ঢাকা ০৩:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে পুলিশ বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা একাত্তরে অর্জিত স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব নতুন করে সুরক্ষিত হয়েছে চব্বিশে: তারেক রহমান গুলশানে একটি ভাড়া বাসা থেকে তরুণীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার ওমরাহ পালনে ইচ্ছুকদের জন্য বড় দুঃসংবাদ ৩ ইস্যুতে নির্বাচন কমিশন ভবন ঘেরাও কর্মসূচি ছাত্রদলের আবারও বিক্ষোভে নামার ডাক রেজা পাহলভির, মেলেনি সাড়া মানবিক বাংলাদেশ গড়ায় আপনাদের সহযোগিতা চাই : নজরুল ইসলাম জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারের সঙ্গে তারেক রহমানের মতবিনিময় আমির হামজার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, কুশপুত্তলিকায় জুতার মালা ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলবে না আয়ারল্যান্ডও

শিবচরে একটি মসজিদ ঘিরে দর্শনার্থীদের ভিড় ও মুগ্ধতা!

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

অসাধারণ নির্মাণ শৈলী, মসজিদের রং, লাইটিং ও এর অবস্থান মুগ্ধ করছে মুসল্লি ও দর্শনার্থীদের। শুক্রবার জুমার নামাজ পড়ার সঙ্গে সঙ্গে মসজিদটি দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে আসেন দর্শনার্থীরা।

বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত থেকে অসাধারণ লাইটিংয়ে মসজিদের মহোনীয় সৌন্দর্যে মুগ্ধতার আবেশ নিয়ে বাড়ি ফিরছেন তারা। এ মসজিদকে ঘিরে মুগ্ধতার শেষ নেই দর্শনার্থীদের আর স্থানীয়দের কাছে এ মসজিদ যেন এক গর্বের বিষয়!

দেশের আলোচিত পদ্মাসেতুর এক্সপ্রেসওয়ের পাঁচ্চর-ভাঙ্গা অংশের দত্তপাড়া ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সামনে নির্মিত এ মসজিদটি শুধু দর্শনার্থীদেরই নয়, সড়কে যাতায়াতকারী যাত্রীদেরও মুগ্ধ করছে বার বার। কলেজের নামানুসারে মসজিদটির নামকরণ করা হয়েছে ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী কলেজ মসজিদ। দিনের আলোয় এক রকম সৌন্দর্য, সন্ধ্যার ঠিক আগ মুহূর্তে এক রকম এবং রাতের অন্ধকার নামলে আরেক রকম সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে। দর্শনার্থীদের কাছে ঠিক যেন এক তাজমহল!

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য নূর ই আলম চৌধুরী পারিবারিকভাবে নিজস্ব অর্থায়নে মসজিদটি নির্মাণ করেছেন। মসজিদ নির্মাণ করতে প্রায় তিন বছর সময় লেগেছে। গত বছরের ডিসেম্বরে নির্মাণ কাজ শেষ হলে চলতি বছরের শুরু থেকেই মসজিদটি নামাজের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। মসজিদটির বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে এর নির্মাণশৈলী, গুম্বুজের কারুকাজ, ভেতরের আট পাখা বিশিষ্ট বৈদ্যুতিক ফ্যান। চীন থেকে আনা ১২ ফুট দৈর্ঘ্যের এমন ফ্যান রয়েছে চারটি। যা পুরো মসজিদকে সার্বক্ষণিক শীতল রাখে। রয়েছে তুর্কি থেকে আনা ঝাড়বাতি। মসজিদটির মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত ২৫ ফুট উচ্চতা রয়েছে। মসজিদের চারপাশে বড় আকারের একাধিক জানালা থাকায় পর্যাপ্ত বাতাস প্রবেশ করতে পারে। ফলে ভেতরে সারাক্ষণ শীতল ভাব বজায় থাকে।

মসজিদে একজন ইমাম, একজন মুয়াজ্জিম ও দু’জন খাদেম রয়েছেন। ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ কমিটি মসজিদের পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে।

শুক্রবার সরেজমিনে মসজিদ ঘুরে দেখা গেছে, জুমার নামাজ পড়তে বিভিন্ন এলাকা থেকে অসংখ্য মানুষ এসেছেন। এদিকে বিকেল থেকে মসজিদ প্রাঙ্গণ দর্শনার্থীদের আগমনে মুখোর হয়ে উঠে। মসজিদের সামনে ছবি তুলতে ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা যায় তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে বয়স্কদেরও। বাবা-মার হাত ধরে শিশুদেরও দেখা গেছে ছবি তুলতে। নামাজের সময় হলে দর্শনার্থীদের নামাজ আদায় করতেও দেখা গেছে। সন্ধ্যার পর মসজিদের লাইট জ্বালানো হলে অদ্ভুত সৌন্দর্য ফুটে উঠে। সন্ধ্যার পর মসজিদ ও মহাসড়কে দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। মূলত বিকেল থেকে সন্ধ্যার পর পর্যন্ত দর্শনার্থীদের ভীড় থাকে মসজিদ প্রাঙ্গনে।

