ঢাকা ০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

১৩ লাখ কোটি টাকার বিকল্প বাজেট প্রস্তাব অর্থনীতি সমিতির

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

করোনাভাইরাস মোকাবিলাসহ দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী ও পুনর্জীবিত করতে ২০২০-২১ অর্থবছরের ১৩ লাখ ৯৬ হাজার ৬০০ কোটি টাকার বাজেট রাখার প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি, যা বর্তমান বাজেটের প্রায় তিনগুণ ও মোট দেশজ উন্নয়নের (জিডিপির) ৫৫ শতাংশ। দেশের বর্তমান বাজেটের আকার ৫ লাখ ৯৬ হাজার কোটি টাকা।

আজ সোমবার সকালে ‘করোনায় মহাবিপর্যয়ে থেকে মুক্তি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ বিনির্মাণে ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির বিকল্প বাজেট প্রস্তাবনা’ শীর্ষক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত।

সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. জামাল উদ্দিন আহমেদসহ সংগঠনের সদস্যরা। অনুষ্ঠানের শুরুতেই করোনায় মৃত্যুবরণকারীদের সবার প্রতি শোক জানানো হয়।

বিকল্প মডেল বাজেটের প্রস্তাব উল্লেখ করে আবুল বারকাত বলেন, ‘আগামী বাজেটের ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩ লাখ ৯৬ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। আর আয় ধরা হয়েছে ১২ লাখ ৬১ হাজার কোটি টাকা। ঘাটতি বাজেট ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এই বাজেট হবে মানুষের জীবন ও জীবিকার নির্বাহের বাজেট। বৈষম্য দূরের।’

তিনি আরও বলেন, ‘ব্যাংক ও বৈদেশিক ঋণ মুক্ত বাজেটে রাজস্ব আহরণের টার্গেটের প্রস্তাব করা হয়েছে ১২ লাখ ৬১ হাজার ৬০০ হাজার কোটি টাকার। যা মোট বাজেটের ৯১ শতাংশ। আর বাকি ৯ শতাংশের যোগান ধরা হয়েছে বন্ড, সঞ্চয় পত্র এবং সরকারি ও বেসরকারি পাটনারশিপ থেকে। এর মধ্যে বন্ড থেকে ৭০ হাজার কোটি টাকা, সঞ্চয় পত্র ৪০ হাজার এবং সরকারি-বেসরকারি পাটনারশিপ খাত থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা আয় করতে হবে।’

সভাপতি বলেন, ‘এ বাজেটে নতুন করে ২১টি খাতের কর আদায়ের কথা বলেছি। এর মধ্যের চারটি খাত থেকে ব্যাপক আয় করা যাবে রয়েছে। এগুলো হচ্ছে-সম্পদ কর, অতিরিক্ত মুনাফা কর, অর্থপাচার, কালো টাকা থেকে কর এবং বিদেশিদের কাছ থেকে করসহ ২২ খাত থেকে মোট ২ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকা কর আদায় করতে পারবে সরকার।’

তিনি বলেন, ‘উন্নয়ন বাজেট বরাদ্দ ৫৭ শতাংশ আর ৪৩ শতাংশ হবে পরিচালন শতাংশ রাখার প্রস্তাবিত করা হয়েছে রাজস্ব আয়ের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ কর ৭৯ শতাংশ থেকে আর পরোক্ষ কর ২১ শতাংশ ধরা হয়েছে।ফলে সমাজে আয়, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বৈষম্যের বাজেট।’

অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত বলেন, ‘বাজেটে শিক্ষাপ্রযুক্তি খাতে ১ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার কথা বলেছি। স্বাস্থ্য খাতের এখানের চেয়ে দ্বিগুণ বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছি। পাবলিক হেলথ ইনডেক্স নামক প্রকল্পের ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করছি। সামাজিক সুরক্ষা খাতে ১ লাখ ৭১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করছি। মানুষ বাঁচাও কর্মসূচির জন্য ৯০ হাজার কোটি টাকার রাখার জন্য সুপারিশ করছি। প্রবীণদের ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের সুপারিশ করছি। ৬৪ হাজার কোটি টাকার যোগাযোগ খাতের ১ লাখ বেশি। এছাড়া ঋণের সুদ বাবদ সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ রাখার কথা বলেছি।’

