ঢাকা ০৫:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জামায়াত থেকে বের হয়ে এনসিপি স্বতন্ত্র রাজনীতি না করলে নতুন বন্দোবস্তের আশা পুরোপুরি শেষ: রাশেদ ২৫ হজার মিডওয়াইফ নিয়োগ দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দেবে সরকার: কৃষিমন্ত্রী জয়পুরহাট সীমান্তে তিনজনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় পণ্ড মেয়েকে হত্যা করে বস্তাবন্দি করলেন বাবা-মা, নেপথ্যে ‘একাধিক ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক’ বালুর ব্যবসা বন্ধ করেছি, এবার পাহাড় কাটাও বন্ধ করব: হুমাম খুলনার তরুণীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার, মেয়েকে হত্যার বর্ণনা দিলেন মা ইসরাইলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা যুক্তরাজ্যের হবু প্রধানমন্ত্রীর শাহজালাল (রহ.)’র মাজারের দানবাক্সে টাকার স্তুপ, চলছে গণনা জেলা-উপজেলা হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

শুধু ব্যবসায়ীদের দিক নয়, গবেষণায় নজর দিন

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

শুধুমাত্র ব্যবসায়ীদের দিকে নয় গবেষণায় দিকে নজর দিতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা এবং ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

সোমবার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র কর্তৃক বাংলাদেশে নতুন অনন্য SARS-CoV-2 ভেরিয়েন্টে শনাক্ত বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, একটা অনুরোধ করছি সরকারকে, শুধুমাত্র ব্যবসায়ীদের দিকে নজর না দিয়ে গবেষণার দিকে নজর দিন। গবেষণার দিকে নজর দিলে করোনা ভাইরাস বিষয়ে ব্যাপক আকারে গবেষণা করা যাবে। বাংলাদেশের তরুণ গবেষকরা যতগুলো ভ্যাকসিনের নাম শুনেছেন সবগুলো ভ্যাকসিন ছয় মাসের মধ্যে তৈরি করতে পারবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের ৪৩ বিলিয়ন ডলার মজুদ রয়েছে। একটা অত্যন্ত ভালো খবর। এ টাকা যেন ব্যবসায়ীরা খেয়ে না ফেলে। সেই জন্য প্রতিবার সরকারকে অনুরোধ করছি মাত্র হাফ বিলিয়ন ডলার, জনপ্রতি মাত্র তিন ডলার সরকার গবেষণার জন্য বিনিয়োগ করুক। আমাদের প্রতিটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা করতে পারবে। তাদের গবেষণার সুযোগটা করে দিতে হবে। রাষ্ট্রের প্রতিটা মানুষের মঙ্গলার্থে এ গবেষণা করা প্রয়োজন। এজন্য আমরা বলছি কোয়ার্টার বিলিয়ন গবেষণার কাজে, বাকি কোয়াটার ভ্যাকসিন উৎপাদনে ব্যয় করা হবে। বিদেশ থেকেও আমরা গবেষক আনতে পারি। বর্তমান সময়ে বাজারে যতগুলো ভ্যাকসিন রয়েছে তার সবগুলোই আমরা ছয় মাসে তৈরি করতে পারি।

গণস্বাস্থ্য-আরএনএ মলিকুলার ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের দক্ষ গবেষকরা প্রাপ্ত ক্লিনিক্যাল নমুনা থেকে সার্স কোভ -২ ভেরিয়েন্টের সম্পূর্ণ জিনোম সিকোয়েন্স করেছেন।

মতবিনিময় সভায় গবেষকরা বলেন, বাংলাদেশে দক্ষিণ আফ্রিকার করোনা ভাইরাস সদৃশ্য (E484K) মিউটেশন পাওয়া গিয়েছে। মিউটেশন যেকোনো ভাইরাসের সাধারণ একটি বৈশিষ্ট্য। ভাইরাস প্রতিনিয়ত এর বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করে। করোনা ভাইরাস প্রতিনিয়ত এর বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করার চেষ্টা করবে। একই সঙ্গে ভাইরাস উৎপাদনকারি কোম্পানিগুলোকেও করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিনের চরিত্র পরিবর্তন করতে হবে।

গবেষকরা আরও জানান, সরকারের কাছে আমাদের অনুরোধ যত দ্রুত সম্ভব ভ্যাক্সিনেশন অতি দ্রুত শেষ করার। যত দ্রুত আমরা জনগণকে টিকা দিতে পারবো তত তাড়াতাড়ি করোনা জনিত রোগ ছড়িয়ে পড়া বাধাগ্রস্ত হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে করোনার মারাত্মক কোনো মিউটেশনের বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করতে পারবো।

মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন গণস্বাস্থ্য সামাজিক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নেফ্রোলজি বিভাগের প্রধান ডা. অধ্যাপক মামুন মোস্তাফী, বিভাগীয় প্রধান মাইক্রোবায়োলজি ড. মাহবুবুর রহমান, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রায়েদ জমিরউদ্দিন, বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডক্টর নীহাদ আদনান, গণস্বাস্থ্যের করোনা কিটের সমন্বয়ক এবং মেডিক্যাল কলেজের উপাধ্যক্ষ ড. মুহিব উল্লাহ খোন্দকার, গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে আইসিইউ প্রধান অধ্যাপক নজিব মোহাম্মদ, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রেস উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জামায়াত থেকে বের হয়ে এনসিপি স্বতন্ত্র রাজনীতি না করলে নতুন বন্দোবস্তের আশা পুরোপুরি শেষ: রাশেদ

শুধু ব্যবসায়ীদের দিক নয়, গবেষণায় নজর দিন

আপডেট সময় ০৪:০২:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

শুধুমাত্র ব্যবসায়ীদের দিকে নয় গবেষণায় দিকে নজর দিতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা এবং ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

সোমবার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র কর্তৃক বাংলাদেশে নতুন অনন্য SARS-CoV-2 ভেরিয়েন্টে শনাক্ত বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, একটা অনুরোধ করছি সরকারকে, শুধুমাত্র ব্যবসায়ীদের দিকে নজর না দিয়ে গবেষণার দিকে নজর দিন। গবেষণার দিকে নজর দিলে করোনা ভাইরাস বিষয়ে ব্যাপক আকারে গবেষণা করা যাবে। বাংলাদেশের তরুণ গবেষকরা যতগুলো ভ্যাকসিনের নাম শুনেছেন সবগুলো ভ্যাকসিন ছয় মাসের মধ্যে তৈরি করতে পারবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের ৪৩ বিলিয়ন ডলার মজুদ রয়েছে। একটা অত্যন্ত ভালো খবর। এ টাকা যেন ব্যবসায়ীরা খেয়ে না ফেলে। সেই জন্য প্রতিবার সরকারকে অনুরোধ করছি মাত্র হাফ বিলিয়ন ডলার, জনপ্রতি মাত্র তিন ডলার সরকার গবেষণার জন্য বিনিয়োগ করুক। আমাদের প্রতিটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা করতে পারবে। তাদের গবেষণার সুযোগটা করে দিতে হবে। রাষ্ট্রের প্রতিটা মানুষের মঙ্গলার্থে এ গবেষণা করা প্রয়োজন। এজন্য আমরা বলছি কোয়ার্টার বিলিয়ন গবেষণার কাজে, বাকি কোয়াটার ভ্যাকসিন উৎপাদনে ব্যয় করা হবে। বিদেশ থেকেও আমরা গবেষক আনতে পারি। বর্তমান সময়ে বাজারে যতগুলো ভ্যাকসিন রয়েছে তার সবগুলোই আমরা ছয় মাসে তৈরি করতে পারি।

গণস্বাস্থ্য-আরএনএ মলিকুলার ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের দক্ষ গবেষকরা প্রাপ্ত ক্লিনিক্যাল নমুনা থেকে সার্স কোভ -২ ভেরিয়েন্টের সম্পূর্ণ জিনোম সিকোয়েন্স করেছেন।

মতবিনিময় সভায় গবেষকরা বলেন, বাংলাদেশে দক্ষিণ আফ্রিকার করোনা ভাইরাস সদৃশ্য (E484K) মিউটেশন পাওয়া গিয়েছে। মিউটেশন যেকোনো ভাইরাসের সাধারণ একটি বৈশিষ্ট্য। ভাইরাস প্রতিনিয়ত এর বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করে। করোনা ভাইরাস প্রতিনিয়ত এর বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করার চেষ্টা করবে। একই সঙ্গে ভাইরাস উৎপাদনকারি কোম্পানিগুলোকেও করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিনের চরিত্র পরিবর্তন করতে হবে।

গবেষকরা আরও জানান, সরকারের কাছে আমাদের অনুরোধ যত দ্রুত সম্ভব ভ্যাক্সিনেশন অতি দ্রুত শেষ করার। যত দ্রুত আমরা জনগণকে টিকা দিতে পারবো তত তাড়াতাড়ি করোনা জনিত রোগ ছড়িয়ে পড়া বাধাগ্রস্ত হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে করোনার মারাত্মক কোনো মিউটেশনের বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করতে পারবো।

মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন গণস্বাস্থ্য সামাজিক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নেফ্রোলজি বিভাগের প্রধান ডা. অধ্যাপক মামুন মোস্তাফী, বিভাগীয় প্রধান মাইক্রোবায়োলজি ড. মাহবুবুর রহমান, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রায়েদ জমিরউদ্দিন, বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডক্টর নীহাদ আদনান, গণস্বাস্থ্যের করোনা কিটের সমন্বয়ক এবং মেডিক্যাল কলেজের উপাধ্যক্ষ ড. মুহিব উল্লাহ খোন্দকার, গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে আইসিইউ প্রধান অধ্যাপক নজিব মোহাম্মদ, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রেস উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু।