ঢাকা ০৪:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জামায়াত থেকে বের হয়ে এনসিপি স্বতন্ত্র রাজনীতি না করলে নতুন বন্দোবস্তের আশা পুরোপুরি শেষ: রাশেদ ২৫ হজার মিডওয়াইফ নিয়োগ দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দেবে সরকার: কৃষিমন্ত্রী জয়পুরহাট সীমান্তে তিনজনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় পণ্ড মেয়েকে হত্যা করে বস্তাবন্দি করলেন বাবা-মা, নেপথ্যে ‘একাধিক ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক’ বালুর ব্যবসা বন্ধ করেছি, এবার পাহাড় কাটাও বন্ধ করব: হুমাম খুলনার তরুণীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার, মেয়েকে হত্যার বর্ণনা দিলেন মা ইসরাইলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা যুক্তরাজ্যের হবু প্রধানমন্ত্রীর জেলা-উপজেলা হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ইরানের দিকে ১ হাজার ক্ষেপণাস্ত্র তাক করা আছে: ট্রাম্প

তারেক-মামুনের একান্ত সহযোগী স্বাস্থ্যখাতের মাফিয়া ডন মিঠুর প্রধান অস্ত্র নারী

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

স্বাস্থ্যখাতের মাফিয়া ডন, গডফাদার- যে বিশেষণেই তাকে ডাকা হোক, মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠু এখন আলোচিত নাম। মিঠু সিন্ডিকেটের একক আধিপত্যে স্বাস্থ্যখাত প্রায় ধ্বংসের মুখে। স্বাস্থ্যখাতে মিঠুর দুর্নীতি নিয়ে আলোচনা গণমাধ্যমে এখন প্রতিদিনই হচ্ছে। সেই দুর্নীতির ফিরিস্তি প্রধানমন্ত্রীর টেবিল হয়ে এখন দুদকে। এতদিন পর তাকে তলবও করা হয়েছে। আওয়ামীলীগের আমলে মাথাচড়া দিয়ে উঠা মিঠুর আধিপত্য শুরু হয়েছে বিএনপির আমল থেকেই। তবে তখন তিনি চুনোপুঁটি ছিলেন। তারেক জিয়ার জুনিয়র চামচা হিসেবে কাজ শুরু করেন। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর হাওয়া ভবন প্রতিষ্ঠিত হয়। হাওয়া ভবনের বিভিন্ন ব্যবসায়ী টাকাওয়ালা ব্যক্তিদের এন্টারটেইন করার জন্য তারেক জিয়ার বন্ধু গিয়াস উদ্দিন আল মামুন গাজীপুরে একটি বাগান বাড়ি তৈরী করেন। সেই বাড়িটির নাম ছিলো খেয়াব ভবন। এই খোয়াব ভবনে অনেক বড় বড় দেশি বিদেশি শিল্পী গায়িকাদের মজমা মিলতো। সেখানে আনন্দ ফূর্তিসহ নানা রকম অনৈতিক কাজ হতো। এই আনন্দ ফূর্তিতে শোবিজের অনেককে জোগান দিতেন মিঠু।

মিঠু তখন থেকে ডানা মেলতে শুরু করেন। গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের সহযোগিতায় তারেকের নির্দেশেই তিনি এই কাজ করতেন। এভাবেই দেশি বিদেশি বিনোদনীদের সঙ্গে মিঠুর সখ্যতা বাড়তে থাকে। মিঠুর দিন যখন এভাবেই কাটছিলো তখন বিএনপি সরকার পতন। মিঠু ঘাপটি মেরে বসে থাকে।আস্তে আস্তে মিঠু আওয়ামী লীগ বনে যান। যদিও মিঠু কখনোই আওয়ামী লীগের কিছু হয়ে উঠেনি। এত টাকা থাকতেও একটা পদ নেওয়ার চেষ্টা করেনি আওয়ামী লীগের। মিঠু ঠিকই তারেক জিয়ার আদর্শ ধারণ করতো। সেই আদর্শের পথ ধরেই মিঠু নতুন ফন্দি আটা শুরু করলেন।

তারেক জিয়া- গিয়াস উদ্দিন আল মামুন যেটা করতেন- দেশের শীর্ষস্থানীয় অনেক কর্মকর্তাদের নিয়ে যেতেন তাদের খোয়াব ভবনে। কেউ লোভ ও লালসায় যেতেন, কেউবা ভয়ে। সেখানে নারীদের সঙ্গে আনন্দ ফূর্তির বিভিন্ন মুহূর্ত রেকর্ড করে রাখা হতো। আর সেটাই হতো ব্যবসায়ী বা বড় বড় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের জব্দ করার সহজ উপায়।

মিঠুও সেই পথে হাঁটলেন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পান শাহ মুনির। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী এই মানুষের সঙ্গে সুবিধা করতে পারেননি মিঠু। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে তিরোহিত হতে হয় মিঠুর। তাকে সরানোর নানা ফন্দি আটেন। শাহ মুনির যখন মহাপরিচালকের পদ থেকে সরে যান, তখনই মিঠুর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে একক আধিপত্য বিস্তার শুরু। দ্বীন মোহাম্মদ নুরুল হকসহ আওয়ামীপন্থী অনেকেই তখন স্বাস্থ্যের মহাপরিচালক হওয়ার দৌড়ে। কিন্তু সবাইকে পেছনে ফেলে মহাপরিচালকের দায়িত্ব করায়ত করেন বিএনপিপন্থী একজন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শাহ মুনিরের পরই মিঠুর একক দৌরাত্ম্য বাড়তে থাকে। আর তার কারণ মহাপরিচালককে বশ করা। মহাপরিচালককে নানা সুবিধা দিতে থাকে মিঠু বাহিনী। এর মধ্যে অন্যতম ছিলো নারীসঙ্গ। খোয়াব ভবনের মতো করেই মিঠু গুলশান বনানীতে তিনটি স্থানে তিনটি ফ্ল্যাট নেন। এই ফ্ল্যাটগুলো বানানো হলো রঙ্গশালা।সেখানে বিভিন্ন উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে যাওয়া হতো।সেখানে ওই মহাপরিচালকের ছিলো নিয়মিত যাতায়াত। আর কানাঘুষা আছে, ওই মহাপরিচালককে মিঠু একটি বিয়েও করিয়ে দিয়েছে। দেশের তখনকার অনেক বড় বড় মডেল সুন্দরীরা সেখানে সার্ভিসের জন্য যেতেন। মিঠু এই সুযোগে সেসব ভিডিও করে রাখতেন। আর ওই ভিডিও অস্ত্র দিয়ে ডিজিকে ব্ল্যাক মেইলিং শুরু হলো। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজিসহ অনেকেই তখন মিঠুর হাতের পুতুলে পরিণত হয়।  সেই ব্ল্যাক মেইলিংয়ের জের ধরেই দেশের স্বাস্থ্যখাতের একটি বড় অংশ তার অধীনে চলে যায়।

এই সময় মিঠু কোথাও মেশিন না দিয়ে টাকা নিতো। জার্মানির মেশিন বলে চাইনিজ মেশিন দিতেন। ওই ডিজি মিঠুর দেওয়া সব ফাইল অন্ধের মতো সই করতেন।

