ঢাকা ১১:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

সাইবার হামলার শঙ্কায় এটিএম বুথের সেবা সীমিত

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আর্থিক খাতে সাইবার হামলার আশঙ্কায় ব্যাংকগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সীমিত করা হয়েছে অনলাইন লেনদেন ও এটিএম বুথের সেবা। বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি।

প্রতিটি ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের কর্মকর্তারাও সতর্ক রয়েছেন। যে কোনো প্রয়োজনে যোগাযোগ করছেন সরকারের ই-গভর্নমেন্ট কম্পিউটার ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিমের (সার্ট) সঙ্গে। সার্টের কর্মকর্তারাও তাদের সাইবার ল্যাবে সার্বক্ষণিকভাবে ‘ক্যাসাব্ল্যাঙ্কা’ নামের ম্যালওয়্যার ভাইরাসের ওপর নজর রাখছেন। এখন পর্যন্ত ভাইরাসটি পুরোপুরি সরিয়ে ফেলা সম্ভব না হলেও এটি কোনো অঘটন ঘটাতে পারেনি। তবে কিছু প্রতিষ্ঠানের ডাটা চুরি করেছে।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশের আর্থিক ও সরকারি খাতের ১৯টি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবপেইজে ‘ক্যাসাব্ল্যাঙ্কা’ নামের একটি ম্যালওয়্যারের সন্ধান পাওয়ার পরই এর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

সার্টের এই বার্তা পাওয়ার পরই ব্যাংকগুলো তাদের প্রতিটি শাখা ও এটিএম বুথের প্রধানকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে চিঠি দিয়েছে। একই সঙ্গে অনলাইন লেনদেনে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে। এ নির্দেশনা পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাত ১১টার পর থেকে কয়েকটি ব্যাংক তাদের এটিএম বুথের সার্ভার বন্ধ রাখে। ফলে ওই দিন টাকা তুলতে পারেননি গ্রাহকরা।

ধানমন্ডি এলাকার কয়েকজন গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত ১১টার পর থেকে ধানমন্ডি এলাকার একটি ব্যাংকের কোনো এটিএম বুথ থেকেই টাকা তোলা সম্ভব হয়নি। পরে তিনি শুক্রবার সকালে টাকা তুলেছেন। বেশির ভাগ এটিএম বুথ সন্ধ্যার পর থেকে একটি মেশিন চালু রেখে বাকিগুলো বন্ধ রাখছেন। যেটি চালু থাকছে সেটির ওপর কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে। কারা এটিএম বুথ ব্যবহার করছেন সেগুলোর রেকর্ডও রাখা হচ্ছে। কুড়িল এলাকায় একটি ব্যাংকের এটিএম বুথেও সন্ধ্যা ৭টার পর একটি মেশিন ছাড়া বাকি সব বন্ধ রাখতে দেখা গেছে। সবচেয়ে বেশি এটিএম বুথের নেটওয়ার্ক রয়েছে এমন তিনটি ব্যাংক ব্যাপক সতর্কতা অবলম্বন করেছে।

এ প্রসঙ্গে সার্ট প্রকল্প পরিচালক তারেক এম বরকতউল্লাহ বলেন, ভাইরাসটি কিভাবে ক্লিন করতে হবে সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে। তারা সেভাবে কাজ করছে। কোনো সমস্যা হলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে।

সূত্র জানায়, সরকারের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থাকেও সাইবার হামলার আশঙ্কার বিষয়টি জানানো হয়েছে। ফলে তারাও সতর্ক রয়েছেন। এটিএম বুথগুলোতেও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোয় কর্মরত প্রধান তথ্যপ্রযুক্তি কর্মকর্তাদের সংগঠন সিটিও ফোরামের আহ্বায়ক তপন কান্তি সরকার বলেন, ব্যাংকিং খাত এখন প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে পড়েছে। বোতাম টিপেই সব সেবা পাওয়া যাচ্ছে। বোতাম টিপেই টাকা তোলা যাচ্ছে, আবার স্থানান্তরও করা যাচ্ছে। আর্থিক খাতের সেবা সহজলভ্য হওয়ায় ঝুঁকির মাত্রাও বেড়েছে। অনলাইনে সব সময়ই নানা ধরনের ভাইরাস ঘুরে বেড়ায়। এগুলো প্রতিরোধ করতে ব্যাংকগুলোতে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ যেমন বাড়াতে হবে, তেমনি দক্ষ জনবল নিয়োগ করতে হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সাইবার হামলার শঙ্কায় এটিএম বুথের সেবা সীমিত