তিনি বলেন, ‘ব্যাংক ঋণের বোঝা কমানোর প্রস্তাব করে বাজেটে বলা হয়, ঋণের বোঝা জিডিপির ৫৩ শতাংশের পরিমাণ। এর মধ্যে সরকারের বোঝা ৩ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকা। আর বেসরকারি ঋণ ১০ লাখ কোটি টাকার ওপরে। ২০১৯ সালের জুনের প্রতিবেদন অনুসারে, বেশির ভাগ ঋণ নিয়েছে বড় গ্রহীতা। এরা সমাজে প্রবাভাশালী।মোট ব্যাংক ঋণের ১৭ শতাংশ এর মধ্যে একজনের ঋণের টাকা ৬৭ হাজার কোটি টাকা। যা খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বাজেটের চেয়ে ১৫ গুণ বেশি।’

অর্থনীতি সমিতির সভাপতি বলেন, ‘এরা ১ টাকার ঋণের বন্ধকী ১২ পয়সা আমরা মনে করি ২ পয়সা রয়েছে। করপোরেট গ্যারান্টি দেয় কিন্তু কাজে লাগে না। ১০ লাখ ১০ হাজার ৮০ কোটি টাকার ঋণের কি হবে? এই অবস্থায় সরকারকে সামনের শক্তহাতে হাল ধরতে হবে। জনগণকে সঙ্গে রাখতে হবে। মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। আগামী বাজেটে ব্যয় সংকোচন করতে হবে। ঋণের ভার কমাতে হবে। স্বল্পসুদে ঋণ দিতে হবে। বড় ঋণগ্রহীতাদের কোনোভাবে নগদ অর্থ ঋণ দেওয়া যাবে না। এতে অর্থপাচারের সম্ভাবনা রয়েছে। বড় ৫০ ঋণগ্রহীতাদের ঋণ আদায় করতে হবে।’

তিনি বলেন, ধনী ও সম্পদশালীদের সম্পদ দরিদ্রদের কাছে দিয়ে দিতে হবে। তাততে বৈষম্য কমবে। তাকে সরকারে আয় কর বাড়বে। তাতে অর্থনীতিতে অর্থপ্রবাহ বাড়বে। চতুর্থ প্রয়োজনে টাকা ছাড়াতে হবে। তবে অতিরিক্ত টাকা ছাড়ানো যাবে না।

এবারের বাজেটে ১৩৪টি সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

১৩ লাখ কোটি টাকার বিকল্প বাজেট প্রস্তাব অর্থনীতি সমিতির

আপডেট সময় ০৭:৩৯:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

করোনাভাইরাস মোকাবিলাসহ দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী ও পুনর্জীবিত করতে ২০২০-২১ অর্থবছরের ১৩ লাখ ৯৬ হাজার ৬০০ কোটি টাকার বাজেট রাখার প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি, যা বর্তমান বাজেটের প্রায় তিনগুণ ও মোট দেশজ উন্নয়নের (জিডিপির) ৫৫ শতাংশ। দেশের বর্তমান বাজেটের আকার ৫ লাখ ৯৬ হাজার কোটি টাকা।

আজ সোমবার সকালে ‘করোনায় মহাবিপর্যয়ে থেকে মুক্তি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ বিনির্মাণে ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির বিকল্প বাজেট প্রস্তাবনা’ শীর্ষক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত।

সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. জামাল উদ্দিন আহমেদসহ সংগঠনের সদস্যরা। অনুষ্ঠানের শুরুতেই করোনায় মৃত্যুবরণকারীদের সবার প্রতি শোক জানানো হয়।

বিকল্প মডেল বাজেটের প্রস্তাব উল্লেখ করে আবুল বারকাত বলেন, ‘আগামী বাজেটের ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩ লাখ ৯৬ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। আর আয় ধরা হয়েছে ১২ লাখ ৬১ হাজার কোটি টাকা। ঘাটতি বাজেট ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এই বাজেট হবে মানুষের জীবন ও জীবিকার নির্বাহের বাজেট। বৈষম্য দূরের।’

তিনি আরও বলেন, ‘ব্যাংক ও বৈদেশিক ঋণ মুক্ত বাজেটে রাজস্ব আহরণের টার্গেটের প্রস্তাব করা হয়েছে ১২ লাখ ৬১ হাজার ৬০০ হাজার কোটি টাকার। যা মোট বাজেটের ৯১ শতাংশ। আর বাকি ৯ শতাংশের যোগান ধরা হয়েছে বন্ড, সঞ্চয় পত্র এবং সরকারি ও বেসরকারি পাটনারশিপ থেকে। এর মধ্যে বন্ড থেকে ৭০ হাজার কোটি টাকা, সঞ্চয় পত্র ৪০ হাজার এবং সরকারি-বেসরকারি পাটনারশিপ খাত থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা আয় করতে হবে।’