মিঠু শুধু মহাপরিচালক নন, এক মন্ত্রী ও তার ছেলেকেও বশ করেন। এভাবেই মিঠু বনে যান স্বাস্থ্যখাতের মাফিয়া। মিঠুর পরবর্তীতে উত্থান এবং ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাওয়ার অন্যতম অস্ত্র এই ব্ল্যাকমেইলিং। মিঠুর ঢাকা শহরে একাধিক রঙ্গশালা আছে বলে জানা যায়। আর মিঠু যাকেই টার্গেট করে তাকেই ওখানে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে। আর মিঠুকে এতদিন ধরা হয়নি অনেক রাঘব বোয়ালের কারণে, কারণ কেউ আবার বিব্রত অবস্থায় না পড়ে যায়। অবশেষে দুদক তাকে তলব করলো। দেখা যাক, মিঠুর আরো কত কীর্তি প্রকাশ পায়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জামায়াত থেকে বের হয়ে এনসিপি স্বতন্ত্র রাজনীতি না করলে নতুন বন্দোবস্তের আশা পুরোপুরি শেষ: রাশেদ

তারেক-মামুনের একান্ত সহযোগী স্বাস্থ্যখাতের মাফিয়া ডন মিঠুর প্রধান অস্ত্র নারী

আপডেট সময় ০৯:৪৮:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

স্বাস্থ্যখাতের মাফিয়া ডন, গডফাদার- যে বিশেষণেই তাকে ডাকা হোক, মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠু এখন আলোচিত নাম। মিঠু সিন্ডিকেটের একক আধিপত্যে স্বাস্থ্যখাত প্রায় ধ্বংসের মুখে। স্বাস্থ্যখাতে মিঠুর দুর্নীতি নিয়ে আলোচনা গণমাধ্যমে এখন প্রতিদিনই হচ্ছে। সেই দুর্নীতির ফিরিস্তি প্রধানমন্ত্রীর টেবিল হয়ে এখন দুদকে। এতদিন পর তাকে তলবও করা হয়েছে। আওয়ামীলীগের আমলে মাথাচড়া দিয়ে উঠা মিঠুর আধিপত্য শুরু হয়েছে বিএনপির আমল থেকেই। তবে তখন তিনি চুনোপুঁটি ছিলেন। তারেক জিয়ার জুনিয়র চামচা হিসেবে কাজ শুরু করেন। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর হাওয়া ভবন প্রতিষ্ঠিত হয়। হাওয়া ভবনের বিভিন্ন ব্যবসায়ী টাকাওয়ালা ব্যক্তিদের এন্টারটেইন করার জন্য তারেক জিয়ার বন্ধু গিয়াস উদ্দিন আল মামুন গাজীপুরে একটি বাগান বাড়ি তৈরী করেন। সেই বাড়িটির নাম ছিলো খেয়াব ভবন। এই খোয়াব ভবনে অনেক বড় বড় দেশি বিদেশি শিল্পী গায়িকাদের মজমা মিলতো। সেখানে আনন্দ ফূর্তিসহ নানা রকম অনৈতিক কাজ হতো। এই আনন্দ ফূর্তিতে শোবিজের অনেককে জোগান দিতেন মিঠু।

মিঠু তখন থেকে ডানা মেলতে শুরু করেন। গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের সহযোগিতায় তারেকের নির্দেশেই তিনি এই কাজ করতেন। এভাবেই দেশি বিদেশি বিনোদনীদের সঙ্গে মিঠুর সখ্যতা বাড়তে থাকে। মিঠুর দিন যখন এভাবেই কাটছিলো তখন বিএনপি সরকার পতন। মিঠু ঘাপটি মেরে বসে থাকে।আস্তে আস্তে মিঠু আওয়ামী লীগ বনে যান। যদিও মিঠু কখনোই আওয়ামী লীগের কিছু হয়ে উঠেনি। এত টাকা থাকতেও একটা পদ নেওয়ার চেষ্টা করেনি আওয়ামী লীগের। মিঠু ঠিকই তারেক জিয়ার আদর্শ ধারণ করতো। সেই আদর্শের পথ ধরেই মিঠু নতুন ফন্দি আটা শুরু করলেন।

