ঢাকা ০৮:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অচেতন নাসিম ‘লাইফ সাপোর্টে’, অবস্থার উন্নতি নেই

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিমের অবস্থার উন্নতি হয়নি। অচেতন অবস্থায় তাকে ‘লাইফসাপোর্টে’ রাখা হয়েছে।
নাসিম গত আট দিন ধরে রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে শুক্রবার সকালে তার ম্যাসিভ ‘ব্রেনস্ট্রোক’ হওয়ার পর সেখানেই মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়।

অস্ত্রোপচারের পর নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয় নাসিমকে। শুরুতে ৪৮ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে থাকার কথা থাকলেও তাকে ৯৬ ঘণ্টা নজরদারিতে রাখেন চিকিৎসকরা। এতেও তার স্বাস্থ্যের কোনো উন্নতি হয়নি। নাসিমের শারীরিক অবস্থা অবনতির দিকে গেলে ১৩ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়।

ওই বোর্ডের সদস্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া সোমবার সন্ধ্যায় জানান, উনার অবস্থার কোনো উন্নতি নেই। আগের অবস্থাতেই আছেন। ক্রিটিক্যাল অবস্থায় যাওয়ার পর থেকেই লাইফসাপোর্টে আছেন।

বেশ কয়েক দিন ধরে অসুস্থ নাসিম গত ১ জুন এই হাসপাতালে আসার আগেও একবার করোনাভাইরাস পরীক্ষা করালে ফল ‘নেগেটিভ’ আসে। ওই সময় তার স্ত্রী এবং একজন গৃহকর্মীর করোনাভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়ে।

পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এলেও জ্বর-কাশিসহ অন্যান্য অসুস্থতা বাড়তে থাকায় ১ জুন বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি হন নাসিম। সেখানে করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। রাতে ওই পরীক্ষার ফল ‘পজিটিভ’ আসে।

এর পর তিন দিন পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও শুক্রবার সকালে তার ‘স্ট্রোক’ হয়। এর পর ডিপ কোমায় চলে যান নাসিম। গত কয়দিনে তার স্বাস্থ্যের কোনো উন্নতি হয়নি।

সোমবার রাত সোয়া ১০টার দিকে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ডা. আল ইমরান চৌধুরী জানান, স্ট্রোক করার পর থেকেই মোহাম্মদ নাসিম লাইফসাপোর্টে আছেন। এখনও তাই আছেন।

মোহাম্মদ নাসিম জাতীয় নেতা শহীদ মনসুর আলীর ছেলে। তিনি পঞ্চমবারের মতো সংসদে সিরাজগঞ্জের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে সরকার গঠন করার পর ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান নাসিম। পরের বছর মার্চে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও তাকে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

নাসিম একসঙ্গে দুই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন ১৯৯৯ সালের ১০ মার্চ পর্যন্ত। পরে মন্ত্রিসভায় রদবদলে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

২০০৮ সালে নির্বাচনে জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরলেও সেবার মন্ত্রিসভায় জায়গা হয়নি নাসিমের। তবে পরের মেয়াদে ২০১৪ সালে তাকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী করেন শেখ হাসিনা।

এবার মন্ত্রিসভায় না থাকলেও আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোটের মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করে আসছেন নাসিম।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বন্যার দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রতিমন্ত্রী অমিতকে দায়িত্ব দিল সরকার

অচেতন নাসিম ‘লাইফ সাপোর্টে’, অবস্থার উন্নতি নেই

আপডেট সময় ১২:৫৩:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিমের অবস্থার উন্নতি হয়নি। অচেতন অবস্থায় তাকে ‘লাইফসাপোর্টে’ রাখা হয়েছে।
নাসিম গত আট দিন ধরে রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে শুক্রবার সকালে তার ম্যাসিভ ‘ব্রেনস্ট্রোক’ হওয়ার পর সেখানেই মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়।

অস্ত্রোপচারের পর নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয় নাসিমকে। শুরুতে ৪৮ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে থাকার কথা থাকলেও তাকে ৯৬ ঘণ্টা নজরদারিতে রাখেন চিকিৎসকরা। এতেও তার স্বাস্থ্যের কোনো উন্নতি হয়নি। নাসিমের শারীরিক অবস্থা অবনতির দিকে গেলে ১৩ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়।

ওই বোর্ডের সদস্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া সোমবার সন্ধ্যায় জানান, উনার অবস্থার কোনো উন্নতি নেই। আগের অবস্থাতেই আছেন। ক্রিটিক্যাল অবস্থায় যাওয়ার পর থেকেই লাইফসাপোর্টে আছেন।

বেশ কয়েক দিন ধরে অসুস্থ নাসিম গত ১ জুন এই হাসপাতালে আসার আগেও একবার করোনাভাইরাস পরীক্ষা করালে ফল ‘নেগেটিভ’ আসে। ওই সময় তার স্ত্রী এবং একজন গৃহকর্মীর করোনাভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়ে।

পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এলেও জ্বর-কাশিসহ অন্যান্য অসুস্থতা বাড়তে থাকায় ১ জুন বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি হন নাসিম। সেখানে করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। রাতে ওই পরীক্ষার ফল ‘পজিটিভ’ আসে।

এর পর তিন দিন পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও শুক্রবার সকালে তার ‘স্ট্রোক’ হয়। এর পর ডিপ কোমায় চলে যান নাসিম। গত কয়দিনে তার স্বাস্থ্যের কোনো উন্নতি হয়নি।

সোমবার রাত সোয়া ১০টার দিকে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ডা. আল ইমরান চৌধুরী জানান, স্ট্রোক করার পর থেকেই মোহাম্মদ নাসিম লাইফসাপোর্টে আছেন। এখনও তাই আছেন।

মোহাম্মদ নাসিম জাতীয় নেতা শহীদ মনসুর আলীর ছেলে। তিনি পঞ্চমবারের মতো সংসদে সিরাজগঞ্জের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে সরকার গঠন করার পর ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান নাসিম। পরের বছর মার্চে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও তাকে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

নাসিম একসঙ্গে দুই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন ১৯৯৯ সালের ১০ মার্চ পর্যন্ত। পরে মন্ত্রিসভায় রদবদলে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

২০০৮ সালে নির্বাচনে জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরলেও সেবার মন্ত্রিসভায় জায়গা হয়নি নাসিমের। তবে পরের মেয়াদে ২০১৪ সালে তাকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী করেন শেখ হাসিনা।

এবার মন্ত্রিসভায় না থাকলেও আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোটের মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করে আসছেন নাসিম।