরীক্ষা করার জন্য পরামর্শ দেন। পরে পরীক্ষার রিপোর্টে কিডনিতে পাথর ধরা পড়ে। অস্ত্রোপচার করে সেই পাথর অপসারণ করতে হবে বলে জানান ডা. শফিকুল। দিনমজুর আজিমুলের স্ত্রী বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করানোর টাকা নেই জানিয়ে আজিমুলকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করতে বলেন ডা. শফিকুলকে।

পরে গত ১৯ জুন আজিমুলকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর ২৭ জুন হাসপাতালে আজিমুলের অস্ত্রোপচার করেন ডা. শফিকুল।

বুধবার (০৮ জুলাই) আজিমুলের স্ত্রী খালেদা জানান, ওইদিন সকাল ৮টার দিকে অস্ত্রোপচারের জন্য আজিমুলকে ওটিতে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু দুপুর ১টা বেজে গেলেও আজিমুলকে বের না করা হলে আমরা মনে করি, আজিমুল হয়তো ওটিতে মারা গেছেন। পরে ওটি থেকে বের করার পর আজিমুল জানান, চিকিৎসক পাথর অপসারণের জন্য প্রথমে বাম পাশে না কেটে ডান পাশ কেটে ফেলেছিলেন। এরপর আবার বাম পাশ কাটেন। পরে ডান পাশ কাটার ব্যাপারে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, এটি দুর্ঘটনা।

দুই পাশ কাটার জন্য এখন আজিমুলের হাঁটাচলা করতে সমস্যা হচ্ছে বলে জানান খালেদা।

‘ভুল অস্ত্রোপচারের’ অভিযোগের ব্যাপারে বক্তব্য জানতে ডা. শফিকুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. ওয়াহীদুজ্জামান বলেন, এমন একটি ঘটনা শুনেছি। এ বিষয়ে ভালো করে জেনে এবং কাগজপত্র দেখে তারপর বলতে পারব।