তারেক জিয়া- গিয়াস উদ্দিন আল মামুন যেটা করতেন- দেশের শীর্ষস্থানীয় অনেক কর্মকর্তাদের নিয়ে যেতেন তাদের খোয়াব ভবনে। কেউ লোভ ও লালসায় যেতেন, কেউবা ভয়ে। সেখানে নারীদের সঙ্গে আনন্দ ফূর্তির বিভিন্ন মুহূর্ত রেকর্ড করে রাখা হতো। আর সেটাই হতো ব্যবসায়ী বা বড় বড় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের জব্দ করার সহজ উপায়।

মিঠুও সেই পথে হাঁটলেন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পান শাহ মুনির। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী এই মানুষের সঙ্গে সুবিধা করতে পারেননি মিঠু। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে তিরোহিত হতে হয় মিঠুর। তাকে সরানোর নানা ফন্দি আটেন। শাহ মুনির যখন মহাপরিচালকের পদ থেকে সরে যান, তখনই মিঠুর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে একক আধিপত্য বিস্তার শুরু। দ্বীন মোহাম্মদ নুরুল হকসহ আওয়ামীপন্থী অনেকেই তখন স্বাস্থ্যের মহাপরিচালক হওয়ার দৌড়ে। কিন্তু সবাইকে পেছনে ফেলে মহাপরিচালকের দায়িত্ব করায়ত করেন বিএনপিপন্থী একজন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শাহ মুনিরের পরই মিঠুর একক দৌরাত্ম্য বাড়তে থাকে। আর তার কারণ মহাপরিচালককে বশ করা। মহাপরিচালককে নানা সুবিধা দিতে থাকে মিঠু বাহিনী। এর মধ্যে অন্যতম ছিলো নারীসঙ্গ। খোয়াব ভবনের মতো করেই মিঠু গুলশান বনানীতে তিনটি স্থানে তিনটি ফ্ল্যাট নেন। এই ফ্ল্যাটগুলো বানানো হলো রঙ্গশালা।সেখানে বিভিন্ন উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে যাওয়া হতো।সেখানে ওই মহাপরিচালকের ছিলো নিয়মিত যাতায়াত। আর কানাঘুষা আছে, ওই মহাপরিচালককে মিঠু একটি বিয়েও করিয়ে দিয়েছে। দেশের তখনকার অনেক বড় বড় মডেল সুন্দরীরা সেখানে সার্ভিসের জন্য যেতেন। মিঠু এই সুযোগে সেসব ভিডিও করে রাখতেন। আর ওই ভিডিও অস্ত্র দিয়ে ডিজিকে ব্ল্যাক মেইলিং শুরু হলো। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজিসহ অনেকেই তখন মিঠুর হাতের পুতুলে পরিণত হয়।  সেই ব্ল্যাক মেইলিংয়ের জের ধরেই দেশের স্বাস্থ্যখাতের একটি বড় অংশ তার অধীনে চলে যায়।

এই সময় মিঠু কোথাও মেশিন না দিয়ে টাকা নিতো। জার্মানির মেশিন বলে চাইনিজ মেশিন দিতেন। ওই ডিজি মিঠুর দেওয়া সব ফাইল অন্ধের মতো সই করতেন।

মিঠু শুধু মহাপরিচালক নন, এক মন্ত্রী ও তার ছেলেকেও বশ করেন। এভাবেই মিঠু বনে যান স্বাস্থ্যখাতের মাফিয়া। মিঠুর পরবর্তীতে উত্থান এবং ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাওয়ার অন্যতম অস্ত্র এই ব্ল্যাকমেইলিং। মিঠুর ঢাকা শহরে একাধিক রঙ্গশালা আছে বলে জানা যায়। আর মিঠু যাকেই টার্গেট করে তাকেই ওখানে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে। আর মিঠুকে এতদিন ধরা হয়নি অনেক রাঘব বোয়ালের কারণে, কারণ কেউ আবার বিব্রত অবস্থায় না পড়ে যায়। অবশেষে দুদক তাকে তলব করলো। দেখা যাক, মিঠুর আরো কত কীর্তি প্রকাশ পায়।