সভাপতি বলেন, ‘এ বাজেটে নতুন করে ২১টি খাতের কর আদায়ের কথা বলেছি। এর মধ্যের চারটি খাত থেকে ব্যাপক আয় করা যাবে রয়েছে। এগুলো হচ্ছে-সম্পদ কর, অতিরিক্ত মুনাফা কর, অর্থপাচার, কালো টাকা থেকে কর এবং বিদেশিদের কাছ থেকে করসহ ২২ খাত থেকে মোট ২ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকা কর আদায় করতে পারবে সরকার।’

তিনি বলেন, ‘উন্নয়ন বাজেট বরাদ্দ ৫৭ শতাংশ আর ৪৩ শতাংশ হবে পরিচালন শতাংশ রাখার প্রস্তাবিত করা হয়েছে রাজস্ব আয়ের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ কর ৭৯ শতাংশ থেকে আর পরোক্ষ কর ২১ শতাংশ ধরা হয়েছে।ফলে সমাজে আয়, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বৈষম্যের বাজেট।’

অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত বলেন, ‘বাজেটে শিক্ষাপ্রযুক্তি খাতে ১ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার কথা বলেছি। স্বাস্থ্য খাতের এখানের চেয়ে দ্বিগুণ বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছি। পাবলিক হেলথ ইনডেক্স নামক প্রকল্পের ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করছি। সামাজিক সুরক্ষা খাতে ১ লাখ ৭১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করছি। মানুষ বাঁচাও কর্মসূচির জন্য ৯০ হাজার কোটি টাকার রাখার জন্য সুপারিশ করছি। প্রবীণদের ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের সুপারিশ করছি। ৬৪ হাজার কোটি টাকার যোগাযোগ খাতের ১ লাখ বেশি। এছাড়া ঋণের সুদ বাবদ সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ রাখার কথা বলেছি।’

তিনি বলেন, ‘ব্যাংক ঋণের বোঝা কমানোর প্রস্তাব করে বাজেটে বলা হয়, ঋণের বোঝা জিডিপির ৫৩ শতাংশের পরিমাণ। এর মধ্যে সরকারের বোঝা ৩ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকা। আর বেসরকারি ঋণ ১০ লাখ কোটি টাকার ওপরে। ২০১৯ সালের জুনের প্রতিবেদন অনুসারে, বেশির ভাগ ঋণ নিয়েছে বড় গ্রহীতা। এরা সমাজে প্রবাভাশালী।মোট ব্যাংক ঋণের ১৭ শতাংশ এর মধ্যে একজনের ঋণের টাকা ৬৭ হাজার কোটি টাকা। যা খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বাজেটের চেয়ে ১৫ গুণ বেশি।’

অর্থনীতি সমিতির সভাপতি বলেন, ‘এরা ১ টাকার ঋণের বন্ধকী ১২ পয়সা আমরা মনে করি ২ পয়সা রয়েছে। করপোরেট গ্যারান্টি দেয় কিন্তু কাজে লাগে না। ১০ লাখ ১০ হাজার ৮০ কোটি টাকার ঋণের কি হবে? এই অবস্থায় সরকারকে সামনের শক্তহাতে হাল ধরতে হবে। জনগণকে সঙ্গে রাখতে হবে। মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। আগামী বাজেটে ব্যয় সংকোচন করতে হবে। ঋণের ভার কমাতে হবে। স্বল্পসুদে ঋণ দিতে হবে। বড় ঋণগ্রহীতাদের কোনোভাবে নগদ অর্থ ঋণ দেওয়া যাবে না। এতে অর্থপাচারের সম্ভাবনা রয়েছে। বড় ৫০ ঋণগ্রহীতাদের ঋণ আদায় করতে হবে।’

তিনি বলেন, ধনী ও সম্পদশালীদের সম্পদ দরিদ্রদের কাছে দিয়ে দিতে হবে। তাততে বৈষম্য কমবে। তাকে সরকারে আয় কর বাড়বে। তাতে অর্থনীতিতে অর্থপ্রবাহ বাড়বে। চতুর্থ প্রয়োজনে টাকা ছাড়াতে হবে। তবে অতিরিক্ত টাকা ছাড়ানো যাবে না।

এবারের বাজেটে ১৩৪টি সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।