জানতে চাইলে মুকসুদপুর থেকে আসা আব্দুর রহমান বলেন, ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরার সময় হঠাৎ মসজিদটি দেখে চোখ আটকে যায়। বাসে এক মুহূর্তের জন্য দেখেছিলাম। এখন সময় নিয়ে দেখতে এসেছি।

রাজৈর থেকে আসা আহসান বলেন, এক দিকে দৃষ্টিনন্দন প্রশস্ত মহাসড়ক। তার ঠিক পাশেই দৃষ্টিনন্দন মসজিদ। অসাধারণ সৌন্দর্য!

দত্তপাড়া টিএন একাডেমির সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওহাব মিয়া বলেন, আমরা চিফ হুইপ মহোদয়ের কাছে একটি মসজিদ চেয়েছিলাম। তিনি এতো চমৎকার করে একটি মসজিদ তৈরি করে দেবেন, এমনটা ভাবনায় ছিল না। আমরা গর্বিত এবং আনন্দিত এ রকম চমৎকার নির্মাণ শৈলীর মসজিদ পেয়ে।

মসজিদ নির্মাণকাজের দেখভালের দায়িত্বে থাকা পিটার খান বলেন, মসজিদটির অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো চিফ হুইপ নির্মাণ শৈলী থেকে শুরু করে জানালার নেট পর্যন্ত নিজের পছন্দ অনুযায়ী করেছেন। মসজিদটির স্থাপত্য নকশা করেছেন কাজী মোহাম্মদ হানিফ। যিনি বায়তুল মোকারমের এক্সটেনশনের ডিজাইনসহ দেশের অসংখ্য মসজিদের ডিজাইন করেছেন। এক্সপ্রেসওয়ে থেকে মসজিদটি প্রায় সাড়ে ১২ ফুট উচ্চতায় রয়েছে। এতে করে সড়ক থেকে মসজিদটি দেখতে চমৎকার লাগে।

মসজিদের নির্মাণ ব্যয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মসজিদ নির্মাণে কি পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে, তা আসলে জানা নেই। তাছাড়া যারা অর্থায়ন করেছেন, তারা বিষয়টি প্রকাশযোগ্য মনে করছেন না।

সকাল থেকে সন্ধ্যার পর পর্যন্ত দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর থাকে মসজিদের চারপাশ। একদিকে এক্সপ্রেসওয়ে, অন্যদিকে তার ঠিক সঙ্গেই অনন্য নির্মাণ শৈলীর মসজিদ নানা শ্রেনি-পেশার মানুষের নজর কেড়েছে। দিন দিন মসজিদ ঘিরে বাড়ছে দর্শনার্থীদের ভিড়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে পুলিশ বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

শিবচরে একটি মসজিদ ঘিরে দর্শনার্থীদের ভিড় ও মুগ্ধতা!

আপডেট সময় ১২:১৬:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ জুন ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

অসাধারণ নির্মাণ শৈলী, মসজিদের রং, লাইটিং ও এর অবস্থান মুগ্ধ করছে মুসল্লি ও দর্শনার্থীদের। শুক্রবার জুমার নামাজ পড়ার সঙ্গে সঙ্গে মসজিদটি দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে আসেন দর্শনার্থীরা।

বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত থেকে অসাধারণ লাইটিংয়ে মসজিদের মহোনীয় সৌন্দর্যে মুগ্ধতার আবেশ নিয়ে বাড়ি ফিরছেন তারা। এ মসজিদকে ঘিরে মুগ্ধতার শেষ নেই দর্শনার্থীদের আর স্থানীয়দের কাছে এ মসজিদ যেন এক গর্বের বিষয়!

দেশের আলোচিত পদ্মাসেতুর এক্সপ্রেসওয়ের পাঁচ্চর-ভাঙ্গা অংশের দত্তপাড়া ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সামনে নির্মিত এ মসজিদটি শুধু দর্শনার্থীদেরই নয়, সড়কে যাতায়াতকারী যাত্রীদেরও মুগ্ধ করছে বার বার। কলেজের নামানুসারে মসজিদটির নামকরণ করা হয়েছে ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী কলেজ মসজিদ। দিনের আলোয় এক রকম সৌন্দর্য, সন্ধ্যার ঠিক আগ মুহূর্তে এক রকম এবং রাতের অন্ধকার নামলে আরেক রকম সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে। দর্শনার্থীদের কাছে ঠিক যেন এক তাজমহল!