আপডেট সময় ১১:৩৪:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আর্থিক খাতে সাইবার হামলার আশঙ্কায় ব্যাংকগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সীমিত করা হয়েছে অনলাইন লেনদেন ও এটিএম বুথের সেবা। বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি।

প্রতিটি ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের কর্মকর্তারাও সতর্ক রয়েছেন। যে কোনো প্রয়োজনে যোগাযোগ করছেন সরকারের ই-গভর্নমেন্ট কম্পিউটার ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিমের (সার্ট) সঙ্গে। সার্টের কর্মকর্তারাও তাদের সাইবার ল্যাবে সার্বক্ষণিকভাবে ‘ক্যাসাব্ল্যাঙ্কা’ নামের ম্যালওয়্যার ভাইরাসের ওপর নজর রাখছেন। এখন পর্যন্ত ভাইরাসটি পুরোপুরি সরিয়ে ফেলা সম্ভব না হলেও এটি কোনো অঘটন ঘটাতে পারেনি। তবে কিছু প্রতিষ্ঠানের ডাটা চুরি করেছে।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশের আর্থিক ও সরকারি খাতের ১৯টি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবপেইজে ‘ক্যাসাব্ল্যাঙ্কা’ নামের একটি ম্যালওয়্যারের সন্ধান পাওয়ার পরই এর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

সার্টের এই বার্তা পাওয়ার পরই ব্যাংকগুলো তাদের প্রতিটি শাখা ও এটিএম বুথের প্রধানকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে চিঠি দিয়েছে। একই সঙ্গে অনলাইন লেনদেনে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে। এ নির্দেশনা পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাত ১১টার পর থেকে কয়েকটি ব্যাংক তাদের এটিএম বুথের সার্ভার বন্ধ রাখে। ফলে ওই দিন টাকা তুলতে পারেননি গ্রাহকরা।

ধানমন্ডি এলাকার কয়েকজন গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত ১১টার পর থেকে ধানমন্ডি এলাকার একটি ব্যাংকের কোনো এটিএম বুথ থেকেই টাকা তোলা সম্ভব হয়নি। পরে তিনি শুক্রবার সকালে টাকা তুলেছেন। বেশির ভাগ এটিএম বুথ সন্ধ্যার পর থেকে একটি মেশিন চালু রেখে বাকিগুলো বন্ধ রাখছেন। যেটি চালু থাকছে সেটির ওপর কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে। কারা এটিএম বুথ ব্যবহার করছেন সেগুলোর রেকর্ডও রাখা হচ্ছে। কুড়িল এলাকায় একটি ব্যাংকের এটিএম বুথেও সন্ধ্যা ৭টার পর একটি মেশিন ছাড়া বাকি সব বন্ধ রাখতে দেখা গেছে। সবচেয়ে বেশি এটিএম বুথের নেটওয়ার্ক রয়েছে এমন তিনটি ব্যাংক ব্যাপক সতর্কতা অবলম্বন করেছে।

এ প্রসঙ্গে সার্ট প্রকল্প পরিচালক তারেক এম বরকতউল্লাহ বলেন, ভাইরাসটি কিভাবে ক্লিন করতে হবে সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে। তারা সেভাবে কাজ করছে। কোনো সমস্যা হলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে।

সূত্র জানায়, সরকারের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থাকেও সাইবার হামলার আশঙ্কার বিষয়টি জানানো হয়েছে। ফলে তারাও সতর্ক রয়েছেন। এটিএম বুথগুলোতেও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোয় কর্মরত প্রধান তথ্যপ্রযুক্তি কর্মকর্তাদের সংগঠন সিটিও ফোরামের আহ্বায়ক তপন কান্তি সরকার বলেন, ব্যাংকিং খাত এখন প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে পড়েছে। বোতাম টিপেই সব সেবা পাওয়া যাচ্ছে। বোতাম টিপেই টাকা তোলা যাচ্ছে, আবার স্থানান্তরও করা যাচ্ছে। আর্থিক খাতের সেবা সহজলভ্য হওয়ায় ঝুঁকির মাত্রাও বেড়েছে। অনলাইনে সব সময়ই নানা ধরনের ভাইরাস ঘুরে বেড়ায়। এগুলো প্রতিরোধ করতে ব্যাংকগুলোতে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ যেমন বাড়াতে হবে, তেমনি দক্ষ জনবল নিয়োগ করতে হবে।