ঢাকা ০৭:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অতীতের ভুল থেকে বেরিয়ে মানসম্মত পাঠ্যবই তৈরির আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় সংসদ সদস্যদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: স্পিকার ‘বন্যা কবলিত মানুষের পুনর্বাসনে রাষ্ট্রকে দায়িত্ব নিতে হবে’:গাজী আতাউর রহমান ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত সরকারের মোট ঋণ ২২ লাখ ৬ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা : অর্থমন্ত্রী বেড়িবাঁধের বরাদ্দে দুর্নীতি হতে দেওয়া হবে না: নাহিদ ইসলাম ডিএসইর লেনদেন ১৬৬৯ কোটি টাকা ছাড়াল সাত জেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখ মানুষ, মৃত্যু ৫১ ভাঙ্গায় প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা: মামলা হয়নি, ব্রেক ফেলকেই কারণ বলছে পুলিশ জলাবদ্ধ মানুষের জীবন-সম্পদ রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সমন্বয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

‘এবার রাশিয়ার শহর নিজেদের দাবি, ক্রমেই বিপদ ডেকে আনছে চীন’

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:   

অতি আগ্রাসী হতে গিয়ে ক্রমে নিজের বিপদ ডেকে আনছে চীন। এবার রাশিয়ার ভ্লাদিভোস্টক শহর নিজেদের বলে দাবি করেছে বেইজিং। স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি যে মস্কো মোটেও ভাল চোখে দেখছে না, তা বলাই বাহুল্য।

ভারতীয় গণমাধ্যম বলছে, গতকাল শুক্রবার ভ্লাদিভোস্টক শহরের ১৬০তম বর্ষপূর্তিতে চীনা মাইক্রোব্লগিং ওয়েবসাইট Weibo-তে অনুষ্ঠানের ভিডিও পোস্ট করে বেইজিংয়ের রুশ দূতাবাস। আর তা নিয়ে আপত্তি তোলেন চীনা কূটনীতিকদের একাংশ। তাদের সমর্থন করেন চীনা সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীরাও। চীনা কুটনীতিকদের বক্তব্য, ভ্লাদিভোস্টক শহরের আদি নাম ছিল ‘হাইশেনওয়াই’ (Haishenwai)। কুইং সাম্রাজ্যের আমলে এই শহরটি চীনের অংশ ছিল। তারপর, ইউরোপে শিল্প বিপ্লব ঘটায় শুরু হয় উপনিবেশ স্থাপনের লড়াই। ফলে বিশ্ব মানচিত্রে ঘটে যায় বড়সড় রদবদল। চীন দখল করতে লড়াই শুরু করে ব্রিটেন ও ফ্রান্স। দ্বিতীয় আফিম যুদ্ধে (Second Opium War) চীনের পরাজয়ের পর ১৮৬০ সালে ভ্লাদিভোস্টক শহর দখল করে রাশিয়া (Russia)।

এদিকে, রুশ দূতাবাসের ভিডিওটি নিয়ে চীনা সরকার নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যমের এক কর্মী শেন শিওয়েই বলেন, “১৮৬০ সালে ভ্লাদিভোস্টক শহরে সামরিক বন্দর তৈরি করে রাশিয়া। কিন্তু ওই শহরটি আসলে হাইশেনওয়াই। অসমান বেজিং চুক্তির ফলে চীনের ওই শহরটি হাতিয়ে নেয় রাশিয়া। তাই Weibo-তে অনুষ্ঠানের ভিডিও কাম্য নয়।”

উল্লেখ্য, বেইজিংয়ের অনুমতি ছাড়া কোনও চীনা কূটনীতিক নিজের নাম পর্যন্ত বলেন না। সে ক্ষেত্রে ভ্লাদিভোস্টক নিয়ে বিতর্ক উসকে কী আদায় করত চাইছে চীন? বিশ্লেষকদের মতে, সম্প্রতি লাদাখ নিয়ে ভারতের সঙ্গে সংঘর্ষের আবহে নয়াদিল্লীকে অস্ত্র জোগান দিচ্ছে মস্কো। ফলে চিন্তা বেড়েছে লালফৌজের। তাই ‘হাইশেনওয়াই’ শহরের কথা তুলে মস্কোর উপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে শি জিন পিং প্রশাসন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অতীতের ভুল থেকে বেরিয়ে মানসম্মত পাঠ্যবই তৈরির আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর

‘এবার রাশিয়ার শহর নিজেদের দাবি, ক্রমেই বিপদ ডেকে আনছে চীন’

আপডেট সময় ০৮:৫৩:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২০

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:   

অতি আগ্রাসী হতে গিয়ে ক্রমে নিজের বিপদ ডেকে আনছে চীন। এবার রাশিয়ার ভ্লাদিভোস্টক শহর নিজেদের বলে দাবি করেছে বেইজিং। স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি যে মস্কো মোটেও ভাল চোখে দেখছে না, তা বলাই বাহুল্য।

ভারতীয় গণমাধ্যম বলছে, গতকাল শুক্রবার ভ্লাদিভোস্টক শহরের ১৬০তম বর্ষপূর্তিতে চীনা মাইক্রোব্লগিং ওয়েবসাইট Weibo-তে অনুষ্ঠানের ভিডিও পোস্ট করে বেইজিংয়ের রুশ দূতাবাস। আর তা নিয়ে আপত্তি তোলেন চীনা কূটনীতিকদের একাংশ। তাদের সমর্থন করেন চীনা সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীরাও। চীনা কুটনীতিকদের বক্তব্য, ভ্লাদিভোস্টক শহরের আদি নাম ছিল ‘হাইশেনওয়াই’ (Haishenwai)। কুইং সাম্রাজ্যের আমলে এই শহরটি চীনের অংশ ছিল। তারপর, ইউরোপে শিল্প বিপ্লব ঘটায় শুরু হয় উপনিবেশ স্থাপনের লড়াই। ফলে বিশ্ব মানচিত্রে ঘটে যায় বড়সড় রদবদল। চীন দখল করতে লড়াই শুরু করে ব্রিটেন ও ফ্রান্স। দ্বিতীয় আফিম যুদ্ধে (Second Opium War) চীনের পরাজয়ের পর ১৮৬০ সালে ভ্লাদিভোস্টক শহর দখল করে রাশিয়া (Russia)।

এদিকে, রুশ দূতাবাসের ভিডিওটি নিয়ে চীনা সরকার নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যমের এক কর্মী শেন শিওয়েই বলেন, “১৮৬০ সালে ভ্লাদিভোস্টক শহরে সামরিক বন্দর তৈরি করে রাশিয়া। কিন্তু ওই শহরটি আসলে হাইশেনওয়াই। অসমান বেজিং চুক্তির ফলে চীনের ওই শহরটি হাতিয়ে নেয় রাশিয়া। তাই Weibo-তে অনুষ্ঠানের ভিডিও কাম্য নয়।”

উল্লেখ্য, বেইজিংয়ের অনুমতি ছাড়া কোনও চীনা কূটনীতিক নিজের নাম পর্যন্ত বলেন না। সে ক্ষেত্রে ভ্লাদিভোস্টক নিয়ে বিতর্ক উসকে কী আদায় করত চাইছে চীন? বিশ্লেষকদের মতে, সম্প্রতি লাদাখ নিয়ে ভারতের সঙ্গে সংঘর্ষের আবহে নয়াদিল্লীকে অস্ত্র জোগান দিচ্ছে মস্কো। ফলে চিন্তা বেড়েছে লালফৌজের। তাই ‘হাইশেনওয়াই’ শহরের কথা তুলে মস্কোর উপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে শি জিন পিং প্রশাসন।