ঢাকা ১১:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
২০০ কোটি ডলার ঋণ নাকি অনুদান, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বললেন ‘এখানে খোঁচাখুঁচির কিছু নাই’ হরমুজ প্রণালী ‘স্থায়ীভাবে’ খুলে দেওয়া হচ্ছে: ট্রাম্প ইরান যুদ্ধ একটি ‘ভুল’: ব্রিটিশ চ্যান্সেলর নবীর অবমাননায় মৃত্যুদণ্ডের আইন দাবি এমপি হানজালার টিপাইমুখ বাঁধ আমাদের নিজেদের তৈরি দুর্যোগ: স্পিকার বাংলাদেশকে ২ কোটি ১৯ লাখ হাম-রুবেলার টিকা দেবে যুক্তরাষ্ট্র জ্বালানি চাহিদা মেটাতে উন্নয়ন অংশীদারদের কাছে ২শ’ কোটি ডলার সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে এলাকার সড়কের জন্য ‘ভিক্ষা’ চাইলেন হাসনাত আবদুল্লাহ আত্মীয়ের কুলখানি শেষে ফিরছিলেন বাড়ি, পথে কাভার্ড ভ্যান কেড়ে নিল মা-ছেলের প্রাণ বনানীতে বহুতল ভবনে আগুন

বাম কিডনির পাথর অপসারণে ডাক্তার কাটলেন ডান পাশ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে এক রোগীর বাম কিডনির পাথর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করতে গিয়ে ডান পাশ কাটার অভিযোগ উঠেছে শফিকুল ইসলাম নামে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে।

তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট। ভুক্তভোগী রোগী আজিমুল খান (৪০) ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার দক্ষিণ জাঙ্গাল গ্রামের বাসিন্দা।

আজিমুলের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আজিমুল বেশ কিছু দিন ধরে অসুস্থতা বোধ করায় পরিবারের লোকজন জেলা শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ডা. শফিকুলকে দেখান। ডাক্তার দেখার পর পরীক্ষা করার জন্য পরামর্শ দেন। পরে পরীক্ষার রিপোর্টে কিডনিতে পাথর ধরা পড়ে। অস্ত্রোপচার করে সেই পাথর অপসারণ করতে হবে বলে জানান ডা. শফিকুল। দিনমজুর আজিমুলের স্ত্রী বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করানোর টাকা নেই জানিয়ে আজিমুলকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করতে বলেন ডা. শফিকুলকে।

পরে গত ১৯ জুন আজিমুলকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর ২৭ জুন হাসপাতালে আজিমুলের অস্ত্রোপচার করেন ডা. শফিকুল।

বুধবার (০৮ জুলাই) আজিমুলের স্ত্রী খালেদা জানান, ওইদিন সকাল ৮টার দিকে অস্ত্রোপচারের জন্য আজিমুলকে ওটিতে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু দুপুর ১টা বেজে গেলেও আজিমুলকে বের না করা হলে আমরা মনে করি, আজিমুল হয়তো ওটিতে মারা গেছেন। পরে ওটি থেকে বের করার পর আজিমুল জানান, চিকিৎসক পাথর অপসারণের জন্য প্রথমে বাম পাশে না কেটে ডান পাশ কেটে ফেলেছিলেন। এরপর আবার বাম পাশ কাটেন। পরে ডান পাশ কাটার ব্যাপারে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, এটি দুর্ঘটনা।

দুই পাশ কাটার জন্য এখন আজিমুলের হাঁটাচলা করতে সমস্যা হচ্ছে বলে জানান খালেদা।

‘ভুল অস্ত্রোপচারের’ অভিযোগের ব্যাপারে বক্তব্য জানতে ডা. শফিকুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. ওয়াহীদুজ্জামান বলেন, এমন একটি ঘটনা শুনেছি। এ বিষয়ে ভালো করে জেনে এবং কাগজপত্র দেখে তারপর বলতে পারব।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

বাম কিডনির পাথর অপসারণে ডাক্তার কাটলেন ডান পাশ

আপডেট সময় ১২:১৬:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জুলাই ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে এক রোগীর বাম কিডনির পাথর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করতে গিয়ে ডান পাশ কাটার অভিযোগ উঠেছে শফিকুল ইসলাম নামে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে।

তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট। ভুক্তভোগী রোগী আজিমুল খান (৪০) ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার দক্ষিণ জাঙ্গাল গ্রামের বাসিন্দা।

আজিমুলের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আজিমুল বেশ কিছু দিন ধরে অসুস্থতা বোধ করায় পরিবারের লোকজন জেলা শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ডা. শফিকুলকে দেখান। ডাক্তার দেখার পর পরীক্ষা করার জন্য পরামর্শ দেন। পরে পরীক্ষার রিপোর্টে কিডনিতে পাথর ধরা পড়ে। অস্ত্রোপচার করে সেই পাথর অপসারণ করতে হবে বলে জানান ডা. শফিকুল। দিনমজুর আজিমুলের স্ত্রী বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করানোর টাকা নেই জানিয়ে আজিমুলকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করতে বলেন ডা. শফিকুলকে।

পরে গত ১৯ জুন আজিমুলকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর ২৭ জুন হাসপাতালে আজিমুলের অস্ত্রোপচার করেন ডা. শফিকুল।

বুধবার (০৮ জুলাই) আজিমুলের স্ত্রী খালেদা জানান, ওইদিন সকাল ৮টার দিকে অস্ত্রোপচারের জন্য আজিমুলকে ওটিতে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু দুপুর ১টা বেজে গেলেও আজিমুলকে বের না করা হলে আমরা মনে করি, আজিমুল হয়তো ওটিতে মারা গেছেন। পরে ওটি থেকে বের করার পর আজিমুল জানান, চিকিৎসক পাথর অপসারণের জন্য প্রথমে বাম পাশে না কেটে ডান পাশ কেটে ফেলেছিলেন। এরপর আবার বাম পাশ কাটেন। পরে ডান পাশ কাটার ব্যাপারে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, এটি দুর্ঘটনা।

দুই পাশ কাটার জন্য এখন আজিমুলের হাঁটাচলা করতে সমস্যা হচ্ছে বলে জানান খালেদা।

‘ভুল অস্ত্রোপচারের’ অভিযোগের ব্যাপারে বক্তব্য জানতে ডা. শফিকুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. ওয়াহীদুজ্জামান বলেন, এমন একটি ঘটনা শুনেছি। এ বিষয়ে ভালো করে জেনে এবং কাগজপত্র দেখে তারপর বলতে পারব।