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য নূর ই আলম চৌধুরী পারিবারিকভাবে নিজস্ব অর্থায়নে মসজিদটি নির্মাণ করেছেন। মসজিদ নির্মাণ করতে প্রায় তিন বছর সময় লেগেছে। গত বছরের ডিসেম্বরে নির্মাণ কাজ শেষ হলে চলতি বছরের শুরু থেকেই মসজিদটি নামাজের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। মসজিদটির বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে এর নির্মাণশৈলী, গুম্বুজের কারুকাজ, ভেতরের আট পাখা বিশিষ্ট বৈদ্যুতিক ফ্যান। চীন থেকে আনা ১২ ফুট দৈর্ঘ্যের এমন ফ্যান রয়েছে চারটি। যা পুরো মসজিদকে সার্বক্ষণিক শীতল রাখে। রয়েছে তুর্কি থেকে আনা ঝাড়বাতি। মসজিদটির মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত ২৫ ফুট উচ্চতা রয়েছে। মসজিদের চারপাশে বড় আকারের একাধিক জানালা থাকায় পর্যাপ্ত বাতাস প্রবেশ করতে পারে। ফলে ভেতরে সারাক্ষণ শীতল ভাব বজায় থাকে।

মসজিদে একজন ইমাম, একজন মুয়াজ্জিম ও দু’জন খাদেম রয়েছেন। ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ কমিটি মসজিদের পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে।

শুক্রবার সরেজমিনে মসজিদ ঘুরে দেখা গেছে, জুমার নামাজ পড়তে বিভিন্ন এলাকা থেকে অসংখ্য মানুষ এসেছেন। এদিকে বিকেল থেকে মসজিদ প্রাঙ্গণ দর্শনার্থীদের আগমনে মুখোর হয়ে উঠে। মসজিদের সামনে ছবি তুলতে ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা যায় তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে বয়স্কদেরও। বাবা-মার হাত ধরে শিশুদেরও দেখা গেছে ছবি তুলতে। নামাজের সময় হলে দর্শনার্থীদের নামাজ আদায় করতেও দেখা গেছে। সন্ধ্যার পর মসজিদের লাইট জ্বালানো হলে অদ্ভুত সৌন্দর্য ফুটে উঠে। সন্ধ্যার পর মসজিদ ও মহাসড়কে দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। মূলত বিকেল থেকে সন্ধ্যার পর পর্যন্ত দর্শনার্থীদের ভীড় থাকে মসজিদ প্রাঙ্গনে।

জানতে চাইলে মুকসুদপুর থেকে আসা আব্দুর রহমান বলেন, ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরার সময় হঠাৎ মসজিদটি দেখে চোখ আটকে যায়। বাসে এক মুহূর্তের জন্য দেখেছিলাম। এখন সময় নিয়ে দেখতে এসেছি।

রাজৈর থেকে আসা আহসান বলেন, এক দিকে দৃষ্টিনন্দন প্রশস্ত মহাসড়ক। তার ঠিক পাশেই দৃষ্টিনন্দন মসজিদ। অসাধারণ সৌন্দর্য!

দত্তপাড়া টিএন একাডেমির সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওহাব মিয়া বলেন, আমরা চিফ হুইপ মহোদয়ের কাছে একটি মসজিদ চেয়েছিলাম। তিনি এতো চমৎকার করে একটি মসজিদ তৈরি করে দেবেন, এমনটা ভাবনায় ছিল না। আমরা গর্বিত এবং আনন্দিত এ রকম চমৎকার নির্মাণ শৈলীর মসজিদ পেয়ে।

মসজিদ নির্মাণকাজের দেখভালের দায়িত্বে থাকা পিটার খান বলেন, মসজিদটির অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো চিফ হুইপ নির্মাণ শৈলী থেকে শুরু করে জানালার নেট পর্যন্ত নিজের পছন্দ অনুযায়ী করেছেন। মসজিদটির স্থাপত্য নকশা করেছেন কাজী মোহাম্মদ হানিফ। যিনি বায়তুল মোকারমের এক্সটেনশনের ডিজাইনসহ দেশের অসংখ্য মসজিদের ডিজাইন করেছেন। এক্সপ্রেসওয়ে থেকে মসজিদটি প্রায় সাড়ে ১২ ফুট উচ্চতায় রয়েছে। এতে করে সড়ক থেকে মসজিদটি দেখতে চমৎকার লাগে।

মসজিদের নির্মাণ ব্যয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মসজিদ নির্মাণে কি পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে, তা আসলে জানা নেই। তাছাড়া যারা অর্থায়ন করেছেন, তারা বিষয়টি প্রকাশযোগ্য মনে করছেন না।

সকাল থেকে সন্ধ্যার পর পর্যন্ত দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর থাকে মসজিদের চারপাশ। একদিকে এক্সপ্রেসওয়ে, অন্যদিকে তার ঠিক সঙ্গেই অনন্য নির্মাণ শৈলীর মসজিদ নানা শ্রেনি-পেশার মানুষের নজর কেড়েছে। দিন দিন মসজিদ ঘিরে বাড়ছে দর্শনার্থীদের ভিড়।