ঢাকা ১০:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

মুজিব হত্যার পরিকল্পনাকারীরা চিহ্নত না হলে ২১ অগাষ্টের আশংকা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার তদন্ত ‘অসমাপ্ত রয়েছে’অভিযোগ করে নতুন তদন্তের মাধ্যমে ‘মূল পরিকল্পনাকারীদের’ চিহ্নিতের দাবি জানিয়েছেন অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন। তা না হলে ২১ অগাস্ট গ্রেনেড হামলার মতো ঘটনা আবারও ঘটবে বলে শংকা প্রকাশ করেছেন ইতিহাসের এই অধ্যাপক।

রোববার রাজধানীতে জাতীয় শোক দিবসের এক আলোচনায় শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার ঘটনায় নতুন করে তদন্ত শেষে একটি ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশেরও দাবি জানান আনোয়ার হোসেন। “বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এখনও অসমাপ্ত রয়ে গেছে। যে বিচার হয়েছে, তাও অসমাপ্ত। যারা সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল তাদের বিচার হয়েছে। কিন্তু যারা এর পেছনে চক্রান্ত করেছে, তাদেরও বিচার হওয়া উচিত

“এতে যদি কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ বের হয়ে আসে, তবে আসুক। সাপগুলোকে যে আমাদের চিনতে হবে। তা না হলে ইতিহাস অজানা থেকে যাবে, তা না হলে ২১ অগাষ্টের মতো ঘটনা আবারও ঘটবে।”

১৫ অগাস্টের হত্যাকাণ্ডের পর ইংরেজ ইতিহাসবিদ ম্যালিসন তার প্রবন্ধে একে ‘মারাত্মক অপরাধ’ হিসেবে চিহ্নিত করলেও দেশে তখনকার সংবাদপত্রগুলোর ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। “১৫ অগাস্টের ডেইলি অবজারভারে সম্পাদকীয়র প্রথম লাইনটি ছিল-‘দ্য কিলিং অব শেখ মুজিব ওয়াজ নেসেসারি….’ কিন্তু দেখুন, পরদিন লন্ডন টাইমস’র সম্পাদকীয়তে বলা হল- মুজিববিহীন বাংলাদেশ অস্তিত্বহীন হবে। তবে কি বিদেশিরাই স্বদেশিদের থেকে শেখ মুজিবকে বড় বেশি ভালো চিনতে পেরেছিলেন?”

১৫ অগাস্টের ঘটনায় তখনকার সেনাপ্রধান কে এম সফিউল্লাহ এবং চিফ অব জেনারেল স্টাফ খালেদ মোশাররফসহ ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাদের ভূমিকারও নিন্দা জানান আনোয়ার হোসেন।

তিনি বলেন, ভারত ও কিউবা থেকে তাকে নিয়ে (বঙ্গবন্ধুকে) ষড়যন্ত্রের কথা জানালেও বঙ্গবন্ধু তাদের বলেছিলেন- ‘ওরা আমার সন্তানের মতো, ওরা আমাকে কখনও হত্যা করতে পারে না’। “বঙ্গবন্ধুর মধ্যে রাবীন্দ্রিক বিশ্বাস ছিল। রবীন্দ্রনাথ বলে গেছেন- মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ। বঙ্গবন্ধুও বলতেন- বাংলার মানুষের ভালোবাসার কাঙাল তিনি। তার জন্য তিনি সবকিছু ত্যাগ করতে রাজি ছিলেন।” বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’এবং ‘কারাগারের রোজনামচা’গ্রন্থ দুটিকে বাঙালির জাতীয় জীবনকে জানার ‘আকরগ্রন্থ’হিসেবে উল্লেখ করেন এই সাহিত্যবিশারদ।

বাংলা একাডেমিতে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এ আয়োজনে এসে এদিন জাতির জনকের হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে আনোয়ার হোসেনের পাশাপাশি সরব হয়ে উঠেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ও প্রাবন্ধিক মফিদুল হক এবং বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। সংস্কৃতি সচিব ইব্রাহীম হোসেন খানের সভাপতিত্বে আলোচনায় প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।

‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’এবং ‘কারাগারের রোজনামচা’গ্রন্থ দুটির প্রসঙ্গ তুলে মফিদুল হক বলেন, “এ দুটি গ্রন্থ এক কঠোর ও বিশাল ব্যক্তিত্বের বহুমাত্রিকতা, দৃঢ়চেতা মনোভাব আর মানুষের প্রতি ভালবাসার এক অনন্য নির্দশন। এখানে আমরা প্রমাণ পাই তার দূরদর্শিতার।” স্বাধীনতা উত্তরকালে বঙ্গবন্ধুর কূটনৈতিক দক্ষতার নানা উদাহরণ টেনে মফিদুল হক বলেন, তৃতীয় বিশ্বের মুক্তি আন্দোলনের একজন নেতা ছিলেন বঙ্গবন্ধু।

শামসুজ্জামান খান বলেন, বঙ্গবন্ধুকে রাজনীতির কবি বলা হলেও তিনি তা নন, তিনি প্রকৃতপক্ষে রাজনীতির প্রকৌশলী। “একজন রাজনীতির প্রকৌশলীর পক্ষেই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব। বঙ্গবন্ধু বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের পাশাপাশি সাম্রাজ্যবাদবিরোধী গণচেতনার সংযোগ ঘটিয়েছিলেন।”

১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সর্বস্তরের জনগণের মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ার চিত্র তুলে ধরেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। “যখন যুদ্ধে গেলাম, মুক্তিযোদ্ধাদের জিজ্ঞাসা করতাম- কেন এসেছেন? তারা বলত- ‘শেখ সাহেবে কইসে’। আমি বলতাম- শেখ সাহেবে কইলেই যুদ্ধে আসবেন? তারা বলত, ‘দেশ স্বাধীন হলে গরীবদের দুঃখ-কষ্ট থাকব না’।

“গোটা বাংলার মানুষ তার কথা সেদিন বেদবাক্যের মতো মেনে নিয়েছিল। শেখ সাহেব, বঙ্গবন্ধু যে কখনও কোনদিন বাঙালিকে ধোঁকা দেননি। নিজের রক্ত দিয়ে তিনি তা প্রমাণ করে গেছেন।”

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

মুজিব হত্যার পরিকল্পনাকারীরা চিহ্নত না হলে ২১ অগাষ্টের আশংকা

আপডেট সময় ০২:২২:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ অগাস্ট ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার তদন্ত ‘অসমাপ্ত রয়েছে’অভিযোগ করে নতুন তদন্তের মাধ্যমে ‘মূল পরিকল্পনাকারীদের’ চিহ্নিতের দাবি জানিয়েছেন অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন। তা না হলে ২১ অগাস্ট গ্রেনেড হামলার মতো ঘটনা আবারও ঘটবে বলে শংকা প্রকাশ করেছেন ইতিহাসের এই অধ্যাপক।

রোববার রাজধানীতে জাতীয় শোক দিবসের এক আলোচনায় শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার ঘটনায় নতুন করে তদন্ত শেষে একটি ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশেরও দাবি জানান আনোয়ার হোসেন। “বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এখনও অসমাপ্ত রয়ে গেছে। যে বিচার হয়েছে, তাও অসমাপ্ত। যারা সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল তাদের বিচার হয়েছে। কিন্তু যারা এর পেছনে চক্রান্ত করেছে, তাদেরও বিচার হওয়া উচিত

“এতে যদি কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ বের হয়ে আসে, তবে আসুক। সাপগুলোকে যে আমাদের চিনতে হবে। তা না হলে ইতিহাস অজানা থেকে যাবে, তা না হলে ২১ অগাষ্টের মতো ঘটনা আবারও ঘটবে।”

১৫ অগাস্টের হত্যাকাণ্ডের পর ইংরেজ ইতিহাসবিদ ম্যালিসন তার প্রবন্ধে একে ‘মারাত্মক অপরাধ’ হিসেবে চিহ্নিত করলেও দেশে তখনকার সংবাদপত্রগুলোর ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। “১৫ অগাস্টের ডেইলি অবজারভারে সম্পাদকীয়র প্রথম লাইনটি ছিল-‘দ্য কিলিং অব শেখ মুজিব ওয়াজ নেসেসারি….’ কিন্তু দেখুন, পরদিন লন্ডন টাইমস’র সম্পাদকীয়তে বলা হল- মুজিববিহীন বাংলাদেশ অস্তিত্বহীন হবে। তবে কি বিদেশিরাই স্বদেশিদের থেকে শেখ মুজিবকে বড় বেশি ভালো চিনতে পেরেছিলেন?”

১৫ অগাস্টের ঘটনায় তখনকার সেনাপ্রধান কে এম সফিউল্লাহ এবং চিফ অব জেনারেল স্টাফ খালেদ মোশাররফসহ ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাদের ভূমিকারও নিন্দা জানান আনোয়ার হোসেন।

তিনি বলেন, ভারত ও কিউবা থেকে তাকে নিয়ে (বঙ্গবন্ধুকে) ষড়যন্ত্রের কথা জানালেও বঙ্গবন্ধু তাদের বলেছিলেন- ‘ওরা আমার সন্তানের মতো, ওরা আমাকে কখনও হত্যা করতে পারে না’। “বঙ্গবন্ধুর মধ্যে রাবীন্দ্রিক বিশ্বাস ছিল। রবীন্দ্রনাথ বলে গেছেন- মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ। বঙ্গবন্ধুও বলতেন- বাংলার মানুষের ভালোবাসার কাঙাল তিনি। তার জন্য তিনি সবকিছু ত্যাগ করতে রাজি ছিলেন।” বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’এবং ‘কারাগারের রোজনামচা’গ্রন্থ দুটিকে বাঙালির জাতীয় জীবনকে জানার ‘আকরগ্রন্থ’হিসেবে উল্লেখ করেন এই সাহিত্যবিশারদ।

বাংলা একাডেমিতে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এ আয়োজনে এসে এদিন জাতির জনকের হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে আনোয়ার হোসেনের পাশাপাশি সরব হয়ে উঠেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ও প্রাবন্ধিক মফিদুল হক এবং বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। সংস্কৃতি সচিব ইব্রাহীম হোসেন খানের সভাপতিত্বে আলোচনায় প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।

‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’এবং ‘কারাগারের রোজনামচা’গ্রন্থ দুটির প্রসঙ্গ তুলে মফিদুল হক বলেন, “এ দুটি গ্রন্থ এক কঠোর ও বিশাল ব্যক্তিত্বের বহুমাত্রিকতা, দৃঢ়চেতা মনোভাব আর মানুষের প্রতি ভালবাসার এক অনন্য নির্দশন। এখানে আমরা প্রমাণ পাই তার দূরদর্শিতার।” স্বাধীনতা উত্তরকালে বঙ্গবন্ধুর কূটনৈতিক দক্ষতার নানা উদাহরণ টেনে মফিদুল হক বলেন, তৃতীয় বিশ্বের মুক্তি আন্দোলনের একজন নেতা ছিলেন বঙ্গবন্ধু।

শামসুজ্জামান খান বলেন, বঙ্গবন্ধুকে রাজনীতির কবি বলা হলেও তিনি তা নন, তিনি প্রকৃতপক্ষে রাজনীতির প্রকৌশলী। “একজন রাজনীতির প্রকৌশলীর পক্ষেই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব। বঙ্গবন্ধু বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের পাশাপাশি সাম্রাজ্যবাদবিরোধী গণচেতনার সংযোগ ঘটিয়েছিলেন।”

১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সর্বস্তরের জনগণের মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ার চিত্র তুলে ধরেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। “যখন যুদ্ধে গেলাম, মুক্তিযোদ্ধাদের জিজ্ঞাসা করতাম- কেন এসেছেন? তারা বলত- ‘শেখ সাহেবে কইসে’। আমি বলতাম- শেখ সাহেবে কইলেই যুদ্ধে আসবেন? তারা বলত, ‘দেশ স্বাধীন হলে গরীবদের দুঃখ-কষ্ট থাকব না’।

“গোটা বাংলার মানুষ তার কথা সেদিন বেদবাক্যের মতো মেনে নিয়েছিল। শেখ সাহেব, বঙ্গবন্ধু যে কখনও কোনদিন বাঙালিকে ধোঁকা দেননি। নিজের রক্ত দিয়ে তিনি তা প্রমাণ করে গেছেন।”