ঢাকা ১১:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শাশুড়ির পরকীয়ার কথা ফাঁস করে বিপাকে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাগেরহাটে শাশুড়ির পরকীয়ার কথা স্বামীকে জানিয়ে বিপাকে পড়েছেন সাদিয়া আকতার মান্নি (১৯) নামে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূ। তার কথা বিশ্বাস না করে, উল্টো স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন মিলে তাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

খুলনার আযম খান সরকারি কমার্স কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী মান্নির পরিবারের অভিযোগ, চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার রনসেন গ্রামের আশিকুর রহমান সোহানের সঙ্গে মান্নির বিয়ে হয়। বিয়ের তিন মাস পর মান্নি জানতে পারেন যে তার শাশুড়ি পরকীয়ায় আসক্ত। ঘটনাটি স্বামীকে জানালে, তিনি তা বিশ্বাস করেননি। আর মায়ের বিরুদ্ধে বলায় সোহান ক্ষিপ্ত হয়ে মান্নির ওপর শুরু করেন অত্যাচার নির্যাতন। এরপর মান্নি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে নির্যাতন বেড়ে যায়। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে মান্নির পরিবার বাগেরহাট লিগ্যাল এইডে বিচার চেয়ে আবেদন করে। সেখানে স্ত্রী হিসেবে মান্নিকে মেনে নেবেন না জানিয়ে চলে যান সোহান।

পরদিন ৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় মান্নির বাড়িতে আসেন সোহান ও তার পরিবারের লোকজন। এসময় মান্নির মা অতিথি আপ্যায়নে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এ সুযোগে ঘরের বারান্দায় গিয়ে মান্নিকে পিটিয়ে ও মাথায় কোপ দিয়ে পালিয়ে যান তারা। এরপর মান্নিরে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

মান্নির মা সাকিরা বেগম বলেন, আমরা দু’পক্ষের আলোচনার ভিত্তিতে পারিবারিক আনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মান্নির বিয়ে দিয়েছি। সামান্য ঘটনা নিয়ে এ রকম আমার মেয়ে ওপর হামলা করবে, তা কখনো বুঝতে পারিনি। মান্নির গর্ভে একটি সন্তান রয়েছে। আমি মা হিসেবে মেয়ের ওপর হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

সাদিয়া আকতার মান্নি বলেন, বিয়ের দু’মাস পরই শাশুড়ির পরকীয়ার বিষয়টি জানতে পারি। তখন আমার স্বামীকে জানালে সে আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়। বিষয়টি শোনার পর থেকেই আমার ওপর শাশুড়ি ও স্বামী দু’জনই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছেন। অনেক সময় মুখ বুঝে সহ্য করেছি। কিন্তু নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে পরিবারকে জানাই। ঘটনার দিন আমি কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই মারধর শুরু করে তারা। আমি এর বিচার চাই।

বাগেরহাট সদর হাসপাতালের জুনিয়র কনসালট্যান্ট (সার্জারি) ডা. মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, সাদিয়া আকতার মান্নি বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত। তার গর্ভের সন্তান কেমন আছে, আমরা পরীক্ষা নিরীক্ষা করছি।

বাগেরহাট পুলিশ সুপার পঙ্কজ চন্দ্র বলেন, আহত গৃহবধূর পরিবার থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শাশুড়ির পরকীয়ার কথা ফাঁস করে বিপাকে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ

আপডেট সময় ০৭:২৭:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাগেরহাটে শাশুড়ির পরকীয়ার কথা স্বামীকে জানিয়ে বিপাকে পড়েছেন সাদিয়া আকতার মান্নি (১৯) নামে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূ। তার কথা বিশ্বাস না করে, উল্টো স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন মিলে তাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

খুলনার আযম খান সরকারি কমার্স কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী মান্নির পরিবারের অভিযোগ, চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার রনসেন গ্রামের আশিকুর রহমান সোহানের সঙ্গে মান্নির বিয়ে হয়। বিয়ের তিন মাস পর মান্নি জানতে পারেন যে তার শাশুড়ি পরকীয়ায় আসক্ত। ঘটনাটি স্বামীকে জানালে, তিনি তা বিশ্বাস করেননি। আর মায়ের বিরুদ্ধে বলায় সোহান ক্ষিপ্ত হয়ে মান্নির ওপর শুরু করেন অত্যাচার নির্যাতন। এরপর মান্নি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে নির্যাতন বেড়ে যায়। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে মান্নির পরিবার বাগেরহাট লিগ্যাল এইডে বিচার চেয়ে আবেদন করে। সেখানে স্ত্রী হিসেবে মান্নিকে মেনে নেবেন না জানিয়ে চলে যান সোহান।

পরদিন ৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় মান্নির বাড়িতে আসেন সোহান ও তার পরিবারের লোকজন। এসময় মান্নির মা অতিথি আপ্যায়নে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এ সুযোগে ঘরের বারান্দায় গিয়ে মান্নিকে পিটিয়ে ও মাথায় কোপ দিয়ে পালিয়ে যান তারা। এরপর মান্নিরে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

মান্নির মা সাকিরা বেগম বলেন, আমরা দু’পক্ষের আলোচনার ভিত্তিতে পারিবারিক আনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মান্নির বিয়ে দিয়েছি। সামান্য ঘটনা নিয়ে এ রকম আমার মেয়ে ওপর হামলা করবে, তা কখনো বুঝতে পারিনি। মান্নির গর্ভে একটি সন্তান রয়েছে। আমি মা হিসেবে মেয়ের ওপর হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

সাদিয়া আকতার মান্নি বলেন, বিয়ের দু’মাস পরই শাশুড়ির পরকীয়ার বিষয়টি জানতে পারি। তখন আমার স্বামীকে জানালে সে আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়। বিষয়টি শোনার পর থেকেই আমার ওপর শাশুড়ি ও স্বামী দু’জনই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছেন। অনেক সময় মুখ বুঝে সহ্য করেছি। কিন্তু নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে পরিবারকে জানাই। ঘটনার দিন আমি কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই মারধর শুরু করে তারা। আমি এর বিচার চাই।

বাগেরহাট সদর হাসপাতালের জুনিয়র কনসালট্যান্ট (সার্জারি) ডা. মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, সাদিয়া আকতার মান্নি বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত। তার গর্ভের সন্তান কেমন আছে, আমরা পরীক্ষা নিরীক্ষা করছি।

বাগেরহাট পুলিশ সুপার পঙ্কজ চন্দ্র বলেন, আহত গৃহবধূর পরিবার থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।